| Lux - Chenel I Performance Award 2007 |
|
|
|
মরুর বুকে অন্যরকম এক সবুজ বাংলাদেশ
প্রায় ৩৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর
কন্ঠে যখন ধ্বনিত হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। তখন শারজা ক্রিকেট
স্টেডিয়ামকে মনে হলো এ যেন করুর বুকে লাল সবুজের একখন্ড বাংলাদেশ। প্রবাসী
বাংলাভাষীদের এ এক অন্যরকম মিলনমেলা। ৯ নভেম্বর দুপুর থেকেই হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর
গন্তব্য হয়ে ওঠে শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। লাক্স-চ্যানেল আই পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড
২০০৭-কে ঘিরে আবারো বাঙালিদের এ মিলনমেলা সন্ধ্যা গড়াতে না গড়াতেই
হয়ে ওঠে জনসমুদ্র। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে হাজারো বাঙালির কন্ঠে উল্লাস, হর্ষধ্বনি ও
চিৎকার- চেঁচামেচি; তখন সেখানে আনন্দঘন এক অন্যরকম
পরিবেশ। প্রবাসী হাজারো স্বজনদের মুখে প্রিয় মাতৃভূমির নাম উচ্চারিত হওয়ার সময়
অনেকেরই চোখের কোণে জমে ওঠে অশ্রুওকণা। শারজা স্টেডিয়ামে প্রবাসে অন্যরকম এক
বাংলাদেশকে দেখল দেশের স্বজনেরা। প্রিয় মাতৃভূমির জন্য এ এক অন্যরকম ভালোবাসা।
ধন্য ও আমার বাঙ্গলাদেশ প্রিয় মাতৃভূমি!
লাক্স- চ্যানেল আই পারফমেন্স অ্যাওয়ার্ড
২০০৭
মরুর বুকে অন্যরকম এক সবুজ বাংলাদেশ
হাবিবুল হুদা
শারজা থেকে ফিরে
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য
রাখেন ইমপ্রে টেলিফিল্ম লি. চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর
রেজা সাগর। এরপর দর্শক ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানান, শারজায় এই ইভেন্টের প্রধান ও
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি.-এর অন্যতম পরিচালক আব্দুল মুকিত মজুমদার বাবু।
সেই আবেগী সম্বোধন
মূল অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থাপক আফজাল
হোসেন মঞ্চে এলেন। চিরচেনা সেই কন্ঠে পরম মমতায় আবেগী
কন্ঠে দর্শকদের জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছেন পেইয় আত্মীয়-স্বজনেরা। জনসমুদ্র থেকে
ইথারে ভেসে এলো প্রতিউওর-ভালো আছি। খুব ভালো আছি! আফজাল হোসেন তার আওভাবসুলভ
ভঙ্গিমায় বললেন-বিউটি হচ্ছে সৌন্দর্য, সুন্দর দিয়েই শুরু হোক তবে অনুষ্ঠান। তিনি
মঞ্চে আহ্বান করলেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা বিউটিকে। ‘হলুদিয়া
পাখি সোনার বরণ...পাখিটি ছাড়িল কে...’ বিউটি তার
দরাজ গলায় যখন গানটি ধরলেন তখন অনুষ্ঠানের সঙ্গে দর্শকরাও একাত্ম।
বউয়ের চিঠি!
মনির খান মঞ্চে এসেই গাইলেন, ‘চিঠি
লিখেছে বউ আমার ভাঙা ভাঙা হাতে...’ তখন
দর্শকশ্রোতাদের কন্ঠে কন্ঠে এ গান। দর্শকদের উল্লাস আর
নাচানাচি। এভাবেই হিট গায়কের হিট গান,মঞ্চ মাতালেন মনির খান।
ফেরদৌস-কুসুমের নাচ
মনির খানের গানের পর আফজাল হোসেন মঞ্চে
আহ্বান করলেন ফেরদৌস ও কুসুমকে। ফিউশন গানের তালে তালে বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক
ফেরদৌস আর মডেল, টিভি অভিনেত্রী কুসুম সিকদার
যখন মঞ্চ মাতাচ্ছে দর্শক সারিতেও নাচের ঢেউ। এরপরই মঞ্চে
আসেন ফোক গানের দরাজ কন্ঠের আরেক শিল্পী শাহনাজ বেলী। ‘কিবা
মন্ত্র বলে জাদু করিলে, কিবা মায়া লাগাইলারে বন্ধু...’
