| This is very nice Matter |
|
|
|
এটা ভীষন ভালো লাগার ব্যাপার
দেশে ঘুরে গেলেন এক সময়ের জনপ্রিয়
অভিনেত্রী লুৎফুন্নাহার লতা। এগারো বছর ধরে নিউইয়র্কে তিনি । প্রায় বছরই জুনের শেষ
দিকে চলে আসেন বাংলাদেশে । জন্মভূমির খোলা বাতাসে
কিছুদিন থেকে আবার উড়ে যান কর্মক্ষেত্র
নিউইয়র্কে । এবার দেশে আসার পর তাকে পাওয়া গেল একদম শেষ মুহুর্ত । কথা বললেন
আনন্দধারার বিশেষ প্রতিনিধি শিল্পী মহলানবীশেরর সঙ্গে ।
আনন্দধারাঃ
এগারো বছর নিউইয়র্কে আছেন । অনেকটা সময় । কী করছেন সেখানে ?
লুৎফুন্নাহার
লতাঃ অনেকটা সময়টা বটেই । তবে প্রায় প্রতি বছরই দেশে আসি বলে
গ্যাপটা কম। আমি ওখানে বোর্ড অব
এডুকেশনে কাজ করছি ।
আনন্দঃ এগারো বছর আগে আর এগারো বছর পরে
দেশের কী ধরনের বদল লক্ষ্য করেছেন ?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ দেশে থাকলে তফাতটা
যতটা না বোঝা যায় ,দেশের বাইরে থেকে আসলে সেগুলো বেশি চোখে পড়ে । সমাজ বদলেছে ,
পরিবেশ বদলেছে , তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিল্প সংস্কৃতি বদলে গেছে । অনেক নতুন নতুন
ক্ষেত্র তৈ্রি হয়েছে ।
আনন্দঃ নাটকের ক্ষেত্রটাকে কতটা
পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হয়?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ অনেক , অনেক । ফ্রিল্যান্স
নাটক বিশাল পরিবর্তন এনে দিয়েছে । কাজ করার ক্ষেত্র বেড়েছে ।নতুন নতুন নাট্যকার
,পরিচালক ,প্রযোজক , অভিনয় শিল্পী তৈ্রি হয়েছে । আমাদের দেশে এখন অনেক গুলো
চ্যানেল । এটাও বিশাল পরিবর্তনের একটি কারন ।সুযোগ তৈ্রি হয়েছে
ভালো কাজ করার । পর্দার সামনে এবং পেছনে অনেক
মানুষ যুক্ত হয়েছ ।অনেক নতুন সম্ভবনা বেরিয়ে এসেছে । প্রতিযোগিতা তৈ্রি হয়েছে ।
আনন্দঃ আপনি এবার কাজ করেছেন নাটকে?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ গতবার বেশি কাজ করেছি
। এবার বাংলাদেশে আসার মূল কারন ছিল মায়ের অসুস্থতা । তাই এবার কম কাজ করেছি।
আনন্দঃ এখন তো প্রচুর
কাজ হচ্ছে । নিইউইর্কে বসে দেখা হয় । কেমন লাগে এই সময়ের নাটক গুলো ?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ আগে তো চ্যানেল ছিল
একটা । কাজ কম হতো। ফলে সময় নিয়ে কাজ গুলো করা যেত । যত্ন নিয়ে কাজগুলো শেষ করা
হতো । খুব একটা প্রতিযোগিতা ছিল না । এখন প্রতিযোগিতা বেশি , সময় কম । কাজ বেশি
।ফলে সব কাজ মানসম্পুন্ন বলা যাবে না ।আবার অনেক কাজ অনেক ভালো ।
আনন্দঃ এখন কিন্তু অভিনয়কে পেশা হিসেবে
নেয়া যাচ্ছে ।
লুৎফুন্নাহার লতাঃ এটা ভিষন ভালো লাগার
ব্যাপার । এক সময় স্বপ্ন দেখতাম অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেয়ার । এখন বিষয়টা সহজ ।
আমাদের পরে যারা কাজ করছেন তার সুবিধাটা পাচ্ছেন । খুব ভালো
লক্ষন , কোনো সন্দেহ নেয় ।
আনন্দঃ আপনি যখন নিয়মিত অভিনয় করেছেন
তখন কোন বিষয় গুলোকে প্রাধান্য দিতেন ?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ অভিনয় শুধু নয় যখন যে
