| Exclusive Intervew With Shawon |
|
|
|
নির্দেশক শাওন বললেন ব্যক্তি জীবনের
ঘটনা বলেই কেঁদেছি
সু অভিনেত্রী শাওন বেশ কিছু দিন থেকে নির্দেশনার কাজটও করেছেন
। খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের স্ত্রী বলে স্বাভাবিক ভাবে শাওন ছেয়েছেন নিজের পরিচয়টাই
আলাদাভাবে গড়ে উঠুক। সফল পরিচালক শাওন পক্ষের বিশেষ সাক্ষাৎকারে
বেশিটা সময় কথা বলেছেন তাই তার নির্দশনার জগত নিয়ে ।
আনন্দধারাঃ আজ ডিরেক্টর শাওনের কথা বেশি
শুনবো । অভিনেরত্রী শাওনের নয় । ডিরেক্টর শাওনের শুরুটা কিভাবে ?
শাওনঃ ডিরেক্টর শাওনের শুরুটা কবে বা
কিভাবে , সেটা আমি নিজেই বলতে পারব না । । কারন আমি যখন অভিনয় করতাম
তখন আমার শটের সময় তো আমাকে থাকতে হত
বাধ্য হয়ে । আর যখন আমাদের শট হতো তখন দেখতে আমার খুবা ভালো লাগতো বিশেষ করে
মনিটরে । প্রথম দিকে না বুঝেই দেখতাম । ইন,আউট,রাইট লেফট কিছুই বুঝতাম না তারপর
থেকে আস্তে আস্তে নিজের অভিনয়ের খাতিরে একটু একটু
বোঝা শুরু করলাম । বুঝতে বুঝতে একটা জিনিস মনে হলো, এই
দৃশ্যটা পরিচালক যে ভাবে সাজাচ্ছেন , একে আর অন্য কিভাবে সাজানো যায়? কোনো কারন
ছাড়া এমনি চিন্তা করতাম । মনে হতো আহা এই দৃশ্যটা ক্লোজআপ নিলে ভালো হতোনা ?
এখানেই একটা ক্লোজআপ শট রিমান্ড করে । এরকম চিন্তা করতে করতে হঠাৎ মনে হলো একটা
নাটক ডিরেকশন দিয়েই দেখিনা। খুব ইচ্ছে হলো ডিরেকশন দেবো । তখন চ্যানেল
আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটা নাটক ডিরেকশন দিলাম ।
আনন্দধারাঃ ব্যাপারটা কীভাবে হলো ?
শাওনঃ প্রথমে হুমায়ন আহমেদকে অনুরোধ
করলাম একাটা স্ক্রিপ্ট তিনি দেন তবে আমি সেট দিরেকশন দিব । হুমায়ন
আহমেদ বললেন ঠিক আছে । আমি একটা স্ক্রিপ্ট লিখে দিচ্ছি । ডিরেকশন দাও তবে শর্ত
হচ্ছে - যদি আমার ভালো না লাগে তবে আমি কিন্তু প্রচার করতে দিবো না।
আমি সেই শর্ত মেনে নিলাম । মেনে নিয়ে
চারবছর আগে পক্ষীরাজ নামে নাটকটিতে প্রথম ডিরেকশন দিলাম । প্রথম নাটক সে কারনে
আমি ওখানে সিনিয়র আটিস্ট নিতে চাইনি ।
আনন্দাধারাঃ কারন?
শাওনঃ দুটো কারন । এক হচ্ছে সিনিয়র
আর্টিস্টদের দিরেকশন দেবো - ওনারা কিভাবে নিবেন ব্যাপারটা যে শাওন এই রকম করতে
বলছেন । কিন্তু ওরকম হলে ভালো হতো অবশ্য পরবর্তিতে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি সবাই খুব
হেল্পফুল । তবে প্রথম দিকে একটা টেনশন ছিলো যে
যদি ওনারা আমার কথা না শোনেন , যদি ওনাদের কথা আমাকেই শুনতে
হয় ।
দ্বিতীয় কারন ছিলো - আমি চেয়েছিলাম যা
করবো , একেবারে নিজের মত করেই করবো।যাদেরকে আমি করাতে পারবো , তাদেরকে নিয়েই আমি
করবো । মানে আমার প্রথম নাটকে এমন কাউকে নিতে চাইনি
যে কারনে আমাকে শুনতে হবে এখানে শাওনের দিরেকশন দেয়ার তো কিছু
ছিলোনা ।
অভিনেতা নিজে যা করেছেন সেটাই যথেষ্ট ।
তো আমি ওটা চাইনি।
আনন্দধারাঃ অ্যার্টিস্ট কারা ছিলো?
