| New Face |
|
|
|
নতুন মুখ-২০০৭
প্রতি বছর মিডিয়ায় অনেক নতুন মুখের আগমন ঘটে। এর মধ্যে কেউ কেউ
এসেই হারিয়ে যায়। আবার কেউ বা দাগ রেখে যায় তাদের কাজের মধ্যে দিয়ে। ২০০৭ সালের
নতুন মুখের মধ্যে সেরা ৬ জনের কথা নিয়ে এ প্রতিবেদন
অহনা রহমান লাকীঃ বিন্দু আমি তুমি আমায় ঘিরে বৃত্তের ভেতর
আছো... বাংলালিংকের আমার টিউনসের যে বিজ্ঞাপনচিত্রটি দেখা যায় সেখানে তাহসানের
সঙ্গে যে মেয়েটি মডেল হয়েছেন তিনিই অহনা। পুরো নাম অহনা রহমান
লাকী। রেজানুর রহমানের ছেঁড়াপাতা নাটকের মাধ্যমে মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করলেও তার
পরিচিতি বাড়ে মূলত এই বিজ্ঞাপনচিত্রটি দিয়ে। যদিও এর মধ্যে আফজাল হোসেনের নির্দেশনায়
ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাণ বাদাম ভাজা, মমতাজ মেহেদী বিজ্ঞাপনচিত্র করে অভিজ্ঞতার ঝুলি
সমৃদ্ধ করেন। তারই ধারাবাহিকতায়
বাংলালিংকের ব্লক, জোসেস একটি কানেকশন বিজ্ঞাপনের পর বাংলালিংক আমার টিউনসে
মডেল হন। বর্তমানে তার বাংলালিংক আমার টিউনসে মডেল হন। বর্তমানে তার
একাধিক বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। ২০০৫ সালে এম সাখাওয়াত হোসেনের টেলিফিল্ম
একদিন, প্রতিদিন, রেজানুর রহমানের টেলিফিল্ম টিকটিক, শাহজাদা মামুনের
বিবর্তন এবং এটিএন বাংলায় প্রচারিত নীরব কষ্ট নাটকে নিতু চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দিন
দিন নাটক এবং মডেলিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন অহনা।
সাইফুল ইসলাম সাইফঃ বিজয় উল্লাসে উদ্বেলিত একটি ছেলে মোবাইল
করে জানাচ্ছেন আমরা জিতেছি। বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত ওয়ারিদ টেলিকমের বিজ্ঞাপনটি
যারা দেখেছেন তারা বিজয় উল্লাসে উদ্বেলিত ছেলেটিকে দেখেছেন। যার নাম সাইফুল
ইসলাম সাইফ। সাইফ সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সাইফের
মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ অনেকটা কাক্তালীয়ভাবে। একদিন অমিতাভ রেজা দূর থেকে সাইফকে দেখে
কাছে ডেকে এনে তার ফার্মে কিছু ছবি জমা দিতে বলেন। সাইফতো রীতিমতো অবাক।
ঠিকই এক সপ্তাহের মধ্যে ডাক পড়ে অমিতাভ রেজার ওয়ারিদ টেলিকমের
বিজ্ঞাপনের জন্য। ঠিক তার এক সপ্তাহ পর যখন বিজ্ঞাপনটি প্রচার হয় তখনতো
আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবরা অবাক। এরপর সকলে সাইফেকে ফোন করে শুভেচ্ছে জানান। সকলের
ফোন পেয়ে সাইফ ও নিজেকে সামলে নেন। এরপর ওয়ারিদের বিলবোর্ডেরও মডেল হন এবং তাড়াতাড়ি
পরিচিতি পেয়ে যান। অমিতাভ রেজার পরবর্তী বিজ্ঞাপন রেক্সসোনা ডিওডিরেন্ট ও মডেল
হওয়ার সুযোগ পান। এছাড়াও বর্তমানে প্রচারের অপেহ্মায় রয়েছে স্যামসাং মোবাইল ফোনের
বিজ্ঞাপনসহ বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন। আগামীতে অভিনয় করারও স্বপ্ন দেখেন সাইফ।
স্মিতা দেঃ ছোটবেলায় মৌ এবং অপি করিমের নাচ দেখতে দেখতে স্বপ্ন
দেখতে তাদের মতো হওয়ার। সেই স্বপ্ন নিয়ে নাচ শেখা শুরু করেন স্মিতা দে। বিভিন্ন
স্থান শোও করেন। এমনি করে ২০০৫ সালে শিশু একাডেমীতে একটি শো করেন। স্মিতার
পারফর্মেন্স দেখেন মোস্তাফিজ। তিনি ফটোসেশন করতে বলেন ইকবাল আহমেদের স্টুডিও থেকে।
সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় মডেল কোঅর্ডিনেটর বরুণের সাথে। তার বদৌলতে করে ফেলেন
বাংলালিংক আইটপ আপবিজ্ঞাপনচিত্রটি। এই বিজ্ঞাপনচিত্রটি করার পর তার ভাগ্যের চাকা
ঘুরে যায়। কিছুদিনের মধ্যে অফার আসে আরো কিছু বিজ্ঞাপনের। এরপর আরসি
কোলা, ইউনিট্রেন্ডের অ্যালপেনলিভে, স্প্রাইট, এইডস সচেতনতাসহ আপন
আহসানের পরিচালনায় আরডি মিল্কের বিজ্ঞাপন। টিভিসি বিজ্ঞাপন ছাড়াও বিভিন্ন বিলবোর্ড
এবং প্রিন্ট মিডিয়ার বিলবোর্ডে তাকে দেখা যায়। এছাড়া শিহাব শাহীনের রমিজের আয়না
নাটকে অদিতি চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে অভিনেত্রী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন
ইতোমধ্যে।
সুমনা আফরোজ সুমাঃ সুমনা আফরোজ সুমনা মিডিয়ায় অভিষেক লাক্স
চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার
প্রতিযোগিতার জন্য ফটোসেশন করেন ইকবাল আহমেদের কাছে। তখন পরিচয় হয় সালাহউদ্দিন
লাভলুর সঙ্গে। এরপর ইকবাল আহমেদর কাছে। তখন পরিচয় হয়
সালাহউদ্দিন লাভলুর সঙ্গে। এরপর ইকবাল আহমেদ এবং সালাউদ্দিন লাভলুর সহযোগিতায় করে
ফেলেন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর বিজ্ঞাপনচিত্র। না, খুব বেশিদিন আর অপেহ্মা করতে
হয়নি। তার কিছুদিন পরই করেন তিব্বত জেলি ও তিব্বত পাউডারের বিজ্ঞাপনটি। এ তিনটি
বিজ্ঞাপনই তার জীবনে ক্যারিয়ারের জন্য মাইলফলক। এরপর করেন হারবি মিল্ক শ্যাম্পুর
বিজ্ঞাপনচিত্র। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বেশ কিছু নাটকেও। তার মধ্যে
উল্লেখযোগ্য সালাহউদ্দিন লাভলুর রচনা ও পরিচালনায় কঙ্কাবতী, তাহের শিপনের
অপরবেলা, আমজাদ হোসানের শেষের রাত্রি প্রভৃতি। এসব বিজ্ঞাপন এবং
নাটকগুলোতে তার পারফর্মেন্সই বলে দেয় সুমার অবস্থান কতটা উদৃঢ়। লেখার পাশাপাশি
অভিনয় এবং মডেলিং চালিয়ে যেতে চান সুমা।
শারিকা সাবরিনঃ
শারিকা সাবরিনের মিডিয়ায় আসাটা হঠাৎ করেই। মিডিয়ায় কাজ করবেন
এমন ভাবনাও ছিলো না তার। এমনকি এজন্য কোনো বিজ্ঞাপনী বা প্রযোজনা সংস্থায় ছবিও জমা
দেননি। তারপরও কাকতালীয়ভাবে বিটপির মঞ্জু সিঙ্গারের বিলবোর্ডের অফার দেন। পরিবারের
সাথে আলাপ করে বিজ্ঞাপনটি করতে রাজি হন। এরপর মডেল কোঅর্ডিনেটর বরুণের সহযোগিতায়
বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হন। ডিজুসের টিভিসি
বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হন। ডিজুসের টিভিসি বিজ্ঞাপনচিত্রে একক মডেল হিসেবে
নিজেকে তুলে ধরেন। ধীরে ধীরে সোলস ড্যান্স-এর বিলবোর্ড, সিঙ্গার টেলিভিশনের
প্রিন্ট অ্যাড এবং বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের মডেল হন। এছাড়াও গ্রামীণ ফোন এবং লাক্স
চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতার টিভিসি অ্যাড করেন। মডেলিংয়ের
পাশাপাশি বেশ কিছু ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। আনন্দভুবন নতুন মুখ খোঁজার যে
উদ্যাগ নেয় সেই উদ্যোগের প্রথম এবং সফল মুখ শারিকা। বর্তমানে শারিকা ওলেভেলে
পড়াশোনা করেছেন।
মো. জাবেদ হোসেন পিয়ালঃ বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতে
দিতেই আচমকা যেন জীবনের মোড় ঘুরে গেল মো. জাবেদ হোসেন পিয়ালের। ২০০৪ সাল। অভিনেতা
নাদের চৌধুরীর অফিসের নিচে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন বন্ধু মিলে। নাদের চৌধুরীর চোখ
পড়ল পিয়ালের ওপর। তার কিছুদিন আগে একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণের কাজ পেয়েছেন নাদের চৌধুরী।
মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন এই ছেলেকে দিয়েই সেই বিজ্ঞাপনের মডেল বানাবেন। যেমিন
ভাবনা তেমন কাজ। পিয়ালকে দিয়ে গুলশান সিটি মার্কেটের বিজ্ঞাপন করালেন।
সেইতো পিয়ালের যাত্রা শুরু। বিবিএ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র পিয়ালের জন্ম ঢাকায়।
পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে এখন মডেলিংয়ে ব্যস্ত পিয়াল। ইতোমধ্যে যমুনা গ্রুপের
বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ শেষ করেছেন। তবে তার জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন একটেলের রাত ১২ টা
বাজলেই... মূলত এ বিজ্ঞাপনটিই তার পরিচয়ের পরিধিকে আরো প্রশস্ত করেছে। স্কয়ার
হাসপাতালের বিজ্ঞাপনেরও মডেল হন পিয়াল। এছাড়া তিনি ঝিলমিল দম্পতি নামে একটি নাটকেও
অভিনয় করেছেন। Add as favourites (51) | Quote this article on your site | Views: 174
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