গানের মুগ্ধ তখন দর্শক।
প্রেম কাহিনী ও বিপ্লব
ট্যাক্সি ড্রাইভার ফিজা ভালোবাসে ধনীর
দুলালীকে। কিন্তু ট্যাক্সি ড্রাইভার ফিজা তাকে কিছু দিতে পারবে না বলে ফিজাকে
প্রত্যাখ্যান করে ওই ধনীর দুলালী। এমন গল্প আর গানের চঞ্চল চৌধুরী আর মীমের নাচ ও
পারফরমেন্স অভিভূত করে দর্শকদের। চঞ্চল গেয়ে ওঠে, ‘প্রেমিক
শোন সবাই এ যেন ভালোবাসা নয়...।’ চঞ্চল চৌধুরী
ও মীমের নাচের পর মঞ্চে আসেন প্রমিথিউসের জনপ্রিয় ভোকাল বিপ্লব। তিনি দর্শকদের ‘চাঁদের
বাতির কসম দিয়া ভালোবাসিলি...।’ গান গেয়ে দর্শক হৃদয় জয় করে নেন। এরপর
দর্শকদের উদ্দেশে বিপ্লব তার জনপ্রিয় গান ‘ন’
না ‘ণ’
কোনটা আসল ‘ন’
গানের পর ‘নারীরে
নারী...’
গানটি গেয়ে শোনান।
বদলে যাওয়া মেহরীন
শারজার এই অনুষ্ঠানে দর্শকরা পেল অন্য
এক মেহরীনকে। মেহরীন নিজেকে যে বদলাচ্ছেন সবসময় তা আবারো দেখল দর্শকরা। বাংলাদেশের
ঋতুর নানা দিক নিয়ে মেহরীন গাইলেন তার নতুন গান। ‘ঢোল
বাজে ঢোল, বাজে বাংলাদেশের ঢোল...।’
ওল্ড ইজ গোল্ড
উপস্থাপক আফজাল
হোসেনের আহ্বানে ওল্ড ইজ গোল্ড খুরশীদ আলম মঞ্চে এসেই ধরলেন তার বিখ্যাত সেই
১৮টি আংটি ও গায়িকা সমাচার
মঞ্চে এলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু
সায়ীদ। লাক্স- চ্যানেল আই পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড ‘
২০০৭ এর লাইভ টাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার রুনা লায়লার হাতে তুলে দেবার জন্য।
পুরস্কারটি রুনা লায়লার হাতে তুলে দেয়ার পর তাঁর অনুভূতির কথা জানতে চান উপস্থাপক।
তিনি রুনা লায়লার হাতের ১৮টি আংটির মাজেজা জানতে চান। রুনা লায়লা জানতে চান আংটি
তিনি নেবেন কিনা? তিনি বলেন, আপনার মতো গায়িকা হলেই তবে আনহটি নিতে পারি। পালটা
প্রশ্ন করা হয়, গায়িকা না গায়ক হতে চান? আবদুল্লাহ
আবু সায়ীদ বলেন, গায়িকাই হতে চাই- তখন দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।
অদ্বিতীয় আফজাল হোসেন
উপস্থাপনায় তিনি যে অদ্বিতীয় অভিনেতা ও
নির্মাতা আফজাল হোসেন আবারও প্রমাণ করলেন। তার সেই প্রিয় সম্বোধন-কেমন আছেন প্রিয়
অত্মীয়-স্বজনরা বার বার দর্শকদের হৃদয়ে ছুঁয়ে
যাচ্ছিল। দর্শক তার জাদুকরি উপস্থাপনায় এবারেও মুগ্ধ। উল্লেখ্য, আফজাল হোসেন
তৃতীয়বারের মতো শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সামনে আবারো
প্রাণবন্ত উপস্থাপনা করলেন। গান ‘চুমকি
চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কী তাতে, হার মেনেছে
দিনের রাতে...।’
এই গানের তালে তালে দর্শকরাও তখন তার কন্ঠের সঙ্গী হয়ে গেলেন। আঁখি মানে চোখ। আঁখি
আলমগীরের চোখের সৌন্দর্য যাই হোক তার কন্ঠের সৌন্দর্য সবসময় মুগ্ধ করে দর্শকদের।
আঁখি আলমগীর মঞ্চে এসে তার সুরেলা কন্ঠে যখন গান ধরলেন ‘সোনাবন্দে
আমারে দিওয়ানা বানাইলি...।’
তখন আঁখির গানে দিওয়ানা দর্শক নাচানাচিতে ব্যস্ত।
পালকিতে চড়াইয়া