শাওনঃ অ্যার্টিস্ট বলতে পক্ষীরাজ -এ
একদমই মহিলা কোন অ্যার্টিস্ট ছিলোনা । আজকের বিখ্যাত গ্রুপ
তারা তিনজন -এর শুরুটা পক্ষীরাজ দিয়ে । ফারুক আহমেদ , ডা এজাজ আহমেদ এবং স্বাধীন
খসরু । এদেরকে নিয়ে নাটকটা করে ফেললাম আমি । । প্রচারের পর চ্যানেল আই থেকে প্রচুর
প্রশংসা পেলাম । পরে লেজার ভিশন ভিসিডি রিলিজ করলে তারা জানালো সেই মাসে পক্ষীরাজ
ছিলো সর্বাধিক বিক্রিত নাটকের ভিসিডি ।এই ক্ষেত্রে
আমার নিজেকে খুব লাকি মনে হলো স্ক্রিপ্টটার কারনে । কাহিনীটা খুব অন্য রকম একটা
লোক , সে পাখিদের কথা বুঝতে পারে এ নাটকে মনে হল মাই গড আমি তো নাটক বানিয়ে ফেলেছি
। আমিতো ডিরেক্টর হয়ে গেছি ।
এখন ডিরেক্টর যেহেতু হয়ে গেছি , আরো
তো নাটক বানাতে হবে ।একটা নাটক বানিয়ে বসে থাকলে তো আর
ডিরেক্টর হলো না । তাপর আমার আবার ঘ্যানর ঘ্যানর শুরু হল -আরেকটা স্ক্রিপ্ট
,আরেকটা স্ক্রিপ্ট মোটা মুটি আমার ঘ্যানর ঘ্যানর প্লাস পক্ষীরাজ দেখে হুমায়ুন
আহমেদেরও ভালো লাগলো । সে বলেছিলো - ভালো হয়েছে আরো ভালো
হবে ইনশাল্লাহ । তারপরে আমাকে আরেকটা স্ক্রিপ্ট লিখে দিল ।এবং এই স্ক্রিপ্টাতেই
আমি বুঝলাম যে হুমায়ন আহমেদের আমার প্রতি আস্থা এসেছে । কারন সে স্ক্রিপ্ট দেওয়ার
সময় আমাকে বললো , আমি কিন্তু অনেক কঠিন স্ক্রিপ্ট দিয়েছি । অনেক কষ্ট করতে হবে । গুনীন
নাটকের নাম। আমি বললাম হ্যাঁ,আমি অনেক কষ্ট করতে
পারবো , কষ্ট করবো । সে বললো তুমি কষ্ট করতে পারবে সেজন্য এই স্ক্রিপ্টটা দিলাম ।
আনন্দধারাঃ কেমন কঠিন স্ক্রিপ্ট ?
