| Razzak Somrat and Bapparaj |
|
|
|
পিতা পুত্র তিন জনে এই প্রথম কমেডি ছবি করছি
আনন্দ ধারা- সফল
অভিনেতা প্রযোজক - পরিচালক রাজ্জাক দ্বিতীয়বারের মতো আরেক সন্তানের সাফল্য
দেখলেন । প্রথমবার দেখছেন চাপাডাঙ্গার বউ ছবিতে বাপ্পারাজ এবং দ্বিতীয়বার আমি
বাচতে চাই ,ছবিতে সম্রাটের সাফল্য । একজন পিতা হিসেবে আপনার অনুভুতি কি ?
রাজ্জাক- অভিনয় আমার এক সময়ের নেশা, এখন পেশা । চলচ্চিত্র আমার
রক্তে মিশে আছে । আমি আমার পরিবারকে বলে রেখেছি চলচ্চিত্রের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে
হবে ।সেই শ্রদ্ধা থেকেই আমি আমার বড় ছেলে বাপ্পাকে ফিল্মে এনেছি। ছেলেরা পড়াশুনা
করে অন্য পেশায় যেতে পারত। কিন্তু আমি তাদের উৎসাহ দিয়েছি চলচ্চিত্রে আসার জন্য
। সম্রাট কে আরও আগে ফিল্মে আনতাম। পড়াশুনার ক্ষতি হবে বলে দেরি হয়েছে।
আনন্দধারা - মাঝখানে রাজলক্ষী প্রোডাকশন বন্ধ করে দেওয়াটা
এবং অশ্লীলতাও তো কারন ছিল।
রাজ্জাক- আমি ২২ বছর বয়সে হিরো হয়েছি । বাপ্পকে
আমি ২২ বছর বয়সে হিরো বানিয়েছি । ইচ্ছে ছিল সম্রাটকে এই বয়সে হিরো বানাব কিন্তু
পরিবেশ এতটা খারাপ ছিল আনতে সাহস পেলাম না । এখন ভালো ছবি হচ্ছে দেখে ওকে আমি
ফিল্মে এনেছি। আমি বিশ্বাস করি আমি এখানে আছি , যে অবস্থানে বাড়ি এয়ারকন্ডিশন গাড়ি
অফিস সব কিছুই ফিল্ম থেকে এসেছে।
সম্রাট- সব কিছুই বলেই আব্বা আমাকে যখন অফার দিলেন আমি সঙ্গে
সঙ্গে লুফে নিলাম । এমনিতেই অনেক আগে থেকেই স্বপ্ন ছিল ফিল্ম কাজ করা করার।
রাজ্জাক- আমি গর্বিত একজন চলচ্চিত্রশিল্পী হিসেবে । এই শিল্প
আমাকে যা দিয়েছে সে হিসেবে আমি কিছু দিতে পেরেছি কি না জানি না । কিন্তু
এতটুকু পেরেছি আমার দুই ছেলেকে ফিল্মে এনেছি । এ দেশের সিনেমা দর্শক - ভক্তরা
তাদের গ্রহন করেছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ । আমি সব সময় চেয়েছি আমার ফ্যামিলি এই
লাইনে থাকুক। মানুষ চিরদিন বাচেনা । দুই জনকে রেখে গেলাম ।আমার নামের সাথে এদের
নাম জুড়ে থাকবে। ওরা আমার রিপ্রেজেন্টেটিভ । ওরা যদি বিশ - পচিশ কাজ করে ততদিন
আমার নামটা থাকবে । তবে এদের আমি এটাও বলেছি আমি কে কি ওটা মনে রাখতে। আমার অতীত
বর্তমান। কোনো অহংকার যাতে ছুতে না পারে । আমার তিন ছেলেই ভালো । দুই জনকে ফিল্মে
এনেছি।
আনন্দ- সম্রাটের অনুভূতি কি ? রাজ্জাকের দ্বিতীয় পুত্রের
ফিল্মে আসা নিয়ে ।
সম্রাট- মজার বিষয় আমার অনেক আগেই ফিল্মে আসার কথা ছিল।
মাঝখানে ফিল্মের দুর্গতি দেখে ভেবে নিলাম পড়াশুনাটা শেষ করি তারপর সময় বুঝে কাজ
করব । এর আগেই আব্বার সিদ্ধান্তে আমি খুশি হয়েছি । স্বপ্ন ছিল একদিন আব্বা আর বড়
ভায়ের মত অভিনয় করার। প্রথম স্বপ্ন পূরন হলো আব্বার সাথে অভিনয় করার। দ্বিতীয়
স্বপ্ন দ্বিতীয় স্বপ্ন পুরন করব অরিচেই তিনজন এক সাথে অভিনয় করে।
আনন্দধারা- আব্বা এবং বড় ভাই দুই জনকে খুব কাছাকাছি দেখেছেন,
অভিনয়ের প্রভাব কতটুকু?
