|
যোধা আকবর
একদিকেতো যোধা আকবার ছবির শুটিং নিয়েই ঝামেলায় আছেন তিনি,
অপরদিকে এই ছবিকে ঘিরে মাথাচাড়া দিচ্ছে একের পর এক বির্তক। সমস্যাটার
শুরু হয়েছিল ঋতিক আর ঐশ্বরিয়ার শুটিংয়ের শিডিউল মেলাতে গিয়ে । আসলে কি ঘটেছে তাকে
ঘিরে সেটাই ঠিক মত বুঝে উঠতে পারছেনা পরিচালক আশুতোষ গোয়াকিকর ।
একদিকেতো যোধা আকবরের শুটিং নিয়ে ঝামেলায় আছেন তিনি অপর দিকে শুটিং এর শিডিউল
মেলাতে গিয়ে । একটা সময় পর্যন্ত দুজনকে একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে মেলাতে
গিয়ে প্রায় কালঘাম ছোটার অবস্থা হয়েছিল ইউনিটের। সেটা মিটতে না মিটতেই ঘোড়া থেকে
পড়ে আহত হলেন ঋত্বিক । ফলে আবারও শুটিং শিডিউলের ওলটপালট । এরপর আবার রাজপুত
সম্প্রদায়ের একাংশ দাবি তোলেন, অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে ছবির কাজ । না হলে তারা
আন্দোলনে নামবে। রাজপুতদের বক্তব্য , তাদেরকে ঠিক ভাবে উপসস্থাপন করা হচ্ছে না এই
ছবিতে। ফলে কিছু দিনের জন্য সত্যিই বন্ধ হয়ে যায় রাজস্থানের ছবির শুটিং
এর কাজ। নষ্ট হয় তারকাদের বহু মুল্যবান সময়। একদিকে বিশাল অংকের বাজেরটের চাপ অন্যদিকে স্রোতের মত বয়ে
চলা সময়। দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন আশুতোষ । আদৌ কি শেষ হবে এই ছবি? যোধা আকবার ছবির
রিলিজ ডেট ছিল ১০ অক্টোবার। কিন্তু কথা দিয়েও ছবি শেষ করতে পারিনি আশুতোষ।
বারবার বদলে গিয়েছে তারিখ। নেপথ্য কাজ করেছে এমন সব ঘটনা যা আশুতোষ কল্পনাও করতে
পারিনি। শুটিং মানেই আনপ্রেডিকটিবিলিটি।কিন্তু
এবার এমনসব ঘটনা যার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না । একবার শুটিং এর খাবার
দেখে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ঋত্বিক । সরাসরি বললেন এইসব সরাও। শট দিতে গিয়ে এ ধরনের
খাবার আমি খেতে পারব না । পরিচালক আশুতোষ তো অবাক । খাবারের কি দোষ বুঝতে পারলেন
না ।
শুটিং এর সময় ঋত্বিক কখনো ফালতু কথা বলে না । ঋত্বিক সব সময় ডিরেক্টরস আক্টর ।
পরিচালকের নিদেশ অনুযায়ী শট দেন। চরিত্র ফুটিয়ে তুলেন । কোথাও সমস্যা দেখা দিলে
মিটিয়ে নেন। । তাহলে ব্যাপারটা বুঝা গেল একটু পরেই। কারজাতে নীতিন দেশাইয়ের
স্টুডিওতে । যোধা আকবার এবং এর তার সভাসদরা খেতে বসেছেন। আর যোধাবাই রাজকীয়
ভঙ্গিতে সেই খাবার পরিবেশন করছেন । এলাহি সেট ফেলেছেন পরিচালক আশুতোষ।
এমনকি খাওয়ার দৃশ্যটাকেও ঠিক মতে ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্য রাজস্থান হতে রাধুনি
এনেছেন । বাদশাহী খাবার বলে কথা সেটাতো অন্য আনাড়ীর হাতে দেওয়া যায় না । হতে
পারে শুটিং কিন্তু আশুতোশ কোন ফাকি দিতে
চান না । পুরোটা দশকের কাছে বিশ্বাসী করে তুলতে চেয়েছেন তিনি। রাধুনীরা এসে
বাদশাহী আমলের মতো ডাল চাল গোল রুটি চুরমা
তৈ্রী করেছেন । কিন্তু রাজশাহী খাবার দেখেই ঋত্বিক ভ্রু কুচকে গেলেন । বার বার শট
দিতে হবে আর বারবার খাবারটা খেতে হবে । কিন্তু ঋত্বিক খাবারের ব্যাপারে প্রচুর
খুতখতে । একটু এদিক ওদিক হলে সেখাবার আর খেতে চায় না । সব খাবার ঘি
দিয়ে তৈ্রী করা হয়েছে এই খাবার খেতে ঋতিক আপত্তি জানান। পরে আশুতোষ আবার নতুন করে
ঋতিকের জন্য খাবার রান্না করার জন্য হুকুম দিলেন। সেদিন
অনেক খবার রান্না করা হয়েছিল । রিটেক হবার সম্ভবনা ছিল তাই প্রচুর রান্না করেছিলেন
পাচকরা ।ওই দৃশ্যে ঋত্বিক ছাড়াও আরও উনিশজন ঐ খাবার খেতেন। রিটেকের কথা