শাওনঃ
কঠিন মানে অনেক ডিটেইলিংয়ের কাজ করতে হবে । এমন না যে ঢাকার কোনো একটা হাউজ ভাড়া
করে নাটকটির শুটিং করে ফেলা যাবে। । এবার আমি চিন্তা করলাম গুনীন
নাটকে একজন সিনিয়র অভিনেতাকে নিতে হবে । কারন এতো সুন্দর চ্যালেঞ্জিং একটা চরিত্রে
নতুন কাউকে নিতে সাহস পাচ্ছিলাম না । এখানে আমি জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়কে নিলাম । এর
আগে তিনি নূহাস জচলচ্চিত্রের সঙ্গে কাজ করেনি । তানিয়া আহমেদ নিলাম ।
তানিয়া তখন মাত্রই আমাদের শ্যামলছায়া ছবির কাজ শেষ করেছেন । আর ছিলো ছোট কতগুলো
বাচ্চা , স্বাধীন , ডা এজাজ এবং শারমিন শীলা । গুনিটাই যথেষ্ঠ প্রসংসিত হলো । এরপর
নাটকটার সাবটাইটেল করতে বলা হলো ।
গুনীন নাটকে অভিনয় করে জয়ন্ত
চট্টোপাধ্যায় বাচসাস পুরস্কার পেলেন ,একজন শিশুশিল্পী পুরস্কার
পেলো । আমাদের পরিচিত একজন নাটকটার সাবটাইটেল করে দিলেন । এখন
আমি এক্সসাইটেড এই ভেবে যে গুনীন এই বছর সানফ্রান্সিসকোতে একটা ড্রামা
ফেস্টিভ্যালে যাচ্ছে । ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটা।
আনন্দধারাঃ
এই নাটক দুটি করতে গিয়ে ভুল ত্রুটি চোখে পড়েনি কোনো ।
শাওনঃ
অনেক ভুল চোখে পড়েছে । বিশেষ করে গুণীনের মধ্যে আমি আমার অনেক গুলো ভুল
আইডেন্টিফাই করতে পারি । এই ভুল শোধরাতে গিয়েই নেশার মত হয়ে গেলো যে নাটক বানাতে
হবে আরো ।
অভিনয় করার চেয়ে , অভিনয় করানোটাই বেশি আমার পছন্দ হওয়া শুরু
করলো মনিটরে বসে ফ্রেমিংটা দেখতে আমার এতো
ভালো লাগে মানে স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর থেকেই মাথার ভেতর ফ্লেমিং কিলবিল করতে
থাকে ।
আনন্দধারাঃ এরপরের নাটক কোনটি ?
শাওনঃ বনবাতাসী । এটা অনএয়ারে হলো
এনটিভিতে । আমার পরিচালনায় এ নাটকটি খুবই পছন্দের আমার । গুনীন -এর
পরপরই করবার কারনে সেইম আর্টিস্টরাই এখানে অভিনয় করলো । নতুন যোগ হলো আহমেদ রুবেল
। এটা হুমায়ন আহমেদের আরেকটি সুন্দর স্ক্রিপ্ট । জমিদার বংশের একদম শেষ বংশধর ।
তার খুবই গরীবী হাল । ভাঙ্গাচোরা জমিদার বাড়ির একটা ঘরে সে থাকে । হঠাৎ একদিন সে একটা
গাছ লাগাতে গিয়ে অনেক গুলো রত্ন পেয়ে গেলো । এটা
পাওয়ার পর তার টেনশন , সে এখন কী করবে ? সবাইকে সে বলেও না । কাউকে বলেও বিশ্বাস
করে না অদ্ভুত একটা অবস্থা । এর পর করলাম কমেডি নাটক চেরাগের
দৈত্য । একবিংশ শতাব্দীতে চেরাগের দৈত্য তার কি হবে । এই নিয়ে মজার নাটক । এটাও
এনটিভিতে প্রচার হলো । এরপর চ্যানেল আই থেকে
একটা প্রস্তাব এলো হুমায়ন আহমেদের কবি উপন্যাস নিয়ে সিরিয়াল বানাতে
চান । কবি উপন্যাসটা তাদের পছন্দ করা । তারা চাইছিলো মেগাসিরিয়াল করবে । আমি
বললাম, কবি যে রকম কমপ্যাকট উপন্যাস সেটা
২৬ পর্বে শেষ হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয় । আর ব্যক্তিগত
ভাবে আমার মেগাসিরিয়াল ফর্মুলাটাই পছন্দ না । আমি কখনো মেগাতে অভিনয় করি নাই ।