সম্রাট- ছোটবেলা থেকেই দুজনের অভিনয় দেখে আসছি। দুজনকে
ফলো করার চেষ্টা আমার মধ্যে সব সময় থাকত । আসলে রক্তের মধ্যে অভিনয়
তো, তাই হয়তো এটা আমাকে টানত।
আনন্দধারা- রাজ্জাক তার বড় ছেলে বাপ্পাকে যেভাবে ঘটা করে
ফিল্মে এনেছিলেন ছোট ছেলে সম্রাটকেও কি সেভাবে এনেছেন?
সম্রাট - কতটুকু ঘটা করে এনেছেন সেটা আমি ভালো বুঝি
না । তবে আমার চরিত্রটা অসাধারন একটি চরিত্র। এই সময়ের চরিত্র। নিষ্পাপ একটি ছেলে
কিভাবে হিংস্র এবং জেদি হয়ে ওঠে সেটা প্রকাশ পেয়েছে, আমি বাচতে চাই ছবিতে।
ইমোশনাল একটি চরিত্র চ্যালেঞ্জিং একটি ছবি ।
আনন্দধারা- আপনার আম্মা ছবিটি দেখেছেন ?
সম্রাট- দেখেছেন, ছবি দেখে অবাক হয়েছেন -আমি প্রথম ছবিতেই এত
সাবলীল অভিনয় করলাম কি করে? তিনি সহ বাসার সবাই অবাক হয়েছেন। আমার অভিনয়, নাচ,
কিংবা ফাইটের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না । আমার আত্ববিশ্বাস আর আব্বা- আম্মার উৎসাহ
আমাকে কাজ করতে সাহায্য করেছে ।
আনন্দধারা- আপনার কি মনে হয় এই সময়ে সম্রাটকে
প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে নাচ, ফাইট, অভিনয় শেখা উচিত ছিল?
রাজ্জাক- এটা সত্যি আমার যে ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল, সেটা ওদের নেই।
বাপ্পার একেবারেই ছিল না । সম্রাটের একটুখানি আছে । কারন ফিল্মে আসার আগে আমার
ডিরেকশনে সম্রাট তিনটি টেলিফিল্ম করেছে। এই সুবিধা সে পেয়েছে । বাপ্পা
কিন্তু পায়নি। আবার বাপ্পা যখন ফিল্মে ছিল তখন তার বাবা নায়ক ছিল ।
এখন সম্রাটের বাবা একজন ক্যারেক্টার আর্টিস্ট। নায়ক রাজকে ফেস করতে হচ্ছে না ।
ক্যারেক্টার রাজ্জাককে ফেইস করতে হচ্ছে । আর ফিল্মে আমি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করি না ।
আমি আমার সিনিয়রদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করেছি। আমার অগ্রজরা কিন্তু পাওয়ারফুল
আর্টিস্ট ছিলেন ।আমি তাদের আর্শিবাদ নিয়েছি। তাই আমি সম্রাটকে বলেছি শিখতে শিখতে
কাজ করতে । তোমরা অগ্রজ যারা তারা তোমার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ।
তোমার কো -আটিস্ট। ভবিষৎতে যারা আসবে তারাও কো- আটিস্ট তোমার কাজ শেখা, ফাইট
কিংবা নাচের চেয়ে জরুরী অভনয়।আর অভিনয়। আর অভিনয় শিখতে শিখতে শেখা হয়। শেখার শেষ
নেই । সম্রাটের একটা গুন আছে, ও আমার পুরানো ছবি গুলো দেখে । নকল করার জন্য নয় ।
জানার জন্য, বোঝার জন্য।
সম্রাট- আমি শুধু বাবার ছবি নয় । অনেক দেশ
ছবি বিদেশি ছবি দেখি।
রাজ্জাক- ওর বোঝাপড়াটা ভালো। চিন্তা- ভাবনা অনেক আধুনিক।
