| Laki Akondo |
|
|
|
দুঃখ ছিল, যন্ত্রনা ছিল, তার মাঝেও গান ছিল
লাকী
আকন্দ
মজার একটা ঘটনা দিয়েই শুরু করি । লাকী আকন্দের রেডিও অফিসে
প্রায় চিঠি আসে তার নামে । প্রেরকের নাম সুমন। রেডিওতে তার অন্যান্য সহকর্মী
বিবিসি বা ভয়েস তব আমেরিকা গেলে খবর নিয়ে আসে এই সুমন তোমার কথা বলেছে।
লাকি আকন্দ বু্ঝতে পারিনি কে এই সুমন। অনেকদিন পরে বাজারে একটা গান বেশ জনপ্রিয়
হলো প্রথমত আমি তোমাকে চাই, দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই...। গায়কের নাম সুমন
চট্টোপাধ্যায় রেডিওর বন্ধুরা লাকী আকন্দকে বললেন এই তো সেই সুমন। এরপর
সুমনের সাথে লাকী আকন্দের দ্বিতীয়বারের মতো দেখা হল কলকাতার গীরিশ মঞ্চে।
গান শেষে সুমন লাকী আকন্দকে বললেন দাদা সেদিন তোমার ওপর বেশ চটেছিলাম কিন্তু তোমার
সেদিনের কথাটা আমার মনে ছিল । আমি গিটার বাজিয়ে এখন রবীন্দ্রসংগীত গায়। লাকী
আকন্দের এবার মনে পড়ে গেল ১৯৭১ এর কথা ।১৬ বছরের লাকী কলকাতায় তখন
তাকে নিয়ে অনেক কানাঘোসা। এতটুকু ছেলে এইচএমভির মিউজিক ডিরেক্টর গোরাচাদ মুখার্জী,
বনাশ্রী সেন শিল্পীর গান তৈ্রী করছে । তো একদিন কবি অমিত গুপ্তের সঙ্গে
সুমনের বাসায় গেছেন আমাদের লাকী আকন্দ। সেখানে আরো অনেকেই আছে । সুমন গাইলেন
রবীন্দ্র সংগীত। লাকী আকন্দ দেখলেন মুখ চেপে চেপে বিশেষ ভঙ্গিতে গাইছেন। গান শেষ
লাকী আকন্দ বললেন দাদা আপনি এভাবে গানটা না গেয়ে যদি একটা গিটার দিয়ে সাবলীল ভাষায়
গান আরো ভাল লাগবে। কথা শুনে বেশ চটে গেলেন সুমন আর ঘরের ভেতরে যারা ছিল তার হো হো
করে হেসে দিলেন । হাসতে হাসতে গড়াগড় খেলেন একজন তিনি মিঠুন চক্রবতী মানে
বিশ্বখ্যাত বলিঊড তারকা । সেদিনের কথা গুলোর প্রভাব ফেলে সুমনের উপর । লাকী
আকন্দের সেদিনই ও ভাবে বলাটাই গিটার বাজিয়ে রবীন্দ্রসংগীত গাইতে অনুপ্রানিত করে
বহুদিন পরে কলকাতার গীরিশ মঞ্চে সেই কথায় স্বরন করিয়ে দেয় সুমন।
লাকী আকন্দের মতে আমাদের এখনকার মানুষ এখন আর কারো প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরন করে না ।
কিন্তু সত্যিকারের যারা শিল্পী তারা মানুষ হিসেবে বড় এবং কৃ্তজ্ঞতাবোধ তাদের
প্রবল।
লাকী আকন্দ আমাদের প্রিয় একজন শিল্পী। ষাটের দশকের বাংলা গান
বিশেষ করে আধুনিক গান এবং ব্যান্ডের গানে লাকী আকন্দ এবং হ্যাপী
আকন্দ অনবদ্য দুটি নাম । আবার এলো সেই সন্ধ্যা, এই নীল মনিহার, আগে যদি জানতাম তবে
মন ফিরে চাইতাম এমনই যুগান্তরকারী বাংলা গান নিয়ে । আছেন বাংলাদেশ বেতারে। ষাটের
দশকে কীভাবে তার সঙ্গীত সাধনা শূরু হয় তাই জানতে চাইলে বললেন আমার প্রথম
শিক্ষাগুরু বাবা। বাবা যে গান কী ভালবাসতেন তা বলে বোঝানো যাবে না ।
কিন্তু বাবার মটিভেশনের কারনে মাও গান শিখলেন। তখনকার সময়ের কথা খুব মনে পড়ে।
চারপাশে আমাদের অনেক দুঃখ ছিল কষ্ট ছিল তার মাঝেও গান ছিল । বাবার গানের প্রভাবটা
ওটাই ব্রেনে ঢুকে যায়। এখন মনে হয় দুঃখ কষ্ট না থাকলে গান উপলব্ধি
করতে পারতাম না । ছেলেবেলা
থেকে আমি একটা বিষয় খেয়াল করেছি । এদেশের সব জায়গাতে ভালো ভালো কিছু প্রতিভাধর
ছিলেন যারা হিন্দু । মিউজিশিয়ানদের বেলায় তাই । চিন্তা করলে দেখবেন ভারতের অনেক
নামী দামী শিল্পীর জন্মভুমি এই বাংলাদেশে। যেমন কিশোর কুমার, মিঠুন চক্রবতী
বরিশালের ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিকাল অসম্ভব মেধার অধিকারী অজয় চক্রবতী বা
চলচ্চিত্রের দিকপাল সত্যাজিৎ রায়ের বাড়ি কিশোর গঞ্জে। আমি ছোটবেলায় দেখতাম সব
হিন্দুরা ভারতে চলে যাচ্চেহ। মেধার জায়গা ঘাটতি পড়েছে। মুসলমান হিন্দুদের দ্বন্ধ
ছিল , এটা আসলে ব্রিটিশদের তৈ্রী করা দ্বন্ধ।।
মুসলমান বা হিন্দু ধর্মে কোথাও এই দ্বন্ধের কথা উল্লেখ নেই । তো ভালো সব
মিউজিশিয়ান চলে যাবার পরে সি ডি ক্যাটাগরি অনেক সুবিধা পেল। আমি আর হ্যাপি ভাবলাম
কি করা যায় আমরা দুজনই তখন মিউজিক করছি আমি হ্যাপিকে খুব আদর করতাম ভাইবোনদের
মধ্যে সবার ছোট ছিল বলে ।
দীর্ঘদিন আপনার কোন আলবাম পাওয়া যাচ্ছে না কারন কি?
এমন প্রশ্নের উত্তরে লাকী আকন্দ বলেন এর অনেক কারন আছে টিভি
চ্যানেল অডিও কোম্পানী যেভাবে যে স্টাইল গান করিয়ে নিচ্ছে তাতে শিল্পীদের ভালো
কিছুই হচ্ছে না দেখা গেল চ্যানেলের জন্য একটা গান করা হল। একবার না দুই বার গানটা
প্রচার করা হল লাভ কী? লক্ষ কোটি টাকা দামের ভালো গান প্রচার করেও যদি
এমন হয় তাহলে সংগিতের কোন উপকার হবে না । বর্তমানে আমাদের মিউজিক অনেক এগিয়ে গেছে
অনেকেই ভালো করছে । আপনার অভিমত কী? Add as favourites (153) | Quote this article on your site | Views: 501
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





