|
Page 1 of 2
জুয়েল আইচের আপনজন থেয়া
আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাদুকর দম্পতি জুয়েল আইচ ও বিপাশা আইচের একমাত্র সন্তান খেয়া আইচ। ১৯৯৯ সালের ৩১শে অক্টোবর খেয়ার জন্ম। বয়স এখন মাত্র নয়। সানবীম স্কুলে ক্লাস থ্রীর ছাত্রী।
সন্তান জন্মের সময় বা তারপরে আর অন্য আট/দশজন বাবা-মা যেমন আনন্দময় উৎকন্ঠা বা উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করে জুয়েল আইচ দম্পতির অপেক্ষাটা তেমন ছিল না। তাদের সময়টা তখন ছিল ভয়ংকর রকম টেনশনের। কেননা, মায়ের গর্ভে সন্তানের পজিশন ছিল ঝুকিপূর্ণ। কাজেই তার জন্মটা এতটাই ঝুকি ছিল যে সন্তান বাঁচবে কিনা তখন সেটাই ছিল একটা বড় প্রশ্ন। ডাক্তারদের অনেক চেষ্টা, মায়ের কষ্ট শেষে সন্তান জন্ম নিলেও তার অবস্হা এতটাই জটিল ছিল যে সেই বাচ্চাটাকে ২১ দিন ইনকিউবেটরে রাখতে হয়েছিল। পুরো বিষয়টা ছিল খুবই মারাত্মক্ যা বাব-মার পক্ষে সহ্য করা খুবই কঠিন ছিল। সেই সময় মা-র অবস্হাও ছিল খারাপ। এদিকে মাস খানেক যেতে না যেতেই বাচ্চাটা আক্রান্ত হলো হিমোরেজিক ডেঙ্গুতে।
জুয়েল আইচ বলেন, বাবা হয়ে চোখের সামনে অতটুকু বাচ্চার যে কষ্ট দেখেছি তা সহ্য করার মতো ছিল না। বছর দেড়েক অসুস্হতার মধ্যেই কাটলো বাচ্চাটার সময়। এপর কখনো ভালো কখনো মন্দ। এভাবে কেটে গেল খেয়ার আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত। একটা পুরোপুরি সুস্হ সন্তান পেতে জুয়েল আইচ দম্পতির কেটে গেল আড়াইটা বছর।
তারপরের অনুভূতি সম্পর্কে জুয়েল আইচ বলেন, আমার মেয়ে হচ্ছে আমার জান। আর বিপাশা আইচ বলেন, আমার জন্য পৃথিবীর পুরো সুখটাই হচ্ছে যে আমার মেয়েটা ভালো আছে।
স্বভাবে খেয়া খুবই মুডি এবং শান্ত খেয়া যদি কারো সঙ্গে মিশতে পারে তাকে খুব আপন করে নিতে পারে। তবে এটা সে সবার সঙ্গে পারে না। তাই খেয়া কাখনো কারো কাছে রিজার্ভ আবার কারো কাছে ফ্রেন্ডলি। পড়াশোনায় বেশ ভালো। ভালো গান করে। টুকটাক যা কিছুই করে সেটা ভালই করার চেষ্টা করে। ইদানীং বাবা-মা এর মতো ম্যাজিকটাও করছে। অংশ নিচ্ছে স্টেজ শো তেও। তবে গানটাই সে প্রায়োরিটি দেয়। সেই সঙ্গে পড়াশেনা। তবে এই দুটোর কোনটির জন্যই টিচার রাখতে চায় না খেয়া। পছন্দ করে ডাল ভাতের মতো সাধারন খাবার আবার কখনো কখনো ওয়েস্টার্ণ ফুড। আর আট/দশটা বাচ্চা মেয়ের মতো খেয়াও সাজতে খুব পছন্দ করে। ভালোবাসে কবিতা লিখতে।
থেয়া খুব সেনসেটিভ এবং ফ্যামিলি লাভিং। বাব-মাকে খুব ভালোবাসে। আর মেয়ের এই গুনটা আলোড়িত করে জুয়েল আইচ ও বিপাশা আইচকে। এই দম্পতি বলেন, আমাদের মেয়েটা যেহেতু জন্মের পর অনেক ভুগেছে তাই তাকে কঠিন শাসনের মধ্যে রাখি না। যতটুকু সম্ভব আদরের মধ্যে রাখি। যা চায় তা দেয়ার চেষ্টা করি। তবে তার কোন অন্যায় আবদার কখনোই দেখিনি।
বাবা-মা দেশ বিদেশে পরিচিত এই বিষয়টা খুব এনজয় করে খেয়া। তবে তাদের মতো জাদুকর হওয়ার আগ্রহ যত না তার চেয়ে বেশী সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার ইচ্ছে বেশী তার।
তবে বাব-মা এর চাওয়া খেয়া ম্যাজিকটা করলেই তারা বেশী খুশি হতেন। তবে এই ইচ্ছেটা কখনোই চপিয়ে দিতে চান না এই জাদুকর দম্পতি তাদের একমাত্র সন্তান খেয়ার উপর।
আরিফ খান
Add as favourites (89) | Quote this article on your site | Views: 697
|