|
রুপালী পর্দায় টিভি তারকারা
টিভি পর্দার থেকে রুপালী পর্দার দিকে ঝুকে পড়ার ঘটনা বহু
পুরানো। সৈয়দ হাসান ইমাম, আফজাল হোসেন, সারা যাকের, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর,
সুবর্না মোস্তফা, পীযুষ বন্দোপাধ্যায় , ডলি জহুর, অরুনা বিশ্বাস , আবুল হায়াত,
তারিক আমান খান, কেরামত মাওলা এরা প্রত্যেকেই টিভি পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি
সিনেমাতে কাজ করে আলোচিত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে টিভি পর্দায় প্রতিষ্ঠিত এমন অনেক
তারকাই চলচ্চিত্রের দিকে বাক নিচ্ছেন। অশ্লীলতা বিরোধী টাস্কফোর্স
গঠনের পর দেশে চলচ্চিত্রে নির্মানে নতুন ধারা তরী হয়েছে।
নির্মাতারাও সুস্থ্য ধারার ছবি নির্মানে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বড় পর্দার সুস্থ্য
ধারার চলচ্ছিত্রে অভিনয় এগিয়ে আসা ছোট পর্দার তারকাদের হালহকিতে নিয়ে এই
প্রতিবেদন।
যে কোন দেশের জন্যই চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ন
গনমাধ্যম। প্রায় অর্ধেই একটি বড় মাধ্যমেই তার সমাধান দেয়া হয়। টিভি নাটক কিংবা
অন্যান্য গনমাধ্যামে যেটা সম্ভম নয়, সিনেমার প্রতি একটু আধটু দুবল থাকেন ।
গত ১৬ নভেম্বর মুক্তি প্রাপ্ত বাশী ছবিটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে
অভিষেক হয়ে গেল ছোট পর্দার সুইটির। দীর্ঘদিন ধরে ছোট পর্দায় দাপটের সাথে কাজ করে
গেলেও বড় পর্দায় সুইটির প্রথম কাজ। সিনেমায় কাজ করা প্রসঙ্গে সুইটি বলেন
কাজতো কাজই। আমার কাছে অভিনয়টাই মূখ্য। তাছাড়া বড় পর্দা বলে আলাদা একটা বিষয় থাকছে
। মাঝখানে আমাদের চলচ্চিত্র অনেকটাই কলুষিত হয়ে গিয়েছিল । এর মধ্যে দুই তিন জন
নির্মাতা সুস্থ্য ধারার ছবি নির্মানের হালটা ধরে রেখেছিলেন আবু সাইয়ীদ
তার মধ্যে অন্যতম। তাই তার সঙ্গে ধারার ছবি হলে সেটা করতে সুইটির কোন আপত্তি নেই।
সুইটির মতো সম্প্রতি নাটক থেকে চলচ্চিত্রের পুরোপুরি জড়িয়ে যাওয়া আরেক অভিনেতা
শাহরিয়া নাজিম জয়। কদিন আগেই জয় অভিনীত এই যে দুনিয়া ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। গাজী
মাঝারুল ইসলামের প্রযোজিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ঢাকার চলচ্চিত্রে শীষ নায়িকা
শাবনুরের সাথে। অবশ্য এর আগেই আরো দুটি ছবিতেই জয় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে জীবনের
গল্প ছবিটি মোটামুটি সাড়া জাগালেও খুব একটা
ভাল ব্যবসা করতে পারেনী গ্রামগঞ্জের পিরিত ছবিটি। সব কটি ছবিতেই
জয় অভিনয় করছেন শাবনুর। সাফল্য ব্যর্থতার দাড়িপাল্লায় ফলাফল যাই আসুক না কেন জয়
কিন্তু মোটেই দমে যায়নি। বরং প্ররোপুরি উদ্যম নিয়ে ফিল্মে
নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে চাইছেন। এ প্রসঙ্গে জয় বলেন সত্যিকার অভিনেতা হিসেবে
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বড় পর্দার কোন বিকল্প নাই। রাতারাতি সাফল্যে আমি
বিশ্বাসী নই। আমি চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই তাহলে ছোট পর্দার মতো বড় পর্দার সাফল্য