সম্রাট- ছবির কাজ করার সময় আমি ওনাকে একজন ডিরেক্টর হিসেবে
বলেছি, আমি যখন প্রতিশোধ নেব তখন স্টাইল আলাদা হবে । পুরানো আদলে নয়। ভিলেনকে একটা
ঘুষি দিয়ে বলব আমার মাকে কেন মারলি, আবার আরেকটা ঘুষি মেরে বলব আমার বোনকে কেন
মারলি । আমি স্টেইট বোনের আর্তনাত দেখলাম, কাট টু- ভিলেনকে মারছি । মাঝখানে কথা
বলে সময় নষ্ট করার যুগ এটা নয়।
রাজ্জাক- একজন পরিচালক হিসেবে কেউ সম্রাটকে বোঝাতে পারলে ও
সেটাকে ধারন ক্ষমতা রাখে । যে কোনো সিকোয়েন্সও ভালো ক্যাচ
করতে পারে। ওনাদের সামনেই বলছি। আমি বলব সম্রাট ফাইট, ডান্স, এবং ভালো করে। ফাইট
কিন্তু একজন শিল্পীর জন্য আসল নয়। সবাই ফাইট শিখে আসে না । ফিজিক্যাল ফিটনেস থাকে
। ডান্সও শেখার খুব একটা দরকার নেই । ডান্স ডিরেক্টর কোরিওগ্রাফ করে দিলে হিরো
সেখানে পারফর্ম করবে। সবচেয়ে কঠিন রোমান্টিক সিকোয়েন্স উৎরে যাওয়া । তাছাড়া কাউকে
নকল করা, তার অভিক্ষতাকে কাজে লাগানো ।সমাজের কিছু চরিত্র, সেগুলোকে অবজার্ভ করা, বই পড়া একজন অভিনেতার জরুরী।
বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস গুলো ভালো করে পড়তে হবে।
সম্রাট- আব্বা আমাকে সব সময় বলেন, বেশি বেশি
পড়তে এবং
ছবি দেখতে । পড়ার চেয়ে আমার ছবি দেখা হয় বেশি ।
রাজ্জাক- শোন সম্রাট তোমার কিন্তু ফ্লপ হওয়ার টেনশন নেই । ফ্লপ
করলে না খেয়ে থাকবে না । কিন্তু আমাদের সেই টেনশন ছিল । সারভাইভের প্রশ্ন ছিল । সে
জন্য আমাকে অনেক খাটতে হয়েছে। তখন আমি বলছি ছোট চরিত্র কাজ দিলেই
হবে। । তোমরা এসেছো সরাসরি নায়ক আর আমি এসেছিলাম এক্সট্রা আটিস্ট
হিসেবে। পিয়ন , স্টেশন মাষ্টার,রিকশাওলার চরিত্রে কাজ করেছি। আজকে তোমার একটা ছবি
রিলিজ হওয়ার সাথে সাথে সাংবাদিক এসেছে ইন্টারভিউ নিতে। অথচ আমাদের দশটা ছবি রিলিজ
হবার পরেও সাংবাদিকদের ধারের কাছে পায়নি। আজকের ছেলেরা এটাকে নিজেদের
প্রাপ্য বলে মনে করে। কিন্তু আমি বলব এটা মিডিয়ার যুগ তাই তোমরা এত সুযোগ পাচ্ছ।
এত সুযোগ পেয়ে খেও হারিয়ে ফেলনা । আমার মনে আছে সাত নাম্বার ছবি রিলিজ হবার পর আমি
একটা ইন্টেরভিউ দেবার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাও আমাকে চিত্রাবলি অফিসে
যেতে হয়েছে। এখন যুগ পাল্টেছে।সাংবাদিক শিল্পীর কাছাকাছি এসেছেন । কিন্তু তারা
আমাদেরকে প্রোপার গাইড করত। যোগ্যতা ছাড়া কাউকে নিয়ে হৈচৈ করত না । সাংবাদিকরা
তাদের ডিউটি আগেও করেছে এখন ও করছেন।
সম্রাট- আমি বুঝি এখানে শুধু আমি সম্রাট হিসেবে ইন্টারভিউ