ফায়ার ওয়ার্কস বা আলো নিয়ে খেলা দিয়ে
শুরু। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা একটি ভারতীয় ড্যান্স গ্রুপের পরিবেশনা হয়ে ওঠে দেখার
মতো। বেহারার কাঁধে পালকিতে চড়ে ওদের মূল পারফর্মার যখন স্টেজে
নামলেন তখন সেখানে তৈরি হলো এক মায়াবী পরিবেশ। তাদের পরিবেশনায় অ্যারাবিয়ান
ড্যান্সে মুগ্ধ হলো দর্শক।
জাদুরে জাদু
শাহীন শাহা। প্রতিভাবান আক জাদুশিল্পী।
তিনিও সবার সাথে ঢাকা থেকে শারজা গিয়েছিলেন দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেবার জন্য।
শাহীন শাহ দেখান কলসে ওয়াটার অব বাংলাদেশ ও গামছায় মুড়ি ভাজা
শিরোনামের দুটি জাদু। উপস্থিত দর্শকরা তার মোহময় মায়াবী জাদুর জালে আটকে পড়ে
কিছুহ্মণ।
বন্ধু আমার
মীর সাব্বির শাহরিয়ার নাজিম জয় জুটি
বেঁধে যে নাচ দেখালেন তাতে দর্শকরা শুধু মুগ্ধ নয়, হয়ে পড়ল জয়- সাব্বিরের
গুণমুগ্ধ। এরা দুজন একে একে ‘বন্ধু
আমার... একটাই কথা আছে বাংলাতে... বন্ধু তোর বারাক নিয়ে আমি যাব... এবং তুই তো কাল
চলে যাবি আমাকে ছেড়ে... শিরোনামের এই গানগুলোর সাথে নেচে গেয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম
করেন। অনুষ্ঠানে ছেলেতে-ছেলেতে জুটি হয়েও নেচে দর্শক মাতানো যায় এমন ধারণা পাল্টে
দিলেন তারা।
এবং মঞ্চ সিনেমা
কষ্ঠরাজ গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কষ্ঠে
সিনে স্ক্রিপ্টের সাথে সাথে মরুর বুকে গোলাপ ফুল নামে এক মঞ্চ সিনেমায় অংশ নেয়
ফেরদৌস-তিন্নি ও শহিদুল আলম সাচ্চু। ভিলেন সাচ্চুর সঙ্গে মঞ্চসিনেমায় অন্যান্য
পারফরমেন্সের পাশাপশি ও দারিয়ায় পানি... আমি যে প্রেমে
পড়েছি... এবং সাধের কন্যারে...গান তিনটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন তিন্নি ও
ফেরদৌস। উপস্থিত দর্শকরা এই মঞ্চসিনেমা দেখতে দেখতে অভিভূত ও আবোগাপ্লুত হয়ে পড়ে।
মনোমুগ্ধ দর্শক তখন বলতে থাকে- মারহাবা, মারহাবা। সুন্দর। খুব সুন্দর।
নকুলের বউ সমস্যা
কমেডি
ধাঁচের গানের শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস। বরাবরই স্ত্রীতে তার বিশ্বাস নেই। তাই
দর্শকদের তিনি গেয়ে শোনান বউকে নিয়ে যত সমস্যার কথা গানে গানে। ‘এই
যে এত কষ্ট, সাধের জীবন নষ্ট... সবাই বউ- এর কারণে।’ তার
এই গানে অবিবাহিত তরুণরা যেমন হেসে লুটোপুটি খেয়েছে তেমনি বউকে
নিয়ে আসা দর্শকরাও তাদের বউয়ের দিকে চোরা চোখে চেয়ে মুখ চেপে চেপে হেসেছে।
এবং শিবলী-নীপার নাচ
শাহেদও যে এমন নাচতে পারে তা দর্শকরা এই
প্রথম দেখল। একটি আধুনিক গানে জুটি বেঁধে মোনালিসার সঙ্গে নৃত্যের যে পারফমেন্স
দেখালেন শাহেদ,তাতে দর্শকরা মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের দুই
জনপ্রিয় জুটি ও নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা ও শিবলী মোহাম্মদ একটি পারসি গানের
সাথে যে নৃত্য পরিবেশন করেছেন তখন পুরো স্টেডিয়ামের দর্শকরা আনন্দে মূর্ছনায়
মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিলেন।
মাহফুজ- ফারিয়া জুটি
টেলিভিশনের জনপ্রিয় তারকা মাহফুজ আহমেদ
ও লাক্স- চ্যানেল আই সুপারস্টার ‘০৭
এর দ্বিতীয় রানারআপ ফারিয়া মিক্সড গানের সাথে এমনই নাচ দেখালেন তা দর্শকরা মনে
রাখবেন বহুদিন। জুটির পারফরমেন্সের সাথে ছিল গান, যদি বউ সাজোগো...লীলা বালি লীলা
বালি... বউ কেন কথা কয় না... এবং তোমারি পরশে জীবন আমার ধন্য হলো। সেইদিন ফারিয়ার
ছিল জন্মদিন। এমনই একটি দিন ফারিয়ার জীবনে যেমন স্মরণীয় তেমনি
দর্শকদেরও জন্য ছিল উপভোগ্য।
ফেরদৌস ওয়াহিদ ও হাবিব
দু’জনই
বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে জনপ্রিয়। একজন পুরনো অন্যজন নতুন। ফেরদৌস ওয়াহিদকে প্রথমে
মঞ্চে ডাকেন আফজাল হোসেন। ফেরদৌস ওয়াহিদ মঞ্চে ডেকে তোলেন ছেলে হাবিবকে। হাবিব গান
ধরে, জনপ্রিয় সেই গান। ভালোবাসবো বাসবোরে বন্ধু...। দর্শকরা মনোমুগ্ধের মতো শোনেন
হাবিবের জাদুকরি কন্ঠের গান। এরপর লাক্স চ্যানেল আই পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ডের সেরা
প্লেব্যাক গায়কের পুরস্কার হাবিবকে প্রদানের জন্য বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদকে
অনুরোধ করেন আফজাল হোসেন। কিন্তু ফেরদৌস ওয়াহিদ আফজাল হোসেনের হাত থেকে হাবিবকে
পুরস্কার নেয়ার জন্য বলেন। ফেরদৌস ওয়াহিদের এমন উদারতায় মুগ্ধ হন দর্শকরা।
শাকিব খান- বাঁধন জুটি
হালের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে পেয়ে
শারজার দর্শকরা খুবই উল্লাসিত। শাকিব খান যখন মঞ্চে
ওঠেন তখন মুহুর্মুহু উল্লাসে ফেটে পড়ে হাজার হাজার দর্শক। এই জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে
জুটি বেঁধে মিক্সড গানের একটি নাচে অংশ নেন লাক্স- চ্যানেল আই সুপারস্টার ‘০৬
এর দ্বিতীয় রানারআপ ও অভিনেত্রী বাঁধন। কই তোমায় নিঠুর বন্ধুরে... তোমার মুখটা
দেখে বলি গানের সঙ্গে শাকিব-বাঁধন জুটির পরিবেশনা দর্শকরা
উপভোগ করে প্রাণভরে।
নোবেল- মিমের নাচ
গত বছর লাক্স চ্যানেল আই পারফরমেন্স
অ্যাওয়ার্ডে হায়দার হোসেন ত্রিশ বছর পরে আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজেছি গান দিয়ে
দর্শককে মুগ্ধ করেন।
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ‘০৭
মিম আর জনপ্রিয় মডেল নোবেল আহা! ছবির জনপ্রিয় গান লুকোচুরি
লুকোচুরি গল্প, তারপর হাতছানি অল্প...এর সঙ্গে নাচলেন বেশ। সঙ্গে ছিল ভরাট কন্ঠের
আবৃত্তি। ভিন্ন ধরনের এই পরিবেশনা দর্শকদের জন্য ছিল খুবই উপভোগ্য।
জাতীয় পতাকা ও বিজয়ের খন্ডচিত্র ও জনসমুদ্রের আবেগ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের
খন্ডচিত্র লেজার শোর মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। লেজার শোর মাধ্যমে উঠে আসে ‘৫২-এর
ভাষা আন্দোলন, ‘৬৯
এর গন অভ্যুত্থান, ‘৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নানান
