| Beauty Ness of Stars |
|
|
|
তারকাদের সৌন্দার্য
নিজেকে আকর্ষন করে তোলা, গ্রহনযোগ্য করে
তোলাটাই সৌন্দার্যের প্রকাশ। ভেতরে বা বাইতে যে ভাবেই হোক না কেন নিজেকে
পরিপাটিভাবে উপস্থাপন করার জন্য সবাই এখন যথেষ্ট সচেতন। আর বুটিক হাউসগুলো
এক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে আমাদের। দেশের অন্যতম প্রধান বুটিক হাউস অঞ্জনস
এর কাপড় পরে প্রচ্ছদ কন্যা শারমিন লাকী সৌন্দার্য বিষয়ে তার বোধগুলোই এবার শেয়ার
করলেন।
আনন্দধারাঃ আপনার সৌন্দার্য বোধটা কেমন?
শারমিন লাকীঃ সার্বিকভাবে সৌন্দার্য বলতে আমি যেটা বুঝি, তা
হলো একজন মানুষের ব্যাক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলা। প্রতিটি মানুষের ভেতরে যে সৌন্দার্যটা
লুকিয়ে থাকে, যা বলে প্রকাশ কোন পথ নেই। সেই সৌন্দার্যটাই তার হাটা চলা, কথা বলা,
রুচি বোধ, পোশাক সব কিছুই মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আর এই সব মিলিয়েই একজন
মানুষ সবার কাছের মানুষ হয়ে ওঠে। সবার ভালো লাগার হয়ে ওঠে।
আনন্দ আলোঃ খুব দামি পোশাক, খুব মেকআপ সৌন্দার্যের
সহায়ক?
শারমিন লাকীঃ আমি মনে করি না চড়া মেকআপের আড়ালে আসল মানুষটাই
হারিয়ে যায়।
আনন্দধারাঃ তারকাদের ক্ষেত্রে কি বিষয়টা ভিন্ন?
শারমিন লাকীঃ একটু ভিন্ন তো বটেই। কারন ক্যামেরার সামনে নিজেকে
উপস্থাপন করতে গেলে মেকআপ জরুরি। যেহেতু অনেক লাইট থাকে। তাছাড়া তারকা
মানেই তো জ্বল জ্বল করবে।
আনন্দ আলোঃ চর্চার মাধ্যমে সৌন্দার্যকে কতটা বাড়ানো যায়?
শারমিন লাকীঃ একজন মানুষ জন্মগতভাবে শতভাগ সুন্দর নাও হতে
পারেন। কিন্তু ভেতরে এবং বাইরের সৌন্দার্যে তিনি সুন্দর হয়ে উঠতে পারেন।
আনন্দ ধারাঃ নানা রকম ফ্যাশন, নানা সময়ের ট্রেড
কতটা প্রভাব ফেলে?
শারমিন লাকীঃ বহু প্রাচীনকাল থেকেই এটা হয়ে আসছে। দেখা যায়
চল্লিশ বছর আগের যে স্টাইল ছিল চুল বা
পোশাকের ঘুরে ফিরে আবার সেটা দারুন ভাবে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেছে। এটা হবেই। কিন্তু
শর্ট কামিজের জোয়ার আসলে আমাকেও গা ভাসিয়ে দিতে হবে এমনটা নয় কিন্তু।
শর্ট কামিজে সবাইকে ভালো নাও লাগতে পারে।
আনন্দ ধারাঃ নিজের ক্ষেত্রে আপনি এই বিবেচনাগুলো কি ভাবে করেন?
শারমিন লাকীঃ আমি সব সময় নিরপেক্ষ একটা জায়গায় থাকতে চেয়েছি
অনেকটা সংবাদ উপস্থাপনার মত। এমন কোন পোশাক বা গেটআপ আমি নিচে চাই না যেখানে
শারমিন লাকী ঢাকা পড়ে যায়।
আনন্দধারাঃ এই যে সাধারনের মধ্যে থেকেই অসাধারন হয়ে উঠে এজন্য
তো কিছু চর্চা নিশ্চয়ই আছে?
