| Concol Chawdhury |
|
|
|
পাবনার নাজিমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এক গ্রাম। চারিদিকে
শ্যামলিমার শোভা ছড়ানো গ্রামটিতে আধুনিকতার ছিটে ফোটাও লক্ষ্য করা যায় না । মেঘ
ফুড়ে সূর্য উকি দিলেই কেবল আলোর মুখ দেখে গ্রামটি। দিন শেষে আকাশের
অতল গর্ভে আলোকময় থালাটি বিলীন হলেই রাজ্যের অন্ধকার এসে ভর করে। সেই অন্ধকার দূর
করার জন্য আধুনিক বিজ্ঞানের কোন আর্শিবাদেই পুষ্ট নয় গ্রামটি। আধুনিকতা বিবর্জিত
এমনই এক গায়ের ছেলে চঞ্চল । গ্রামের সতেজ আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা চঞ্চল কেবল এসএসসি
চৌকাঠ
পেড়িয়েছিলেন। ততদিন একটু একটু করে আধুনিক হয়ে উঠেছে চঞ্চলের গন্ড গ্রামটি।
তখন থেকেই ভিসি আরে অল্প বিস্তর ছবি দেখতে শুরু করেন। বিশেষ করে উত্তম সুচিত্রার
ছবি হলে তো কথা নেই। আর এ ছবি দেখার সুবাদেই অভিনয়ের প্রতি ভাব ভালোবাসা অঙ্গুরটি
নিজের মনের অজান্তেই নিজের ভেতর ধারন করতে শুরু করলেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি টুকটাক আকাআকির প্রতিও ছিল দারুন ঝোক। ফলে এইচএসসি পাশ করার পর
ভর্তি হলেন চারুকালায়। ক্যানভাসে রংতুলি নিয়ে খেলায় মত্ত চঞ্চলের মত অভিনয়ের
বাসিন্দা হবার স্বপ্ন দেখল। সেই স্বপ্ন পুরনে বাস্তব রুপ দিতে আরন্যক এর সঙ্গে
যুক্ত হলেন। ৯৬ থেকে ২০০৫ টানা ১০ বছর কাজ করলেন মঞ্চ অভিনেতা হিসেবে।
টিভি ক্যামেরার সামনে চঞ্চলের প্রথম উপস্থিতি মামুনুর রশীদের
সুন্দরী মেগাসিরিয়ালে অভিনয়ের মাধ্যমে । এই নাটকে সাংবাদিক চরিত্রে রুপদানকারী
চঞ্চলের প্রথম সিকোয়েন্স ছিল বিপাশা হায়াতের সাথে। তবে চঞ্চলের মূলত লাইম
লাইটে আসেন গ্রামীনফোনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। শহর থেকে বাড়ি ফিরছে একটি
ছেলে । মায়ের সঙ্গে অনেকদিন পর দেখা হবে। এমন একটি থিম নিয়ে তৈরী বিজ্ঞাপনটির গানে
কন্ঠ দেন এবং পারফর্ম করেন চঞ্চলের কন্ঠে গাওয়া পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ- মায়া হয়
কোলে তব গানটি সে সময় দশক প্রিয়তা অর্জন করে। চঞ্চলের
জনপ্রিয়তার ঝুলিতে এসে যোগ হয় মোস্তাফা সরয়ার ফারুকের তাল পাতার সেপাই,
নিখোজ সংবাদ, আশুতোষ সুজনের টিনের তরোয়াল, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের কাজল, দোকানী বউ,
বংশের বাতি, গরু চোর, ওয়ারেন,চোর কাটা, ঢোলের বাদ্যি, গোলাম, আমি তুমি ও সত্যজি, রুপা, সাইদুল
আনাম টুটুলের বোনাস প্রভৃতি।
বিশেষ করে ভবের হাট এর
ফিজা মাষ্টার চরিত্রটি চঞ্চলকে জনপ্রিয়তার দিক থেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
মেগাসিরিয়ালটিতে বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে বলা চঞ্চলের সংলাপগুলো দারুন জনপ্রিয়তা পায় বিশেষ করে ওরে নারে ইউনিভাসিটি মারা, ডোন্ট ইউর
ডানিনোজ এভরি হোয়ার, সাবলীল ঢং এ চঞ্চলের আওড়ানো এ সংলাপগুলোই
