|
Interview With Milon ... চ্যানেল আঈ গ্রুপটাই অর্থাৎ ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, বাবু মামুন আমার ভাল বন্ধু। বন্ধুদের মধ্যে আমি একটু মুখচোরা। লেখকরা যেমন হয় আরকি। চ্যানেল আই যখন শুরু হলো তখন সাগর মাঝে মধ্যে আমাকে ডাকত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেবার জন্য। একদিন সাগর আমাকে “মিলনের কথা” নামে একটি টকশো করার প্রস্তাব দেয়। লেখক ও সেলিব্রেটিদের নিয়ে দশ পনের মিনিটের একটি টকশো। টকশোর মাধ্যমে একজ়ন মানুষের সাথে মিলিত হচ্ছি বলে এর নাম “মিলনের কথা “ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে মিলন আমাকে একটি দীর্ঘ টকশো কথা বলে। আমি টকশো টি করব বলে মনস্থির করি।এখন কার টকশো গুলোর নাম যেহেতু ছোটো ছোটো হয়আমি সেদিকে না গিয়ে একটু দীর্ঘ নাম খুঁজচ্ছিলাম। অবশেষে জীবনানন্দ দাশের কবিতা থেকে “কী কথা তাহার সাথে” নামকরন করা হল টকশোটির। এক ঘন্টার এয় টকশো এর প্রথম অতিথি ছিলেন আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদ।এ ভাবে পাঁচটি পর্ব করার পর সাগর আমাকে প্রতিদিন একঘন্টা করে এ টকশোটি করার প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে আমি খানিকটা ভড়কে যাই। প্রথমত আমাদের দেশে এতো সেলিব্রেটি নেই যে প্রতিদিন অনুষ্ঠান চালানো যেতে পারে। দ্বিতীয়ত যতো ভাল অনুষ্ঠান হোক না কেন প্রতিদিন এক অনুষ্ঠান দেখলে মানুষ বিরক্ত হবে। সাগরের এই প্রস্তাব শুনে আমি উধাও হয়ে গেলাম। ছয় মাস আর চ্যানেল আই কারো সাথে যোগাযোগ রাখিনি। পরবর্তীতে এনটিভি কে এই টকশো টি করার প্রস্থাব দেই এবং তারা অনুষ্ঠানটি শুরু করতে বলে। সেই থেকে “কী কথা তাহার সাথে” পথ চলা শুরু হয়। মজার বিষয় হলো এনটিভিতেও প্রথম অতিথি ছিলেন আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদ। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকারের পরিচয়টা উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অনেক সহযোগীতা করেছে। হ্যাঁ এটা সত্যি যে আমার অনুষ্ঠানে যে সব সেলিব্রেটিরা আসেন তাদের অনেক কেই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি। ফলে উনাদের সাথে কথা বলাটা আমার অনেক সহজ । তারপর অনুষ্ঠানের পুর্বে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে স্টাডি করি আমি। এক্ষেত্রে আমি মজার একটি ঘটনা বলতে চাই। একবার আমার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেল। তিনি আন্তর্জাতিক মানের একজন মডেল।বাংলাদেশের জন্য তিনি যে কত বড় সম্মান বয়ে এনেছেন তা আমরা অনেকেই জানিনা। স্পেনের রানী উনার বান্ধবী। স্বাধীনতার পর তিনি বাই রোড লন্ডন চলে গিয়েছিলেন। পৃথিবীর নামী দামী সব গাড়ীর মডেল হয়েছেন তিনি।তো উনার সাথে কথা বলতে গিয়ে আমি শুরু করলাম বাই রোডে লন্ডন যাবার গল্প দিয়ে। তিনি বেশ অবাক হোলেন আমার শুরুর প্রশ্নটা শুনে ।