|
মাহফুজ আহমেদ
বরেন্য কথা সাহিত্যিক হুমায়ন আহমদে কয়েক বছর আগে বের হওয়া তার
একটি বইয়ের উসর্গপত্রে লিখেন ফিল্মপাড়ায় আমার একটা অফিস আছে। সেখানে রোজ মাহফুজ
আসে। এসেই বলে ভাত খাব স্যার। আসলে সে ভাত খেতে আসে না সে আসে আমার সাথে গল্প
করতে। এখন মাহফুজ অনেক ব্যস্ত আর বড় অভিনেতা সে এখন আর আসে না । সে কি
জানে এখনও রোজ দুপুর বেলা তার জন্য আমি খাবার নিয়ে অপেক্ষা করি । এক লাফে কেউ
যেমন গাছে চড়তে পারে না তেমনি চেষ্টা ছাড়া সাফল্য কারো হাতের মুঠোই ধরা দেয় না ।
একজন মাহফুজ আহমেদ হঠাৎ করেই ঝলসে ওঠেনি। ধাপের পর ধাপ ডিঙ্গিয়ে বহুমুখী
পরিচয়ে পৌছাতে তাকে পোড়াতে হয়েছে বহু খড়খুটো । মাহফুজ আহমেদ তার গন্তব্য ধরে
পৌছানোর গল্প বলছেন নিজেই
সত্যি বলতে কি আমার জিবনে কোনো কিছু প্লান করা হয়নি। কোন ধরনের
সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমি সাংবাদিকতা শুরু করিনি। সাংবাদিকতা থেকে অভিনয়ে আসার
ব্যাপারে আমার কোন প্লান ছিল না । মডেলিং বা প্রডিউসার কোনটা নিয়ে আমি
পরিকল্পনা করিনি। পরিচালনায় আসা হয়েছে কোন পরিকল্পনা ছাড়াই। আসলে আমার ভেতরে একটা
গোছানো মাহফুজ আহমেদ আছে। এটা মনে হয় সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ। নয়তো সব কাজ এত
গুছিয়ে পারব কেন?কিন্তু আমি কোন প্লান করে কাজ করিনি । সামনে করতে পারব কিনা বুঝতে
পারছি না । তবে আমার ভেতর একটা পর একটা ড্রিম তৈ্রী হয়। আমি স্বপ্ন দেখি এটা করব
ওটা করব। স্বপ্ন লালন করেই একটার পরে একটা কাজে হাত দেয় স্বপ্নগুলো কেমন যেন
বাস্তবায়িত হয়ে যায় । আমার জীবনে সেই স্বপ্ন গুলোর প্রতিফলন ঘটেছে বিভিন্ন সেক্টরে ।
ছাত্র জীবনে সাংবাদিকতা আমার কাছ বিশাল মনে হত। যে ইচ্ছা করলেই সাংবাদিক হতে পারে
না । সাংবাদিকতার জন্য আলাদা সেঞ্চ থাকা দরকার। নগরী পত্রিকায় আমার প্রথম চাকুরি
হল । তারপর ছোটখাট পত্রিকায় কাজ করতে করতে একসময় সাপ্তাহিক পূর্নিমায় পত্রিকায়
স্টাফ রিপোটার হিসেবে যোগ দেই। সেটা ছিল ১৯৮৯ সাল। তখন প্রথম ওয়েইজ বোর্ডে
বেতন পায়। তার পর স্পোটস জানালিজম । এরপর সুযোগ আসে বিনোদন পত্রিকায়। আসলে
সাংবাদিকতার সব সেক্টরে আমি কাজ করছি । পলিটিক্সির উপর যেমন লিখেছি, তেমনি তখনকার
সবচেয়ে বড় পতিতালয় নারায়নগঞ্জের টানবাজারের প্রায় প্রতিটা রুম আমি
ঘুরেছি। পতিতারদের নিয়ে কাভার স্টোরি করার জন্য। টিভি চ্যানেলের মধ্যে তখন ছিল এক
বিটিভি। একটা আসাইনমেন্ট নিয়ে আমি বিটিভির প্রযোজক ফখরুল আবেদীনের রুমে যায়।
কথাবার্তা শেষে রুম থেকে বাইরে বের হচ্ছি এই ছেলে শুনো তো...তুমি অভিনয় করবে? আমি
তো অবাক বলে কি লোকটা আমাকে দিয়ে কেউ যে অভিনয়ের কথা ভাবতে পারে এই প্রথম শুনলাম ।