ভেবে প্রায় আশিজনের জন্য রান্না তৈ্রী করা হয়েছিল সেদিন। ঐশ্বযও ওই খাবার খেতে
আপত্তি করেছিল তিনিও ঘি খাবার খেতে রাজি নন। এরপর রাধুনীরা ওই দুইজন
নায়ক নায়িকার জন্য ঘি এবং মসলা বাদ দিয়েই রান্না করেন। কিন্তু আশুতোষ আবার চাইলেন
খাবার পদগুলো দেখতে যেন রাজকীয় হয়। না হলে দশক হয়তো ফাকিবাজি ধরে ফেলবেন। শেষ
পর্যন্ত দুপক্ষের চাহিদা বজায় থাকে। কিন্তু মাঝখানে থেকে আশুতোষের গলদঘর্ম অবস্থা।
আবার আরেকটি ব্যাপার৫ যতেষ্ট ভুগিয়েছেন গোয়াগিকরকে। বিষয়টি
তিনি মোটেও মেনে নিতে পারেননি। যদিও এটা কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার।
কিন্তু আমি চেয়েছিলাম ঐশ্বয ছবিটা শেষ করে বিয়ে করুক। কারন এই ধরনের ঐতিহাসিক
চরিত্রের ক্ষেত্রে কনটিউটি একটি গুরুত্বপূর্ন শর্ত বলেছেন পরিচালক। শুধু
বিয়ে নয় দীঘ মধুচন্দ্রিমা, বিজ্ঞাপনের কাজে বিদেশে যাওয়া এবং পিংক প্যান্থার এর
শুটিংয়ের অংশ নেওয়া । এই সবের জন্য ঐশ্বযকের পাওয়া যায়নি কারজাতের সেটে। আবার দুভাগ্য
বিদেশের কাজ শেষ করে যখন দেশে যোধা ছবির কাজে কাস্টিউম গায়ে চড়ালেন
ততদিনে ঋতিক আবার বিছানায়। যুদ্ধের শেষে তরোয়ালের খোচায় বিচ্ছিরিভাবে জখম হন তিনি।
আগত্য আকবরকে ছাড়াই যোধা বাইয়ের দৃশ্যগুলো সেরে ফেলতে বাধ্য হন
আশুতোষ। আর তাতে বাধাপ্রাপ্ত হয় কাজের গতি। এখানেই শেষ নয় বির্তক উঠেছে, এই ছবির
শুটিংয়ে কোন সেলিব্রিটিকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে কি হয়নি তা নিয়ে । ইন্ডাস্টির
অনেকেই ক্ষেপেছেন যোধা আকবার এর এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার আশুতোষের স্ত্রী সুনীতার
উপর । শুটিংয়ে কাউকে প্রবেশধিকার দেওয়া হবেনা। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি থাকলে বাস্তবে
দেখা গিয়েছে, হাই প্রোফাইল সেলিব্রেটদের অনেকে ডাক পেয়েছেন সেটে রাজস্থানের
মুখ্যমুন্ত্রী বসুন্ধরা সঞ্জয় দত্ত, বিধুবিনোদ ছোপড়া , অমিতাভ বচ্ছন, সুধীর মিত্র
বিভিন্ন সময় ভিড় করেছেন শুটিংয়ে। জানা গেছে সুদীর যেদিন নীতিন দেশাইয়ের কাজ
দেখতে কারজাতে গিয়েছেলেন সেদিন অন্য এক পরিচালক তার সঙ্গে থাকলে শুটিং জোনে ঢুকতে
দেওয়া হয়নি। । অথচ রাজকীয় খাতির পেয়েছেন সুধীর। এটা যাতে সমস্যা না হয় তার
জন্য আশুতোষের নিদেশে দুঃখ প্রকাশ করে
সাফাই গেয়েছেন সুনীতা । সুধীর আর আশু সহর্কমী। নিদিষ্ট একটা কাজে সেদিন ওখানে
গিয়েছিল। শোনা যায় পরে ওই পরিচালকে দেটে আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু তিনি যাননি।
আরেকটি বির্তকের জন্ম নিয়েছিল আলিগড়
বিশ্ববিদ্যলয়ের একদল ঐতিহাসিক। তাদের দাবি আজ পযন্ত ইতিহাস আশ্রিত কাহিনী নিয়ে যত
ছবি হয়েছে অধিকাংশ বাজে। বিকৃ্ত তথ্য, অবান্তর এবং দায়সারা। ভিন্ন দেশের পরিচালক
রিচার্ড আটেনবারো ভারতে এসে মহাত্ব গান্ধিকে নিয়ে ছবি করে দেখিয়ে দিয়েছেন
ঐতিহাসিক ছবির ধারা কেমন হয়। প্রযোজকের নির্দেশে সময় থাকতে সব সামলাতে চাইছেন
আশুতোষ । তড়িঘড়ি করে সাংবাদিক সন্মেলন করে ঘোষনা দিয়েছেন আগামী বছরে আগে যোধা আকবর
ছবির মুক্তি সম্ভব নয় কারন তিনি হিউমান এরর থাকে ছবিকে দূরে রাখতে চান। আশুতোষ
এটাও বলেছেন যে ছবিটার আশি শতাংশ কল্পনা এবং বাকিটুকু ইতিহাস। আমি কোন ঐতিহাসিক
দলিল করতে চায়নি। যোধা আকবর কোন বায়োকপি নয়।
Add as favourites (53) | Quote this article on your site | Views: 252
|