| Personal Memory for Shuvo |
|
|
|
ছেলেটি একজনের অটোগ্রাফ চেয়েছিল
তখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়েন আজকের টিভি
অভিনেতা শাহরিয়ার শুভ। সেই বয়স থেকেই টিভির পোকা ছিলেন তিনি। প্রিয় অভিনেতা-
অভিনেত্রীর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হতেন এবং মনে মনে স্বপ্ন বুনতেন একদিন আমিও তাদের মতো
অভিনয় করব। সেই বয়সেই একদিন তার প্রিয় একজন তারকাকে কাছে
পেলেন। টিভির জনপ্রিয় তারকা তিনি। প্রিয়জন এবং বিখ্যাত
মানুষের অটোগ্রাফ নেয়ার অভ্যাস ছিল শুভর। কাগজ-kaকলম তুলে ধরলেন সেই টিভি স্টারের
সামনে। ছোট শুভর চাওয়া একটি অটোগ্রাফ। শুভকে হতাশ করে না বললেন তিনি। কাউকে
অটোগ্রাফ দেয়ার সময় তার নেই। ছোট্ট শুভর কাছে প্রিয়
তারকার ‘না’টা
খুব রুঢ় হয়ে বাজল যেন। সেই কষ্টে আর কোনোদিন কারো কাছে অটোগ্রাফ চাননি শুভ। মনে
মনে ভাবলেন অটোগ্রাফতো নেবই না বরং একদিন বিখ্যাত হয়ে আমিই সবাইকে অটোগ্রাফ দেব।
তাই হয়েছে।
২০০৬ সালের কথা। ততদিনে টিভি নাটকে দিন
দিন জনপ্রিয় হচ্ছেন শুভ। অনেকের প্রিয় অভিনেতাও। চলার পথে হঠাৎ
এক ভক্ত কাগজ বাড়িয়ে দেন শুভর সামনে। অটোগ্রাফ চাই তার। হঠাৎ নস্টালজিয়ায় ডুবে যান
তিনি। মনে পড়ল সেই ছেলেবেলার স্মৃতি। হাসিমুখে অটোগ্রাফ দিলেন শুভ। কারণ অটোগ্রাফ
না পাবার কষ্ট কেমন তা জানেন সেই ছোট্টবেলা থেকেই।
নতুন প্রজন্মের অভিনেতা শাহরিয়ার শুভ
নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করেন। কেননা টিভি নাটকে তার এন্ট্রি হয় খুবই জনপ্রিয়
ধারাবাহিক ‘রঙছুট’
নাটকের মাধ্যমে। নাসরীন জাহানের রচনা এবং শহীদুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় এনটিভিতে
প্রচারিত ‘রঙছুট’
নাটকে শুভ অভিনয় করেছিলেন শক্তিমান অভিনেত্রী সুবর্ণী
মুস্তাফার বিপরীতে। সেই প্রসঙ্গে শুভ জানান, আসলে আমার মিডিয়া গুরু সেলিম ভাইয়ের
কাছে অভিনয়ের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যে আমাকে শুরুতেই এত
গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়ে দেবেন তা ভাবিনি। সেই সুযোগটাকেই
শুভ মিডিয়াতে তার টার্নিং পয়েন্ট মনে করেন। শুভ বলেন, রঙছুট নাটকে সুবর্ণা
মুস্তাফা তার সৎ মা। তার সম্পর্কে খুব খারাপ ধারণা নিয়ে
রাগ করে বিদেশ থেকে দেশে আসেন শুভ। কিন্তু সৎ মায়ের ব্যবহারে একসময় তিনি তার প্রতি
আন্তরিক হয়ে যান। এক পর্যায়ে সৎ মায়ের পহ্ম নিয়ে বাবার
সঙ্গে মনোমালিন্য হয় এবং আবার বিদেশ চলে যান তিনি। শুভ জানান, নাটকটিতে শুধুমাত্র
সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গেই তাকে ২৬টি সিকোয়েন্স অভিনয় করতে হয়েছে। দুই বছরের মধ্যে
এই পর্যন্ত প্রায় ২৭টি নাটক এবং টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন শুভ। মজার তথ্য হলো তার
অভিনীত প্রতিটি চরিত্রই হলো নাটকের প্রধান অথবা প্যারালাল ক্যারেক্টার। পরিচালক
শহীদুজ্জামান সেলিম তাকে কাছে টেনে নেন। ২০০৬ সালে
তার পরিচালিত দুটি নাটক ‘গৌরচন্দ্রিকা’
এবং ‘নকল
পোশাক’
নাটকেও অভিনয় করেন শুভ। ২৬ পর্বের সেই ধারাবাহিক দুটি প্রচার হয় যথাক্রমে
বাংলাভিশন এবং চ্যানেল ওয়ান-এ। তার মতে, শুধু
শহীদুজ্জামান সেলিমই নন বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় পরিচালকের নাটকে অভিনয় করেছেন
তিনি। এর মধ্যে শিহাব শাহীনের রমিজের আয়না এবং সম্প্রাদান, শেখ রিয়াজ উদ্দিন
বাদশার সুখ-দুঃখ, শুভ্র খানের সাদা রঙের স্বপ্ন, নরেশ ভুঁইয়ার শেষ অধ্যায়, দীপঙ্করের
দীপনের বোহেমিয়ান, ফারুক শ্রাবনের জনাকয়েক, সাবিনা বারী লাকির আশিতে আসিলে,
