| Leather Ornament |
|
|
|
গয়না যখন চামড়ার... সোনা, রুপা কিংবা বর্তমানে অক্সিডাইজ বা মাটির গয়নার ব্যাপার চল থাকলেও মেয়েরা দোকানে দোকানে খুঁজে ফেরে ব্যতিক্রম কিছু। সব মেয়ে চায় তার গয়নাটা যেন সবার থেকে আলাদা হয়। আকেবারেই আলাদা। গল্পের সেই গজমতির মালা হয়তো এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, ব্যতিক্রমী উপকরণে তৈরি গয়িনা তো হরহামেশাই কিনতে পাওয়া যায়। কাঠ, বাঁশ, তামা, পিতল এমনকি চামড়াও আজকাল গয়নার উপকরণ হচ্ছে। যাকে বলে ‘গ্রাস টু গোল্ড’। এ সময়কার গয়না প্রমথ চৌধুরীর ভাষায় ‘ভার বর্জন করেছে, সার অর্জন করেছে’। চামড়ার গয়নার বেলায় এ কথা শতভাগ প্রযোজ্য। চলুন তবে ঢু মেরে আসি চামড়ার গয়নার বাজার থেকে। কী কী থাকছে গয়নায় চামড়া গয়না মানেই হালকা, সুন্দর আর ট্রেন্ডি। মণিকুন্তলা সেন তার ‘সেদিনের কথা’ বইতে লিখেছেন-বিকেলবেলায় খুব সেজেগুজে থাকতেন। হাতে গলায় হার, মাদুলি, খাড় বা পৈছের কদর ছিল বেশি। ডিজাইনের মতো গয়নাও যে ঘুরে ফিরে আসে-এ কথা একবাক্যে স্বীকার করেন সবাই। তাই সব ধরনের গয়নাই চামড়া দিয়ো তৈরি করা হয়েছে-ব্রেসলেট, কানের দুল, নেকলেস, আংটি, বাজু, বিছা, নূপুর, খোঁপার কাঁটা, হেয়ার ব্যান্ড, ফ্যাশন বেল্ট, টিকলি, টায়রা সবই মূলত এখন চামড়া দিয়ে তৈরি হছে। ডিজাইনাররা কী ভাবছেন চামড়ার গয়না খুব কম ডিজাইনারই কাজ করছেন। হাজারীবাগের এথিনি ক্রাফটের ডিজাইনার তানিয়া ওয়াহাব চামড়ার গয়না নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনিই জানালেন চামড়ার গয়নার ডিজাইন সম্পর্কে-‘চামড়ার গয়না যদিও আধুনিক একটা ফ্যাশন অনুষঙ্গ, কিন্তু এর ধারণাটা অনেক আগের। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে আনেক আগেই এসেছে চামড়ার গয়না আমাদের দেশে এর শুরুটা নব্বই-এর দশকের দিকে। প্রথমে হাতে গোনা কয়েকটি সামগ্রী তৈরি করা হয়েছে। এর মাঝে ব্রেসলেট, বেল্ট, ঘড়ির বেল্ট আর খোঁপার কাঁটা অন্যতম। পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে এসেছে অনেক সামগ্রী। দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।’ চামড়ার গয়না সম্পর্কে আমাদের সাথে কথা বললেন আজিজ সুপার মার্কেটের আইডিয়াসের স্বত্বাধিকারী নিপা খালেদ। তার মতে, ‘আমাদের সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছে চামড়া। এর তৈরি গয়নার কদরও বাড়ছে। ডিজাইন নিয়ে কিছুটা ভাবনার দরকার আছে বৈকি এ বিষয়ে! আমাদের লোকজ ঐতিহ্যকে গয়নার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। এই পণ্যগুলোর মাধ্যমে কেবল ঐতিহ্যকে ধরারই চেষ্টা করিনি বরং সময়কেও ধরার চেষ্টা করেছি। ক্রেতাদের চাহিদা কেমন তা ভেবেও কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। নৌকা, পাতা, চাবি, গিটার, ফুল, পাখি, পাতা ডিজাইনে এসবই থাকছে বেশির ভাগ। নানা ধরনের গয়না ব্রেসলেটঃ ব্রেসলেট ছেলে-মেয়ে সবার সমান পছন্দ। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও মোটা ডিজাইনের ব্রেসলেট পরছে। এসব ব্রেসলেট বিভিন্ন রঙের কাপড়, বোতাম, পাথর, স্টিলের ছোট ছোট চাঁদ-তারা জাতীয় নানান উপকরণ ব্যবহৃত হয়। তবে মোটা ব্রেসলেটের পাশাপাশি চিকন ব্রেসলেটও চলছে ভাল। চিকন কিছু চামড়া সুতা আকারে কেটে বেণীর মতো করে সেলাই করা হয়। নানানভাবে ডিজাইন করা ব্রেসলেটগুলো সকলেরই নজর কাড়বে। ব্রেসলেট তৈরিতে বেশিরভাগ হ্মেত্রেই ফিনিশড চামড়াকে ব্যবহার করা হছে। কারণ এতে হাতের সাথে চামড়ার ঘর্ষণের ফলে হাতে কোন দাগের সৃষ্টি হয় না। বিভিন্ন ডিজাইন এবং চামড়ার মানের উপর নির্ভর করে এসব ব্রেসলেটের দাম ওঠা-নামা করে। ৪০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকায় পর্যন্ত