| Omitav Raza |
|
|
|
অমিতাভ রেজা
উত্তরায় মনোরম পরিবেশে বিশাল এক ফ্ল্যাট নিয়ে
সংসার পেতেছেন হালের জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজা এবং মডেল
, অভিনেত্রী নওরিন হাসান জেনি দম্পতি । করিডোর দিয়ে বাসার মধ্যে প্রবেশ করে বিশাল
ড্রয়িং রুমে চোখে পড়ে তাদের অনেক কাজের স্বীকৃ্তি । বই প্রেমিক এবং
চলচ্চিত্রপ্রেমী অমিতাভ রেজার স্টাডিরুমটা আরো গোছালো । ছবির সিডি আর
বিখ্যাত সব লেখকের বই থরে থরে সাজানো তাদের স্টাডিরুম। সেখানে বসে ইন্টারনেটে মেইল
চেক করছিলো অমিতাভ। এ সময় তার পাশে দাঁড়ানো ছিল তার প্রিয়তম স্ত্রী জেনি। যিনি তার
সব কাজে প্রেরনা দেন ।
বাচ্চাদের অনেক পছন্দ করেন অমিতাভ রেজা । এটা
ছোটবেলা থেকেই । তাই সেখানে সে পরিবেশে তিনি বাচ্চা দেখেন তাদের জন্য অপেক্ষা করে
অনেক
অনেক আদর । বাচ্চাদের ভালোবাসেন একসময় তিনি স্বপ্ন দেখতেন বাচ্চাদের স্কুলের টিচার
হবেন। চোখের নজরে দেখা যাবে শুধু বিভিন্ন বাচ্চাদের মুখ । অবশ্য জেনি কম পছন্দ
করেন না বাচ্চাদের । প্রসংক্রমে তিনি মনে করিয়ে দিলেন কয়েক বছর আগে তিনি
আনন্দ আলোতে প্রথম সাক্ষাৎকার জেনি বলেছিলো দুটি জিনিস তার বেশী পছন্দের প্রথমত
ছোট বাচ্চা আর চকলেট ববাহ পরবর্তী জীবনে বর্তমানে অমিতাভ রাজার অন্যতম চাওয়া হলো
অনেক গুলো বাচ্চার বাবা হওয়া তার ঘরজুড়ে খেলে বেড়াবে
অনেক গুলো ছেলে মেয়ে । কম করে হলেই ছয় থেকে সাত জন । কিন্তু তার এতগুলো সন্তান
চাওয়ার ঘোরবিরোধী জেনি । তিনি চান মাত্র একটি ফুটফুটে বাচ্চা । যে শুধু তাদের ঘরেই
আলোকিত করবে না , আলোচিত হবে দেশ জুড়ে। যেমন পরিচিতি আছে স্বামী অমিতাভ রেজার । বাকি
আল্লাহ ভরসা । সন্তান চাওয়ার পাশাপাশি অমিতাভ রেজা -জেনি
দম্পতির বর্তমান চাওয়া হলো শোবিজে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত ভাবে ধরে রাখা যায় ।
আর তার নিজের কাজের ব্যাপারে তিনি আরো সিরিয়াস হতে চান । যদিও বর্তমানে পড়াশুনা
নিয়ে ব্যস্ততা তার অনেক সময় কেড়ে নেই তবু তার অনেক ভালো লাগার
জায়গা শোবিজ থেকে তিনি হারিয়ে যেতে চান না
।জেনির চাওয়াকে একশ ভাগ সমর্থন দেন স্বামী অমিতাভ রেজা তিনি বলেন জেনী কি চায় বা
কি করতে চাই সেটা তার নিজের ব্যাপার । আমি শুধু তার কাজে সহযোগিতা করব সর্বপোরি আমি মনে করি ওর মিডিয়ায় টিকে থাকা
দরকার । কেননা বিজ্ঞাপনী ফিল্মসহ শোবিজের নানাবিধ কাজ সর্ম্পকে খুব ভালো ধারনা রাখে জেনি।
ভালো ধারনা থেকেই তো দুজনার এক হওয়া খুব বেশিদিন হয়নি অমিতাভ -
জেনি দম্পতির সংসার এ বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বেধেছেন তারা কিন্তু পরিচয়
সেটি শোবিজে কাজের মাধ্যমে ২০০৪ এর শেষের দিকে । তখন মাল্টিন্যাশনাল
কোম্পানী লিভার ব্রাদার্স জেনির প্রথম দেখা অমিতাভ রেজার সঙ্গে এরপর বিভিন্ন সময়ে কাজে কাজের বাইরে তাদের দেখা
হতো । জেনির ইউনিভারসিটি ক্যাম্পাসে এবং অমিতাভের বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছাকাছি হওয়ায় ক্লাসের ফাকে ফাকে অমিতাভের অফিসে
এসে আড্ডা দিতেন তিনি। এক সময়ে সর্ম্পকের
প্রেমের রুপ নেই। কিন্তু তাদের সর্ম্পকে কোনো লুকাইনি । তবে মজার ব্যাপার হলো