শহীদুজ্জামান সেলিমের এইসব অন্ধকার, ফেরদৌস হাসানের নো ব্যাটারি নো নেটওয়ার্ক,
রেজানুর রহমানের নেগেটিভ পজেটিভ এবং অনিমেষ আইচের নিষাদ। শুভর মতে, প্রতিটি নাটক
প্রচার হবার সারাদেশ থেকে প্রচুর এসএমএস পেয়েছেন তিনি ভক্তদের
কাছ থেকে। নির্মাতারাও তার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন। বর্তমানে তিনি কাজ করেছেন সুমন
আনোয়ারের রোদ বৃষ্টির শহর, নরেশ ভূঁইয়ার মৃত্যুসখীগন, দীপঙ্কর দীপনের স্বপ্নজাল,
এজাজ মুন্নার নীড়, কায়সার আহমেদের মন যখন এমন, ফারুক শ্রাবণের জেব্রাক্রসিং এবং
আহমেদ ইউসুফ সাবেরের মোহনপুরের গল্প নাটকে। শুধু তাই নয় শুভ অভিনীত বেশ কয়েকটি
সিঙ্গেল এবং ধারাবাহিক নাটক রয়েছে প্রচারের অপেহ্মায়।
তার মধ্যে অরুণ চৌধুরীর আগুনের আলো, সুমন আনোয়ারের টেলিফিল্ম দ্বন্দ্ব ও আঙ্গুর
মহল, সোহেল আরমানের চার বায়োস্কোপ, শিহাব
শাহীনের দাদীর লাল বাক্স ও একাকিত্ব এবং মোহন খানের শরতের অতিথি উল্লেখযোগ্য। শুভ
জানান,শরতের অতিথি নাটকটি সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুর
থেকে স্যুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন তিনি। অভিনয়ে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী শুভর মতে।
অভিনয়ের লং রোডে সবে তিনি হাঁটতে শুরু করেছেন। আর যদি
এটাকে সমুদ্র ধরা হয় তাহলে সেই সমুদ্র পাড়ি দেয়ার জন্য সবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন
তিনি। কেননা বর্তমানে অভিনয়েই তার সকল সাধনা। যে স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন মনের মধ্যে
লালন করে চলেছেন সেই স্বপ্নই এখন তার হাতের নাগালে। প্রসঙ্গক্রমে শুভ
জানান-শুধুমাত্র অভিনয়ের কারণে তিনি একটি মাল্টন্যাশনাল কোম্পানির লোভনীয় চাকরি
ছেড়ে দিয়েছেন। অবশ্য আজকের ব্যস্ত অভিনেতা শুভ কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকে পরিকল্পনা
করে চলেছেন একজন ভালো অভিনেতা হবার জন্য। সেই প্রস্তুতি হিসেবে তিনি ১৯৯৮ সালে কাজ
শুরু করেন ঢাকা থিয়েটার মঞ্চে। ২০০১ সালে সেখান থেকে বের হয়ে থিয়েটার
স্কুলে ভর্তি হন। এরপর তারা কয়েকজন কর্মী মিলে নতুন মঞ্চ দল আরজু থিয়েটার
প্রতিষ্ঠা করেন। ছোটবেলায় নতুন। কুঁড়িতে অংশ নিয়েছিলেন শুভ।
২০০২ সালের ঘটনা। শুভর সমসাময়িক অনেকেই
তখন টিভি মিডিয়ায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন। অনেকে তখন তাকেও অভিনয় করতে বলতেন।
কিন্তু শুভর একসময়ের সেই অনুযায়ী নিজেকে বিভিন্নভাবে প্রস্তুত করেন শুভ। ২০০৫ সালে
রঙছুট দিয়ে টিভি মিডিয়ায় অভিনয় জীবন শুরু করেন তিনি। ভবিষ্যতে একজন ভালো অভিনেতা
হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করলেও একসময় আভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি আরো দুটি ইচ্ছে ছিল শুভর
মনে। পাইলট হওয়া অথবা ডিফেন্স অফিসার হওয়া।
যাই হোক না কেন, যে মাধ্যমেই কাজ করেন
না কেন শুভ ভাবতেন হয়তো এমন একদিন আসবে যেদিন দেশের বেশিরভাগ মানুষ আমাকে চিনবে।
অনেকের আইডল হব আমি। তখনও যেন আমি আমার ভক্তদের হাসিমুখে অটোগ্রাফ দিতে পারি।
নিজের জীবন নিয়ে অনেক সুখী তিনি। রাস্তায় বেরুলে এখন
অনেকেই শুভর অটোগ্রাফ চায়। কেউ কেউ কথা বলতে চায়। শুভর মতে প্রতিটি মানুষই বিখ্যাত
হতে চায়। খ্যাতি সবাই এনজয় করে। আমিও করি। তবে বর্তমানের আমি আমার স্বপ্ন
বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছি। Add as favourites (36) | Quote this article on your site | Views: 118
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