পাওয়াও কঠিন হবে। ছোট পর্দার আরেক জনপ্রিয় মুখ শ্রাবন্তীও চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। অন্যতম শীষ নায়ক রিয়াজের বিপরীতে রঙ নাম্বার ছবিটি আশাতীত সাফল্য পেয়েছে।
জাহিদ হাসান, মাহফুজ, শাহেদ এদের এখন প্রায় রুপালী পর্দায় দেখা যাচ্ছে। আজমল হুদা
মিঠুর ঝন্টু মন্টু দুই ভাই এ ছবিতে
অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দার অভিষিক্ত হন শাহেদ। জাহিদ হাসানের অভিষেক হয়েছিল
অকাল প্রয়াত নায়িকা শ্যামার বিপরীতে জীবন সঙ্গী ছবির মাধ্যমে । এর পর অবশ্য অনেকটা
নিয়মিত ছবিতে দেখা গেছে জাহিদ হাসানকে। মাহফুজ আহমেদ চলচ্চিত্রের আসার পর হুমায়ন
আহমেদের শ্রাবন মেঘের দিন শহিদুল ইসলামের লাল নীল সবুজও প্রভৃতি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে
আলোচিত হয়। হুমায়ন আহমেদের নতুন ছবি আমার আছে জল এ লাক্স চ্যানেল আই সুন্দরী মীমের
বিপরীতে মাহফুজের অভিনয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জাহিদ হাসান এ চরিত্রে কাজ করছেন
বলে জানা গেছে। সদ্যবিবাহিত অপি করিম মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর
ছবিতে অভিনয় করে আলোড়ন তুলেছিলনে। একই ছবিতে কাজ করেছেন সুমাইয়া শিমু ,
জয়ার মতো তারকারা অন্যদিকে মোস্তফা সরওয়ার পরিচালিত মেড ইন বাংলাদেশ ছবিটিকে দেশের
প্রথম একমাত্র গানবিহীন চলচ্চিত্র হিসেবে ধরা হয়। এই ছবির মাধ্যমে প্রথম বড় পর্দায়
আসেন হার্টথ্রব
মডেল ও শ্রাবন্তী দত্ত তিন্নী। এছাড়াও এই ছবিতে শহীদুজ্জামান সেলিম। শহীদুল আলম
সাচ্চুসহ। অন্যান্য টিভি তারকাদের অভিনয় অনেকের নজর কেড়েছে। ছোট পর্দার
আরেক জনপ্রিয় মুখ লিটু আনামও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত
আলোচিত ছবি নিরন্তর এ শাবনুরের ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন
লিটু আনাম। এর বাইরে ছোট পর্দার জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা চঞ্চল
চৌধুরী রুপকথার গল্প ছবিতে অভিনয় করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিমের মনপুরা ছবিতে। এই
ছবিতে তার বিপরিতে থাকছেন ছোট পর্দার ব্যস্ত অভিনেত্রী ফারহানা মিলি। ছোট পর্দার
আরেক
সফল তারকা তৌকির আহমদকে অভিনেতা কিংবা নির্মাতা হিসেবে এখন অনেকটাই চলচ্চিত্রের
মানুষ বলা চলে।
পুরানোদের মধ্যে অনেকে যারা টিভি থেকে চলচ্চিত্রে এসেছেন তাদের
অভিনয় এখনও দশকদের মনে দাগ কেটে আছে। এর মধ্যে অরুনা বিশ্বাস ও হানিফ সংকেতের চাপা
ডাঙ্গার বঊ, আলী যাকের আগামী, হলুয়া, আফজাল হোসেনের দুই জীবন, সুর্বনার
মোস্তফার নয়নের আলো, স্ত্রী, তারানা হালিমের নয়ন মনি, সুখের সংসার, পীযুষ
বন্দোপাধ্যায়ের সুচনা, হুমায়ন ফরিদীর দহন সহ অসংখ্য ভাল ছবি দর্শকদের মনে এখনও
গেথে আছে। এই সব তারকারা এক দিকে যেমন সিনেমার জন্য নিজেকে উজাড়
করে দিয়েছেন তেমনি আগামী প্রজন্মের জন্য পথ খোলা রেখে গেছেন। আর সেই খোলা রাস্তা
ধরেই এগুচ্ছেন এ প্রজন্মের তারকারা।
Add as favourites (59) | Quote this article on your site | Views: 346
|