|
Page 1 of 3
তানভীন সুইটির জীবনের বাকেঁ বাকেঁ
কলেজের কজন ঘনিষ্ঠ
বান্ধবীর মধ্যে অন্যতম ছিল লোপা। সহপাঠীদের মধ্যে, বন্ধুদের মধ্যে লোপাই
মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। ও মডেলিং করত। লোপার মডেলিং করা দেখে আমারও
ভীষণ ইচ্ছে করে মডেলিং করার। আমার গোপন ইচ্ছার কথা একদিন লোপাকে জানাই। তো
লোপা একদিন সময় সুযোগ বুঝে আমাকে আফজাল হোসেনের মাত্রায় নিয়ে যায়। লোপার
জন্যই কদিন পর আফজাল হোসেনের ডিরেকশনে মডেল হতে পারলাম। প্রথম বিঞ্জাপনটি
ছিল ডায়মন্ড ব্র্যান্ড তেলের। বিঞ্জাপনটি সমানতালে প্রচার হতে থাকলো। বেশ
আলোচিত হলো। আমিও মডেল হিসাবে আলোচনায় চলে এলাম। এদিকে আমার পরিচিতিও বেড়ে
চললো। সত্যি কথা বলতে বিঞ্জাপনটি করার পর পেছনে ফিরে তাকায়নি।
প্রথম মডেল হওয়ার সবটুকু কৃতিত্ব নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন
তার স্ত্রী তাজিন হালিম এবং আমার বান্ধবী লোপার। লোপা যদি পরিচয় করিয়ে না
দিতো কিংবা সেখানে না নিয়ে যেত তাহলে হয়তো ওভাবে কাজটি করতে পারতাম না।
আফজাল হোসেন ও তাজিন হালিমের প্রতি কৃতঞ্জতার শেষ নেই এ কারণে যে তারা
আমাকে হাতে ধরে শিখিয়েছেন। কারণ আমি অনেক লাজুক ছিলাম এবং অনেক কম কথা
বলতাম। এক রকম চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করতাম। এজন্য প্রথম বিঞ্জপনটি
করতে গিয়ে আফজাল ভাইয়ের কাছে বেশ বকা খেয়েছিলাম। এখনও দিব্যি মনে পড়ে
একদিন আফজাল ভাই বললেন কিরে তুই এত চুপচাপ থাকিস কেনো? হাসতেও পারিস না
নাকি? এভাবে কি হয়? এভাবে কিছুদিন যাবার পর তাজিন ভাবী একদিন আমাকে
মডেলিংয়ের ওপর ওয়ার্কশপ করতে বললেন। সেটা ঠিকঠাক মতো করলাম।
অন্যদিকে থিয়েটার স্কুলে ভর্তি হই এক সময়ে। একই সঙ্গে থিয়েটার স্কুল
থেকে পাশ করে বেরিয়ে থিয়েটার বেইলী রোডে যোগ দিই। একটি বিঞ্জাপন কিন্তু
তথন টেলিভিশনে চলছে। নাটকের প্রস্তাব তখনও পাইনি। কিন্তু মনের মধ্যে সুপ্ত
বাসনা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। আমিও নিজেকে টেলিভিশন নাটকের জন্য প্রস্তত
করছি। তবে একটি কথা বলি- তারকা হওয়ার জন্য সেরকম স্ট্রাগল আমাকে করতে
হয়নি। অর্থকষ্টেও পড়তে হয়নি। যেহেতু আমি বন্ধু লোপার মাধ্যমে প্রথমেই
বিঞ্জাপন করি। কাজেই পরিচিতিটা পেতে থাকি ওটা দিয়ে। যদিও নিজের হাতে অর্থ
উর্পাজনটা পরে আসে। যাই হোক মঞ্চে কাজ শুরু করলাম। মঞ্চের হয়ে পায়ের আওয়াজ
পাওয়া যায়, স্পর্ধা, মেরাজ ফকিরের মা, তোমারাই, কৃষ্ঞকান্তের উইল, এখনও
ক্রীতদাস নাটকে অভিনয় করি। সত্যি কথা বলতে কি মঞ্চের ওই নাটকগুলিতে অভিনয়
করে অভিনয়ে শক্ত একটা ভিত্তি তৈরি হয়।
টেলিভিশন নাটক করতে গিয়ে অভিনয়জনিত ব্যাপারে বেশি সমস্যায় পড়তে
হয়নি কারণ আমার মঞ্চের অভিঞ্জতা কাজ করেছে। মঞ্চ আমাকে অনেক কিছু
