| Close Up One Bangladesh |
|
|
|
ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ
এখন চলছে মিউজিক্যাল রাউন্ড
গতবারের দ্বিগুন প্রতিযোগী নিয়ে এবার আয়োজিত হয়েছিল ক্লোজআপ
ওয়ান তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসর। এখন চলছে এর মিজিক্যাল
রাউন্ড। এতে অংশ নিয়েছেন ১১৫জন প্রতিযোগী।
যে দেশে ছড়িয়ে রয়েছে এত সুর সে দেশেই মানুষই তো গাইবেই গাও
বাংলাদেশ গাও এই স্লোগান নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ এর তৃ্তীয়
আসর। এ আয়োন এ দেশের বৈচিত্র্যময় বাংলা গানের ভুবনকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। গতবারের
প্রায় দ্বিগুন প্রতিযোগীদের নিয়ে শুরু হওয়া এবার গ্রুপিং রাউন্ড সম্প্রতি শেষ
হয়েছে। এত অংশ নিচ্ছেন ১১৫জন প্রতিযোগী। বিগত বছরের এমন গ্রুপিং সেশন সেরা দশের
মধ্যে
সীমব্ধ ছিল। তবে এবারের সিলেকশন রাউন্ডে বিজয়ী প্রতিযোগিদের কন্ঠমা বৃদ্ধির লক্ষে
গ্রুপিং সেশন পর্বটি একটূ আভে ভাগেই ভালভাবেই আয়োজিত হয়েছে। এর মাধ্যমে
প্রতিযোগীদের শুধু কন্ঠেশীলন থেকে শুরু করে তাদের চালচলন, কথাবার্তা,
গেটআপসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করে তোলার কথা শোনা গেলেও টানা এক সপ্তাহের
গ্রুপিংসেশন এখানেই শেষ না বরং এটাকে শুরু বলা যায়। এবারের গ্রুপিং সেশনে অভিক্ষ
সঙ্গীতজ্ঞরা প্রতিযোগিদের শুধু কন্ঠশীলনের কাজটাই করছেন। চেষ্টা করেছেন তাদের
পছন্দের গানগুলোকে সঠিকভাবে প্রতিযোগীদের কন্ঠে তুলে দিতে। গ্রুপিং সেশন শেষ
হয়েছে এখন চলছে এ প্রতিযোগীতার মিজিক্যাল রাউন্ড। এ রাউন্ডে প্রতিযোগিদের বিভিন্ন
ইন্সট্রমেন্টস সঙ্গে নিজেদের পছন্দের গানগুলো গাইছেন। এই রাউন্ডে প্রধান তিন
বিচারক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, ফাহমিদা নবী, পার্থ বড়ুয়ার পাশাপাশি
দুজন অভিক্ষ বিচারক রয়েছেন আর তারা হলেন সুজেয় শ্যাম ও অনুপ ভট্রাচার্য। ক্লোজআপ
ওয়ানের এবারের আসরের অভিমত জানাতে গিয়ে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল বলেন এবারের আসরটিতে
আগের তুলনায় দ্বিগুন প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছে এখন মিজিক্যাল রাউন্ড চলছে। এতে
প্রতিযোগিরা তাদের পছন্দের গানগুলো বিভিন্ন যন্ত্রের সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ
পাচ্ছে। । আমরা এখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিউটি, সোনিয়া, রাজিব , রিংকু মুহিনের
মতো বিভিন্ন শিল্পীদের । এমন কি আমাদের প্রত্যাশা ওদের কন্ঠের চেয়ে আরো সুন্দর
কন্ঠ খুজে পাবার। আমরা নিশ্চয়ই খুজে এবারের আসরেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করার মতো
শিল্পী। এবারের আসরে প্রতিযোগিদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়াতে আমরা বিচারকরা বেশ
