| Sadha Kalo - Fashion |
|
|
|
তাহসিনার সাদাকালো স্বপ্ন
আপু আমরা যে ডিজাইনে গলার মাপ দিয়েছিলাম
এই ফতুয়াটার মনে হচ্ছে মাপটা ঠিক হয়নি আপনি কি একটু দেখবেন ? দেখি এদিকে আনো গলায়
ঝুলে থাকা ইঞ্চি দিয়ে মেপে খানিক চুপ চুপ
করে থাকেন তাহসিনা শাহিন ক্ষনবাদে হেসে উত্তর দেন - কোনো সমস্যা নেই । একটু তো ভুল
হতেই পারে তাই না? তাহসিনা শাহিন ইঞ্চি ফিতা হাতে নেন ৮৬ সালে আর গলায়
ঝুলিয়ে কাজ করতে শুরু করেন ৮৭তে । কতই বা বয়স হবে তখন লেখাপড়া করেন সপ্তম শ্রেনীতে
। বাড়ির লোকজন আত্বীয়স্বজন সবার কাছ থেকে এরকম জোর করেই কাপড় নিয়ে নিত্যনতুন
ডিজাইনে সেলাই করে দিতেন । অবশ্য সবাই পছন্দ করত । যার জন্যই লেখাপড়া করার
পাশাপাশি শুরু হয়ে গেল বাড়তি আয়ের একটি পথ । বাবা
অর্থনীতিবিদ ড এম এ জলিল এবং মা বুল্বুলির ছোটমেয়ে তাহসিনা শাহিন । স্বপ্ন দেখতেন
সেই ছোট্টবেলা থেকে একটি ফ্যাসান হাউজ হবে। আর সবাই তার ডিজাইন করা পোশাক পরবে মনে
মনে বলবে কাপড়টিতে আমাকে বেশ মানিয়েছে । ফ্যাশন জগতে সাদাকালো নামটাকে চেনেন না
এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না হলে ও এ ধরনের একটি নামকে রঙ দিয়ে সাজাতে যে শ্রম
খরচ করতে হয় , তা নিশ্চয় অজানা ।
সাদা কালো সাত কানুই জানুন তাহসিনা
শাহিনের নিজের কথা থেকেই । আমার মা সব সময় বলতেন মেয়েদের নিজেদের পরিচয় থাকতে হয় ।
যেমন ছেলেদের থাকে । তখন আমরা সাভারে থাকতাম । বাবা
পিএসটিসিতে মহাপরিচালক পদে চাকরিরত । এটাই স্বাভাবিক আমরা বড় ইয়েছি সব কিছু পেতে
পেতে । তবে আমার ক্ষেত্রটা হয়েছিল উল্টোটা । আমার মা আমাদের ৪ ভাইবোনদের বড় করেছেন
খুব সাধারন ভাবে । বাবাকে দেখেছি লেখাপড়া আর চাকরি
নিয়ে থাকতে আর মাকে পেয়েছি বন্ধুর মতো পাশে থাকতে । মা
সেলাই করতে খুব পছন্দ করতেন । মার দেখাদেখি আমার সেলাই করতে ইচ্ছে জাগল সেলাই শিখব
। বাড়িতে মেশিন থাকায় শিখে ফেললাম । শুধু যে শেখার জন্যাই যে শেখা তা নয় এইরকম
পেশাদার টেইলারদের মতো সেলাই শুরু করলাম । সকালের নাস্তা শেষে
স্কুলের প্রস্তুতি আর বিকেলে স্কুলে থেকে বাসায় সেলাই । ঈদের সময়
তো এমনো রাত গেছে কাল ঈদ অথচ আমার পা থেমে নেই মেশিনের সাথে বন্ধুত্ব কথা বলছে তো
বলছে । আমার ডিজাইন করা সব পোশাক কেন যেত সব সুন্দর হয়ে যেত। ঈদের সময় শুধু নতুন ডিজাইনের
কাপড় পরার জন্য এমন কিছু কাস্টমার আমি পেতাম যারা আমাকে
আমার নির্ধারিত পারিশ্রমিকের দ্বিগুন , তিনগুন পর্যন্ত রাজি হয়ে যেত শুধু একেবারেই
নতুন পোশাকের পরার জন্য
এভাবেই কেটে গেল ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত চারুকলার
