|
চলচ্চিত্রে সুদিন ফিরে আসছে
ঢাকার চলচ্চিত্রে এখন আর অশ্লীলতা নেই।
টাস্কফোর্স গঠনের পর এর ভয়াবহতা পুরোমাত্রায় শেষ। ঢাকার বাইরে অজপাড়াগায়ে দুই একটা
হলে অশ্লীল চলচ্চিত্র দৃশ্য সম্বলিত ছবি চলার কথা শুনা যায়। তবে সেগুলো হিসেবে আনা
যায় না । কারন অশ্লীল চলচ্চিত্র এখন আর নির্মান হয়না এফডিসি
বর্তমান এমডি আনম বদরুল আমিন এ ব্যাপারে বরাবরই শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। টাস্কফোর্সের
প্রধান মেজর হামিদ সব সময়ই সামনে থেকে অশ্লীলতার মোকাবলা করেছেন। অশ্লীলতা বন্ধের
পর পর চলচ্চিত্রে ভালো ছবি একটা সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। এর ফলাফল
নতুন করে ভালো ছবি নির্মানের তোড়জোড় বেড়েছে। চলতি বছরের অর্থশতাধিক নতুন ছবির কাজ
শুরু হয়েছে। সে সব ছবি বেশির ভাগই বিগ বাজেটের। নতুনদের পাশাপাশি এখন
পুরানো নির্মাতারা ছবি নির্মানের দিকে নজর দিয়েছেন। বিশেষ করে আজিজুল রহমান,
রাজ্জাক, শিবলী সাদিক, চাষী নজরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন মতো প্রবীন
পরিচালকদের নতুন ছবি পরিচালনা চলচ্চিত্রের জন্য সুদিনের ইঙ্গিত দেয়।
গত এক বছরের শুরু হওয়া ও মুক্তি পাওয়া ছবির সংখ্যা দেড় শতাধিক
আর চলতি বছরে নতুন ও সুস্থ ছবির সংখ্যা আরও বেশি। এই তালিকায় রাজ্জাকের কোটি টাকার
ফকির, এফ আই মানিকের জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার, মায়ের মত ভাবী, যদি বউ সাজো
গো, আমাদের ছোট সাহেব, পিতা মাতার আমানত ছবির নাম যেমন রয়েছে ঠিকতেমন পিএ
কাজলের টাকার বউ, আজিজুর রহমানের জমিদার
বাড়ির মেয়ে, শহীদুল ইসলাম চেহারা ও কাজী হায়াতের স্বপ্ন রয়েছে। গত এক বছরে কোন
অশ্লীল শিল্পী অভিনীত ছবি ব্যবসা সফল হয়নি। বরং সুস্থ ধারার ছবি দর্শকরা বেশি
দেখেছেন। দর্শকদের এই মানসিক পরিবর্তনের অনেক প্রযোজক নতুন ছবির কাজ শুরু করেছেন।
বিশেষ করে চিত্রা ফিল্মসের কথা বলা যায়। তার দীর্ঘদিন পর নির্মান করেছেন স্বপ্ন
নামের একটি ছবি। এটিএনের ব্যানারে দুই পুরুষ নির্মান করেছেন চাষী নজরুল
ইসলাম। এর আগে আছে আবদুল্লাহ আল মামুনের দরিয়া পাড়ের দৌলতি। তারও আগে নারগিস
আক্তারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প সমাপ্তি নিয়ে শুরু করেছেন অবুঝ বউ। কাছাকাছি
সময়ে শুরু হয়েছে সোহানুর রহমানের তোমার আমার ভালবাসা, মুশফিকুর রহমান গুলজারের
নিঝুম অরন্যে এমএম সরকারের আত্নগোপনের, সাফি ইকবালের আমার বুকের মধ্যেখানে,
ইস্পাহানী আরিফ জাহানের এক বুক ভালবাসা শাহীন সুমনের মন যেখানে হৃদয় সেখানে, বিয়ে
বাড়ি, শফিকুল ইসলামের সোহেলের ওপারে আকাশ, মোহাম্মাদ হোসেন জেমির বাজাও বিয়ের
বাজনা,
কাজী হায়াতের দাগ ও শ্রমিক নেতা, এফ আই মানিকের আমার বোন আমার ভাই ছবিটি যৌথ
প্রযোজনা ছবি। চলতি বছরের এটিই প্রথম যৌথ প্রযোজনা ছবি। কিছু কিছু ছবি গত বছর শুরু
হয়েছে এর মধ্যে বউ বন্ধক, লড়াকু সন্তান, কাকন দাসী, মায়ের স্বপ্ন, বড় লোকের জামাই।
গরিবের ছেলে বড়লোকের মেয়ে, পৌষ মাসের পিরিতি,
অন্তরে প্রেমের আগুন।
ছোট পর্দার নির্মাতা চন্দন চৌধুরী এ বছরেই শুরু করছেন কি যাদু
করিলা ছবির কাজ। এস এ হক অলিক শেষ করেছেন আকাশ ছোয়া ভালবাসা। সামনে শুরু হবে এ কিউ
খোকনের গুরু ভাই। বাবুল রেজার বিয়ে হলো বাসর হলো না , মোহাম্মাদ জেমীর ভালবাসার
লাল গোলাপ। এখন শুটিং চলছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর থার্ড পারসন সিঙ্গুলার