দিনের পর দিন একই চেহারা , সেট, একই কাহিনী দেখতে
ভালো লাগেনা । কবি শুরি করলাম । ৮ টা পর্ব করার পর একটা বড় ধরনের গ্যাপ নিতে আমি
বাধ্য হলাম । বিকজ তখন আমি কনসিভ করেছি এবং আমার লাইফে
একটা মিসহ্যাপ হয়েছিলো । এক বছরের একটা গ্যাপ নিলাম । এবং সেই সময়টাতে আমি কোনো
কাজ করেনি । এক বছর পর আমি কবির ৯থেকে ২৫ পর্ব পর্যন্ত একটানা করে ফেললাম । কবিটা
যখন মোটা মুটি জমে উঠলো , তখনই শেষ করে দিলাম । পরে মনে হলো ২৫ পর্বে নাটকটা আমার
শেষ করা উচিত হয়নি ।
এই নাটকে আমি অনেক অনেক সিনিয়র
আর্টিস্টদের নিয়ে কাজ করলাম । যেমিন জামাল উদ্দিন হোসেন , ড ইনামুল হক , আবুল
কাসেম, জহিরউদ্দিন পিয়ার । পাশাপাশি কাজ করেছে একেবারে নতুন কিছু মুখ , মাঝখানে
কাউকে নিইনি । সর্বশেষ করা নাটক আমার লীলাবতী ।
আনন্দধারাঃ লীলাবতী
প্রসঙ্গটা একটু ডিটেইলস -এ শুনবো ।
শাওনঃ লীলাবতী প্রসঙ্গে যা বলবো সেটা
হচ্ছে আমার জীবনে ব্যক্তিগত কষ্ট আছে ।
মেইনলি ডাক্তারের কিছু গাফিলতিতে এবং মে
বি আমারো দুভাগ্যের কারনে আমার লাইফে একটি মিসহ্যাপ হয় , আমার প্রথম বেবিটা মারা
যায় । অন্যদের এই ব্যাপারটা তেমন কিছু না ।
কিন্তু আমার কাছে , আমার ব্যক্তি জীবনের এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। আমার
খুবই ইচ্ছে হলো এটা নিয়ে , এই সময়টা ধরে রাখার জন্য একটা নাটক বানাই । হয়তো কখনো
একদিন আমিও ভুলে যাবো এই ঘটনাকে কিন্তু এই নাটকটার মাধ্যমে এই ব্যাপারটাকে একটু
হলে ও ধরে রাখতে চেষ্টা করতে চাইলাম । আমি
হুমায়নকে অনুরোধ করলাম । এক্ষেত্রে আমার একাটা সুবিধা আছে , ঘরেই যেহেতু স্ক্রিপ্ট
রায়টার আছে তাই সকাল বিকাল আমি ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকি। অনেকেই তার কাছে
স্ক্রিপ্ট চায় , কিন্তু মনে করিয়ে দিতে পারে না । আমি
সারাক্ষন কই আমার স্ক্রিপ্টটা তো লিখলা না , কই
স্ক্রিপ্টটাতো দিলে না , এখন লিখো , এক্ষুনি লিখে দাও টাইপের ঘ্যানর ঘ্যানর করে
স্ক্রিপ্ট নিয়ে নিতে পারি । তাকে বললাম এই ঘটনাটা নিয়ে স্ক্রিপ্ট
লিখতে । সে বললো -এই রকম ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে নাটক বানাবো ?
আমি বললাম এটা আমার শখ । আর এখানে
আমাদের দুজনের ছোট্ট একটা ব্যাপার ছিলো । শর্ত ছিলো । সেটা হচ্ছে নাটক আমরা বানাবো
ঠিকই কিন্তু সেটা কোথাও প্রচার করবো না । একটা নাটক যেভাবে বানাতে হয় , যতোখানি
খরচ করতে হ্য় সেভাবে প্রফেশনালি আমরা নাটকটা বানাবো,বানিয়ে সেটা আমরা নুহাশ
চলচ্চিত্রের আর্কাইভে রেখে দেবো । এটা আমাদের নিজেদের জন্য নাটক এবং একটু ইমোশনালি
বললাম - আমরা প্রতিবছর লীলাবতীর মৃত্যুদিবসে নাটকটা সবাই এক সঙ্গে দেখবো ।
স্ক্রিপ্টে আমি হুমায়ন কে ছোট একটু চেইঞ্জ করতে বললাম । আমি সেটা আমার জীবনে করতে
পারিনি নাটকে সেটা আমি করে দেখাতে চাই । তুমি
