|
Life story of Toukir Ahmed |
|
|
|
Page 1 of 2
ইচ্ছা, চেষ্টা আর সততাই সফল জীবনের মূলমন্ত্র
ইন্টারমিডিয়েট পাস করে যোগ দেই এদেশের অন্যতম নাট্যদল থিয়েটারে। এটা ১৯৮৫ সালের কথা। তখন আমার বয়স খুব বেশি নয়। ২২ বছর বয়স। মাত্র ২২ বছর বয়সে আমি প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করি। নাটকের নাম 'ফিরিয়ে দাও অরণ্য'। আব্দুল্লাহ আল মামুন ভাই তখন বিটিভির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। তিনি জানালেন থ.ম. হারুন ভাই তরুণ একজনকে খুঁজছেন। তো মামুন ভাই সব ব্যবস্হা করলেন। স্পেশাল অডিশন দেয়ার ব্যবস্হা হলো। 'ফিরিয়ে দাও অরণ্য' তে ড্রাগ এডিকটেড যুবকের ভূমিকায় অভিনয় করলাম। নাটকটি আলোচিত হলো। সেই সময় আমি বুয়েটে পড়ি। থাকি পল্লবীতে। পল্লবী থেকে দোতলা বাসে অর্থ্যা বিআরটিসির দ্বিতল বাসে যাওয়া-আসা করতাম। সন্ধ্যায় গ্রুপে যেতে হতো। পড়াশোনায় প্রচন্ড চাপ তো ছিলই। এজন্য সারারাত জেগে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে আমার ছাত্রজীবন চলতে থাকে। এ কারণে শরীরে বেশ চাপ পড়ত। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান হওয়াতে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে আমাকে। একটি নাটক প্রচার হবার পর হঠাৎ লোকজন চিনে ফেলত। আমি বুয়েটে ক্লাস শেষ করে কিংবা সকালে পল্লবী থেকে দোতলা বাসে উঠে নিয়মিত যে কাজটি করতাম তাহলো বাসের সামনের সিটে চুপচাপ বসে থাকতাম। এর ফলে কেউ আমাকে চিনতে পারতো না। নাটক নিয়েও প্রশ্ন করতো না। তখন পল্লবী থেকে পলাশী পর্যন্ত বিআরটিসির ভাড়া ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা। ছাত্র ভাড়া ছিল ১ টাকা। র্কাড দেখিয়ে ছাত্র ভাড়া দিতাম। মাঝে মাঝে হলেও থাকতাম। মনে পড়ে কাওরানবাজার থেকে একবার প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে দোতলা বাসে উঠে প্রায় ঝুলেই যাচ্ছি। একজন দর্শক আমাকে চিনে ফেলে। আমাকে ধরে ভেতরে ওঠায় এবং বলে, ভাই আপনি তো আমাদের সম্পদ। এ রকম কত স্মৃতিই মনে পড়ে।
আজ তারকা হলেও আমি মনে করি ব্যাক্তি তৌকির আহমেদ সেখানেই আছে যেখানে তারকা হওয়ার আগে ছিল। মানুষ তৌকির আহমেদও সেখানেই আছে তারকা হওয়ার আগে যেমনটি ছিল। হয়তো পরিবেশের কারণে অবস্হান, কাজ বদলেছে। তবে তারকা হওয়ার গর্বে অনুভূতিতে কখনই আপ্লুত হই না। এদিকে 'ফিরিয়ে দাও অরন্য' প্রচার হলেও দেশব্যাপী আমার পরিচিত তখনও হয়নি। তারকা হয়েছি আরও পরে। থিয়েটারে কাজ করেই যাচ্ছি। মঞ্চে শুরুতে তো চেয়ার টানা, চা আনা সবই প্রত্যেক সদস্যকে করতে হয়। আমি ও তার বাইরে নই। আসলে ওটাই একজন শিল্পীর বেসিক শিক্ষা। শৃঙ্খলা, সময় ঞ্জান, অভিনয় সবকিছু মঞ্চ থেকেই শেখা যায়। আমিও এক জীবনে অনেক শিখেছি। একটি কথা বলি, মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান হওয়াতে স্বাভাবিকভাবেই তখন জীবন ভিন্ন ছিল। মঞ্চে কাজ করতে করতে এক সময় 'তোমারই' নাটকে রঞ্জু চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে। রঞ্জু ছিল কেন্দ্রীয় চরিত্র। তোমারই বেশ আলোচিত একটি নাটক। আমার অভিনয়ও মঞ্চের দর্শকদের কাছে সাড়া জাগায়। কিন্তু টেলিভিশনে ডাক আসে অনেক পরে। 'স্বর্ণতোরণ' নামের একটি নাটকে বেশ পরে অভিনয় করি, প্রযোজক ছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী। ফাহমিদা নামে নতুন একজন মেয়ে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। এরপর বড় একটি সুযোগ আসে। ফখরুল আবেদীন দুলালের প্রযোজনায় 'যত দুরে যাই' নাটকে শমী কায়সারের বিপরীতে অভিনয় করি। এই নাটকটি বিপুল সাড়া ফেলে দর্শকদের মাঝে। আমার পরিচিতিও বাড়ে। অর্থাৎ দর্শকরা এই নাটকের মধ্য দিয়ে আমাকে চিনতে শুরু করে। আরও কিছুদিন পর করি মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রযোজনায় 'পাথর সময়' নামে একটি নাটক করি। এটিও আমাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। আরও কিছুদিন পর অভিনয় করি 'রুপনগর' নাটকে যা কিনা আমাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। এই নাটকগুলো করার পর আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যদিও নাটক পরিচিতি আনতে থাকে কিন্তু অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তেমন আসে না। কারণ একটি নাটক করে ৭শ কিংবা ৮শ টাকা পেতাম। সময় গড়িয়ে যায়। ১৯৯০ সালে আমরা নিজেরা প্রতিষ্ঠা করি 'নাট্যকেন্দ্র' অর্থ্যাৎ থিয়েটার ছেড়ে দেই। অন্যদিকে জীবন নিয়ে ভাবনা শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে বুয়েট থেকে পাস করে বের হই। পাস করার আগেই পরিকল্পনা ছিল কোনও চাকরি করব না ব্যবসা করব। টানা ১৩ বছর ব্যবসা করি। স্হপতি হিসাবে পড়াশোনা করায় ব্যবসায় দ্রুত স্টাবলিশ হই। আবার প্যাকেজ চলে আসায় নাটকেও ব্যস্ততা বাড়ে। সম্মানীও বাড়ে। জীবন বদলে যেতে থাকে। এক সময় নাটক লেখা ও নির্দেশনা দেয়া শুরু করি। 'উত্তরপুরুষ', 'অরণ্যের সুখ দু:খ', 'তোমার বসন্ত দিনে' নাটকগুলো পরিচালনা করি। ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ কাউন্সিল রয়েড কোড থিয়েটার খেকে একটা কোর্স করি পরিচালনার উপর। তারও আগে পরিচালনার উপর কোর্স করি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। এইসবই আমাকে পরিচালক হিসাবে কাজ করতে সহায়তা করেছে। এভাবেই একজন তৌকির আহমেদের জীবনে সফলতা এসেছে।
Add as favourites (139) | Quote this article on your site | Views: 641
|