| Journey For Shooting |
|
|
|
তীরের মতো মেঘ আসলে মেঘ নয় , হিমালয়ের চুড়া
তরুন পরিচালক সকাল আহমেদ সম্প্রতি
নেপালে গিয়েছিলেন । উপলক্ষ শ্যুটিং আলোচিতা নির্মাতা তাহের শিপনকে অ্যাসিস্ট করার
সূত্রে বিজরী , মাজনুজ মিজান , স্বাগতা আর মাহফুজের সঙ্গে ভিনদেশে লেখক ছিলেন টানা
এক সপ্তাহ । ফিরে এসে লিখছেন সেখানকার নানা মজাদার ঘটনা
তখন রাত কত হবে ?সাড়ে দশটা এগারোটা ।
বাড়ি ফিরছি ।হঠাৎ মোবাইল সেটের পরিচিতি রিং টোন বেজে ওঠে অভিনেতা মানজুন মিজান ।
প্রায় প্রতি রাতেই মহল্লার একটা চায়ের স্টলে বসে আমাদের আড্ডা হয় । যেহেতু মিজানের
বাসা আমার বাসা একই এলাকার । ফোন পেয়ে চায়ের কথা মনে
পড়ল । কিছুক্ষনের আগে আমি এক কাপ চা খেয়ে ফিরছিলাম ।
মনে মনে ভাবলাম আজকের ঘুমটা গেছে । আরেক কাপ চা খেতে হবে ।
ঘুরে দাঁড়িয়ে হ্যালো বলতেই মিজান বললেন
, ভাই আপনার হাতে দেশের বাইরের ১৩ পর্বের প্রজেক্ট আছে ? এক সেকেন্ড চিন্তা করে
বললাম নাই । রওনক হাসানের নাট্যকার -
অভিনেতা কাছে ২৬ পর্বের প্রজেক্ট আছে ।
লেখা শেষ হয়নি । সেটাকে ১৩ পর্ব বানিয়ে নেয়া যেতে পারে । মিজান মনে হলো কিছুটা
হতাশ হলেন । আমাকে বললেন আপনি তো সিঙ্গয়াপুরে যাচ্ছেন ঈদের
পর , তাই না । বলতে পারছি না । স্ক্রিপ্ট লেখা শেষ হয় নাই ।
প্রজেক্টটা নাও হতে পারে । আমার এ কথা শুনে মিজান যেন খুশি হয়ে ওঠলেন ।
বললেন , ভাই কালকে কথা হবে । নিয়মিত চা
খাওয়া আর আড্ডা মারার পাশ দিয়ে গেলেন না। পরের দিন টেলিহোমে কাজ করছি । তাহের ভাই
ডেকে পাঠালেন । দেখা করতেই বললেন নেপাল
ঘুরে আসি চলেন । ঠিক বুজলাম না । ঘটনাটা কি ? ঈদের পর
নেপাল থেকে একটা ১৩ পর্ব করে আসি । আপনি তো ফ্রি -ই আছেন । কি বলেন ।
শিপন ভায়ের কথা শুনে মনে পড়ল । মিজান
ভায়ের প্রজেক্ট ?
হ্যাঁ । ওর বড় ভাইয়ের । মাহফুজ ভাই যাবে
নাকি ? দেখবেন একবার ?