অনার্স শেষ করলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় থেকে । বিশ্ববিদ্যলয় পড়ার সময় বিভিন্ন মানুষের
সংস্পসে যেতে পেরেছিলাম যার জন্য হয়তো ওই
বছরেই চাকরি পেয়েগেছিলাম এশিয়াটকে । তবে আমি ভেবেছিলাম অন্য কিছু আমার ফ্যাশন
হাউজের কথা । রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে সময় পেলেই বিভিন্ন আসরে যেতাম
এমনই যাতায়াতের মাধ্যমে পরিচ্য় আমাদের সাদাকালো ফ্যাশন হাউজের ম্যানেজিং পার্টনার
আজহারুল ভাইয়ের সাথে কথায় কথায় লোকটার সাথে আমার স্বপ্নগুলো কেমন যেন মিলে গেল ,
আর তারপরই আমিযেন আরও ইন্সপায়াড হয়ে আজাদ
ভায়ের সাথে শুরু করলাম পথচলা । ২০০১ এর শুরু কথা রাইফেলস
স্কায়ারে ফিটের একটি দোকান ভাড়া নিলাম আমরা । নাম দিলাম সাদাকালো লক্ষ্য একটাই
সাদাকালো রঙের মাঝে সব পোশাক তৈ্রি হবে । এশিয়টিকে চাকরি করছি আর সন্ধার পর
সাদাকালো পোশাক তৈ্রি করছি । বাড়ি থেকে কোনো বিধিধারা না
থাকলেও শুরুতে সবাই বলেছিল এত রঙ থাকতে শুধু সাদাকালো ? ভ্রু কুছকে অনেকেই বলেছিল
দেখো কতুদুর যেতেপারে । মনে পারব না এ ধরনের উক্তিতে
আমি ঘাবড়ে গেলেও আজাদ ভাই ঘাবড়ে যায়নি। উনি কেন যেন সাহস পাচ্ছিলেন শুরু হলো আমার
পথ চলা । সেন্টাল রোডে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে শুরু হলো অফিসিয়াল কর্মকান্ড । আমি
নিজের হাতে ঘরের মেঝে ঝাড়ু দিতাম , চেয়ার টেবিল মুছতাম , ডিজাইন তৈ্রি করতাম সেই
শুরুতেই এবং এখনও ।
সাদাকালোর
ফ্যাশন ভাবনা
সাদাকালো সবসময় একটা নতুনত্ব রেখেছে ।
পরির্বতন শীল পৃথিবীতে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের ফ্যাশনও সেই দৃষ্টিকোন থেকে ।
সাদাকালো সব সময় জ ঋতুর বৈচিত্র্যকে মূল্যায়ন করে । পাশাপাশি ঈদ সহ ঊৎসবকে সামনে
রেখে তৈ্রি করেছে নতুন নতুন ডিজাইন ।
তাহসিনার
স্বপ্ন
চমৎকার সাফল্যের অধিকারী এই নারীর
স্বপ্ন দেখেন দেশের মেয়েগুলো ছেলেদের পাশাপাশি নিজের সত্যিকারের অবস্থান তৈ্রি
করবে । তাদের লেখাপড়ার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিয়ে করে সংসার করার জন্যই হবে না , বরং
বিয়ের পর স্বামীর পাশাপাশি নিজেও সংসারের পূর্নতা সহায়তা
করবে । স্বপ্ন দেখেন ফ্যাশন হাউস সাদাকালোর তৈ্রি পোশাক সারা বিশ্ব্ব সমাদৃত হবে ।
জেনে নিন ফ্যাশন হাউস সাদাকালোর
শোরুমগুলোর ঠিকানা - ঢাকা শহরে সব মিলিয়ে চারটি রয়েছে সাদাকালোর । যেগুলো ধানমন্ডি
রাইফেলস স্কয়ারে, বনানী, বেইলি রোড, গুলসানে একটি করে।
Add as favourites (29) | Quote this article on your site | Views: 314
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