তাই পুর্ব পরিচয় থাকলেও আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে স্টাডি করি আমি এবং ব্যতিক্রমী প্রশ্ন দিয়ে আলাপচারিতা শুরু করি। উপস্থাপনা করতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কী সে অর্থে কোনো সমস্যা হয়নি। আমি আসলে ক্যামেরার সামনের মানুষ নই। এ ভাবে লাইম লাইটে খুব একটা অভ্যস্থ নই। প্রথম দিকে বসার অ্যারেঞ্জমেন্ট নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল। এনটিভি খুব ফ্যাশনেবল সেট তৈরী করল। কিন্তু সেই সেটের চেয়ারে বসে আমি স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। পরবর্তীতে বসার অ্যারেঞ্জমেন্ট পরির্বতন করে একটি ঘরোয়া লুক দেওয়া হয় এবং আমি সেই ঘরোয়া পরিবেশে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে কথা বলি। সেলিব্রেটিদের সাথে আলাপচারিতার সামগ্রিক অভিজ্ঞতা কেমন আগেই বলেছি এ অনুষ্ঠনে অংশগ্রহনকারী সেলিব্রেটিদের অনেক কেই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি।তবে মজার বিষয় হচ্ছে এ অনুষ্ঠানে আলাপচারিতার মাধ্যমে নানা মজার কথা বের হয়ে আসছে যা আমি আগে জানতামনা। যেমন শম্পা রেজাদের বাড়ীতে প্রতি সপ্তাহে একটি দেওয়াল পত্রিকা বের হয়। পরিবারের সব সদস্য মিলে এই দেওয়াল পত্রিকা বের করেন। আবার হুমায়ুন ফরীদি এক সময় যত্রা করতে বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অতিথী পাখি শিকারের বিরুদ্ধে সক্রিও ছিলেন।তাদের সুন্দর সুন্দর চিন্তাধারা সম্পর্কে জানতে পারি। এ অনুষ্ঠানের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি এই অনুষ্ঠানের ভবিষ্যত নিয়ে আমার একটি পরিকল্পনা আছে। আমাদের দেশে গ্রামগঞ্জে,মফস্বলে এমন অনেক গুনী লোক আছেন যারা এখন লাইম লাইটে আসেননি তাদের কর্মযজ্ঞ এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরা। তবে এক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে তা হোলো অনেকেই কিন্তু ক্যামেরার সামনে সাচ্ছন্দবোধ করেন না। এখন ক্যামেরার সামনে সহজ হতে না পারলে টকশো জমবে না। প্রতিটি সফল মানুষের পেছনে কঠোর পরিশ্রম আর সংগ্রামের কাহিনী থাকে ইমাদাদুল হক মিলনের সংগ্রামের আর পরিশ্রমের কাহিনীটি কেমন ছিল আমরা দশ ভাইবোন। বাবা ছোটোখাটো চাক্রি করতেন। বাবা মারা যাবার পর অকুলপাথারে পরলাম আমরা।আমি তখন ক্লাশ টেনে পড়ি।সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেও অনেক কষ্ট করে মেত্রিক পরীক্ষা দিলাম। ভাল রেজাল্ট হলো।এর মধ্যে বড় ভাই ব্যাবসা শুরু করলেন। আমরা কিছুটা সুদিনের মুখ দেখলাম। আমরা তখন গ্যান্ডারিয়াতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। অখানে একতী বোর লাইব্রেরী ছিল। আমি লাইব্রেরীতে বেশী সময় কাটাতাম। লাইব্রেরীতে আমার বয়সী একটি ছেলে আসত সে লেখালেখি করত। সেই সময় লেখা ছাপা হওয়াটা একটা বিরাট বিষয় ছিল। সে সময় গ্যান্ডারিয়াতে খুব বানরের উৎপাত ছিল। একটি বানর খুব বেশি নরাচরা করতে পারত না ।