শিখিয়েছে। মঞ্চে ফেরদৌসী আপা হাত ধরে আমাকে শিথিয়েছেন। কাজেই তার কথা যদি
না বলি তাহলে চলবে না। অবশ্যই তাকে কৃতঞ্জতার সঙ্গে স্মরণ করছি। এরকম আরও
অনেকের কাছেই আমি কৃতঞ্জ।
চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন বুলু ভাই, বন্ধু লোপা, হ্যাপী, নাহিন, পপি
অনিম ভীষণ হেল্প করেছে। আফজাল ভাই ও তাজিন ভাবীর কথা তো আগেই বলেছি।
মঞ্চের অভিঞ্জতা এবং একটি বিঞ্জাপনে মডেল হওয়ার অভিঞ্জতা নিয়ে পথচলা শুরু।
তখনও টেলিভিশনে নাটক করা হয়নি। অন্যদেরকে যখনই টেলিভিশনে দেখতাম তখন
আমাকেও কল্পনা করতাম। ভাবতাম আমিও একদিন ওরকম নামী ও পরিচিত একজন তারকা
হব। বেশ পরে সুযোগটি আসে আমার ক্যারিয়ারে।
গোধূলী সূর্য' নামে প্রথম টেলিভিশনের একটি নাটকে অভিনয় করি। নাটকটি
প্রযোজনা করেছিলেন সিরাজুল ইসলাম। গোধুলী সূর্য নাটকটি আমাকে ব্যাপক
পরিচিতি এনে দেয়। দর্শকরা নাটকে একটি নতুন মুখ পায় । এরপর বড় সুযোগ আসে মামুনুর রশীদের 'সুন্দরী' অরুণ চৌধুরীর 'ছোট ছোট ঢেউ'
নাটকে কাজ করার। 'সুন্দরী' নাটকটিতে আমি বিধবা দিনমনির চরিত্রে একবারে
ভিন্ন একটি চরিত্রে, যা কিনা ননগ্ল্যামারাস, অভিনয় করে দর্শকদের কাছাকাছি
চলে যাই। দর্শকরা আমাকে নতুনভাবে দেখতে পায়। আমিও বেশ মন দিয়ে কাজটি করি।
নাটকটি বিটিভিতে প্রচার হবার বদৌলতে রাতারাতি অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পাই।
এরপর অভিনেত্রী হিসেবে আমার ইমেজ বাড়তে থাকে। আমাকে আরও পরিচিতি এনে
দেয় 'জমিলা', 'হারানের নাত জামাই', 'রুপালী নদীর ঢেউ' নাটকগুলো। প্রয়াত
নায়ক সালমান শাহ'র সঙ্গে 'স্বপ্নের পৃথিবী' নামে একটি নাটক করেছিলাম।
সেটিও আমাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এই নাটকগুলোর পাশাপাশি আমি
বিঞ্জাপনেও কাজ করতে থাকি। নিরমা ডিটারজেন্ট, এ্যারোমেটিক বিউটি সোপ-এর
বিঞ্জাপন করার পর এবং নাটকগুলো করার পর আমার কাজের পরিধি অনেক বেড়ে যায়। এরপর
একটা সময় ভাবি নাটককে পেশা হিসাবে নেব। তাই নিয়েছি। আরেকটি কথা বলি- আমার
জন্ম ধানমন্ডির শংকরে। ওখানেই বেড়ে ওঠা। পড়ালেখা করেছি রাজধানীতেই। কাজেই
আমাকে নতুন করে ঢাকা শহর চিনত হয়নি, না খেয়ে খাকতে হয়নি, অর্থকষ্ট করতে
হয়নি, বছরের পর বছর কারও পেছনে পেছনে ঘুরতে হয়নি। একজন শিল্পী হতে চেয়েছি
এবং নিজের শ্রম, মেধা, সৃষ্টিকর্তার কৃপা আর কিছু ভালো মানুষের সহযোগিতায়
আজ শিল্পী হতে পেরেছি। তবে হ্যাঁ, প্যাকেজ আসার পর এবং চ্যানেল বাড়ার পর
আমার ব্যস্ততা বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সম্মানিও বেড়েছে। এই পেশার বদৌলতে
জীবনের স্বচ্ছলতা আরও বেড়েছে এবং জীবনের গল্প বদলে গেছে।
Add as favourites (154) | Quote this article on your site | Views: 807
|