শুরু হলো নেপাল প্রজেক্ট কর্মকান্ড ।
এবার বিদেশ ভ্রমনে আরেকটি দেশের নাম এবার যোগ হবে ।
পাসপোর্ট ও ভারী হয়ে উঠেছে । আপন মনেই হাসলাম ।
সেদিন রাতেই প্রোডিসারের লিংকন সাহেবের
সঙ্গে আমাদের মিটিং হল । স্কিপ্ট লেখার দায়িত্ব চলে এলো কাজী শাহিদুলের ইসলামের
কাছে । নাটকের পাত্র-পাত্রী নির্ধারিত হলো চ্যালেঞ্জার , মাহফুজ
আহমেদ , বিজরী বরকতউল্লাহ , মানজুন মিজান আর স্বাগতা।
সাত দিনের
নেপাল সফরের প্রস্তুতি নেয়া হলো বেশ আরাম আয়েশেই । ভিসা নেয়ার ঝামেলা নাই । নেপাল
এয়ারপোর্টঁর গেলেই ভিসা । পোর্ট এন্ট্রি সিস্টেম । অবশ্য অনেকে দেশ থেকেই
পাসপোর্টে ভিসা লাগিয়ে যান । ভিসার ঝামেলা হতে মুক্ত
হলে কি হবে ? সমস্যা দেখা দিল বিমানের টিকেট নিয়ে । ঈদের পর দুনিয়ার
মানুষ নেপালে যাচ্ছেন । কোন ফ্লাইটের সিট খালি নেই । দৌড়াদৌড়িতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন
মানজুন মিজান । বহু কষ্ট নানা মাধ্যমে বড় ভাইধরে তিনি আটটি টিকিট কাটলেন । ডেট পড়ল
১৫ অক্টোবর । এই খবর শুনে মাহফুজের আহমেদ
বললেন , আমি তো ১৫ অক্টোবর যাবোনা । টিকিট ১৭অক্টোবর কাটুন। বিপদে পড়লেন মিজান।
এজেন্সিকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করানোহলো । টিকিট কেটে মিজান যখন বাড়ি ফিরছেন তখন
বিজরী জানালেন তার মেয়ে উর্বানা যাবে ।
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা । একই ডেটে আর একটি
টিকিটও নায় । অপেক্ষার পালা । এদিকে এজিন্সিকে
ফোন দেয়া হচ্ছে ।কোনা একজন যাত্রী যদি ১৭ - টিকেট
রিকর্নফার্ন না করেন তাহলেই উর্বানা যেতে পারবেন । এদিকের ঈদের ছুটি প্রায় শুরু
হয়ে যাচ্ছে । পঞ্চগড়ের পাশেই অঞ্চলটি দেখতে যাওয়ার জন্য এই ঝামেলা আর টেনশন পোহাতে
হবে সেটা কেউ আগে ভাবিনি । শেষ পর্যন্ত উর্বনার টিকেট
পাওয়া গেল । নির্ঝাঞ্জাট একটা ফ্যামিলির নয় সদস্য নেপালে ভ্রমনে ।
ভ্রমন নয় , শুটিংয়ে যাচ্ছে । আনন্দই
আলাদা। ১৭ তারিখ দুপুরে সবাই এয়ারপোর্টে । অ্যামবার্কেশনের কার্ডের জন্য যে যার
ফরম ফিলাপ করছে । হঠাৎ বিজরী কানের কাছে
এসে ফিসফিস করে বলছে সকাল শোন উর্বানার তো পাসপোর্ট ভ্যালিডিটি
নাই । ডেট এক্সপেয়ার করছে মার্চ -এ
লেখা বন্দ হয়ে গেল । কিছুক্ষন তাকিয়ে
রইলাম বিজরীর দিকে তাকিয়ে মেয়েটার জন্য খারাপ লাগা শুরু হলো । টিকিট নিয়ে কি ভয়ানক
যুদ্ধটাই না করে জয়ীবেশে নেপাল যাচ্ছিলাম। বিজরী এটা
কি শোনালো।
সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম ।এ সমস্যার
সমাধান কি ?
শেষ পর্যন্ত উর্বানাকে রেখেই আমাদের
যেতে হল । যে উচ্ছ্বসিত বিজরী এয়ারপোর্টে এসেছিল , নেপাল যাওয়ার পরের দিন পর্যন্ত
তাকে আর খুজে পাওয়া গেল না।
পাহাড়ের উপর ছোট একটা এয়ারপোর্ট। দেখলে
মনে হয় পুরোটাই কাঠের । একটা ফ্লোরের মধ্যই
অ্যারাইভেল আর ডিপার্চার হচ্ছে যাত্রীরা । ছোট একটা লবি ধরে এগিয়ে যেতেই মনে পড়ল
ভিসা নেয়ার জন্য পাসপোর্ট আর টিকিটে সঙ্গে
দুকপি ছবি লাগবে ।