শারমিন লাকীঃ খুব সামন্যই। জিম এ কোনদিনইযায়নি। গত ১২ বছর দেশী
মুরগী ছাড়া অন্য কোন মাংশ খায় না। প্রচুর পানি খায়। সকালটা শুরু হয় একগ্লাস ফলের
রস দিয়ে তারপর যে কোন ২/৩ টা ফল, এক কাপ লিকার চা, সঙ্গে একটা টোস্ট বা হালকা
কিছু। দুপুরের ভাত, ডাল, প্রচুর সবজি, মাছ ইত্যাদি। তবে ডিম আর
ডেজাট খেতে আমি এতো পছন্দ করি যে আমার সব ডায়েটিং রাতে ডির্জাট খেলে ভন্ডুল হয়ে
যায়। রাতে এক ঘন্টা হাটি।
আনন্দ আলোঃ পোশাকের ক্ষেত্রে আপনি কতটা
সচেতন?
শারমিন লাকীঃ অনেকটাই। যেহেতু আমি অভিনয় শিল্পী নয়। আমাকে কোনও
বিশেষ চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে হয় না। তাই বেশ স্বাধীন। নিজের মাধ্যমে একটি
অনুষ্ঠানকে গ্রহনযোগ্য করে তোলাটাই প্রধান।
আনন্দধারাঃ মঞ্চে যখন উপস্থাপনা করেন?
শারমিন লাকীঃ এখন অবশ্য অনেক জায়গায় ড্রেসের
কোড দেওয়া থাকে। আবার ধরাও খেতে হয় মাঝে মাঝে। যেমন এক ধরনের দর্শকের কথা মাধায়
রেখে ড্রেসআপ গেটআপ করেছি। কিন্তু গিয়ে দেখলাম পরিবেশ উলটো।
আনন্দধারাঃ বিউটি পার্লারে যান?
শারমিন লাকীঃ হ্যা প্রতি মাসে একবার আমি পার্লারে যায়। চুলের
ট্রিটমেন্ট, ফেসিয়ালসহ সব কিছু। আর বাসায় হারবাল ট্রিটমেন্টগুলো
করি। অলিভ অয়েল বা বেবি লোশন দিয়ে মেকআপ তুলি। মুসুরের ডাল আর পোলাও চাল পেস্ট করে
স্ক্র্যাবার
হিসেবে ব্যবহার করি। ফেস প্যাক লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে নাইট ক্রিম ব্যবহার করি।
আনন্দধারাঃ এখন দেখা যায় একটি পন্যোর বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে
নাটক করেছেন, উপস্থাপনা করছেন। এই যে একজন মানুষ শুরুতেই নানা কিছুতে যুক্ত
হচ্ছেন। এটা আপনি কীভাবে দেখেন?
শারমিন লাকীঃ এটা আমি শুভ লক্ষন বলে মনে করিনা। এ কারনেই আমরা
একটি বিষয়ে এক্সপাট পাই না। দর্শরা কনফিউজড হন। কারন কোনটি তার পরিচয়? অনেক
প্রতিভা থাকতেই পারে। তবে আমি মনে করি পরিচিতিটা একটা খুব বেশি হলে দুটি
ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। না হলে আইডিনটিটি ক্রাইসিস হওয়ার সম্ভাবনা।
আনন্দ ধারাঃ আপনি নিজে উপস্থাপনা এবং মডেলিং করছেন। পাশাপাশি
কন্ঠ দিচ্ছেন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে। গান করছেন শুরুতেই ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী । এই যে
আবৃত্তি সংগঠন করতেন। এখন অনেক দূরে বেদনা বোধ করি।
শারমিন লাকীঃ ভীষন ভীষন। আমার মূল ক্ষেত্রটা থেকে আমি অনেকদুরে
এখন তবে অবশ্যই এখানটাতেই ফিরে আসবো। দশটা
বছর আমি কাজ করেছি। ভালো লাগা ভালবসা থেকেই করেছি। এখন আমার যা কিছু সবই আবৃত্তি
করেছি বলেই।
আনন্দধারাঃ আপনি যখন উপলব্ধি করতে পারছেন যে
এতগুলো ক্ষেত্র কাজ করা ঠিক নয় তখন
করছেন কোন বিষয়টি মাধায় রেখে?
