|
Page 1 of 5
অভিনয়ে নিপুন আন্ন্তরিক
নিপুন চলচ্চিত্রাঙ্গনে পদচারণা শুরু করেছিলেন চারবছর আগে। তখন থেকেই প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন ছবির প্রস্তাব আসতে থাকে মুঠোফোনে। অনেক প্রস্তাব পেলেও নিপুন যেনতেন চরিত্রে অভিনয় করেন না। শুরু থেকেই তিনি দর্শকদের কথা মাথায় রেখে গুরুত্ব থাকা চরিত্রেই অভিনয় করে নিজের অবস্হান পাকাপোক্ত করে ফেলেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নিপুন অভিনীত 'মা বড় না বউ বড়' চলচ্চিত্রটি ব্যাবসায়িকভাবে সাফল্য পেয়েছে। সেইসঙ্গে নিপুনের অভিনয়ও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের সাফল্যের সুবাদে নিপুনের ক্যারিয়ারের অধ্যায়টা একধাপ এগিয়ে গেছে। এই ছবিতে নিপুনের অভিনয় দেখে দর্শক যেমন সন্তষ্ট, নির্মাতারও তার দিকে তেমনিভাবে ছুটছেন। এ প্রসঙ্গে নিপুন বলেন, 'চলচ্চিত্রে আসার পর থেকেই গুরুত্ব আছে এমন ছবিতেই অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেই। সেভাবেই এগিয়েছি। এই ছবির কাহিনীটি আমাকে মুগ্ধ করায় ও চরিত্রটি মন:পুত হওয়ায় অভিনয় করি। আমার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে। চলচ্চিত্রটিকে দর্শকরা গ্রহণ করায় মনে হচ্ছে আমার চেষ্টাটা সার্থক হয়েছে। দর্শকদের ভালোবাসা পেলে ভবিষতে এ ধরনের আরো ভালো ভালো ছবিতে কাজ করে দর্শকদের মন জয় করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।'
আমাদেন চলচ্চিত্রাঙ্গনে নব্বইয়ের দশকে চার নায়িকার আগমনের পর এমন একক কোন নায়িকার আবির্ভাব ঘটেনি যার ওপর নির্মাতার নির্ভর করতে পারেন। বছর চারেক আগে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পা রাখেন নিপুন। 'পিতার আসন' চলচ্চিত্রে দুই নায়িকার এক নায়িকা ছিলেন নিপুন। সঙ্গে ছিল আরেক নতুন নায়িকা অপু বিশ্বাস। 'পিতার আসন' চলচ্চিত্রটি সাফল্য পাওয়ায়এই দুই নায়িকার ক্যারিয়ারে সুবাতাস বইতে শুরু করে। দু'জনই এখন প্রথম সারির নায়িকা।একক নায়িকা হিসেবে নির্মাতাদের কাছে নিপুনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। নিপুন শুরু থেকেই চলচ্চিত্রের প্রধান নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন। নিপুন এ প্রসঙ্গে বলেন, যেসব ছবিতে প্রধান নায়িকার চরিত্র দেয়া হচ্ছে, সেসব ছবিতেই কাজ করছি। তবে ভালো কোন চরিত্র পেলে সেটা নায়িকার চরিত্র না হলেও করতে আপত্তি নেই আমার।' ২০০৯-এর এই পযর্র্ন্ত নিপুন অভিনীত ৬/৭টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এসব ছবি ভালো ব্যবসা করেছে এবং দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছে। নিপুন মনে করেন ভালো গল্প আর চরিত্র পেলে এবং নিষ্ঠা সহকারে কাজ করলে দর্শকদের কাছে খুব সহজেই পৌছানো যায়।
পরিচালক শাহাজাহান চৌধুরী পরিচালিত অনুদানের ছবি 'আত্মদান'-এ চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নিপুন। মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। অনুদান ও মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে অভিনয় করা প্রসঙ্গে নিপুন বলেন, 'অনুদানের ছবিতে কাজ করার সৌভাগ্য সবার হয় না।' এদিক থেকে আমি ভাগ্যবান। একদিকে অনুদানের ছবি, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের ছবি। এ ছবিটি একসঙ্গে আমার দুটি ইচ্ছাপুরণ করেছে। ছবিতে আমার চরিত্রটি প্রকৃত বাবা-মা বঞ্চিত এক সন্তানের। আমি বড় হয়েছি অন্য এক পরিবারে। আমি আমার মাকে খুজেঁ পেয়েছি। আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি, এ ধরনের একটি ছবি করতে পেরে।'
চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার জীবনে হরেক রকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিপুন। তার অভিনীত প্রতিটি চরিত্রই তিনি ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন-তার চেষ্টা সে সফলতার নাগাল পেয়েছে, দর্শকপ্রিয়তাই তার প্রমান মিলে। অভিনেত্রী নিপুনের মনের মাঝে ছোট্র একটি স্বপ্ন উকিঁ দিয়েছিল হুমায়ুন আহমেদের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিতে কাজ করার। সেই স্বপ্নটা প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই তা বাস্তবরুপে সামনে এসে হাজির হয়েছে। ক্যারিয়ারর দ্বিতীয় ছবিটিই ছিল প্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদেরে গল্প অবলম্বনে নির্মিত। 'সাজঘর' ছবির কুসুম চরিত্রটি তার কাছে মনে হয়েছে সেরা চরিত্রের অন্যতম। নিপুন এখন পুরোদস্তুর অভিনেত্রী। তাইতো তার সকল ভাবনা এখন অভিনয় নিয়ে। নিপুনের হাতে অনেক প্রস্তাব এলেও বেছে বেছে ছবি নিচ্ছেন। কেননা, ভালো কাহিনী, ভালো চরিত্রে কাজ করে দর্শকের আরো কাছে যাবার স্বপ্ন তার। এখন কাজ করছেন একসঙ্গে বাঁচবো একসঙ্গে মরবো, বাপ বড় না শ্বশুর বড়, আসবে বলে ভালোবাসবে বলে ও আত্মদান ছবিতে। নিপুন অভিনীত দুই পুরুষ, ভালোবাসার শেষ নেই, অন্যায়ের প্রতিবাদ ছবিগুলো মুক্তির মিছিলে।এসব ছবিগুলোতে নিপুন অভিনীত চরিত্রগুলো ভিন্ন ধারার। ছবিগুলোতে নিপুন তার মেধার স্বাক্ষর রেখে চমৎকারভাবে চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন। যা দর্শকদের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হবে। অভিনয় অঙ্গনে নিপুন এগিয়ে গিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে বিরাজমান নায়িকাসংকটকে কমিয়ে আনবেন এমন আশাবাদী চলচ্চিত্রবোদ্ধার সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।
Add as favourites (332) | Quote this article on your site | Views: 1437
|