আনন্দিত। বরাবরের মতো এবারও প্রধান বিচারকদের একজন দায়িত্ব পালন করছে। আমি চেষ্টা
করছি আগের মত নিরপেক্ষভাবে আমার কর্তব্য পালনের। এবার প্রধান
বিচারক হিসেবে আমাদের কুমার বিশ্বজিৎ নেই । তাকে আমরা খুব মিস করছি। তবে তার
জায়গায় পার্থ বড়ুয়াকে পেয়ে ভাল লাগছে। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার একটু বাড়তি সময়
পাওয়াতে প্রতিযোগিরা অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের ভালভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছে
বলে আমার মনে হয়। তার সঙ্গে যোগ দিনেল এই প্রতিযোগীর আরেকজন বিচারক ফাহমিদা নবী।
এবারের আসরের দায়িত্ব পালনের অভিক্ষতা নিয়ে তিনি বললেন আমাদের গানের নদীতে এখন
সুরের জলে কানায় কানায় পূর্নহতে চলেছে। এর নদীতে ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুজছে
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় ঢেউ তুলেছে । ভাবতে ভালই লাগে।ক্লোজআপ ওয়ান
প্রতিযোগিতার প্রথম আসর থেকেই আমি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গেল আসরে আমি প্রধান বিচারক
একজন হিসেবে দায়িত্বপালন করছি। এবারও একই অবস্থানে থেকে বিচারকার্যে পরিচালনা
করছি। একজন শিল্পী হিসেবে এ ধরনের কাজে
অংশ নিয়ে আমি আমার শিল্পবোধকে আরো জাগ্রত করছি। প্রধান বিচারকের আসনে বসে আমার
মনে হয়েছে আমার যেন হাত পা বাধা দড়ি দিয়ে। খুবই কমিটড থাকতে হয়েছে এই কাজে। সব সময়
চেষ্ঠা করেছি সৎ থাকতে। এ সময় ভুলকে কোনো সুযোগ দেয়ার মানসিকতা ছিলনা । সিলেকশন
রাউন্ডে প্রিতিদিন ৬০-৭০ জন প্রতিযোগীর গান শুনতে হয়েছে আমাদের । এবার আমরা
বৈচিত্রময় কিছু গানের সন্ধান পেয়েছি। স্রষ্টা প্রদত্ত কিছু কন্ঠ আমাদের অবাক
করেছে। নতুন সম্ভবনা খুজে পেয়েছি ওদের কন্ঠে। আমার বিশ্বাস ওরা আগামীর ভালকরবে।
রংপুরের এক প্রতিযোগী কন্ঠে ভাওয়া গান শূনে আমি চমকিত হয়েছি। মনে হয় আমরা নতুন
রবীন্দ্রনাথ রায়কে খুজে পেয়েছি। একজন প্রতিযোগী তুমি আমার কতচেনা গান নারী পুরুষ
উভয় কন্ঠে শুনিয়ে আমাদের মুগ্ধ করেছে। গানের কথার ফাকে ফাকে তার কন্ঠের মিউজিক
নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। সাওয়াল এক মেয়ে শিলেসন রাউন্ডে আমাদের ভিন্ন ভাবনায়
ফেলেছিল। গান গাওয়া আগে সে একটা চিঠি পড়ে আমাদেরকে শুনিয়েছিল।
চিঠিতে সে লিখেছিল আমারা সবাই মিলে দেশটাকে স্বাধীন করেছি। প্লিজ আদিবাসী বলে
আমাদের অবহেলা করবেন না । গানের পাশাপাশি এ আসরে আমরা প্রতিযোগীদের বিনয় ও ভদ্রতা
জ্ঞানের বিচারে সচেতন ছিলাম। ক্লোজআপ ওয়ান আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে। কেউ যদি বেয়াদবী
করে আমরা যদি চাই শীর্ষ দশ থেকে ওর ইয়েস কাড বাতিল করে দিতে পারব। আমরা এই