এসব ব্রেসলেট কেনাবেচা হয়। কানের দুলঃ কানের দুল চামড়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত অন্যান উপকরণগুলো হলো-পুঁতি, চুমকি,অক্সিডাইজের রিং কভার। তবে কানের দুলের ডিজাইনে বর্তমানের ডিজাইননে এবং ক্রেতেদের চাহিদা বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ফিনিশড চামড়াকে বিভিন্ন ডিজাইনে কেটে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কারণ কান খুবিই স্পর্শকাতর অঙ্গ। বিভিন্ন ধরনের রোগ হওয়ার আশঙ্ক থাকে যদি সামান্য জীবাণু চামড়ায় থাকে। তাই কানের দুলে এ চামড়া ব্যবহার করার আগে জীবাণুমুক্ত করে নেয়া হয়। এখানেও দামটা কতটুকু চামড়া এবং সেই সাথে আনুষঙ্গিক উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। দামটা ৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। নেকলেসঃনেকলেসের সেটসহ তৈরি করা হয়েছে গয়না। আবার শুধুমাএ গলার হারও তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনে। বিভিন্ন মাপের এই নেকলেসগুলোতে পাথর, রুপার পাত,এমনকি সোনাও ব্যবহার করা হয়।, এগুলো চলেও বেশি। এখানে রাফ চামড়া এবং ফিনিশড চামড়া দুটোকেই প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা হয়েছে। ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে অনেকে দামী পাথরও ব্যবহার করা থাকেন। নেকলেসের ডিজাইন, কাজ আর উপকরণের ওপর নির্ভর করে এর দাম ১০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আংটি-বিছা-বাজুঃবিভিন্ন সাইজের আংটি, বিছা আর বাজু তৈরি করা হয় চামড়ার। বিছা আর বাজু পুরোন ধাঁচের গয়না হলেও আজকাল ঘুরেফিরে একই ধরনের গয়নাগুলো পাওয়া যাচ্ছে। তবে একেবারেই ভিন্ন ধরনের ডিজাইন। আংটিতে বিভিন্ন ধরনের পাথর আর জারদৌসির কাজও করা হয়। চামড়ার মাঝে রাফ চামড়ার টুকরো ব্যবহার করা হয়। এটা মূলত গরু, খাসিরকান, লাজ, কুজ এসবেরই চামড়া। আংটির দাম ৩০-১০০ টাকা, বিছা ২৫০-২০০০ টাকা এবং বাজুর দাম ৮০-৬০০ টাকার মধ্যে। নূপুরঃ নূপুর মানেই ধাতব উপকরণের ব্যবহার-এই ধারণাকে মিথ্যে করে দিয়েছে চামড়ার নূপুর। ব্যবহৃত চামড়া হলো রাফ চামড়া। বিভিন্ন রঙের ছোট ছোট ঘন্টা মূল চামড়ার চারপাশে জুড়ে দেয়া হয়। দেখতেও সুন্দর। ডিজাইন এবং উপকরণের ব্যবহারের ওপর এগুলোর দাম নির্ধারিত হয়। দামটা ১০০-৫০০ টাকার মধ্যে। খোঁপার কাঁটা-হেয়ার ব্যান্ডঃ চামড়ার বিভিন্ন ধরনের খোঁপার কাঁটা আর হেয়ার ব্যান্ড তৈরি করা হয়। এগুলো তরুণী থেকে বৃদ্ধা সকলেরই পছন্দের তালিকার এক নম্বরে। এগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পাথর, চুমকি, পুঁতির বিডস্ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ব্যবহৃত চামড়া ফিনিশড চামড়া। খোঁপার কাঁটার দাম ৪০-৪০০ টাকা, হেয়ার ব্যান্ড ১০০-৫০০ টাকার মধ্যে। সেই সাথে ফ্যাশন বাল্টের দাম পড়বে ৩০০-২০০০ টাকা। এসব ছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের টায়রা ও টিকলিও পাওয়া যায়। দামটা কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। যেখানে পাওয়া যাবেঃ চামড়ার গয়না চামড়ার পণ্যের বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাবে। অনেকে চাইলে নিজের পছন্দ করা ডিজাইন দেখিয়ে বানিয়েও নিতে পারেন। এ্যাথিনি ক্রাফট লিমিটেড,হাজারীবাগ, ঢাকা। নিজেকে সাজাতে ভালবাসে সকলেই। নিজেকে সুন্দর দেখাক সকলেই তা চায়। সেটা যদি চামড়ার গয়নার সৌন্দর্যের আভায় আরো স্পষ্ট হয় তো হ্মতি কি? দেখুন না একবার চেষ্টা করে।
Add as favourites (46) | Quote this article on your site | Views: 309
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