শারমিন লাকীঃ আমি বরাবর ব্যকগ্রাউন্ডে কাজ করতে পছন্দ করি।
কিন্তু বিভিন্ন কারনে ভিস্যুয়ালি বেশি। মডেলিং
করেছি একটা দুইটা শখে। পরেরগুলো অনুরোধ রাখতে হয়েছে অনেকেই।
তাছাড়া যে মিডিয়ার প্রতি যে মোহ ছিল না সেটা আমি বলতে চাই না। তবে অডিও রিলেটেড
কাজ আমি করতে চায়। এখন যেভাবে আমি জড়িয়ে গেছি তা থেকে নিজেকে
আলাদা করে আবার আমি ফিরে আসব।
আনন্দআলোঃ আপনি সম্প্রতি রেডিও ফুর্তিতে যোগ দিয়েছেন।
শারমিন লাকীঃ হ্যা । ওই যে বললাম আমার
অডিও কাজই বেশি পছন্দ। বাংলাদেশ বেতার কখনোই ডাকেনি বলেই করা হয়নি।
আনন্দধারাঃ রেডিও ফুর্তিতে আপনি এখন কি করছেন?
শারমিন লাকীঃ মাই টাইম উইথ মি শারমিন লাকী এই নামে রবি, সোম
মঙল বুধ এই চারদিন দুপুর ২টা থেকে ৩টা এই এক ঘন্টা প্রচার হয়। গৃহিনীদের সঙ্গে কথা
বলা। তাদের
একটু টিপস দেয়া এই নিয়ে সাজানো । একটু অন্য রকম গান প্রচার হয়। রেডিও ফুর্তিতে কাজ
করে খুব এনজয় করছি। লাইভ অনুষ্ঠানের বলে এসএমএস এর মাধ্যমে সরাসরি কথা বলা যাচ্ছে।
আনন্দধারাঃ ঈদের সময় বিভিন্ন বুটিক হাউসগুলো মডেল হন আপনি। ঈদের নিজের শপিং কী হয়?
শারমিন লাকীঃ বিভিন্ন বুটিক হাউস গুলো এতো কাপড়
আসে যে আমি কোন ঈদের এখন নিজের জন্য কাপড়
কিনিনা। তবে এবার অঞ্জস এর কাপড় গুলো পরে আমি মুগদ্ধ।
আনন্দধারাঃ আপনার স্বামী আপনাকে কোন পোশাকে দেখতে পছন্দ করে?
শারমিন লাকীঃ আমার স্বামী আমাকে ওয়েস্টার্ন পোশাকেই বেশি পছন্দ
করে শাড়িতেও
খুব পছন্দ করে। তবে মাঝামাঝি সময়ে সালোয়ার কামিজ একদম পচন্দ করেনা।
আনন্দ আলোঃ আপনি নিজেকে কোন পোশাকে পছন্দ করেন?
শারমিন লাকীঃ আমি এক কথায় বলব শাড়ী এবং ওয়েস্টার্ন পোশাকে
আমাকে বেশি মানায়।
আনন্দআলোঃ এখন সবাই খুব ফ্যাশন এবং সৌন্দার্য সচেতন। আপনার কি
মন
হয়? এটা
কতটা পজেটিভ?