শেষে এসে কোনো মিরাকল ঘটিয়ে দেখাবে যা লীলাবতী বেঁচে আছে ।
স্ক্রিপ্টটা লেখা হল । যারা আর্টিস্ট
তাদেরকে নিয়ে আমি স্ক্রিপ্টটা পড়লাম । সবাই জানে এটা প্রচার করা হবেনা । তারপরেও
সবাই যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে সময় দিলো এবং নাটকটা শেষ করলাম । শুটিয়ের সময়
আমার অনেক বন্ধু -বান্ধব আমাকে সাহায্য করেছিল । ওদের বাসাতেই শুটিং
করলাম । এমনকি শুরুটা আমার বাসাতেই । আমি আসলে ভাড়া করা বাড়িতে এ নাটকটি শুটিং
করতে চাইনি । অ্যাপোলো হসপিটলও দারুন সহযোগিতা করেছে । ইউএসএতে তাদের পিআর
অফিসারের সাথে কথা বলে আমি পারমিশন নিলাম অ্যাপোলোতে
শুটিং করার জন্য । কারন আমার পুরো ঘটনাটা সেখানেই ঘটেছিলো ।
নাটকীতা আনার জন্য কিছু ব্যাপার নাটকে
এনেছি । যেগুলো রিয়েল লাইফে ছিলনা । তবে মূল ঘটনাটা ঠিক রেখে ।
নাটক শেষ করলাম ,তারপর আমরা নিজেরা
নাটকটা দেখতে বসলাম সেখানে হুমায়ন আহমেদের কিছু পুরানো বন্ধুরা
ও এলো যাদের মধ্যে বিভিন্ন চ্যালেনের কিছুকিছু ও ছিল ।
নাটক দেখার পর সবাই বললো এটা আপনাদের
ব্যক্তিগত ব্যাপার ঠিক আছে । তারপর ও এই ব্যাপার গুলো সবার জানা উচিত ।এরকম অনেকের
জন্যই যারা নিউলি ম্যারেড তাদের জন্য ভালো । আর ক্রিয়েটিভ একটা ব্যাপার কে তা
লুকিয়ে রাখার কিছু নেই ।
চ্যালেনের কেউ কেউ বললেন আমাদের মনে হয়
নাটকটা প্রচার হওয়া উচিত । বাকীটা আমদের
ওপর । তারপর
মোটামুটি চ্যানেল আইয়ের চাপাচাপিতে প্রচার করা হল । অন্যদের কেমন
লেগেছে জানিনা আমি যতক্ষ্ন পর্যন্ত দেখেছি এটা আমার ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা বলেই
কেঁদেছি , আমার ভালো
লেগেছে । শেষে লীলাবতী বেঁচে থাকলো ।
আমি আমার ইমোশনকে আমার জন্য ধরে রাখতে
চেয়েছি লীলাবতীতে।
আনন্দধারাঃ নাটক বানানোর পর চলচ্চিত্র
বানানোর স্বপ্নটা বাসা বাঁধে নাই মনে?
শাওনঃ অবশ্যই । একটা চলচ্চিত্রতো বানাবো
। সেটা শিওর কাছাকাছি সময়েই আমি নিশ্চিত যারা
ডিরেকশন দেয় তাদের আলটিমেট গোলটা থাকে একটা ফিল্ম বানাবো , এতো বিশাল
অ্যারেঞ্জমেন্ট , শত শত লোক -সব কিছুই ক্যামন যেনো স্বপ্নের মতো মনে হয় আমার ।
এমনকি ফিল্মে অভিনয় করাটাই আমার কাছে স্বপ্ন স্বপ্ন লাগে । খুবই ভাললাগে।
আনন্দধারাঃ অভিনেত্রী শাওনের কী অবস্থা?
শাওনঃ অভিনয় করছি । নিজস্ব প্রোডাকশনের
বাইরে কাজ করছি না যদিও ।তবে করবো না এমন কিন্তু কখনোই বলিনাই । আমিতো আসলে
অভিনয়টা করি মনের খোড়াকের জন্য । আমি যদি তেমন কোন চরিত্র পাই তবে অবশ্যই করবো ।
যাই হোক গত ঈদে ৪টা নাটক প্রচার হলো । চ্যানেল আইতে একটা সিরিয়াল
যাচ্ছে চন্দ্র কারিগর এবং এখানে আমি প্রথমবারের মতো একটি কমেডি চরিত্রে অভিনয় করছি
। বোকাবোকা একটা চরিত্র । খুব মজা পাচ্ছি আমার চেহারায় হয়তো একটা দুঃখী দুঃখী ভাব
আছে যে কারনে সবসময় দুখী ধরনের চরিত্রে কাজ করতে হয়েছে। এখানে একটু ভিন্ন চরিত্র।
আনন্দধারাঃ আর ফিল্ম
?