প্রতিযোগীতার মাধ্যমে এমন কোন শিল্পীদের খুজে নিতে চাই যাদের শুদ্ধ গানে সুরের
আলোয় আলোকিত হবে বাংলাদেশ।
প্রথমবারের মত এ প্রতিযোগীতায় প্রধান বিচারকদের একজন হতে পেরে
পার্থ বড়ুয়া তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন আমি শুরু থেকেই এ প্রতিযোগীতার
সঙ্গে যুক্ত ছিলাম তবে এবার প্রধান বিচারকের একজন হওয়াতে
দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। আমি চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টা করছি এ পদের মর্যাদা রাখতে।
এবার গানের প্রতিযোগীদের যে আগ্রহ দেখছি তাতে আমি মুগ্ধ। এ প্রতিযোগীতায় বিচারক
হিসেবে না থাকলেও ক্লোজআপ নিয়ে ভাবনার কমতি ছিল না কুমার বিশ্বজিৎ এর। এ
প্রতিযোগীতা নিয়ে ভিন্ন এক ভাবনার কথা কুমার বিশ্বজিৎ বললেন এভাবে- সত্যি কথা বলতে
কি ক্লোজআপ ওয়ান আমার একটা বিজয়ের জায়গা। আমি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম।
কারন যখন ২০০৫ এর বিচারকের দায়িত্ব গ্রহন করি, তখন আমাদের দেশে সুনামধন্য শিল্পীরা
খুব নাক সিটকে ছিল। কিন্তু আজ তারাই প্রতিভার খোজে অংশ নিচ্ছেন। আমার কাজই হলো
স্রোতের বিপরীত দিকে চলা । আমি আমার কাজ করেছি। সফল হয়েছি সফলতার আরেকটি দিকও আছে ।
তাহল নতুন জেনারেশনের ছেলেমেয়েদের বাংলাগানে ফিরিয়ে আনা । সমৃদ্ধশালী আমাদের গানের
ভান্ডার সম্পকে তাদের কোন আগ্রহ ছিল না । কিন্তু আমি গর্ব করে বলতে
পারি তারাই আবার বাংলা গান শুনতে শুরু করেছে শুধুমাত্র ক্লোজওয়াপ ওয়ানের কারনে।
আমরা চেয়েছি নতুনদের একটা প্ল্যাটর্ফম তৈ্রী করে দিতে। অনেক প্রতিভা আছে যারা
প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুযোগ থেকে বঞ্চিত যদিও সংগীত গুরুমুখী বিদ্যা । তারপরেও ঈশ্বরের
দেয়া কন্ঠকে আমরা কোন ভাব অস্বীকার করতে পারিনা । আর এই সুযোগ বঞ্চিত শিল্পীদের
জন্য একটা জায়গা তৈ্রী করা আমি আমার দায়িত্ব বলে মনে করেছি। ইউনিলিভার আয়োজন করেছে
আমরা কাজ করেছি দশক শ্রোতারা সর্বাত্বক ভাবে সাহায্য করেছে। তাই আমরা কিছু ভাল
শিল্পী পেয়েছি। আমাদের শিল্পী স্বল্পতার সময়ের এর প্রভাব
কথাতো বলায়বাহুল্য। তবে দুঃখ নিয়ে একটা
কথা বলতেই হয়। আমি সবাইকে বলছিনা কেউ কেউ
আছে যারা দায়বদ্ধতার কথা বেমালুম ভুলে গেছে। দশক যাকে ভালবেসে লক্ষ লক্ষ ভোট
দিয়েছেন যাদের জন্য তার ক্লোজআপ ওয়ান হতে পেরেছে তাদেরকে পেছনে ফেলে নিজেকে নিয়ে
ব্যস্ত থেকেছে। জনপ্রিয়তা আর অর্থের মোহকে তারা এড়াতে পারিনি। শিল্পী হওয়ার
আসল কথা হচ্ছে বিনয় ও সাধনা। ক্লোজআপ ওয়ান হলেই চলবে না নিজেকে তৈরী করতে হবে। সে
যায় হোন আবার নতুন আসবে । আমরা নতুন প্রতিভা পাব। এবার নতুন এক স্রোতে চলবো। Add as favourites (78) | Quote this article on your site | Views: 463
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