চিত্র। লেজার শোর মাধ্যমে আরো উঠে আসে বাংলাদেশের মানচিত্র, বীরশ্রেষ্ঠদের
প্রতিকৃতি, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধসহ নানা স্মৃতিময়
ঘটনা। তবে পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই ছিল আলোর খেলা।
এর আগে আবৃত্তির সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল
জাতীয় পতাকা বহন করে একদল ছেলেমেয়ে। মঞ্চে পতাকা নিয়ে যাবার সময় পুরো স্টেডিয়ামের
দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করে। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আবেগে
আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। অনেকের চোখের কোণে জমে থাকতে দেখা যায় অশ্রুকণা। এ সময় ‘তাকডুম
তাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল...,’ ‘সাধের লাউ
বানাইলো মোরে ও ‘আমার
বাংলাদেশ প্রিয় মাতৃভূমি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন শামীম
আরা নীপা ও শিবলী মোহাম্মদ।
নেপথ্যে যিনি ছিলেন নায়ক
চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আব্দুল মুকিত
মজুমদার বাবুকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। লাক্স চ্যানেল আই পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ডের মতো
আকর্ষণীয় এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার হ্মেত্রে তিনি কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। তার
অক্লান্ত পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার মারণে শারজায় নিয়মিতভাবে
অনুষ্ঠানটি করা সম্ভব হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে একটি অনুষ্ঠান করার হ্মেত্রে অনেক
নিয়মনীতি পালন করতে হয়। আব্দুল মুকিত মজুমদারের নেতৃত্বে একটি দহ্ম টিম
আন্তর্জাতিকমানের এই অনুষ্ঠানটি সফল করতে সহ্মম হয়েছে।
ভবের হাট ক্যাপসুল
চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় সিরিয়াল ভবের হাটের
লাইভ ক্যাপসুল ক্লিপিংস দেখেন দর্শকরা। ফজলুর রহমান বাবু, চঞ্চল
চৌধুরী, ডা. এজাজ, শামীম এবং লাক্স তারকা ফারিয়ার অভিনয় সমৃদ্ধ এই লাইভ নাট্য
ক্যাপসুলটি দর্শকদের বেশ হাসায়।
সাবিনার জন্য রুনা লায়লা
বাংলা গানের জগতের এক নহ্মত্র রুনা
লায়লা। তিনি তার প্রথম গানের দুটি লাইন উৎসর্গ করলেন বাংলা
গানের আরেক নহ্মএ সাবিনা ইয়াসমীনকে। গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে গানটি তিনি সাবিনা
ইয়াসমীনকে উৎসর্গ করেন। মঞ্চে রুনা লায়লা একে একে পরিবেশন করেন
বন্ধু তিন দিন তোর বাড়িত গেলাম..., ইস্টিশনের রেলগাড়িটা... এবং দর্শকদের অনুরোধে
সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী গানগুলো।
ফারুক- কবরীর নাচ
বাংলা ছবির মিষ্টি মেয়ে কবরী। গ্রামবাংলার রোমান্টিক হিরো ফারুক। এই দুজন
একসঙ্গে জুটি বেঁধে এই প্রথম স্টেজ শোতে অংশ নিলেন। ফারুক- কবরীর জুটির পরিবেশনা