দিচ্ছি না । নায়ক রাজ্জাকের ছেলে হিসেবেও অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন ।
এজন্য আমি সাংবাকিদের কাছে কৃ্তজ্ঞ। আমি এটাকে প্রাপ্য না বলে অর্জন বলতে চাই।
রাজ্জাক- তুমি পাবলিসিটি পেলে স্টার হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে
স্টার তুমি দর্শকের কাছে । কখনোই সাংবাদিক,শিল্পী কিংবা ইন্ডাজট্রির
মানুষের কাছে নয়।
সম্রাট- জি।
রাজ্জাক - যখন তুমি সিনেমা হলে যাচ্ছ তখন তুমি স্টার। তোমাকে
দেখে রাস্তায় ভিড় করলে তুমি স্টার হয়ে থাকো। তারপরও তোমাকে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার
করতে হবে। এর প্রমান আমি তাদের বার বার দিয়েছি। সর্বশেষ কক্সবাজারে গিয়েছিলাম পুরো
পরিবার।
নির্জন এক জায়গায় বসে আমরা চা খাচ্ছি। কী করে পাবলিক জেনে গেল আমাদের কথা । তার
মধ্যে একজন দাড়িওয়ালা লোক এলো হাত মেলাতে । ওই ভদ্রলোক আমার পুরো পরিবার দোয়া
করলেন । নিজে চা খাওয়াতে চাইলেন । আমি জানতে চাইলাম চলচ্চিত্রের প্রতি তার আগ্রহের
কারন । তখন ভদ্রলোক বললেন, এখন তো দাড়ি রেখেছি। হজ করেছি । আগে তো আপনার ছবি
নিয়মিত দেখতাম । এই যে প্রাপ্যটা এটা কিন্তু একদিনে আসেনি ।আজকে আমি যদি সেই
ভদ্রলোকের কাছে না মিশতাম তাহলে চলচ্চিত্র সম্পকে তার ধারনা খারাপ হতো ।
সম্রাট-আমি দেখেছি হলিউড স্টারদের দশক এবং মানুষের প্রতি তাদের
আলাদা শ্রদ্ধা। তারচেয়ে বড় কথা আমি দেখেছি আমার আব্বার ব্যবহার
। ফলে আমার মাথা নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা কম ।
রাজ্জাক- শিল্পীদের ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকে অহংকারী হয়ে যাওয়ার।
আমার ছেলেদের ক্ষেতে এটা হবে না । সম্রাট এবং বাপ্পা দুজনেই বড়দের সন্মান করে। আমি
সম্রাটকে বলছি - ছবি দশটা পাচটা বড় কথা নয় । ছবিটা
তোমার কত মানুষ দেখেছে সেটা লক্ষ্য রাখবে । মুম্বাইয়ের আমিন খান তার তার একটি
উদাহরন । সেই ইচ্ছা করলেই বছরে আট দশটা ছবি করতে পারে। কিন্তু করে না । আমিন খান
যে একজন ভালো শিল্পীই নয় সেই সঙ্গে একজন উচুদরের পরিচালকও ।আমি তার তারে
জমিন পার দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বোঝা গেল এতদিন যে ছবি করেছেন সব ছবিতে আমিন
খানের ইনভালভ ছিল।
এখন বোঝা যাচ্ছে লগান ছবিতে আমিন খানের কতুটুকু সম্পৃক্ততা ছিল
।
সম্রাট- আমি ও কিন্তু শিখে এবং বুঝে কাজ করতে চাই । অনেক সময়
আমি আব্বার কাছে কিংবা ক্যামেরাম্যানের কাছে শটের কারনটা জেনে নিই। আমি মনে করি
এটা অন্যায় নয়।
আনন্দধারা- তার মানে সম্রাট সঠিক পথেই চলছে?