নাম্বার, মনতাজুর রহমানের তুমি আমার স্বামী। সেন্সের অপেক্ষায় আছে এফ আই মানিক
পরিচালিত ও মান্না প্রযোজিত সর্বশেষ ছবি পিতা মাতার আমানত, মাসুদ পারভেজ পরিচালিত
রির্টান টিকেটসহ অনেক ছবি। শাহ আলি কিরনের মাটির মায়া, শওকত আলী ইমনের টাকার কামড়
ও হাফিজ উদ্দিনের সেই তুফান এর কাজ চলছে। প্রতি সপ্তাহের অন্তত দুটো নতুন ছবির
নাম এন্ট্রি হচ্ছে পরিচালক সমিতির লিস্টে। নতুন নতুন অনেক প্রযোজক আসছেন
চলচ্চিত্রে এই নতুন সময়ের যোদ্ধা হতে। তবে সেন্সের বোর্ডের সাম্প্রতিক কিছু কার্যাকালাপে
কেউ হতাশও। কারন সেন্সের বোর্ড এতদিন অশ্লীলতার কথা বলে ছবি আটকে দিতো। মাঝখানে
অতিরিক্ত ভালোলেন্সের কথা বলে ছবি সেন্সর দিতো না এখন নকল কাহিনী কথা বলে দীর্ঘ
সময় ছবি আটকে রাখছে। এতে করে অনেক প্রযোজক
উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে নতুন ছবি নির্মানে।
পাশাপাশি সেন্সের বোর্ড নির্মানে পাশাপাশি সেন্সর বোর্ডে ছবি জমা দেওয়া
সত্ত্বে অনেক ছবি দেরি করে দেখছেন । তাতেও প্রযোজকরা ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছেন
চাহিদা অনুযায়ী গত সপ্তাহে কোন নতুন ছবি
রিলিজ হয়নি। আর এফডিসি ল্যাব বেকার বসে আছে। ছবি সেন্সর না হলে ছবির অর্ডার
দিবে কি ভাবে। কেউ কেউ টেনশনে আছেন সময় মতো ছবি সেন্সর না হলে ঈদের সময়
এফডিসি কতৃপক্ষ পর্যাপ্ত প্রিন্ট করে দিতে পারবে না। ঈদ উপলক্ষে কমপক্ষে এফডিসিতে
৩৫০ থেকে ৪০০ প্রিন্টের অর্ডার নিতে হবে। এক সঙ্গে এতো প্রিন্ট করার জন্য এফডিসিকে
পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয় সেন্সর বোর্ড কর্তৃপক্ষ মোটেই আমলে
নিচ্ছে না । গত জুন মাসে যারা ছবি জমা দিয়েছেন তাদের অনেকেই ছবি লিস্টে নাম ওঠেনি
কবে দেখবেন সেটাও পরিস্কার করে কিছু বলছেন না । ফলে চলচ্চিত্রে নির্মানের সুবাতাস
থাকলেও সেই বাতাসকে রেগুলার করার দায়িত্ব সেন্সর বোর্ড নিতেও চায় না আবার কাউকে
দিতেও চায় না যথা সময়ে এবং কোনো হয়রানি ছাড়া সেন্সর সাটিফিকেট পেলে অনেকে ছবি
ব্যবসা সফল হবে। সে সব ছবি চলচ্চিত্রে চলচ্চিত্র শিল্পকে আবার তার ঐতিহ্য ফিরিয়ে
দেবে। এইসব ছবির মধ্যে রাজ্জাক, বাপ্পারাজ, সম্রাট নিপুন ও স্বাগতা অভিনীত কোটি
টাকার ফকির, সুচরিতা শাকিব-অপু অভিনীত যদি বউ সাজো গো, রাজ্জাক, শাবনুর, শাকিব,
দীর্ঘির ১টাকার বউ, শাকিব-অপুর আমাদের ছোট সাহেব, শাকিল ও রেসির চেহারা, তোমার
আমার ভালবাসা, আমিন খান ও নিপুনের জমিদার বাড়ির মেয়ে। প্রয়াত মান্না-অপু ও
পূর্নিমার পিতামাতার আমানত, ববিতা ফেরদৌস ওনিপুনের অবুঝ বউ। রাজ্জাক, আলমগীর,
সোহেল রানা, শাকিব ও পূর্নিমার জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার। ফেরদৌস, রচনা
ব্যানার্জী ও সুচরিতা মায়ের মতো ভাবী, রিয়াজ, জনা ও ওয়াসীমের বাজাও বিয়ের বাজনা,
কাজী মারুফ , বাপ্পারাজ ও পুর্নিমার স্বপ্ন। প্রয়াত মান্না,
মৌসুমি, বাপ্পারাজ ও চম্পার হৃদয় থেকে পাওয়া। রিয়াজ, শাবনুর, রাজ্জাক, আলমগীর ও
কবরীর তুমি আমার স্বামী এছাড়াও নতুন পুরানো আরো দুই ডজন ছবি এ তালিকায় আছে। সেসব
ছবিকে চলচ্চিত্রের সুস্থধারাকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আর এ ধারা অব্যাহত
থাকলে তবেই চলচ্চিত্রে সুদিন আবার ফিরে আসবে। এ জন্য চাই সেন্সের বোর্ডের
উদারনীতি।
Add as favourites (79) | Quote this article on your site | Views: 314
|