শারমিন লাকীঃ শতভাগ পজেটিভ। সবচেয়ে পজেটিভ হচ্ছে। কেউ একরকম
কিছু করতে চায় না শর্ট কামিজ মানেই শর্ট কামিজ নয়। কেউ আবার লম্বা কামিজেও
সুন্দরভাবে উপস্থাপন করছেন। মুল উদ্দেশ্য থাকে নিজেকে একটু আলাদা করে উপস্থাপন
করছেন। মূল উদ্দেশ্য থাকে সবাই নিজেকে একটু আলাদা করে প্রেজেন্টেবল
করে তোলা। সৌন্দার্যের ব্যাপারে সবাই খুব সচেতন এখন। তা ছাড়া স্বাস্থ্যের
ব্যাপারেও অনেক বেশি সচেতনতা বেড়েছে সবার মধ্যে।
আনন্দধারাঃ এই যে সচেতনতা এটা কি মিডিয়ার কল্যানে?
শারমিন লাকীঃ মিডিয়া তো বড় ভূমিকা রাখছেই। অঞ্জসকে এর মত
খ্যাতনামা বুটিক হাউসগুলো, গামেন্টস, ইন্টারনেট। পৃথিবীর সব খবর এখন হাতের মুঠোয়। ফলে সেটার প্রভাব তো আছে। সবাই এখন সব
কিছু থেকে
নিয়ে নিজের মত করে নিজেকে সাজায়।
আনন্দধারাঃ আপনার ছেলে আপনাকে কোন পোশাকে দেখতে পছন্দ করে?
শারমিন লাকীঃওয়েস্টান পরলে খুব হাসে। ও
খুব ইন্ট্রোভার্ট এবং লাজুক । বাবার মতো নিজেকে এক্সপ্রেস করতে পারে না । আমি চোখ
দেখে বুঝি সে কোনটা পচন্দ করে।
আনন্দধারাঃআমরা জানতে পেরেছি ওজন কমাতে আপনি কাছের মানুষের
কিছু ট্রিপস দেন। কেউ কেউ উপকারও পেয়েছে। পাঠকদের জন্য কিছু বলবেন?
শারমিন লাকীঃ সবাই জানে। জাঙ্ক ফুড একদম কমাতে হবে। ভাত
খাওয়া কমাতে হবে। আর মিষ্টি খাওয়া একদম কমাতে হবে।
আনন্দধারাঃ রেডিও ফুর্তিতে কি আপনি শুধু আর যে হিসাবেই কাজ
করেন?
শারমিন লাকীঃ হা। অথিতি আর যে। তবে পামামেন্ট চাকরি।
আনন্দধারাঃ সিদ্দিকা কবিরস এর কাজ চলছে?
শারমিন লাকীঃ এর মধ্যে দুইশ পর্ব শেষ হয়েছে। আরো পঞ্চাশ পঞ্চাশ
পর্বের জন্য এই মাসের শেষে শুটিং শুরু হবে।
আনন্দধারাঃ ঈদে কি অনুষ্ঠান করছেন?
শারমিন লাকীঃ অনুরোধের
অনেক কিছুই করছি। একটু কবিতা পড়া, একটু গান না পারলেও এগুলো চলছে। পার্থ বড়ুয়ার
সাথে একটি মৌলিক গান গাওয়ার কথা হচ্ছে । খানের একটা গানের অনুষ্ঠানের। সম্ভবত
এনটিভিতে দেখানো হবে ঈদের সময়। বুটিক হাউজের৫ সঙ্গে প্রচুর কাজ হবে মডেল হিসেবে।
ঈদের সময় খুব কাজ হয় বলে ভয়েস দিচ্ছি খুব বেশি। স্পেশাল সিদ্দিকা কবিরস রেসিপি
থাকবে। ডিজাইনারদের সাথে আড্ডা থাকতে পারে।
আনন্দধারাঃ শুধু এই ঈদ স্পেশাল শাড়িগুলোই নয়। অঞ্জনস এর পোশাক
বরবরই কেমন লাগে? Add as favourites (44) | Quote this article on your site | Views: 159
Write Comment
|
||||||
| Next > |
|---|