ফিজা মাষ্টারের চরিত্রটি চঞ্জলকে জনপ্রিয়তার দিক থেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
যদিও ভবের হাট শেষ তদুপরী রাস্তাঘাটে এখনো ঐ দেখ দেখ ফিজা মাষ্টার যাচ্ছে এমন
বাক্য শুনতে হয় তাকে চঞ্চলকে। নাট্যভিনতাকে গন্ডি ছাড়িয়ে ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রের
খাতায়ও নাম লিখিয়েছেন চঞ্চল। সম্প্রতি গিয়াস উদ্দিন সেলিমের মনপুরা চলচ্চিত্রে অভিনয়
এটি। তবে মনপুরাতে অভিনয় করেছন তিনি। হিসেবে চঞ্চলের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র অভিনয় এটি। তবে মনপুরাতে অভিনয় করবেন এমনটি
কখনোই চঞ্চলের ভাবনায় জগতে কড়া নাড়েনি। তবে ছবির ধর বন্ধু আমার কেহ
নাই গানটি প্রায়ই বন্ধুদের আড্ডায় গায়তেন এবং ছবিতে গানটি গায়বার জন্য প্রকাশ
করেন। শেষ পর্যন্ত গায়ক থেকে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়ে
যান। এরপর শুরু হয় সোনাই এবং পুরো ছবির কাহিনীর সঙ্গে চঞ্চলের ঘনিষ্ঠতা
এতটাই প্রাগাঢ হয়ে উঠেছিল যে শুটিং চলাকালীন ৩০ দিনের মধ্যে ২৮ দিনই সিকোয়েন্স
করার সময় চোখ দিয়ে টপটপ করে নোনা জল পড়ছিল। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে দেখার পর সোনাই
তার ভালোবাসার মানুষের মৃতদেহ দেখে শোকে পাথর হয়ে যাবে। সেই দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে
কিছুতেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না চঞ্চল। তখন গিয়াস উদ্দিন অনেকটা
ধমক দিয়েই তাকে বললেন তুই ডেড বডি দেখবি চোখ দিয়ে যাতে পানি বের হয় না । শুধু তাই
নয় মনপুরার সঙ্গে এতটাই একান্ত হয়ে গিয়েছিলেন চঞ্চল যে শুটিং শেষে ঢাকায় এসে ১৫
দিনে আগের কোনো স্মৃতিই মনে করতে পারছিলেন বাকি সময়টিতে এমন একটি কাজ
করার আমি আমার ক্যারিয়ারের বাকি সময়টিতে এমন একটি কাজ করার সুযোগ পাব কিনা যে
সন্দেহ আছে।
ভবিষৎতে পরিকল্পনাতেও চলচ্চিত্রে অভিনয় ঠাই করে নেয় চঞ্চলের অভিনয়
পরিকল্পনা। তবে তথাকথিত বা গতানুগতিক ধারা চরিত্রে অভিনয় করতে একেবারেই নারাজ
চঞ্চল। তিনি মনে করেন এমন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই যেখানে আমি আমার
অভিনয় প্রদর্শনের শতভাগ সুযোগ পায়। যেখানে আমি আমার চরিত্রটিকে ভাজে ভাজে খেলতে
পারবো। এমন চরিত্রের সন্ধান পেলে অবশ্যই চলচ্চিত্রে কাজ করবো চলচ্চিত্রে
না কাজ করলে মানুষের কাছাকাছি পৌছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমার স্বপ্নে এমন
চলচ্চিত্রে কাজ করা যা বড় পর্দার দশকের কাছে স্মৃতি রেখে যাবে দীঘদিন। হয়তো
চঞ্চলের নাম পরিচয় মুছে দিয়ে সেই চলচ্চিত্রের চরিত্রেই প্রধান হয়ে ওঠবে। Add as favourites (54) | Quote this article on your site | Views: 143
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