ছবিসহ প্রযোজনীয় কাগজ প্ত্র যে যার হাতে
নিয়ে নিলেন । বিজরীর মাথা আবার খারাপ হয়ে গেল । ভুলে
নাকি উর্বানার পাসপোর্টের ভাজে ওর ছবি
রেখেছিল । কাছেই ছবি রয়ে গেছে ঢাকায়।
ক্যামেরাম্যান রায়হান গম্ভীর গলায় বললেন
, বেশি দূর না ৫০০ মাইল । একটা দৌড় দেন । আমরা বসি একটু এয়ারপোর্ট
কষ্টের মধ্যেই হাসি ।
বিজরীকে দিয়ে কি হবে? বললেন তাহের শিপন
। দূরে থেকে গেল ইমিগ্রেশনের লম্বা লাইন । সবার মধ্যে
একটাই চিন্তা। মেয়েকে রেখে এলাম ঢাকা এয়ারপোর্ট । এখন নিশ্চয়ই মাকে রেখে যেতে হবে
নেপাল এয়ারপোর্টে । বিজরীর মন খারাপ ওজন দেয়ার আগেই চোখে পড়ল একটা বুথ -এ । সেখানে
ক্লি ক্লি শব্দ হচ্ছে । ডলার ভাঙ্গিয়ে ২৩০ নেপালী রুপীতে পাওয়া
গেল বিষন্ন মনের বিজরীকে । বাঁকে বাঁকে ঠোঁটে একটু হাসার চেষ্টা অবশ্য সে করেছে ।
এয়ারপোর্টে বাইরে তখন ঝলমলে রোদ । নীল
আকাশের মাঝে থোকায় থোকায় সাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে এক প্রান্তে থেকে অন্য প্রান্তে ।
দূরে পাহড়েই শীর্ষ বিন্দুতে যে মেঘগুলো , সেগুলো কেমন যেন তীরের
চোখা মাথায় মতো মনে হলো।
নেপালে আমাদের যে গাইড তার নাম সুনামি ।
তিনি বললেন ওটা হিমালয়ের পিক আছে মেঘ নয় । বাংলা উর্দু মেশানো সুনামির কথা শুনতে ভালোই লাগে । টিলার মতো
পাহাড়ের উপর দাড়িয়ে এক ঝলক দেখে নিলাম পাহাড়ি দেশ নেপালের চারপাশ । মুহুর্তেই মধ্য
দুটি মারুতি মাইক্রো চলে এলো আমাদের বরন করার
জন্য । এয়ারপোর্ট থেকে যতই শহরের দিকে ছুটে যাচ্ছে মারুতি , ততই যেন দেশের পুরানো
ঢাকার কথা মনে পড়ছে । মনে পড়ছে কলকাতার হাওড়া , বড় বাজার আর ঢাকার নবাবপুর রোড
এলাকার করুন অবস্থা অবস্থা কথা মনে হলো আমরা ৭০ দশকে চলে গেছি ।
পুরানো আমলের সেই সব রাস্তাঘাট , যানবাহন , আশপাশের পরিবেশ ,মানুষজন। গায়ে একটু
ঠান্ডা হাওয়া লাগতেই মনে পড়ল শীতবস্ত্র আনা হয় নাই । আরাম আয়েশের
প্রস্তুতিটা মনে হয় ভোগাবে ।
হোটলে ঢুকতেই সন্ধ্যা নেমে চারপাশ
অন্ধকার হয়ে গেল । চারপাশে নেমে এল সুনসান নীরবতা।
মেইন
রাস্তা ধরে মাঝে মাঝে দু একটি গাড়ি জোরে ভেঁপু বাজিয়ে সাই করে চলে যাচ্ছে । দোকান
- পাঠগুলো মনে কার্ফ্যু কিংবা অবরোধে মধ্য পড়ছে । এভারেস্ট নেপালের হোটেল গুলোর
মধ্যে একটি । ফাইভ স্টার হোটল । থাকাটা ফ্রি না হলেও তিনবেলা খাওয়া ফ্রি । মজার ব্যাপার
হচ্ছে , খাওয়া -দাওয়া সমস্ত ব্যবস্থা হোটেলের পাশে
বিশাল এক ক্যাসিনোতে । ক্যাসিনোনামের সঙ্গে রোমাঞ্চকর একটা ব্যাপার উপলব্ধি করলাম
। বহু লোক প্রতিদিনই সেখানে ভাগ্যের জোয়ার - ভাটার খেলায় লিপ্ত হয় । কেউ বেরিয়ে
আসেন হাসি- খুশি মুখে । কেউ বা বিষন্ন মনে । ফ্রেশ হয়ে রাত নয়টার দিকে আলোক ঝলমল
ক্যাসিনোর দিকে এগিয়ে গেলাম । প্রোডিউসার গেটে আগে থেকেই
আমাদের কথা বলে রেখেছিলেন । গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই মনে হলো অন্য এক জগতে প্রবেশ
করেছি । হাই ভলিউমে মিউজিক চলছে । বিশাল এক স্টেজের মধ্যে হায়ার করা ড্যান্স গ্রুপ