প্রেমের ব্যাপারে কেউ কাউকে প্রোপোজ করিনি । আর বিষয়টা আমরা সময়ের ওপর ছেড়ে
দিয়েছিলাম। পারিবারিক কেন্দ্রিক মানুষ দুজনই । বিয়ের পর এখনো মা- বাবা বোনসহ
সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেন দিনের বেশিভাগ সময় কাজের বাইরে থাকায় খুব
একটা সময় দিতে পারে না অমিতাভ রেজা । এজন্য মাঝে মাঝে খারাপ লাগে তার কিন্তু কী আর
করা ব্যস্ততা তাকে দেয়না অবসর দিনের শেষে
রাতে বাসায় ফিরে পরিবারের সবার সাথে নিয়ে খাবার টেবিলে বসতে চেষ্টা করে । সেটা না
হলে অন্তত সকালে নাশতাটা করা হয় একসঙ্গে তারপর কর্মসুচীতে সবাই নজর । অমিতাভের বাবা চলে যান ফ্যাক্টরীতে আর মা
কিচেনে । অনেকেই হয়তো জানেন না উত্তরায় অনেক সুটিং হাউজে দুপুরের খাবার সাপ্লাই দেন
অমিতাভের আম্মা । কেননা তার হাতের রান্না নাকি অনেক সুস্বাদু। শত
ব্যাস্ততা থাকলেও কিছু কিছু ব্যাপারে প্রতিটি মানুষের প্রাধান্য দিতে হয় এই যেমন
বিয়ে করে হানিমুনে করা এই যেমন প্রেয়সীর পাশে বসে কোনো রোমান্টিক পরিবেশে থাকা চমৎকার
গান শোনা লং ড্রাইভ করা অথবা প্রিয় কোনো রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়া অমিতাভ
জেনি তার বাইরে নন । বিয়ের আগে পরে তারা পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরলেও বিয়ের পর হানিমুন
করেছেন মরিশাসে। তাদের মতে মজার ভ্যাকেশন আর কখনো কাটেনী । ফ্যান্টাটিক মোমেন্ট
এইতো গত ২৫ নভেম্বর তারা বেরিয়ে এলেন সিঙ্গাপুর থেকে । কেননা অমিতাভের কাছে বিয়ের
অনুভূতিটা একটু অন্য রকম । তিনি মনে করেন বিয়ের পর মানুষের জীবন সার্কেলে এক ধরনের
পূনর্তা আসে । তার আগে মানূষ নিয়ন্ত্রন হীন স্বাধীনতা ভোগ করে । তখন সব ব্যাপারে আমি হিসেবে চিন্তা
করলেও বিয়ের পর আমরা হিসেবে ভাবা যায়। প্রসংক্রমে অমিতাভ জানান বিয়ের আগে নিজের
পোশকের প্রতি উদাসিন ছিলেন তিনি । যখন যা সামনে পেতেন তাই পরতেন । কিন্তু বিয়ের
পর জেনি তাকে পোশাক সচেতন করেছেন। এ ব্যাপারে অনেকেই তাকে ভালো কমপ্লিমেন্টস
দিয়েছেন বলে জানান । এখন জেনির সাথে কোথাও খেতে বেরুলে সুন্দর করে সাজেন অমিতাভ ।
দুজনের বিনোদনের সমান পছন্দ হলো গান শোনা । সব ধরনের গানের সাথে সখ্যতা আছে জেনির
। আর অমিতাভের পছন্দ ওয়েস্টান, ইস্টার্ন ক্ল্যাসিকাল। এর বাইরে প্রায়ত
সঞ্জীব চৌধুরী , অর্নব, বাপ্পার গান তার অনেক পছন্দের। সব ছাপিয়ে সাবিনা ইয়াসমীনের
গান অসাধারন মনে হয় অমিতাভের কাছে।
সংসার জীবনে টুকটাক খুনসুনি থাকবে বলে মেনে
নেন অমিতাভ - জেনি দম্পতি। এতে ভালো লাগা ভালোবাসার মধ্যেও তাদের দুজনের কম -বেশি
দোষ- গুন ধরা পড়ে দুজনের ।তারপরও প্রতিটা দম্পতি সংসার সুখে চান । তারা মনে করেন
দাম্পত্য জীবনে কাকে কতটা স্পেস দিচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে সংসার ভালো থাকা ।
বাস্তবতা হলো ইমোশন দিয়ে সংসার চলে না । সেখানে সবাইকে প্রাকটিকাল হতে হবে বলে মনে
করেন জেনি।
Add as favourites (62) | Quote this article on your site | Views: 212
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





