| protiva onnasonaer jowar |
|
|
|
প্রতিভা অন্বষনের জোয়ার
হুট করেই যেন সংগীত প্রতিভা অন্বেষনের ধুম পড়ে গেছে দেশে।
উত্তর-দক্ষিন, পূর্ব- পশ্চিম, শহর-বন্দর-গ্রাম সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংগীত
প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত এসব কর্মসূচি একদিকে যেমন
তৈরী ক্রেছে ন্তুন উম্মাদনার জোয়ার অন্যদিকে তেমনি খুলে দিয়েছে নতুন ভাবনার দুয়ার,
যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ইতিবাচক-নেতিবাচক অনেক কিছুই। বিস্তারিত জানাচ্ছেন
রিয়াদ শিমূল
প্রাক কথা
আকাশ সংস্কৃতির প্রসার ও জনপ্রিয়তার সুবাদে
হালের প্রতিভা অন্বেশণ কর্মসূচিগুলো নিয়ে যে মাতামাতি হচ্ছে আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও
বিষয়টা এম্ন ছিলো না। খুব অল্প সময়ে এ অনুষ্টানগুলো মানুষের কাছাকাছি পৌছে গেছে।
অথচ প্রতিভা অন্বেষনের এমন প্রয়াস আমাদের দেশে মোটেও সাম্প্রতিক কোনো অনুষঙ্গা নয়।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের নতুন কুঁড়ির কথাই ধরা যাক। সংস্কৃতির প্রায় সবগুলো
শাখার প্রতিযোগিদের নিয়ে প্রতিভা অন্বেষনের এই অনুষ্টানটি এখনো পর্যন্ত দেশের
সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং সবচেয়ে বড় প্লাটফরম। আজকের অনেক বড় বড় তারকারই উথান হয়েছিল এই
নতুন কুড়ির মধ্য দিয়ে। যথাযথ গুরুত্ব এবং পৃষ্টপোষকতার
অভাবে সমসাময়িক সাংস্কৃতিক আঙ্গানে হয়তো ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি নতুন কুঁড়ি,
তবে সাংস্কৃতির অন্যান্য বিভাগুলোর পাশাপাশি দেশীয় সংগীতের প্রতি নতুন প্রজম্মকে
আকৃষ্ট করতে এর অবদান অনস্বীকার্য। এমনকি এ প্রতিযোগীতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের
আকঙ্খায় পারিবারিক বলয়ে সংগীত চর্চার য্ব স্বতন্র ধারা গড়ে উঠেছিল সেটাও আমাদের
সংগীতে অনেক ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। নতুন কুড়ি পরবর্তীসময়ে সরকারী
উদ্যেগ তো বটেই, বেসরকারি উদ্যেগেও এ
জাতীয় কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। ৯০ দশকের
শেষদিকে ব্যান্ড সংগীতে নতুন প্রতিভা অন্বেষনের লক্ষো তৈরী হয়
নতুন একটি প্লাটফ্রম, অর্থাৎ ব্যান্ডসন হেজেস স্টার সার্চ। সরকারী বিধিনিষেধের
কারনে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই প্লাটফর্ম থেকে বেরিয়ে আলে একাধিক শিল্পী ও
ব্যান্ড। এরপর টানা কয়েক বছর আর কোনো ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচী দেখা যায়নি।
তাছাড়া এ কর্মসূচীর মাধ্যমে উঠে আসা অনেক প্রতিভাই পরবর্তীসময়ে
নিজেদের অবস্থান তৈরী করতে ব্যর্থ হয়ে অকালে হারিয়ে যায়। যার ফলে এ কার্যক্রমের
উপযোগিতা নিয়েও বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। লম্বা একটা বিরতি পড়ে যায় এ
ট্যালেন্টহান্ট-এ। ২০০৫ সালে যে বিরতির অবসান ঘটে অনেকটা বৈপ্লবিক ভাবে। বহুজাতিক
কোম্পানি এবং বেসরকারী টিভি চ্যানেলের তৎপরতায় একযোগে আবির্ভুত হয়
কয়েকটি ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রম। ক্লোজাপ-ওয়ান, ডি-রকস্টার বা এটিএন তারকাদের
তারকা শীর্ষক এই কার্যক্রম গুলো প্রথম যাত্রাতেই রীতিমত হৈচৈ ফেলে দেয় চারদিকে।
আয়োজনের কলেবর আর গনমানষের অভূতপুর্ব সাড়ায় নতুনভাবে প্রান ফিরে পায়
প্রতিভা অন্যনেষন কার্যক্রম। আর নতুন করে যাত্রা শুরুর এই অধ্যায়ে সবার আগে যে
কার্যক্রমটির কথা বলতে হয় তা হলো ক্লোজআপ ওয়ান। প্রাথমিক অবস্থায় এটাকে ভারতীয়
ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম ইন্ডিয়ান আইডলের অনুকরন বলা হলেও সবকিছু ছাপিয়ে অত্যন্ত
দ্রুততার সাথে দেশীয় দর্শক শ্রোতাদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা তৈরী করে নিতে সক্ষম হয়।
সেই সাথে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে উঠে আসা নতুন নতুন গায়ক-গায়িকারাও মানুষের আকুন্ঠ
সমর্থন ও মানুষের ভালবাসা আদায় করে নেন। পাশাপাশি আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো,
ইতোপূর্বে অনুষ্টিত ট্যালেন্ট হান্টগুলোর পথাগত ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই
