| Teenage Action |
|
|
|
বাবা- মা আমাদের ভালো
বন্ধু -একা ও লেখা
বাবা- মা আমাদের ভালো
বন্ধু
-একা ও লেখা
সৌরজয় চৌধুরী
একটি ইংরেজি চলচ্চিত্রের গল্প দিয়ে শুরু
করি। চলচ্চিত্রটির নাম ‘টেন থিংস আই হেট এবাউট ইউ’।
চলচ্চিত্রটি দুই টিন বোনের গল্প নিয়ে।
তাদের মা, বাবা অনেক রাগী। সবকিছুতে বাধা দেয়। সবসময় সন্দেহ করে। তারা তাদের
মা-বাবার সাথে বন্ধু হতে চায় কিন্তু পারে না। ছোট বোনটির সাথে একটি
ছেলের সম্পর্ক হয় কিন্তু বাবার একটাই শর্ত, যতহ্মণ না পর্যন্ত দুবোনের একসাথে কোনো
সম্পর্ক বা ভালোবাসার অফার না আসবে ততহ্মণ
পর্যন্ত কোনোই ছাড় নেই। মা- বাবার সাথে সন্তানের মনোস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের ওপর
অসাধারণ একটি ছবি। আজকের লেখনীর বিষয়বস্তুও দু’টিন বোনকে
নিয়ে। তারা একে অপরের সেরা বন্ধু। তাদেরও মা-বাবা আছেন কিন্তু তাদের গল্পটি
চলচ্চিত্রটির উল্টো। এ দুই বোনের সাথে মা-বাবা সম্পর্কটা
সেই চলচ্চিত্রটির মতো নয়। বরং অনেক অনেক বেশি সহনশীল ও
বন্ধুত্বের। চলচ্চিত্রে দেখা যায় যে দুবোনের কাছে পরিবারটা হচ্ছে দুঃস্বপ্নের মতো।
অন্যদিকে বাস্তবের এই দুবোনের পরিবার হচ্ছে সকল স্বপ্ন আশা, আকাঙক্ষা, শান্তি,
আনন্দের বিদ্যাপীঠ। তারা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে
পরিবার, মা-বাবা ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারেন না।
প্রিয় পাঠক মনের আগ্রহটা নিশ্চয় আর আটকে
রাখতে পারছেন না, তাই না। জানতে ইচ্ছা করছে এই দুবোন কারা? উত্তর হচ্ছে বিখ্যাত
পিতার সন্তান এরা। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন এবং তার
সহধর্মিণী আফরোজা আক্তার-এর দু’কন্যা এরা।
বড়জনের নাম হচ্ছে নির্বাচিতা হক একা এবং ছোটজনের নাম শুভেচ্ছা হক লেখা।
ইতোমধ্যে দর্শক এবং পাঠক টিভি পর্দায়
নির্বাচিতা ও শুভেচ্ছেকে দেখে ফেলেছেন। ১৯৯৮ সালে ‘ভালোবাসার
সুখ-দুঃখ’
নাটক দিয়ে ছোট পর্দায় তাদের অভিষেক ঘটে। আনন্দ আলোকে তারা
জানিয়েছেন যে, এই নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তারা প্রথম উপার্জান করেন। এছাড়া
তারা বলেছেন তাদের গল্প, পরিবারের গল্প, তাদের কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা
কিছু।
আড্ডার শুরুটাই হয়েছিল ছোট বোন লেখার
দুষ্টুমি দিয়ে। রেকর্ডার হাতে তিনি হয়ে ওঠেন রিপোর্টার। আর
বড় বোন একা হয়ে ওঠেন একজন বড় তারকা। হাসি- ঠাট্টায় আবার দুবোনের একটু একটু যুক্তি-
তর্কের যুদ্ধ থেকেই বোঝা যায় তাদের সম্পর্কটা অনেক গভীর। ছেদহীন। বাধা বিঘ্নহীন।
দুষ্টুমিটা আমিই বেশি করি
দুই বোনের দুষ্টুমি দেখে স্বভাবতই
প্রশ্ন এসে গেল কে বেশি দুষ্টু? একার আঙ্গুল
লেখার দিকে। লেখার আঙ্গুলও নিজের দিকে। হ্যাঁ আমিই বেশি দুষ্টু এবং চঞ্চল। আমি চুপ
থাকতে পারি না। সারাদিনই ছটফট করি। আর অপুতো অনেক শান্ত। আমার মতো দুষ্টুমি করে
না। বরং আমি ওকে অনেক জ্বালাই। লেখার এই মতের সাথে সম্পূর্ণ
সমর্থন জোগালেন একা।
বড় আদরের ছোট বোন
দুষ্টুমির পরের পার্ট হচ্ছে ঝগড়া। তাই