কিন্তু না ভেবেই হঠাৎ বললাম হ্যা করব এই ঘটানার কিছু দিন পরেই আমি পুর্নিমার
পত্রিকার একটা ইন্টারভিউ নিতে ইমাদুল হক মিলনের কাছে যায়। ইন্টারভিউ শেষ করে বের
হচ্ছি মিলন ভাই হঠাৎ বললেন তুমি কি অভিনয় করবে। আরে ঘটানা কি আমাকে
নিয়ে অভিনয়ের কথা বলছে । দেখিইনা একটু টুকটাক অভিনয় করে। তখন বিটিভিতে চলছিল
ইমাদুল হক মিলনের সিরিয়াল কোন কাননের ফুল । আমাকে একটা ছোট্ট একটা রোল দেয়া হল।
একটা সিকোয়েন্স আর একটা ডায়ালগ। আজিজুর হাকিমকে বললাম এই তোকে শশী তোকে শমী ডাকছে।
বাস এই টুকুই । আমি মহা উচ্ছাসিত। টিভিতে চেহারা দেখানোটাই আমার কাছে বড়। এই ছিল
আমার প্রথম আমার অভিনয়। হুমায়ন আমহেদ - ই আমাকে সবচেয়ে বড় ব্রেক দেন। সাংবাদিকতার
সুত্রে ওনার সাথে আমার সাথে পরিচয়। পূর্নিমায় ঈদসংখ্যায় লেখা আনার
জন্য সম্পাদক আতাউর খান আমাকে হুমায়ন আহমেদের কাছে পাঠালেন। তিনি
তখন শহীদুল্লাহ কোয়াটারে থাকেন। আমি গেলাম ওনার বাসায়। কিন্তু ওনি আমাকে সোজা বাসা
থেকে বের করে দেন। তিনি বলেছিলেন আমি রাজাকারের পত্রিকায় কোনো লেখা দেব না ।
প্রচন্ড মন খারাপ করে আমি অফিসে ফিরলাম । সেদিনই সম্পাদক হুমায়নএর কাছে ফোন করলেন।
ছেলেটাও পাঠাও। ছেলেটির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি । কালকে এসে তুমি উপন্যাসটা
নিয়ে যেও। হুমায়ন আহমেদের সাথে আমার এই ভাবেই পরিচয়। একসময় দেগা গেল তার সাথে আমার
চমৎকার সম্পর্ক হয়ে গেল । ওনার ইন্টারভিউ তখনকার দিনে অনেক কঠিন ছিল । হুমায়ন
আহমদের কোথাও কেউ নেই এর মতি চরিত্রে অভিনয় করেই আমি অভিনেতা
হিসেবে আমি দশকের কাছে পরিচিতি পায় আসলে
আমার করা মতি চরিত্র নামের ছোট্ট চরিত্রটি
ক্লিক করে। আসলে হুমায়ুন আহমেদের কাছাকাছি না যেতে পারলে আমি নিশ্চিত
মাহফুজ আহমেদ বেরিয়ে আসত না । প্রথম আমি প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পায় খ ম
হারুনের একটি নাটকে। চরিত্রটাই ছিল সাংবাদিকতার। প্রধান চরিত্রে আমি নিয়মিত অভিনয়
শুরু করি প্যাকেজ নাটক অভিনয় করার । বুলবুল আহমেদ পরিচালিত শেষ পর্যন্ত
তোমাকে চাই এটাতে আমি বিপাশা হায়াতের বিপরীতে কাজ করি। মন দিয়ে আমি কাজ করার জন্য
আমি সাংবাদিকতা ছেড়ে দেই । এই ভাবেই ফুলটাইম অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের
পথচলা শুরু হয় । বড় পর্দায় নিজেকে দেখার আগ্রহ অভিনয় জীবনের প্রথম দিকে আমার ভেতর
কাজ করত। কোন কিছু না বুঝে না ভেবেই আমি কমাশিয়াল ফিল্মে অভিনয় শূরু করলাম ।
সেখানে কাছ থেকে যা দেখলাম তাতে মনে হলো আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না ।
বানিজ্যিক ছবিতে একজন ডিরক্টর যে করম চান আমি বুঝতে পারি আমাকে দিয়ে তা হবে না
বা সম্ভব না । তাই মুলধারায় বানিজ্যিক ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেই
। কিন্তু হুমায়ন আহমেদের দুই দুয়ারী বা শ্রাবনের মেঘের দিন তৌকির আহমেদের মত জয়যাত্রা ছবির মত ছবিতে আমি
ঠিকই অভিনয় করেছি । আমি অভিনয় করেছি ওস্কার বাংলা মতো বলিষ্ট ছবিতে । এই ধরনের
ছবিতে আমার ভবিষৎতে আমার দেখা যাবে। আমি মনে করি না যে ফিল্মে এসে আমি শুন্যে হাতে
ফিরে গেছি। এটাও বলব যে সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি । পরিচালনায় আসার আগে আমি
প্রডিউসার ছিলাম । ওটা ছিল ফেরদৌস হাসানের প্রথম ধারাবাহিক নাটক পান্থজনের সখা
। আমার নিজস্ব প্রোডাকশন বানীচিত্রেরে প্রথম প্রযোজনায় ছিল সেটা । এতে আমি আর শমী
কায়সার অভিনয় করেছিলাম এই ভেবে যে আমি কিছু ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চায়।
অর্থাৎ নিজের অভিনয়টাকে প্রকাশ করতে আমি প্রযোজনায় আসি। অভিনেতা মাহফুজকে সহায়তা নাটক
প্রডিউসার করা। এক টানা অভিনয় করতে ভাল লাগছিল না । একটি নাটক পরিচালনায় দেখি না
কেমন হয়। । এখন পরিচালক হবার পেছনে ভূমিকায় কাজ করেছে মডেল নোবেলের । আমরা একটা
শো করতে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলাম । ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পথে ঠিক হল ইতালিতে দুদিন
থেকে একটা নাটকের শুটিং করে দেশে ফিরব । কিন্তু নাটকের কোন কিছুই ঠিক নেই এই সময়
নোবেল বলে উঠলেন নাটকটির ডিরেকশন দিবেন মাহুফুজ আমি বললাম না । নোবেল আমাকে ছাড়ল
না । আমাদের মধ্যে কেউ যদি ডিরেকশন দিতে পারে তবে তুই পারবি । সে
আমাকে দিয়ে জোর করে ডিরেকশন দিতে বাধ্য করল । ইতালিতে গুডবাই সিনোরিয়া তৈরী করে
আমরা দেশে ফিরলাম । চ্যানেল আইতে বিশেষ টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচারিত হয়। দারুন
আলোচিত ও প্রসংসিত হলাম । সালে তিন লাখ এস এম এস এলো এই টেলিফিল্মের
পক্ষে। নিজের মধ্যে কনফিডেন্স তৈরী হলো নিজের মধ্যে। এরপর একে একে তাহার , বাতাসের
গ্রান, গনি মিয়ার বেশ কিছু দিন, প্রিয় বান্ধবী, পুত্রদান, এবং ধারাবাহিক নাটক
আমাদের নুরুল হুদা। আমাদের নউরুল হুদা এর মতো বড় কাজের পরিচালনার জন্য বড় ভূমিকা
অরন্য আনোয়ার। নুরুল হুদা চরিত্রের মধ্যে আমার অন্য একটা দুবলতা আছে । এই একই
চরিত্র এবং প্রতিটি সফল ও জনপ্রিয়। দশক নুরুহ হুদা হিসাবে আমাকে বেশ
পছন্দ করে বুঝতে পারি দেশ বিদেশে।
আমি পরিচালনায় থাকব নিয়নিত। কারন আমি জানি এক সময় অভিনেতা
মাহফুজ আহমেদ কাজ করতে ক্লান্তি চলে আসবে। একই ধরনের চরিত্রে থেকে
অভিনেতা মাহফুজকে বের করে আনার জন্য তখন কে এগিয়ে আসবে? এক্ষেত্রে আমি পরিচালক
মাহফুজ আহমেদের উপর নির্ভর করতে চায়।
Add as favourites (56) | Quote this article on your site | Views: 173
|