|
Childhood of Kumar Bishwjit |
|
|
|
Page 1 of 2
কুমার বিশ্বজিতের ছেলেবেলা
মা-বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ এর শৈশব-কৈশোর কেটেছে পরিবারের কড়া নজরদারিতে। অসম্ভব ভালোবাসার বহি:প্রকাশ কখনও কখনও যন্ত্রনা দিতো তাকে। তবুও তার মধ্যেই চলতো দুরন্তপনা। ছেলেবেলায় যথেষ্ট রকম ডানপিটে ছিলেন এই মানুষটি। সোনালী সেই দিনগুলোর কথা শোনা যাক তার বয়ানেই---
আমার জন্ম, বেড়ে উঠা চট্রগ্রামে। ছোটবেলায় বেশ ডানপিটে ছিলাম। আমি যেখানে বড় হয়েছি তার একদিকে ছিলো সমুদ্র, আরেকদিকে পাহাড়। প্রকৃতির অদ্ভুত এক মিলনস্হল। আমি জীবনযাপনের দুটি রুপ দেখেছি। একটা চিরায়ত বাংলা, আরেকটি আধুনিক সব অনুষঙ্গে ভরা জীবন। আমি খাটিঁ বাংলার চিত্ররুপ দেখেছি। ক্ষেত থেকে টমেটো উঠিয়ে পকেটে লবণ নিয়ে ঘোরা, শামুক দিয়ে তৈরি করা ছুরি নিয়ে আমগাছে উঠে আম খাউয়া, জাল ফেলে মাছ ধরা, ঘুঘুপাখির বাসা থেকে ডিম পাড়া এসব কিছুই আমার কাছে খুব পরিচিত। আবার জীবনের একটা সময়ে আমি আধুনিক জীবনযাপনেরও সাক্ষী হতে পেরেছি। সেই বিবেচনায় আমি যথেষ্টই সৌভাগ্যবান। জীবনের এতগুলো রুপ দেখা সবার ভাগ্যে জোটে না। আমার স্কুল জীবনের শেষ সময় কেটেছে জে এম সেন হাইস্কুলে। সেখান থেকেই আমি এস এস সি পাস করি। স্কুলে বরাবরই ভাল ছাত্র ছিলাম যদিও কখনও ফার্স্ট হতে পারিনি। কিন্ত সেকেন্ড-র্থাডের মধ্যে থাকতাম। আমার খুব ঘনিষ্ট এক বন্ধু যে সবসময়ই ক্লাসে ফার্স্ট হতো ওর নাম জসিম। বর্তমানে সে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি। আর বিঙ্ষু নামের আরেক বন্ধু এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী। আমার ও বিঙ্ষুর মধ্যেই মুলত দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্হানের প্রতিযোগিতা হতো। আমি ক্লাস ফাকিঁ দিয়ে প্রচুর ছবি দেখতাম। ছবির গানগুলো আমাকে বেশ টানতো। একটা খাতায় গানগুলো লিখতাম, গুনগুন করে গাইতাম। বাড়িতে নিয়মিত গানের আসর বসতো। বাউল, বৈরাগীরা প্রায়ই বাসায় এসে গান গাইতো্। তাদের সাথেও গলামিলিয়ে গাইতাম। গানের প্রতি টানট আসে সেখান থেকেই। যদিও মঞ্চে আমি প্রথম গান গাই ক্লাস ফাইভে থাকতে। সংগীতাঙ্গনে আমার যাত্রাশুরু হয় তবলার মাধ্যমে। স্কুলে প্রথম সারির ছাত্র হলেও ইচ্ছা করে বসতাম পেছনের বেঞ্চে। হাত দিয়ে বেঞ্চে বাজাতাম। নানারকম রিদম মাথায় ঘুরতো। সেগুলোই তুলতাম। আমার তবলার প্রতি টান দেখে আমার ঠাকুরদাদা আমাকে একজোড়া তবলা কিনে দেন। এরপর আমি নিয়মিত জাকির হোসেনের তবলা শোনা শুরু করি। মান্নাদে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমারের গান শুনতাম। সেগুলো গাইতাম। ততোদিনে গানের প্রতি আমার আর্কষণের বৃহস্পতি তুঙ্গে। আমি প্রথম গান লিখি ১৯৭৫ সালে। গানটির কথা ছিল এখন আমি ঘরছাড়া বাউলের একতারা। গানটি সুরও করি আমি। স্কুলের একটি নটকে বাউলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। সেখানে গানটি সরাসরি গেয়েছিলাম। একই বছর বাংলাদেশ বেতারে চিটাগাং রেডিওতে তালিকাভুক্ত হই। নবাঙ্কুর নামে একটি অনুষ্ঠানে গান করতাম। ১৯৭৭ সালে আমি প্রথম ব্যান্ড করি। ততোদিনে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে। ব্যান্ডের নাম ছিল রিদম ৭৭।আজকের আইয়ুব বাচ্চু তখন আমার সাথে ছিল। এই ব্যান্ড নিয়ে বিটিভির বর্ণালী অনুষ্ঠানে গানও গাই। রিদম ৭৭ ব্যান্ডে আমরা মূলত ইন্সট্রুমেন্টাল আর ইংলিশ নাম্বার করতাম। পুল সাইডে বাজাতাম। প্রচুর দশর্ক হতো। ১৯৭৮ সালে আমি আরেকটি ব্যান্ড গঠন করি। নাম ফিলিংস। এই ব্যান্ডটির কথা সব সংগীতপ্রেমীই জানেন। এটাও জানেন যে ব্যান্ডটি আমার সৃষ্টি। এমনকি নামাটিও আমার দেয়া। ফিলিংসেও বাচ্চুও আমার সাথে ছিল। ব্যান্ডে আরো ছিলো তৎকালীন মং রাজার ছেলে মংগু, রাজার আরেক ছেলে গুলু ও রডি। তখন আমি কিবোর্ড বাজাতাম, বাচ্চু ছিলো লিড গিটারিষ্ট, গুলু ড্রামার। মংগু বেজ আর রুডি ছিল রিদম গিটারিস্ট। মংগু এখন নিজেই রাজা। ভাবতেই ভালো লাগে আমি রাজার বন্ধু।
ফিলিংস নিয়ে আমি কয়েক বছর কাটাই।
Add as favourites (89) | Quote this article on your site | Views: 880
|