জীবনের স্বপ্নকে ছোঁয়ার প্রত্যাশায় ভালোবাসা আর
অধ্যাবসায়ের মননে কেউ কেউ নিজেকে শাণিত করে চলেন প্রতিনিয়ত। আকাশের পানে
দু'চোখ মেলে হাত বাড়ান মেঘমালাকে স্পর্শ করার জাদুকরী ইচ্ছায়। কখনো হয় না
পুরণ, তাতে কী মন যখন হয়েছে ডানা মেলা পাখির ইচ্ছের রঙ তখন সাধ আর সাধ্য
একদিন ঠিকই ছুয়েঁ যাবে প্রেরণার মেঘকে। জীবনের ক্যানভাসে এমনি ভাবনা নিয়ে
হেটেঁ যান অনেকেই শিল্পের বিভিন্ন পথে। আর গানকে ভালোবেসে, গানকে স্বপ্ন
ঞ্জান করে যিনি অজান্তেই হয়েছেন গানের পথিক তিনি নাজু আখন্দ।
ছোট্টটি থেকেই গান যেন তার সারাবেলার সঙ্গী। মা তাহমিনা
হাবিবের ঘরোয়া গান নাজুকে তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করেছে গানকে ভালোবাসতে।
মূলত মায়ের ইচ্ছে ও অনুপ্রেরণায় নাজু ১৯৯৩ সালে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়াকালে
তালিম নেয়া শুরু করেন ওস্তাদ গোবিন্দ গোস্বামী'র কাছে। ক্যাসিক্যালের
পাশাপাশি রবীন্দ্র সংগীত, নজরুলগীতি ও আধুনিক ছাড়াও নাজু গানের ভিন্ন
ধারাকে প্রতিনিয়ত আলিঙ্গন করেছেন ভালোবাসার অশেষ দিয়ে। জাতীয় শিশু-কিশোর
প্রতিযোগিতা এ রেড ক্রিসেন্ট প্রতিযোগিতায় চার চারবার স্বর্ণপদক জয় করেন
যথাক্রমে রবীন্দ্রসংগীত, পল্পীগীতি, দেশাত্ববোধক ও নজরূল গীতির মাধ্যমে।
গানকে আরো ভালো করে জানার আকাঙ্খায় নাজু ২০০৪ সাল থেকে
তালিম নেয় শুরু করেন ওস্তাদ সঞ্জীব দে'র কাছে। এখন অবদি তার কাছে
ক্ল্যাসিক্যাল তালিম অব্যাহত রেখেছেন। এর আগে ২০০১ এ নাজু প্রথমবারের মতো
নিজের সঞ্চিত মেধা নিয়ে শ্রোতাদের সম্মুখে উপস্হিত হন তার প্রথম একক
'কাঁচা হলুদের রঙ' অ্যালবামের মাধ্যম। সংগীতা থেকে প্রকাশিতএই অ্যালবামের
সুর ও সংগীতে ছিলেন মিল্টন খন্দকার। প্রথম অ্যালবামের পর নাজু সম্পূর্ণ
মনোনিবেশ করেন চলচ্চিত্রের প্লে-ব্যাক এর মধ্যে। ২০০১-এ উচ্চ মাধ্যমিক
শ্রেণীতে অধ্যায়ন কালেই নাজু প্রথম চলচ্চিত্রে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের
সুরে গান করেন 'মায়ের সম্মান' ছবিতে কুমার বিশ্বজিৎ'র সাথে। সময়ের
চলমানতার সাথে নাজু প্লে-ব্যাকে এখন অবদি গান করেছেন প্রায় ৭০টি। এছাড়া
স্টেজ পারফর্মেন্স ও আছে। ৯৭ থেকেই নাজু স্টেজশো করেন নিয়মিত। গেল ঈদে
অগ্নিবীণা থেকে প্রকাশিত হয়েছে এই তরুণতুর্কীর দ্বিতীয় অ্যালবাম। 'স্বপ্ন
কন্যা' শিরোনামে এই অ্যালবামে মোট গান রয়েছে ১২টি। মেলোডিয়াস, ফিউশন আর
কিছুটা বাণিজ্যিক ঘরনার গানের এই অ্যালবামে ছটি গানের সুর ও সংগীত করেছেন
বাপ্পা মজুমদার। বাদবাকী ছ'টির মধ্যে তিনটি করে সুর ও সংগীত করেছেন এস
পুলক ও রাজীব।
'স্বপ্নকন্যা' অ্যালবামের গানগুলি হচ্ছে- হাত বাড়ালে
যায় না ছোঁযা, চঞ্চলা এই মন, চোখে চোখে হয় যে কথা, চুপি চুপ, আরো একটি
আধার, প্রেম করে যে সে কি জানে, লোক নিন্দা, শুধু তুমি তুমি করে, বন্ধু
লইয়া যা মোরে, পাহাড় চূড়ায়, প্রাণ নাচে আজ এবং সুখের কারণ। অ্যালবাম
প্রসঙ্গে নাজু বলেন, 'মূলত মেলোডিয়াস গানকে আমি প্রাধাণ্য দিয়েছি।
শ্রুতিমধুর কিছু গান করার প্রত্যাশা আমার ছিল। বাণিজ্যিক মনোভাব নিয়ে যে
গানগুলো করা হয়েছে সেগুলো কিন্তু সস্তা কর্মাশিয়াল কোনো গান নয়। সমসাময়িক
প্রচলিত ধারাকে কিছুটা অনুকরণ করা হয়েছে মাত্র। অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি
বলেন, 'চলচ্চিত্রে আমি সবসময়ই মেলোডিয়াস গান আমাকে করতে হয়নি। আমি সর্বশেষ
গান করেছি প্রয়াত আবদুল্লাহ আল মামুনের 'দুই বেয়ারের কীর্তি' ছবিতে চন্দন
সিনহা'র সাথে আলী আকবর রুপুর সুরে। এমনি সুস্হধারার চলচ্চিত্রেই আমার সব
গান গাওয়া।' অ্যালবামের নাম স্বপ্নকন্যা প্রসঙ্গে এই নতুন প্রজন্মের
গায়িকা বলেন 'আমার স্বপ্ন গান নিয়ে আর কণ্যাটি আমি নিজেই। বর্তমান
ব্যস্ততা নিয়ে নাজু জানান, 'স্টেজশো আর প্লে-ব্যাক নিয়েই ব্যাস্ততা। আর
নিজের জন্য গান করা তো আছেই। আসছে জানুয়ারিতে এক ট্যূরে যাচ্ছেন নাজু
আমেরিকায়। এর আগে গান নিয়ে তিনি ভ্রমন করেছেন জাপান, কাতার, দুবাই,
পাকিস্তান ও ভারত। নিজের ভবিষৎ পরিকল্পনা সম্মন্ধে নাজু বলেন, 'অনেক ভাল
ভাল গান করতে চাই। বেঁচে থাকার অনলম্বন মনে করে গান গাইতে চাই। সখ নয় গান
আর স্বপ্নের মাঝেই আমার সারাবেলার বসবাস। এই অ্যালবামের গানগুলো পাওয়া যাবে www.surerbhubone.com এই ওযেব সাইটে।