| Change of Music |
|
|
|
শেষ কবে হল0020ঘরে গিয়ে ছবি দেখেছেন
এটা মনে করতে অনেকেই হয়তো বিস্তত ঘাম ঝরাতে হবে। ব্যস্ততার কারনে নাটক এর মতো এক
মাধ্যমে হয়তো সাথে হয়তো অনেকের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন । কিন্তু যদি বলা হয় শেষ
কবে গান শুনেছেন এর প্রশ্নের সুদুত্তর দিতে পারবেন এমন মানুষের বোধকরি অভাব হবে না
। আসলে প্রতিটি মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিনোদনের যে চাহিদা সেখানে সংগীত তথা
গানের অবস্থান এতোটাই শক্তিশালী যে সংস্কৃতিক নানা ধরনের তুলনামুলক আলোচনায় সংগীতের
উপস্থিতিটা চোখে পড়ে একটু ভিন্ন ভাবে । গান শুনতে সময় করে হলঘরে যেতে হয়না । কিংবা
নিয়ম মেনে টিভির সামনে বসতে হয়না । তাই মানুষ মনের খোরাক মেটাতে ডুব দেয় সুরের
সাগরে। প্রতিদিনের জীবন যাত্রায় কখনো কখনো যেমন আয়োজন করে গান শূনতে হয় তেমনি নানা
মাধ্যমের হাত ধরে কিছু গান আপনাতেই প্রবেশ করে কানে। বলা যায় গানের এই সহজ সাবলীল
উপস্থিতি এবং সুরের প্রতি মানুষের মানুষের সহজাত টানই গান তথা সংগীতকে যুগে যুগে
জনপ্রিয় করে তুলেছে বিভিন্ন দেশে ও জাতিগোষ্টী শ্রোতাদের মাঝে। বিশ্বের অন্যান্য
দেশের সংগীত ঐতিহ্যর কথা বলা মুশকিলতবে আমাদের দেশে গানের যে দীর্ঘ
ইতিহাস ও ঐতিহ্য সেটা কিন্তু সংস্কৃতির অন্য কোন মাধ্যমে দেখা যায় না । আর বিশ্ব
সঙ্গীতে সমীহ আদায় করে নানা করে নেয়া
আমাদের দেশীয় সংগীতের ইতিহাস কম দিনের নয়। হাজার বছর ধরে
ধাপে ধাপে বাংলা গানের যে উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে তাক এক অর্থে তুলনা
করা চলে এক বিশাল মহী রুহের সাথে। এ মহীরুহের প্রতিটি শাখা প্রশাখাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
রয়েছে আমাদের বাংলা গানের এক একটি অধ্যায়। বাংলা গানের এক একটি রত্নতুল্য অধ্যায়
বাংলা গানের হাজারো সমৃদ্ধ ইতিহাসের বলতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও
সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক মৃদুলকান্তি চক্রবতী বলেছেন নানা সময়ের
বাংলা গান সন্মিলেন ও একীকরনের মাধুর্যে বিকাশ লাভ করেছে । কথা ও সুরের যুগল
মিলনের মধ্য দিয়ে এক রকখিক পথে স্বকীয় করে নেয়া হয়েছে যার পরিচয় পাওয়া যায় কীর্তন
ও বাউল গানে। বাংলা গানের বিকাশের প্রাথমিক সময়টিতে তুলনামুলকভাবে
হিন্দুরা সঙ্গীত চর্চার প্রতি বেশি মনযোগী ছিলেন তারপর ক্রমে ক্রমে এটি বিস্তর হয়ে
পড়ে সমাজের অপরাধ শ্রেনী এবং ধর্মের মানুষের মাঝেও। সাধারন পল্লীগায়ে যেখানে
শ্রোতাদের প্রিয় গান ছিল হাসন রাজা ,ভাওয়াইয়া,ভাটিয়ালী, বৈষ্ণব কিংবা মুশিদী
সেখানে শহুরী মানুষের বাড়তি কদর ছিল টপ্পা, খেয়াল,ধ্রুপদী, ঠুমরী কিংবা
গজলের মতো গান । পরবর্তী সময়ে শাস্ত্রীয় ঘরনার এই সব সংগীতের সাথে দ্বিজেন্দ্রলাল
রায়, রজনীকান্ত , রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের গান। আর বাঙ্গা্লী শ্রোতাদের কানে এই সব
গানের রেস কাটতে না কাটতে উনিশ শতকে একটি উল্লেখযোগ্য সময়
জুড়েই সৌখিন
বাঙ্গালীর গান শোনার অন্যতম প্রধান অবলম্বন ছিল গ্রামোফোন। আর
যাদের সামথ্যের কাধটা অতোটা চওড়া ছিল না
তারা অনেকটা নিয়ম করেই শুনতেন
আকাশবানী রেডিও প্রিয় ছিল প্রায় সব শ্রেনীর শ্রোতাদের কাছে । এছাড়াও প্রয়োজনীয়
রেকড বা লং প্লেয়ার দুষ্প্রাপ্যতার কারনে রেডীও ছিল প্রায় সব মানুষের কাছে
রেডীও জনপ্রিয়তা এই প্রাথমিক যুগে ক্রমেই বাড়তে থাকে আমাদের গান শোনার পরিধি ।
হেমেন্ত দে, মান্না দে আর সলীল চৌধুরী মতো প্রতিশ্রুতিশীল গায়কদের গান পৌছে যায়
প্রতিটি সঙ্গীতপ্রেমী বাঙ্গালীর ঘরে। অন্যদিকে চিন্ময়, সুবিনয় রায়, সাগর সেন,
কনিকা গঙ্গোপাধ্যায়, ফিরোজা বেগম প্রমুখ শিল্পীর হাত ধরে প্রভৃতি