জানতে চাইলাম তাদের মাঝে ঝগড়া হয় কিনা? উওরে একা জানালেন, হ্যাঁ হয়। প্রায়
প্রতিদিনই হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মাঝে সব ঠিক হয়ে যায়। কারণ আমি ওকে ছাড়া
একমুহূর্ত থাকতে পারি না। কথাটি শেষ হবার সাথে লেখা জানালেন তাদের ঝগড়াটা খুবই
মজার। এমনি এমনিই হয়। আবার অটোমেটিক ঠিক হয়ে যায়। আর আপুর সাথে কথা না বলে থাকাটা
তার পহ্মে সম্ভব না।
আদরের ভাগ ফিফটি ফিফটি
মা-বাবা কাকে বেশি আদর করে? প্রশ্নটি
উঠতেই একই সাথে দুবোনের উওর- দুজনই ফিফটি ফিফটি আদর পাই। বাবা-মা দুজনকেই সমান
চোখে দেখে। কাউকে বেশি কাউকে কম এভাবে ভাগ করেন না। তবে
বকাটা কেন জানি আমি একটু বেশি খাই- জানালেন লেখা। এ
কথার উওরে একা বললেন, তুমি চঞ্চলতার জন্য বকাটা খাও। আর অন্য কারণে নয়। বকাটা
তোমার একটু দরকার আছে, কারণ এটা ভিটামিন। একার কথা শেষ হতে না হতেই লেখার হাসি,
চিমটি কাটা আবার শুরু হয়ে গেল।
আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের
লেখা এবং একার সম্পর্ক হচ্ছে রক্তের।
তারা একে অপরের সেরা বন্ধু। তাদের কাছে বন্ধুত্ব মানে হচ্ছে নিঃস্বার্থ সম্পর্ক।
তারা জানালেন, বাবা ইমদাদুল হক মিলন,মা আফরোজা আক্তারও তাদের প্রিয় বন্ধু। বাবা-মা
সবসময়ই তাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করেন। সব ব্যাপারে বন্ধুর
মতোই সাহায্য করেন। কোনো কিছুতে না বললে তা বন্ধুর মতোই বলেন। সেজন্য তাদের মতো
মা-বাবাকে ফাঁকি দেবার কোনো অবকাশই নেই।
মাকে সব বলি, বাবাকে একটু ভয় লাগে
মা-বাবার সাথে সবকিছু শেয়ার করা হয় কি
না? জানতে চাইলে একা, লেখা জানালেন-আসলে আমরা দুজনই আমাদের সবকিছু মা-বাবাকে
জানাই। কারণ লুকোচুরি করলে সমস্যা বেশি বাড়ে। তবে হ্যাঁ আগে মাকে বলি কারণ বাবাকে
একটু ভয় লাগে। মা-ই সব ম্যানেজ করে দেয়। যেমন বাবা বকা দিচ্ছে তখন বাবা তাদের দলে এসে ভিড়েন।
বাবার লেখা বই এবং নাটক
লেখা, একা দুজনেরই বাবার লেখা বই এবং
নাটক ভালো লাগে। তাদের কাছে বাবার লেখা প্রিয় নূরজাহান, শ্রেষ্ঠ প্রেমের গল্প, ভূত
গাছ, পরীর বয়স চারশ বছর, চিতারহস্য বইগুলো বেশি ভালো লাগে। তাদের মতে, বাবার লেখা
অত্যন্ত সহজ। একদম তাদের সাথে মিলে যায়। বাবার তৈরি
দুটি চরিত্র রমাকান্ত এবং রবিন তাদের দুবোনেরই খুবই প্রিয়। বাবার লেখা প্রিয়
নাটকের মাঝে রয়েছে যুবরাজ, কোথায় সে জন, ভালোবাসার সুখ-দুঃখ,
আঁচল ইত্যাদি।
কাজের অনুপ্রেরণা মা-বাবা
একা, লেখার কাছে সবকিছু অনুপ্রেরণা
মা-বাবা। তারা পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং অভিনয়ের
সাথে জড়িত। লেখা তো লুকিয়ে লুকিয়ে গানও লেখেন। তাদের মতো, মা-বাবা সবসময়ই তাদের
কাজেকে উৎসাহ দেন। যেটা ভালো লাগে সেটাই করতে বললেন। তারা দুই বোনই ভালো অভিনেত্রী
হতে চান। ‘৯৮
সাল থেকে নাটক করছেন তারা। বর্তমানে এটিএন বাংলায় বাবার লেখা নাটক
‘খুঁজে
বেড়াই তারে’তে
অভিনয় করছেন। বাবার লেখা নাটকে অভিনয় করতে তাদের খুব ভালো লাগে। তারা বললেন তাদের
কাছে বাবার পরিচয়টা বিশাল এক ব্যাপার। তারা বাবার পরিচয়কে আরো উজ্জ্বল করতে চান
নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে।
বাবা-মা-এর সাথে দূরত্বই টিনদের মূল
সমস্যা
একা, লেখা
দু’বোনের
মতে ত্তয়েস্টার্ন কালচারের সাথে নিজেদেরকে মেলানোটা হচ্ছে সময়ের দাবি। তারা মনে
করেন টিনদের ত্তয়েস্টার্ন কালচারের ভালোটা গ্রহণ করা উচিত। তাদের চোখে টিনদের মূল
সমস্যা হচ্ছে মা-বাবার সাথে দূরত্ব। মা-বাবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে
অন্য কোনো সমস্যা সমস্যাই না। তাই টিনদের উচিত
মা-বাবাকে বন্ধু ভাবা। অন্যদিকে সকল মা-বাবারও উচিত ইমদাদুল হক মিলন এবং আফরোজা
আক্তারের মতো সেরা বন্ধু হয়ে ওঠা। পাঠকবন্ধুরা অনেক গল্প আমরা জেনে গেলাম
টিন তারকা দুই বোন একা, লেখার কাছ থেকে। লেখার শুরুতে যে চলচ্চিত্রটির কথা বলেছিলাম
তার সাথে অনেক আমিল এ বোনদের। তবে একটা জায়গায় মিল আছে। তা হচ্ছে যা কিছুই করুক না
কেন, পড়ালেখায় সেই দুই বোন ছাড় দেয়নি। তাদের স্বপ্ন ভালো মানুষ হবার। বাস্তবেও
একা, লেখা ভালো মানুষ হতে চায়। পড়ালেখায় কোনো ছাড় নেই তাদের। একা পড়ছেন বিবিএ
বিভাগে নর্থসাউথ ভার্সিটিতে। আর লেখা পড়ছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলে নবম শ্রেণীতে।
আমরা তাদের এই ভালো মানুষ হবার
পথযাত্রাকে স্বাগত জানাই। ও হ্যাঁ, আর একটা কথা বলা হয়নি। দু’বোনেরই
প্রিয় ম্যাগাজিন আনন্দ আলো। আনন্দ আলো আগে পড়া নিয়েও কিন্তু তাদের মাঝে একটু একটু
ঝগড়া হয়।
সেরা লেখা
কীভাবে মাদক থেকে দূরে থাকা যায়
মাদক হচ্ছে বর্তমান সময়ের ভয়াবহ এক
ব্যাধি। আমি বরিশাল বি.এম কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমি নিজে মাদক নেই
না। বরং যারা মাদক নেয় তাদেরকে নিরুৎসাহিত করি।
আমরা কলেজের ছয় বন্ধু মিলে একটা ছোট
ক্লাবের মতো করেছি। সেখান থেকে আমাদের কলেজে, এলাকায়
প্রতি সপ্তাহে একবার সবার মাঝে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে
তথ্য দিই। কেউ মাদক নিতে বললে ভদ্রভাবে না করে দিতে বলি। আমাদের পরিচিত কয়েকজন
মাদকে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল, আমরা সবাই মিলে তাদেরকে এ পথ থেকে ফিরে আসতে উৎসাহিত
করেছি। মাঝে মাঝে তাদের কাউন্সিলিংয়ের আয়োজন করেছি।
তাই আমার মনে হয় মাদক নির্মুল করতে হলে
এভাবে এলাকাভিত্তিক ক্লাব বা বন্ধুদের একত্রে কিছু একটা করতে হবে।
মোঃ সানজিদ হোসেন,
বরিশাল বিএম কলেজ
টিন ক্যারিয়ার
সামনে বিয়ের মৌসুম। অর্থাৎ শীতকালে
বাঙালিদের মাঝে বিয়ের একটা ধুম পড়ে যায়। টিনরা এ সময়টায়
কিছু কাজ করে টাকা আয় করতে পারো। তোমরা এ সময় বিয়েবাড়িতে আল্পনা
করে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা আয় করা যায়। এছাড়া বিয়ের মঞ্চ সাজিয়ে ২০,০০০ থেকে
৩০,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব। Add as favourites (63) | Quote this article on your site | Views: 446
Write Comment
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| < Prev | Next > |
|---|