প্লাটফর্ম এর শিল্পীরা প্রতিযোগীতা পরবর্তী সময়ে যথার্ত পৃষ্টপোষকতা পান। দেশে এবং
দেশের বাইরে অগনিত বাংলাদেশীর রিদয়ে ঠাই করে নেন ক্লোজআপ ওয়ান শিল্পীরা।
জামালপুরের নোলক কিংবা কুষ্টিয়ার সালমার মতো অতি সাধারন একজন হয়ে ওঠেন
তারকাদের তারকা। তভে বিচারকদের রায়ের সাথে দ্ররশকদের এসএমএস ভোটের অসামজস্যতা নিয়ে
অতৃপ্তি রয়ে গেছে অনেকেরই। ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়েই অভিনয় ও
সংগীতে নতুন প্রতিভা খুঁযে বের করার প্রয়াসে পথচলা শুরু করে বেসরকারি চ্যানেল এটিএন
বাংলার আয়োজন এটিএন তারকাদের তারকা। কোনরকম স্পন্সর ছাড়াই বৃহত কলেবরের এই আয়োজন
ক্লোজাপ ওয়ানের এই জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে না পারলে ও নিজস্ব স্বকিয়তা আর ভিন্ন
মাত্রার পরিবেশনা দিয়ে অনেকেরই নজর কাড়তে সক্ষম হয়। তবে বিচার পক্রিয়া এবং ফলাফলের
সচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় আয়োজক
কর্তৃপক্ষকে।
এছাড়া প্রতিযোগিতা পরবর্তিসময়ে বিজয়িদের সঠিক দিক নির্দেশনা
এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ যথায্থ দায়িত্ব পালন করতে
ব্য্যর্থ হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে
বের হয়ে আসা প্রতিভাদের কেউই সংগীতাংগনে নেজেদেরকে সেভাবে তুলে ধরতে পারেনি। প্রায়
একই রকম অভিযোগ তারুন্যের জনপ্রিয় মিউজিক প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠা ট্যালেন্ট
হান্ট প্রোগ্রাম ডি -রক্সটারের প্রতি। আয়োনের ব্যপকতা বা সোন্দর্য নিয়ে কোনো
প্রশ্ন না থাকলেও রক মিউজিশিয়ান খুঁজএ বের করার প্রথম উদ্যেগটি মিউজিক
ইন্ডাস্ট্রিতে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়। তবে
আশার কথার হলো পরবর্তী আয়জোনে এ অবস্থান থেকে উত্তরন ঘটে ডি-রকস্টারের। রক ব্যান্ড
খোঁজার মিশন নিয়ে নতুনভাবে ফিরে আসা ডি-রকস্টার তারুন্যের উম্মাদনা আর
সফলতাকে সঙ্গেই করে এ যাত্রা সক্ষম হয়।
ব্যান্ড মিউজিকের প্রসারে এ আয়োজন একটা বিন্নমাত্রা যোগ করবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্ট
অনেকেরই।
বর্তমান হালচাল
জনপ্রিয়তা, সাফল্য -ব্যর্থতা আর আলোচনা-সমালোচনা সব কিছুকে
সঙ্গেই করেই নিজেদের আয়োনের ধারাবাহিকতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে
সংগীত প্রতিভা অন্যেষন কর্মসুচিগুলো। ক্লোজআপ ওয়ান, ডি-রকস্টার, এটিএন
তারকাদের তারকাদের চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি বর্তমানে এ তালিকায় যোগ হয়েছে আরো
দুটি নতুন কার্যক্রম। একটি হলো বেসরকারি টিভি চ্যানেল চ্যানেল আই উদ্যেগে চ্যানেল
আই সেরা কন্ঠ ২০০৮ আর অন্যটি ওয়ান্ডারলান্ড আমিউজমেন্ট পার্ক
কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ওয়ান্ডার ভয়েস অব বাংলাদেশ।
এর টিভি পার্টনার হিসেবে আছে চ্যনেল ওয়ান। যার মধ্যে ক্লোজআপ ওয়ান এবং
চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ ০৮ এর কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। আর এটি এন তারকা এবং
ওয়ান্ডার ভয়েস অব বাংলাদেশ এর কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু করতে যাচ্ছে।
ভালো মন্দের বিচারকে সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে সংগীত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ফলাফল যাই হোক
এসব আয়োজন যত বেশী হবে ততো মান বাড়বে এবং নতুন প্রজম্মকে দেশীয় সংগীত চর্চায়
উদ্ভুত করবে। যুগের আবর্তনে ভিনদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন দিনে দিনে যেভাবে বৃদ্ধি
পাচ্ছে তা রোধ করতে এ জাতীয় কার্যক্রম কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। তবে ঢালাওভাবে
প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বড় বড় পুরস্কার দেওয়া বা তারকা বানানোই যেন মূল কার্যক্রম
না হয়। শুদ্ধ সংগীতের চর্চা বৃদ্ধি এবং একজন পরিপূর্ন শিল্পী তৈরিতে
প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতাই হোক এসব আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। Add as favourites (45) | Quote this article on your site | Views: 266
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