জনপ্রিয় হিন্দি গানের সঙ্গে নিজেদের শরীর দুলাচ্ছেন
। ।স্টেজের পাশে বুফে । যে যার মতো খাবার নিয়ে বসে পড়ছেন।
অন্যপাশে লোকজন গিজ গিজ করছে। চিল্লা
চিল্লি হৈচৈনেই । জুয়া খেলার প্রতিটি
টেবিলের পাশে নানা দেশের নানা বর্নের লোকজন হাতে কয়েন নিয়ে আপন মনে খেলে যাচ্ছেন ।
তাসের যে ধরনের খেলা হতে পারে সেটা দেখা গেল ক্যাসিনোর ভেতর
সাজানো টেবিল গুলো দেখে । সেখানে চলছে মিনিফ্লাস , কিট্টি, ব্যাংকার-প্লেয়ার ,
ব্ল্যাক জ্যাক , টোয়েন্টি নাইন , নাইন কার্ড, থ্রি কার্ড। সেই সঙ্গে রয়েছে রোলেট ।
দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন খেলাগুলো বোঝার চেষ্টা করলাম । এতো দ্রুত এরাখেলে যে সেখানে শিক্ষক
পাওয়া দুস্কর ।
রাতের গাইড সুনামীর সঙ্গে বৈকট হয়ে গেল
। সকাল নয়টার গাড়ি আমাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ল । শহর দেখে বেড়াচ্ছি । চারপাশ ফাঁকা ।
লোকজনও তেমন একটা নেই । ঢাক শহরের জ্যাম আর গিঞ্জি জনবসিতি এতটাই অভ্যস্থ হয়ে
পড়েছি যে কাঠমন্ডুর শহর দেখে ভীষন অবাক হয়ছি।
অবশ্য পরে শুনলাম পুঁজোর ছুটি চলছে ।
তাই তো বলি হিন্ধু প্রধান এই রাষ্ট্রের
হিন্ধু ধর্মালম্বীরা গেলেন কোথায় প্রায় দশ দিনের ছুটি পেয়ে তারাও হয়তো অন্য কোন
দেশ ভ্রমনের উদ্দেশ্য চলে গেছেন । যেমন অন্য দেশের ট্যুরিস্টরা করেন।
চলে আসেন নেপালে হিমালয়ের পাদদেশে
। হিমালয় কন্যার বুকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন হিমালয়ের আপার সোন্দার্য । কেউ হয়তো পাহাড়
বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করছে। কেউ বা পাহাড়ের বরফ গলা খরস্রোতা নদীর বুকে নঙ্কা
চালিয়ে আনন্দ পাই । কেউ হয়তো পাহাড় বেয়ে উঠার কাজে লিপ্ত হন । তাতেই যেন
টুরিস্টদের আনন্দ । বনে জঙ্গলে স্লিপিং ব্যাগ ফেলে কোনো রকমে
রাত্রীযাপন করার মাঝে খুজে পান অনাবিল সুখ। নেপালে সৌন্দার্য উপভোগ করার জন্য যেতে
হয় পোখড়া , ধূলিখেল,নাগরকোট ,চিতওয়ানের মত জায়গায় । নাগরকোট ছাড়া সেসব জায়গায়
আমাদের অবশ্য যাওয়া হয়নি।
সুনামী আমাদের বহু রাস্তা ঘুরিয়ে নিয়ে গেলেন
সমুনাথ মন্দিরে । হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্রে আমরা দেখতে পেলাম বৌদ্ধ মন্দির । ক্যামেরা
ইউনিট আমাদের সঙ্গে ছিল । আর্টস্টও রেডি । মুহুর্তের মধ্যে চ্যালেঞ্জার সাহেব ধূতি
পরে ফেললেন । শুরু হয়ে গেল তার পূজা অর্চনা । বলে রাখা ভালো, যে নাটকটি করতে ইউনিট
এসেছে সে নাটকের নাম ঢাকা নিবাস । গল্পটি একটি
হিন্দু পরিবারকে নিয়ে । সেই পরিবারের একটি ছেলে মুসলমান । সেটা কিভাবে হল কেন হ্ল
এরকম প্রশ্নে জর্জরিত স্ক্রিপ্টের প্রতিটি পাতা । সমুনাথ মন্দিরের বৈশিষ্ট্য এই
মন্দিরে একই সঙ্গে নানা উপসনের পুঁজা করা যায় । মন্দিরে একদম উঁচু জায়গাটায়
দাঁড়ালে পুরো কাঠমন্ডুই চলে আসে দু চোখে । মাথাটা একটু ঘুরিয়ে দেখে নিতে পারলেই
হলো । এ যেন আরেক সৌন্দার্য । চারপাশে পাহাড় । মধ্যখানে শত
শত বাড়ি । পাহাড়ের কোল ঘেঁসে বাড়িঘর বেড়ে উঠেছে ।