সব সখিরে পার করিতে... গানের সঙ্গে নাচ দর্শকরা উপভোগ করেন
বেশ আনন্দ নিয়ে। এরপর ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সোনিয়া মঞ্চে এসে গাইলেন বাঁশের ঝাড়ে
আগুন দিবা... শীর্ষক একটি গান।
মৌসুমী ও শাবনূরের নাচ
প্রিয়দর্শিনী নায়িকা মৌসুমীর ‘দিলে
বড় জ্বালারে পাঞ্জাবিওয়ালা’ গানটির সঙ্গে নাচ দর্শকরা বেশ উপভোগ
করে। চিত্রনায়িকা শাবনূর পরিবেশন করেন একটি
ক্ল্যাসিকাল গানের সঙ্গে নাচ। ‘প্রেম করেছি ভয় করি না’
গানের সঙ্গে শাবনূরের নাচ ছিল উপভোগ করার মতো।
এবং মমতাজ
বাংলা ফোক গানের এক ও অদ্বিতীয় শিল্পী
মমতাজ। মঞ্চে তাকে আহ্বানকালে একথাই বললেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক আফজাল হোসেন। মঞ্চে
এসে মমতাজ সে কথাই প্রমাণ করলেন ‘মরার
কোকিলে গানটি গেয়ে।’
অসাধারণ বারী সিদ্দিকী
গায়কির করণেই অসাধারণ কণ্ঠশিল্পী বারী
সিদ্দিকী। মঞ্চে এসেই তিনি একে একে গাইলেন বন্ধুয়ারে..., সোয়াচান পাখি, আমি ডাকি
তুমি ঘুমাইছো নাকিসহ জনপ্রিয় তিনটি গান। প্রথম দুটি গান শুধু মুখ গেয়ে শোনান বারী
সিদ্দিকী। সেই সঙ্গে বারী সিদ্দিকীর বাঁশির সুর দর্শকের হৃদয়ে ঝড় তোলে।
ও আমার বাংলাদেশ প্রিয় জন্মভূমি
ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজের গান পরিবেশনার
শেষে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া সকল শিল্পী কলাকুশলী একে একে মঞ্চে উঠে আসেন। তখন
শব্দযন্ত্রে বেজে ওঠে সাবিনা ইয়াসমীনের দরদী কন্ঠে দেশের
গান ‘মাঝি
নাও ছাইড়া দে, মাঝি পাল উড়াইয়া দে......।‘গভীর রাতে
লাক্স- চ্যানেল আই পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড ‘০৭ কে ঘিরে
যখন হাজারো বাঙালির মিলনমেলা ভাঙল তখন স্টেডিয়ামের বাতাসে বাতাসে একই সুর-‘সূর্যোদয়ে
তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি ও আমার বাংলাদেশ প্রিয় জন্মভূমি’।
যারা পুরস্কার পেলেন
যারা পুরস্কার দিলেন
লাক্স-চ্যানেল আই পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড
২০০৭ অনুষ্ঠানের মূল সঞ্চালক ছিলেন জনপ্রিয় টিভি তারকা আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানে
বাড়তি আকর্ষণের জন্য অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্বটি উপস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয় তিন
জনপ্রিয় মুখ ফারজানা ব্রাউনিয়া, মিশু রহমান এবং
চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে। ফলে মূল অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান
পর্বটি হয়ে ওঠে বেশ জমজমাট। প্রথমেই সেরা প্লেব্যাক সিঙ্গ্যার এর পুরস্কারটি
মমতাজ- এর হাতে তুলে দেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয়
রাষ্ট্রদূত নাজিম উল্লাহ চৌধুরী। বেষ্ট ডিরেক্টর
ড্রামা ফেরদৌস হাসান ও বেষ্ট টিভি শো তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের হাতে
