| Come we will Changed |
|
|
|
চলো বদলে
যাই
আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেখক ও একজন টিভি
উপস্থাপক । আর
রোকেয়া প্রাচী স্বনামখ্যাত অভিনেত্রী এরা দুজন গড়ে তুলেছেন স্বনের
নীড়। তাদের ব্যক্তিগত গল্পই আনন্দ আলো পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন ইশরাত শিউলী ।
পঞ্চম তলার সিড়িতে পা ফেলতেই চোখ পরে যায়। মাটি ও পেইন্টিংয়ের রুপ
লাবন্য উজ্বল হয়ে আছে সিড়ির চেহারা।
কলিংবেল বাজাতে দরজা খুলে দিল রিমঝিম। অস্কার মনোনীত ‘মাটির ময়না চলচ্চিএর সেই ছোট্ট আছমা । রিমঝিম অবশ্য এখন আর
অতটা ছোট নেই। উচ্চতায় মা রোকেয়া প্রাচীর প্রায় সমান হয়েছে। বাসায় ডুকতেই
মনে হ্লো সরকারি বাসার সাধারন ঘরও অসাধারন হতে পারে আত্নরিকতা
থাকলে। বাসার ভেতর ঘরের আসবাব থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে সূক্ষ রুচি ও
মননশীলতার
পরিচয় মেলে। ঘরের প্রতিটি জিনিস
প্রাচী নিজে পছন্দ করে কিনেছে ও সুন্দর করে ঘর
আকর্শন করে। ওখানে কাজ
করতে করতেই আমাদের পরস্পরকে ভালো করে
জানার
আসিফের সাথে রিমঝিমের একটা ভালো সম্পর্ক হয়। এই বিষয়টা আমার কাছে
বেশি
রিলেশন শুরু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বিয়ে করার সিগ্ধান্ত
নেই।
রিমঝমটাও ছিল শান্ত মিষ্টি আর ভিষ্মন রকম মায়াকারা। অফিসে
রিমঝিমকে নিয়ে অনেক গল্প হতো। একটা গল্প তো খুবই হৃদয়বিদারক ছিল। রিমঝিমের
একটা হাঁসের বাচ্চা ছিলো। একদিন বাচ্চাটা কোন কারনে মারা যায়। রিমজঝিম ওর মায়ের
কাছে
প্রস্তব করল । মৃত হাঁসের বাচ্চাটাকে যেন টবের মধ্যে মাটি দেয়া
হয়। ওর ব্যাখ্যায়টা ছিল
এরকম -ওরা তো ভাড়া বাসায়
থাকত , ভাড়া বাসা তো একসময় শিফট করতে হবে।
গল্পটি আমাকে ভিশনভাবে অভিভূত করে ছিল। রিমঝিমের প্রতি একধরনের
পিতৃ্ত্ব আমার মাঝে শুরু হয়ে যায়। ওকে আমার নিজের সন্তন ছারা কিছুই মনে হতো
না। ওরও
আমার প্রতি প্রচন্ড ভালবাসা শুরু হয়। রিমঝিম এবং আমার সম্পর্কটা ক্লোজ বন্ধুর মতো।
প্রাচী আর আমার সম্পর্কটা
মধ্যে কখনোই যুক্তিহীন আবেগ -উচ্ছস ছিল না। অবশ্য সে
বয়সও আমাদের ছিল না। আমরা দুজনেই পরিণত বয়সে বিয়ের সিগ্ধান্ত
নিয়েছে।আমাদের দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। আমরা একসময় অনুভব করলাম আমাদেরে একে অপরকে প্রয়োজন। সংসার তো হলো কিন্তু দুজনের বোঝাপড়াটা কীভাবে হয়? আসিফ
নজরুলের উত্তর, পরিণত বয়সে দুজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা গরমিল থাকবে এটাই স্বাভাবিক । তবে আমরা দুজন দুজনার মতবাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
কেহ কাউকে নিজের মতটা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি না। কিছু কিছু
জায়গায় আমাদের
মিলও রয়েছে। আমার প্রতিটা
কাজের সমালোচক প্রাচী । আমি টিভিতে একটা
প্রোগ্রাম
করেই অপেক্ষা করি প্রাচী
কি কমেন্টস করে তা শোনার জন্য। বিষয়টা এমন নয় যে
প্রাচী খুব পলিটিক্স বোঝে , তবে ওর স্বাভাবিক বুদ্ধি অসাধারন। ও বুঝতে পারে কোন
জিনিসটা আমি একটু বেশি বলে ফেলেছি। কোথায় শব্দ চয়ন ভুল হয়েছে, কোন
কথায়
এক্সপ্রেশন্নটা কেমন হবে, কোন জায়গায় কপাল কুঁচকে ছিলাম, এসব খুব
ভাল বলতে পারে। প্রথম আলো পত্রিকায় আমার একটি কালাম নিয়মিত প্রকাশিত
হয়। এ কালামের
প্রথম পাঠক প্রাচী। লেখাটা শেষ করে ওকে বলি তুমি পরে দাও, ও পড়ে
লেখাটার সমালোচনা করে। কিছু কাটছাঁট করতে বলে। কখনো ওকে আমি বোঝানোর চেষ্টা করি,
আবার কখনো কখনো ক্ষেপেও যাই। কিন্তু ও চলে যতেই বিষয়টা নিয়ে নতুনভাবে