দেওয়ালে বশে থাকত। আমার ভাই তাকে রুটি খাওয়াত। আর আমি এই নিয়ে একটি গল্প লিখে ফেললাম। তা ছাপা হল “দৈনিক পুর্ব দেশ” পত্রিকায়। নিজের নাম ছাপা অক্ষরে পত্রিকায় দেখে আমি এতটসাই উৎফুল্ল হলাম যে এরপর অনবরত লিখতে শুরু করলাম। এরপর ৭৯ সালে জার্মানীতে চলে যাই। সেখানে ভাল না লাগায় ৮১ সালে দেশে ফিরে আসি। আবার “রোববার” পত্রিকায় যোগদেই।কিন্তু একটি রিপোর্টে পুলিশের বিরুদ্ধে লেখার জন্য আমাকে বরখাস্থ করা হয়।তবে ততদিনে আমি বুঝে গেছি লেখালেখি করা ছাড়া আমাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না। সে সময় আমি প্রতিদিন গড়ে ৮ ঘন্টা শুধু লিখতাম । এভাবেই আমার জীবন ধীরে ধীরে আতিবাহিত হয়।প্রত্যেক লেখকের লেখনির একটির নিজস্ব স্টাইল থাকে। নিজের স্টাইল সর্ম্পকে কি বলবেন আমি সবসময় সহজ , সুন্দর ও সরল ভাষায় লেখার চেষ্টা করি। শিশু -কিশোর। তরুন তরুনী গৃহবধূসব মহলের পাঠাক যেন আমার লেখা পড়তে পারে। সহজ , সুন্দর ও সরল লেখার পাশাপাশি এমন কিছু লিখতে চাই যার মাধ্যমে সংগ্রামের ছবি ফুটে উঠবে। আমার প্রথম গাল্পের বইটির নাম ছিল “ভালোবাসার গল্প” বইটিতে ১২টি প্রেমের গল্প আছে।পরের বইটির নাম “নিরন্নের কাল” এটিতে মানুষের জীবন যুদ্ধের কথা আছে। একসময় আমি বহু প্রেমেরগল্প লিখেছি। আমার “যাবজ্জীবন” উপন্যাসে ৪৭ দেশ ভাগ । হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক নিয়ে লিখেছিলাম তাবে আমি বুঝেগিয়েছিলাম আমার “যাবজ্জীবন” উপন্যাস খুব একটা বিক্রি হবে না।তাবে সাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে পরবর্তীতে “পরাধীনতা” “নুরজাহান” “আধিবাস” উপন্যাস লিখি। আমাদের দেশের লেখকদের বই কি ওপার বাংলার মানুষের কাছে সমান ভাবে সমাদৃত বিন্দু মাত্র সমাদৃত নয়। এ কারন ব্যাখা করতে গেলে একটু অতীতের দিকে দৃষ্টি দিতে হয়। স্বাধীনতার আগে বাঙ্গালি মুসলিম এ ধারনাটের সাথে খুব পরিচিত ছিল না। বাঙ্গালি মুসলিম লেখক বলতে ‘মীর মোশারফ হোসেন” “কাজী নজরুল ইসলাম” “জসীমুদ্দীন” “সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ” নাম করতে হয়। তাবে সে সময়ে বেশির ভাগ লেখক কিন্তু ছিলেন অপার বাংলার। যার এখন অবস্থার কথা যদি বলি তাহলে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় অবস্থার কথা বলতে হয়। পশ্চিম বাংলার বই সহজে হাতে পেয়ে গেলেও আমাদের লেখকের বই তারা সহজে হাতে পাননা। তবে কিছু কিছু বই অপার বাংলায় যথেষ্ট জনপ্রিও। যেমন হুমায়ুন আহমেদের বই অপার বাংলায় যথেষ্ট জনপ্রিও। এমনকি আমার “নুরজাহান” বইটি অপার বাংলায় বেশট সেলার হিসাবে বিবেচিত ছিল। নতুন প্রজন্ম অনেকটাই বই বিমুখ । আপনার মতামত এ কথা সত্যি কম্পিউটার, ইন্টারনেট। স্যাটেলাইট প্রতি নতুন প্রজন্ম অনেকটাই বেশী নির্ভশীল। বই পড়ে জানার থেকে টিভি, নেট থেকে জেনে নেওটাকে তারা বেশি সহজ বলে মনে করে। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে লোকজন ট্রেন বা বাসে যেখানেই সুযোগ পাচ্ছে বই পড়ে নিচ্ছে। অর্থাত বই এর বিকল্প কিছু নেই।দেশের কিম্বা নিজের উন্নতি চাইলে বই পড়া উচিত। নবীন লেখক দের প্রতি আপনার পরামর্শ কি আমার কাছে মনে হয় চর্চার কন বিকল্প নেই। তাই নবীন লেখক দের প্রতি আমার আহ্বান চর্চা করতে হবে। বেশি বেশি পড়ার মানসিকতা তৈরী করতে হবে। আরকটা বিষয় হল আমাদের দেশে যগ্যো সাহিত্য সম্পাদকের অভাব। লেখার মান বিচার কারা হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রে। অথচ আমরা যখন লেখালেখি শুরু করি তখন সাহিত্যের চর্চাটা ছিল খুব উন্নত। এক্ষেত্রে কবি “আহসান হাবীব” কথা বলতে চাই। তিনি ছিলেন লেখকদের প্রেরনার উৎস । ওনার কাছে একটি লেখা নিয়ে গেলে লেখাটা তিনি মনযোগ দিয়ে পড়তেন। সংশোধনের প্রয়োজন মনে করলে সংশোধন করতেন। পচ্ছন্দ না হলে নামী লেখকের লেখাও তিনি ছাপতেন না। সাহিত্যের পত্রিকা আধুনিক চিন্তার প্রতিফলন নিয়ে আপনার মতামত আমি তো মনে করি আমাদের দেশের পত্রিকা গুলো এখন আনেকটাই আধুনিক হয়ে উঠেছে । সংবাদপত্র গুলতে সাধারন মানুষের অংশগ্রহন এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারন পাথক নিয়েও বিভাগ হচ্ছে। নতুন নতুন চিন্তা ভাবনা হচ্ছে। সংবাদপত্র গুলতে আধুনিকতার ছোঁইয়া লেগেছে বলে আমি মনে করি। সাহিত্যিক হিসাবে সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি কি মনে করেন ৯২ সালে একাডেমী পুরষ্কার পেয়ে গেলাম। এছাড়া জাপানে “তাকেশি কায়কা এশিয়ান রাইর্টাশ লেকচার সিরিজ আমার “নুরজাহান” উপন্যাস্টির উপর একটি লেকচার দেবার সুজোগ এসেছিল। এটা আমার একটা বড় প্রাপ্তি। “রুপনগর” “বারো রকমের মানুষ” “কোন কাননের ফুল” বিটিভি তে প্রচারিত হয়। “খুঁজে বেড়াই তারে” --অনেক দিন পর রোমান্টিক লেখা? দীর্ঘ বিরতীর কারন কি “যত দূরে যাই” নামে একটি রোমান্টিক লেখার পর আর তেমন রোমান্টিক লেখা হয়ে ওঠেনি। এখন আমাদের দেশে তেমন সম্পুর্ন রোমান্টিক লেখা হয় না। তবে আমার এই নাটকটি সম্পুর্ন রোমান্টিক । এই নাটকে আমার দুই মেয়ে একা ও লেখা অভিনয় করছে। তাদের অভিনয় খুব আগ্রহ আছে এবং তাদের আগ্রহের প্রতি আমার পুর্ন সমর্থন আছে। নাট্যকার ও সাহিত্যিক হিসাবে আপনার স্বপ্নের কাজের কথা জানতে চাই আমি একটি বড় ধারাবাহিক নাটক লিখছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় জনন্ম নেয়া একটি এতিম ছেলের কথা। আর “নুরজাহান” তৃতীয় পর্ব এবং একটি আত্মজীবনী লিখছি। এই কাজ গুলো আমার স্বপ্নের কাজ। Add as favourites (30) | Quote this article on your site | Views: 101
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|