শাওনঃ ছোট বেলায় আলাল দুলাল ছবিতে
অভিনইয়ের পর ৪টি ছবিতে করলাম । এখন আমার কাছে জল অভিনয়ের কথা চলছে ।
আনন্দদারাঃ গানের শাওনের কী অবস্থা ?
শাওনঃ গানটা আমার কাছে খুবই ব্যক্তিগত
বিষয় ।
গান গায় আমি আমার নিজের আনন্দে, আমার
পরিবারের আনন্দে । আমার গানের সবচেয়ে বড় ভক্ত
আমার মা , আমার হ্যাজবেন্ড । আমি সাত দিন গান না
গাইলে মা আমাকে বকা দিয়ে মনে করিয়ে দেয় গাচ্ছোনা কেন ? রিহার্সাল করো না কেন ?
বা ঘরোয়া আড্ডাতে আমি গাইলে কাছের মানুষ
গুলো যে অ্যাপ্রিশিয়েনের দেয় সেটা আমার খুবই ভালো লাগে । যেমন আজকে আমাদের বাসায়
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আসবেন। ইয়নি যখনই ঢাকায় আসেন তখন আমাদের বাসায়
একটি গেট টুগেদার হয় । আমার ভাবতে খুবই ভালোলাগে এবং এখন বলতেও
খুব ভালো লাগছে যে সুনীল আমার গানের একজন বড়ো ভক্ত । আমার প্রথম অ্যালবাম বেরোনের
পর ওনার সাথে দেখা হওয়ার পর কি ব্যাপার তুমি গানের অ্যালবাম
করেছো আমার কপি কই ।
এটা আমার জেনে ভালো লাগে যে, সুনীল
গাঙ্গুলী একটা আসরে আমার গান শুনতে চান । এবং উনি আমার গান পছন্দ করেন।
আমি এখন দুটি অ্যালবামে কাজ করছি ।
একটা অরিজিনাল আরেকটা রবীন্দ্রসঙ্গীতের ।
পাশা পাশি আরেকটা কাজ করছি । আমাদের রেকর্ডের বয়স ১০০ বছর
। প্রথম গান রেকর্ড হয়েছিল ১৯০৭ সালে । প্রতি কুড়ি বছর একটা
গান নিয়ে মোট ৫টি গান আমি রেকর্ড করেছি । সেই গুলো নিয়ে আমি অনুষ্ঠান করছি ।
আনন্দধারাঃ সংসার জীবনে শাওন ক্যামন আছে
?
শাওনঃ খুবই ভালো আছি । ৮ মাস বয়সী ছেলে
নিষাদ হুমায়ন আমার সংসারে প্রধান ব্যাক্তি । আমার
স্বপ্ন ছিলো আমার খুব একটা পরিবার হবে । সুন্দর একটা সংসার আমার শুরুটা হয়তো
অনেকের দৃষ্টিতে খারপ ছিল । কিন্তু এখন আমি একটা সুন্দর সুখী পরিবারে থাকি । , আমি
ভালো আছি এবং আমার সংসার জীবন খুব ভালো কাটছে ।
মাঝে মাঝে আমার শাশুড়ি এসে থাকেন আমাদের কাছে । ওনার
সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক।
উনি আমাকে যথেষ্ঠ আদর করেন । আমিও আমার
মায়ের মতো উনাকে সন্মান করি । আর আমি খুব ঘরোয়া টাইপের মেয়ে । আমার সারা জীবন
স্বপ্ন ছিলো আমার এমন একটা পরিবার হবে । আমরা সবাই মিলে বেড়াতে যাবো , দুপুরে এক
সঙ্গে টেবিলে বসে খাব। Add as favourites (207) | Quote this article on your site | Views: 1027
Write Comment
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| < Prev | Next > |
|---|