রাজ্জাক- বাপ্পাকে
নিয়ে আমার কোনো ভয় নেই । বাপ্পা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সেই সঙ্গে একজন অভিনেতা । বাপ্পাই
একমাত্র আটিস্ট যে অশ্লীল পোশাক পরা নায়িকার সঙ্গে শট দেবে না বলে
সেট থেকে সোজা বাসায় চলে গেছে। বাপ্পার সেই ক্ষমতা ছিল । সম্রাটকেও সেই ক্ষমতা
প্রয়োগ করতে হবে । কারন তুমি রাজ্জাকের ছেলে।
তোমার গল্প পছন্দ হলে ছবি করবে না হলে না ।
সম্রাট- এ কথা আগেও বলেছি। আমিও আমার পছন্দের চরিত্র হলেও ছবি
করব। চলচ্চিত্র যখন এসেছি তখন এর একটা ভালো দিক দেখে যাব।
আনন্দধারা- ভালো চরিত্র কিংবা ছবি সেটা নিবার্চন করেবেন
কিভাবে?
সম্রাট- আমি মনে করি আমার যতটুকু মেধা দুই , রাজ্জাক আমার
আব্বা। পরামর্শ তার কাছ থেকে পাব । আমার অভিনয়ের সুযোগ থাকতে । আমার অভিনয়ের সুযোগ
থাকতে হবে । আমি চাই আমার সেরা পারফরমেন্স উপহার দিতে । সেই সুযোগ থাকতে
হবে চরিত্রে।
রাজ্জাক- তোমার আসলে বলা উচিত তুমি আরো কাজ শিখতে চাও।
সম্রাট- কাজ করলেই তো শিখব । শেখার তো শেষ নেই ।
রাজ্জাক- সোজা কথা শুধু ড্যান্স বা ফাইটের জন্য ছবি করবে না ।
চরিত্রের গভীরতা থাকতে হবে যেটা আমার জীবনে আছে।
সম্রাট- তা তো অবশ্যই তাতে জানতে পারব, শিখতে পারব।
আনন্দধারা- আপনার নতুন প্রজেক্ট বাপ্পারাজ থাকছেন। দুই ভাইয়ের
বিপরীতে দুই নায়িকা কে কে?
রাজ্জাক- সম্রাটের বিপরীতে নিপুন বাপ্পারাজের এখনও ঠিক হয়নি।
আনন্দধারা- ছবির গল্প কি?
রাজ্জাক-সমসাময়িক ঘটনা অবশ্যই । আমি
কিন্তু চলচ্চিত্রের উলটো ধারায় চলি। চলচ্চিত্রে যা চলে আসছে আমি সেই রকম ছবি বানায়
না । প্রচালিত ফরমুলায় ছবি বানাতে অভ্যস্ত নই। এবারেরটা হবে চমৎকার
কমেডী নির্ভরযোগ্য একটা ছবি । বাপবেটা তিনজনই কমেডী ছবি করছি। মজার একটি গল্প ।
বাবা ভীষন কুঞ্জুস । আর ছেলেরা উলটো । বাবা ওজন করে রুটি ও তরকারী খায়।
ছেলেরা ফাইভ স্টার হোটেলে নাস্তা খায় মায়ের টাকা দিয়ে। মা আবার সৎমা । ছবির
নামও এখন ঠিক হয়নি।
সম্রাট- তিনজনের ক্যারেক্টার তিন রকম ।এ রকম গল্পের কোনো
সিনেমা এদেশে তৈরি হয়নি । অনেক ভেরিয়েশন আছে । মানুষ তো একের জায়গায় একেক রকম
হয়। বাসার এক রকম। বাসায় এর রকম আবার আড্ডায় অন্য রকম।
রাজ্জাক- বাপছেলে একসঙ্গে কমেডী করছি । এর আগে একেকজন একেক রকম কমেডী নির্ভর
ছবি করেছি । আমি আসলে দশকদের দেখাতে চাই । সম্রাট কি পারে বাপ্পা কি পারে বাপ্পার