কাজটাই করি না কেন , সেটা থাকে প্রার্থনার মতো । সময় মতো সেটে পৌঁছানোর চেষ্টা
করেছি । প্রযোজক , পরিচাকরাও খুব গুরুত্ব দিতেন প্রতিটি কাজকে ।
কোনো হিরোইজম মানসিকতাকে ধারন করতাম না ।আমার
যা চরিত্র সেটকে পরিচালকের নির্দেশ মতো
রুপায়ন করার চেষ্টা করেছি । জুনিয়াদের সহযোগিতা করেছি ।
আনন্দঃ নিউইর্কে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে
যুক্ত আছেন? শিল্পীরা নাকি যেখানেই যান সেখানেই সাংস্কৃতিক বলয়
তৈ্রি করেন?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ নিউইর্কে সাংস্কৃতিক
কর্মকান্ডে সঙ্গে যুক্ত আছি । বাংলাদেয়াশের একজন প্রতিষ্ঠাত শিল্পী হিসেবে যাই ।
ঠিক বলয় তৈ্রী করা হয়ে ওঠেনি কারন ওখানকার জীবন ধারনের চর্চাটা অন্যরকম । প্রচন্ড
ব্যস্ত জীবন । নিজের ঊদ্যেগে প্রবাস জীবন নামে
একটি টেলিফিল্ম তৈ্রী করেছিলাম ।ওখানকার হলে সেটা দেখানো হয়েছে । একটি চ্যানেলাও
দেখানো হয়েছে । আর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রযোজনায় বুদ্ধদেব বসুর তপস্বি ও
তরঙ্গিণী নামে একটি কাব্য নাট্য পরিচালনা ও সম্পদনা করি । যা ওখানকার মঞ্চে
পরিবেশন করা হ্য় ।
আনন্দঃ এখন কি লেখালেখি করছেন ? নাটক বা
অন্য কিছু ?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ কবিতা, গল্প, নাটক
লিখছি কিছু কিছু । ইচ্ছে আছে আরেকটু জোরেসোরে লেখালেখি করার । বিশেষ করে আমেরিকায়
থাকা মেয়েদের স্ট্রাগল নিয়ে কিছু লেখার একটা জোরালো তাগিদ অনুভব করছি।
আনন্দঃ আপনার প্রথম নাটক কোনটি ?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ রাজিব হুমায়ুনের লেখা
এবং খ ম হারুন -এর প্রযোজনায় নাটক লাগুক দোলা । এটা ১৯৮৩ সালে প্রচার হয় বাংলাদেশ
টেলিভিশনে।
আনন্দঃ আপনি তো আবৃত্তি ও করতেন?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ হ্যাঁ অভিনয়ের পাশাপাশি আমি আবৃত্তি করতাম
। বিজ্ঞাপনে গলা দিতাম ।
আনন্দঃ তবে এইসব দিন রাত্রি নাটকের
শারমীন চরিত্রটি আপনাকে বেশি পরিচিতি দিয়েছে । এ পর্যন্ত কতো গুলো নাটকে কাজ
করছেন?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ হ্যাঁ এইসব দিনরাত্রি
তখন খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল । শারমিন চরিত্রটি এখনও দর্শক মনে রেখেছেন । এ পর্যন্ত
প্রায় শ খানেক নাটকে কাজ করেছি।
আনন্দঃ দেশের বাইরে কবে গেলেন ?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ ১৯৯৬ সালের শেষের
দিকে আমি নিউইয়র্কে চলে যায় ।
আনন্দঃ দেশে ফিরবেন , নাকি ওখানেই থাকার
পরিকল্পনা ?
লুৎফুন্নাহার লতাঃ দেশে ফেরার ইচ্ছে
প্রচন্ড । আমার ছেলের বয়স ১৫ বছর । একটু চিন্তা
ভাবনা করছি । ওর সেটেলমেন্টের বিষয় আছে । তারপরও দেশ আমাকে টানে । আমার দেশ
আমার জন্ম ভূমি , মাটি সে তো অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে । অনবরত তাঁর হাতছানি
আমাকে কাঁদায় ফিরে আসার জন্য। Add as favourites (23) | Quote this article on your site | Views: 55
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