সেদিন পুরো দুপুর মাহফুজ আহমেদ পড়ে পড়ে
ঘুমিয়েছেন। সন্ধ্যায় চোখ ফুলা নিয়ে জেগে ওঠে জানতে
চাইলেন শুটিং হবে কিনা ? হবে না আবার রেডি হয়ে যান । অনেক রাত পর্যন্ত কাজ হলো ।
পরের দিন নাগরকোট । কাজেই ভোরবালা উঠতে হবে ।
মার্শাল ল জারি হল সবার উপরে ।
কুয়াশা ভেজা সকাল । ঠান্ডা হিমেল হাওয়া
। শীতবস্ত্রবিহীন গা । কি যে আনন্দ সেটা সেদিন টের
পাওয়াগেছে ।পাহাড়ি আঁকাবাকা পথ বেয়ে গাড়ি যত উপরে উঠছে ততোই মনে হচ্ছে মেঘগুলো
আমাদের ছুঁতে আসছে । সময় গাড়িইয়ে দুই ঘন্টা যেতে আমরা শহর
থেকে প্রায় ৪০০০ ফুট উপরে উঠে গেলাম । মোটামুটি একটা মেঘের দেশে। মেঘগুলো তাদের
অস্তিস্ত্ব জানান দিয়ে গা ঘেসে চলে যাচ্ছে । যে লোভে
নাগরকোটের চূড়ায় ঊঠলাম , সেই হিমালয় দেখা হলনা ঘন মেঘের জন্য । দিন বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে ট্যুরিস্টের সংখ্যা ও বাড়তে লাগল । এত লোকের মাঝে কাজ করতে সমস্যা বলে ঢাকা
নিবাস ইউনিট কিছুটা নিচে নেমে এল । সারাদিন পাহাড়ের নানান বাঁকে কাজ চলল। সন্ধার
আগে পাহাড়ি ঢালু বেয়ে গাড়ি যখন নিচে নেমে আসছে তখন মনে হলো
পাহাড়ি এই সৌন্দার্যের কাছে আমাদের দেশের বান্দরবন কম কিসের । পুরোটা রাস্তা বিজরী
আর স্বাগতা গান গেয়ে আনন্দ দিলেন । মুগ্ধ হয়ে শুনলেন মাহফুজ আহমেদ । তিনি যে
মিউজিক লাভার সেটা বোঝাগেল । নিজের পছন্দের গান শুনতেই বিজরী,
স্বাগতাকে রিকোয়েস্ট করলেন ।
থামেল নেপালে ঐতিহ্য বহন করেছে ।
ট্যুরিস্টরা হিমালয়ের দেখার ফাঁকে ফাঁকে একবার হলেও ঘুরে যান দরবার স্কয়ার ,
থামেলের মত জায়গাগুলো । পুরানো শহরের এই জায়গাগুলোতে বিক্রি হ্য় নেপালের নানা পদের
সুভুনুয়র ।
দেখতে দেখতে ৭দিন কেটে গেল ।
নাটকের কাজও শেষ প্রায় । একটি রাখা হল স্বাধীনভাবে কাঠমন্ডু ঘুরে দেখার জন্য ।
সেটা আর হল না । ৭দিনের ক্লান্ত শরীর হোটেলের বিছানা ছেড়ে ওঠতে চাইলো না । যেদিন
চলে আসব সেদিন সুনামির ছেলে কৈ্লাস দুপুর ১২ টাই ডেকে তুললেন আমাদের ।২টায় ফ্লাইট
। ঘড়ি দেখে টনক নড়ল । কৈ্লাস
যেন আমাদের চেয়ে বেশি অস্থির হয়ে ওঠলেন । কারন ১টা থেকে মাওবাদীদের অবরোধ শহর জুড়ে
। তার মধ্যে পড়ে গেল আমাদের যাওয়া হবে না ।এট ভেবে কৈ্লাসের ঘাম ঝরতে লাগল । ঠিক ১
টাই আমরা হোটেল থেকে বের হলাম । মনে হলো আগ্নেয়গিরির মুখে পড়লাম । সমস্ত
রাস্তাজুড়ে জ্যাম । গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তায় ধরছে । সামনে মানুষ লাল ঝান্ডাওয়ালা মানুষ । মাথায়
লাল স্কার্ফ । এদের মাওয়াবাদী বলা হয় । নেপালের রাজা নামানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এরা
। ধরে নিয়েছিলাম দেশে ফেরা হবে না । লাগেজ আর পাসপোর্ট
দেখিয়ে সে যাত্রায় উদ্ধার পেলাম । যা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
Add as favourites (38) | Quote this article on your site | Views: 123
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