বাপ কি পারে ? সাধরন ফর্মুলার বাইরে ছবি এটি । এই ছবি ছাড়াও আরেকটি
প্ল্যান করেছি । সম্রাটের সঙ্গে মানানসহ একটা নায়িকা পেলে ওটা শুরু করব।
আনন্দধারা- রাজলক্ষী প্রোডাকশন বন্ধ, এবার ছবি বানালেন আর এস
মানে রাজ্জাক- সম্রাট প্রোডাকশন থেকে তাহলে আর হচ্ছে না ।
রাজ্জাক- আর এস প্রোডাশন রাজলক্ষী প্রোডাকশন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। রাজলক্ষী প্রোডাকশন না
থাকলে রাজলক্ষী আছে । যেহেতু আমি ঘোসনা দিয়ে প্রোডকশন বন্ধ করেছি । ঘুরিয়ে অন্য
নাম করেছি।
সম্রাট- রাজলক্ষীর পরবতী জেনারেশন।
রাজ্জাক - দশ বছর পর ছবি বানিয়েছি। বাপ্পার আবার ফিরে আসা।
সম্রাটকে এনেছি । সব মিলিয়ে আমি কয়েক দিন পর বসব।
আনন্দধারা- জানতে চাই, আর এস প্রোডাকশন থেকে রাজ্জাক ছাড়া অন্য
কোনো পরিচালক কি ছবি বানাবেন?
রাজ্জাক- আপাতত সেই চিন্তা নেই । ভবিষৎতে আমি কয়েকজন সিনিয়র
পরিচালকদের দিয়ে কয়েকটি ছবি বানানোর চিন্তা করছি।
আনন্দধারা-আমি বাচতে চাই ছবির পর আপনার অফার কেমন আছে?
সম্রাট- প্রাথমিক ভাবে কয়েকজন কথা বলেছেন ।আমি এখন ও চুক্তিবদ্ধ
হয়নি।
রাজ্জাক- আমি শুনেছি সম্রাটকে নিয়ে বেশ কয়েকজন পরিচালক চিন্তা
ভাবনা করছেন। যারাই ছবি বানান আমি তাদের বলতে চাই আপনারা প্যাকেজ প্রোগ্রাম যাবেন
না । যেহেতু দশকরা সিনেমা হলে আসতে শুরু করেছে। আবার প্যাকেজ
প্রোগ্রামে গেলে কিন্তু ক্ষতি হয়ে যাবে। দশক যদি আবাএ ঘরে ফিরে যাই
তাহলে তাদের ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে যাবে। এখন সমস্যা হলো সবাই একধরনের গল্প নিয়ে
কাজও শুরু করে দিচ্ছে।
আনন্দধারা- দীঘি এবং আপনাকে নিয়ে কাছাকাছি গল্পের কয়েকটি ছবি
নির্মিত হচ্ছে।?
রাজ্জাক- এটা ঠিক নয়। একেবারে সাধারন গল্প এখন
চলে না । শিল্পীরা আজকাল ১৫-১৬ শিফট শিডিউল দিচ্ছে - এভাবে ছবি হয় না ।এ ধারনা
চেঞ্জ করতে হবে।
সম্রাট- আসলে এটা ক্রিয়েটিভ কাজ, এখানে সবোর্চ্চ মনোযোগ এবং
সময় দেয়া উচিত। ঢাকার ছবির ফরমুলা চেঞ্জ করতে হবে । টেকনিক্যালি আমরা অনেক
পিছিয়ে আছি ম্যাচিউরড স্টোরির অনেক অভাব আছে । আমার মতে, সবধরনের দশকদের পেতে
চাইলে যুগের সঙ্গে সঙ্গে স্টোরি এবং
স্টাইল পাল্টাতে হবে। Add as favourites (70) | Quote this article on your site | Views: 343
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