পুরস্কার তুলে দেন সঙ্গযুক্ত আরব আমিরাতের কনসুল জেনারেল আব্দুল হাই, বেষ্ট
ডিরেক্টর ফিল্ম আবু সাইয়ীদ এর পহ্মে পুরস্কার গ্রহন করেন নাট্যকার মাসুম রেজা,
পুরস্কার তুলে দেন সাউথ ইষ্ট ব্যাংকের এমডি রেহানা রহমান, বেষ্ট মডেল কাজী
জামালউদ্দিন ও কুসুম সিকদারের হাতে পুরস্কার তুলে
দেন ওয়ারিদ টেলিকমের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মনির ফারুকী। রুনা লায়লার হাতে
লাইভ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ
আবু সায়ীদ। বছরের আলোচিত অভিনেত্রীর পুরস্কার মৌসুমীর হাতে তুলে দেন আমিরাত
পোস্ট-এর ডিরেক্টর মার্কেটিং মানা আলম সুয়াজী। বছরের আলোচিত অভিনেতার পুরস্কারও
তিনি তুলে দেন মীর সাব্বিরের হাতে। সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য সাবিনা ইয়াসমীনকে
দেয়া হয় স্পেশাল কন্টিবিউশন অ্যাওয়ার্ড। অসুস্থ সাবিনা ইয়াসমীনের পহ্মে আলী
যাকেরের হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহন করেন সারা যাকের। নাটকে বছরের আলোচিত
অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিন্নি ও চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেতার পুরস্কার পান শাকিব
খান। তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ এর মিডিয়া ম্যানেজার আমান
আশরাফ ফায়েজ। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য স্পেশাল কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড পান
নায়করাজ রাজ্জাক। তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া
খাতুন। সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার
পান যথাক্রমে ফেরদৌস ও মৌসুমী। তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন যথাক্রমে শাইখ
সিরাজ ও মতিউর রহমান চৌধুরী। চলচ্চিত্রে লাইফ টাইম
অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান কবরী। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন আসাদুজ্জামান নূর।
টিভি নাটকের সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার পান
মাহফুজ আহমেদ ও সারা যাকের। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নায়করাজ রাজ্জাক ও আফজাল
হোসেন। চলচ্চিত্রে শেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান ইলিয়াস কাঞ্চন। তার পহ্মে
পুরস্কারটি গ্রহন করেন ফজলুর রহমান বাবু। চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার
পান শাবনূর, তিনি আফজাল হোসেনের কাছ থেকে এ পুরস্কারটি গ্রহন করেন। এছাড়াও নৃত্যর
বিশেষ অবদানের জন্য শামীম আরা নীপার হাতে
স্পেশাল কন্টিবিউশন অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্বটি মাঝে মাঝেই
আবেগপূর্ণ হয়ে পড়ে। Add as favourites (36) | Quote this article on your site | Views: 258
Write Comment
| ||||||