জনপ্রিয়তা অর্জন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং নজরুল সঙ্গীত গীতিও এদিকে প্রায় কাছাকাছি
সময়ে নতুন একটি সংগীত ধারা হিসেবে দেশীয় শ্রোতাদের মাঝে ক্রমেই জনপ্রিয়তা বাড়তে
থাকে চলচিত্রের গানের । মুলত স্বাধীনতা পরর্বীতে সময়ে রেডিও
সম্প্রচার পরিধি যেমন বাড়ে তেমনি বাড়তে থাকে এর সহজলাভ্যতা। আর এ কারনেই সত্তরের
দশকের মধ্যভাগ থেকে আশির দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেশীয় শ্রোতাদের কাছে গান শোনার
একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে। অনুরোধের আসর আর বানিজ্যিক কার্যক্রমের হাত ধরে
ক্রমেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠতে থাকে বাংলা চলচ্চিত্রের গান। সেই সাথে আব্দুল আলিম
কিংবা আব্বাসউদ্দিনের মতো প্রথিযশা শিল্পীর হাত ধরে রেডিও গানের মাঝে আলাদা একটা
অবস্থান তৈরী করে নিতে সক্ষম হয় পল্লীগানও। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো ক্যাসেট কিংবা
স্যাটেলাইট প্রচলন না থাকায় আশির দশকে মাঝামাঝি সময়েও আমাদের গানের তালিকায় ছিল না
হিন্দি বা ইংরেজী গান। যদিও বেতার বাংলাদেশ এক্সটেনশনে এ সময়ে সীমিত আকারে প্রচারিত
হতো হিন্দি কিছু গান এবং পাশ্চাত্যের জনপ্রিয় ইংরেজী গান। অন্যদিকে অভিজাত
শ্রোতারা তাদের লং প্লেতেও বাজাতেন এলভিসি কিংবা বিটলস এর গান।
আশির দশকে প্রমথার্ধ থেকে আবারো নতুন মাত্রা যুক্ত হয় আমাদের
গান শোনার অভ্যাস। ক্যাসেট প্লেয়ারের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে একটু একটু করে। যাত্রা
শুরু হয় বাংলা গানের ক্যাসেটেও। এ পেক্ষাপটে ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বাংলাদেশের
প্রথম ক্যাসেট। আর তারপর থেকেই প্রতি বছরেই ক্রমে ক্রমে বাড়তে থাকে এই অডিও
প্রকাশনার হার। সেই সাথে বাড়তে থাকে অডিও আলবাম করা দেশীয় শিল্পীদের সংখ্যায়। আশির
দশক থেকে নব্বয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্টোরী সিস্টেমের সহজলাভভতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি বৈচিত্রপুর্ন হতে থাকে
পুরো নব্বই দশক জুড়ে ।এতো গেল গানের ধরন আর গান শোনার নানা পরিবর্তন গল্প।
তবে শিল্পী না থাকলে যেমন শিল্পসৃষ্টি হয়না
তেমনি সঙ্গীতের পরিবর্তন হয়না । দেশীয় শ্রোতাদের সংগীত মনস্কতা এবং
বৈচিত্রপুর্ন গানের উপস্থিতি কারনে হাল আমলে সলো শিল্পীদের গ্রহনযোগ্যতা অতীতের
যেকোন সময়ের চাইতেই অনেক বেশি। এছাড়া যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় সঙ্গীতের প্রানপুরুষ
হিসেবে রয়ে গেছেন তারাও তারুন্যের সাথে অনেকটা হাত ধরাধরি করেই শ্রোতাদের
উপহার দিচ্চেন ভাল মানের গান। আজ থেকে বছর দশেক আগেও যেখানে ঈদ উৎসবের বাইরে আলবাম
রিলিজের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা এখন সেখানেই ঈদে তো বটেই । আধুনিক বিশ্বের সাথে
তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের গত কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত বিরতীতে আয়োজিত হয়ে আসছে বেশ কিছু
মিউজিক্যাল ট্যালেন্ট হান্ট প্রতোযোগিতা। তবে আয়োজনের বিশলতায় এবং প্রতিযোগিতায়
পরবর্তী সময়ে ওঠে আসা শিল্পীদের পৃষ্টপোষ্কতায় পেক্ষাপটে যে প্লাটফর্মটি সবসাময়িক
সময়ে সবচেয়ে বেশি সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতাটি। গত কয়েকবছর
এই একটি প্লাটফর্ম সুবাদে আমাদের দেশীয় দশক এবং শ্রোতারা একদিকে যেমন দেশের আনাচে
কানাচে ছড়িয়ে থাকা বহু তৃনমুল শিল্পীদের গান শুনতে পেরেছে তেমনি এই প্লাটফর্মটি মাধ্যমে
বেরিয়ে এসেছে তারুন্যনির্ভর বহু শিল্পীরাও। Add as favourites (54) | Quote this article on your site | Views: 330
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