চিন্তা
করি । তখন মনে হয়ে ও ঠিকেই বলেছে। আমি তো আমার
বিষয়টা বললাম।
এবার প্রাচীর মাতামত জানতে চাই ? রোকেয়া প্রাচী বললেন, আসলে দুজন
মানুষ তো দু’জায়গায় থেকে আসে দুরকম পরিবেশে বেরে ওঠা । চিন্তা-ভাবনায় পার্থক্য
থাকবেই ।
এটা কখনো সম্বব নয় যে দু’জন মানুষ একেবারে একরকম হয়ে যাবে। অথবা
একজনের
জন্য আরেকজন নিজেকে পুরোটাই পরিবর্তন করে ফেলবে। সংসার মানে তো আর নিজেকে বদলে ফেলা
নয়। একেবারে সবকিছু মিলে যাওয়াটাও আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত
মনে হয় না। আমার কাছে
সংসারটা হচ্ছে , মিল-অমিল নিয়ে একসঙ্গে বাস করার শিল্প।
এই শিল্পটাকে কে কতটা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পারে
তার উপরেই অনেক কিছু
নির্ভর করে।
আমরা যদি পরস্পরের ভালো -মন্দগুলোকে প্রলেপ দিয়ে বোঝা-পাড়ার মাধ্যমে
সহনীয় মাত্রায়, সুন্দর ভাবে সমন্বয় করে শিল্পিত রুপ দিতে পারি-তবে এই শিল্পটাই
হচ্ছে জীবন,
প্রেম-ভালবাসা। শুরুতে
আমাদের সম্পর্ক যেমন ছিল এখন তিমনি আছে। কিছু কিছু
জায়গায় হয়ত আরো শানিত হয়েছে । দিনে দিনে আমাদের বোঝাপড়াটা আরো দৃড়
হয়েছ। আসলে ভালবাসা, প্রেম-সুখ এগুলোর সংজ্ঞাতো একেকজনের কাছে একেক রকম।
আসিফ নজরুলের কাছে জানতে চাই , আপনিতো এক সময় বেশ কয়েকটি উপন্যাস
লিখেছিলেন। উপন্যাসগুল
জনপ্রিয়ও হয়েছিল, এখন লিখছন না কেন
? আসিফ নজরুলের বলেন , যে বইগুলো প্রকাশিত হেয়েছিল
তা একসময়ের লেখা। তিন বছরে
পর পর দশটি উপন্যাস লিখেছিলাম। এরপএ পিএইচডি করতে বিদেশে চলে গেলাম
।
সেখানে প্রচন্ড পাড়শনার
চাপ। ফিরে এসে সাংসারিক জটিলতা , সব মিলিয়ে গ্লপ-উপন্যাস লেখার মানসিকতাটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
তবে প্রাচীর সাথে সম্পর্ক হওয়ার পর ও
আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছে লেখালেখির
ব্যাপারে । ওর প্রচেষ্টয় আরো চারটি উপন্যাস আমি লিখেছি। তা প্রথম আলোতে ছাপাও
হয়েছে । এখন আমাকে এত কঠিন আর জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছ। এদিকে
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস,
পলিটিক্স, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, টিভি
প্রোগ্রাম , সেমিনার এয়াব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় সারাটাক্ষন
বারেই । তাছারা আমি জাত লেখক নাতো। এ কারনেও হয়তো হয়ে উঠছে না।
আমি জানি আবার লিখতে শুরু করলে পৃথিবীতে
প্রাচী সবচেয়ে বেশিখুশি হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস
একদিন হয়ত আমি আবার উপন্যাস লিখতে শুরু করবো।
রোকেয়া প্রাচী এই মূহর্তে আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে ? রোকেয়া প্রাচী
বলেন, এই মূহর্তে
আমার ব্যস্ততা আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে। ওর নাম আস্তা । ওর বয়স এখন
পনের মাস
চলছে। আস্তা জন্মাবার পর থেকে ওকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পরেছি। ও
একটু বড় হয়ে গেলেই আবার কাজ করা শুরু করব। রোকেয়া প্রাচীর কথা শেষ হতেই আসিফ নজরুল
জানালেন প্রাচী বোধহয় বলতে ভুলে গাছে টেলিভিশনে কিছু প্রোগ্রাম ও
করছে, এছারা
অনুরোধ করেন মাটির ময়নাতে ওকে আসমা চরিত্রে নেয়ার জন্য । ওনাদের
আগ্রহেই
ও এখন বড় হয়েছে। নাটক বা সিনেমাতে অভিনয় করার ইচ্ছটা ওর নেই। তবে
ছিবি Add as favourites (93) | Quote this article on your site | Views: 241
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





