| Boot/Shoes |
|
|
|
বুট দ্য ইনফিনিট ফ্যাশন
‘ফ্যাশন নামক ব্যাপারটি কেবল পোশাক-পরিচ্ছদেই সীমাবদ্ধ থাকতে তা নয়। ফ্যাশনের বিচারণ থাকতে হবে আকাশে- বাতাসেও। ফ্যাশন ঘুরবে দেশের সড়কে সড়কে। যে জীবন আমরা যাপন করছি প্রতিদিন, যা ঘটছে আমাদের চারপাশে তাই উঠে আসবে ফ্যাশন। কারণ ফ্যাশন তৈরি হবে জ্ঞান আর সৃজনশীলতার দারুন মিশেলে।’- কোকো শ্যানেল
ফ্যাশন তাই প্রতিটি মুহূর্তে মাথার চুল থেকে পায়ের জুতো পর্যন্ত তার প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। সেই প্রভাবেই তরান্বিত হয় বিবর্তনে। তা সত্ত্বেও এমন কিছু ফ্যাশন এলিমেন্ট রয়েছেন যেগুলো বিবর্তনের ধারাকে খুব একটা পাত্তা না দিয়ে নিজেদের সব সময়েই রেখেছে শক্তিশালী অবস্থানে, আলোচিনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ফ্যাশন জগতে তেমন একটা অনুষঙ্গ হচ্ছে ‘বুট’।
বুট ফ্যাশন জগতে এখনো বেশ কালচার্ড একটি অনিষঙ্গ। আমাদের দেশি তরুণ-তরুণীদের পায়ে এখনো পর্যন্ত বুট খুব একটা দেখা না গেলেও ইউরোপ এবং আমেরিকায় কিন্তু বুটের আজকাল বেশ কদর। বিলেতি তরুণীরা নিজেদেরকে বটম ফোল্ড মিনিস্কার্ট আর স্টকিংয়ে গলিয়ে দিয়ে পদযুগলে খুব আগ্রহভরেই পরে নিচ্ছে এক জোড়া অ্যাঙ্কেল হাইট বুট। অথবা টাইট হিপস্টার জিন্সের সাথে নী-হাইট বুট। বাড়তি পাওয়া হিসেবে ফ্যাশনেবল শীতের আগমনী বাতাস ফ্যাশনসচেতন নাচুনি বুড়িদের জন্য ঢোলের বাড়ির মতো হু হু করে বইতে শুরু করেছে খোদ লন্ডন, প্যারিস, নিউইয়র্ক থেকে। দেশের একমাএ বাংলা ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ক্যানভাস’ তাই এই ফ্যাশন দাবানলে ঘৃতাহুতি দিতে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে বুট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য। ক্লাসিফিকেশন থেকে শুরু করে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ট্রেন্ড...সবই থাকল আপনাদের বুটেবল করতে। আপনিও হতে পারেন এ দেশের ফ্যাশন ম্যানিয়াকদের মধ্যে বুটের প্রথমসারির একজন কদরদাতা।
ফ্যাশন একটি দেশের সংস্কৃতির বেশ উল্লেখযোগ্য অংশ। এর চর্চায় অনুসরণ বা অনুকরণে দোষ নেই, তবে তা দৃষ্টিশক্তিহীন মানুষের মতো হলেই কাক-ময়ূরের ব্যাপারটির পুনরাবৃত্তি ঘটে।
বুট হচ্ছে এমন এক ধরনের ফুটওয়্যার, যা আপনার পায়ের আঙুল থেকে শুরু করে গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে রাখবে, হ্মেএবিশেষে ঢাকা পড়বে আপনার হাঁটু পর্যন্ত। তবে কিছুটা হলেও হিল না থাকলে বুট হিসেবে গন্য করা হবে না জুতোটিকে। যারা একটু হলেও ফ্যাশনসচেতন তাদের মধ্যে বুট পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। তবে আমাদের দেশে বুটের চল এখনও স্টাইলিস্ট ফটোগ্রাফির জন্য আর নামীদামী ক্লাব গুলোয় নাইট-আউটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ পাশ্চাত্যের ইয়ংস্টাররা এখন চুটিয়ে বুট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শহরের রাস্তায়। কেউ কেউ বলেন, বুট শুধু শীতের সময় পরার মতো জুতো। তবে এই কথা মানতে নারাজ আমি। সঠিক ম্যাটেলিয়াল, রঙ এবং মাপের বুট আপনার সংগ্রহে থাকলে তো আপনি যে কোন ঋতুতেই পরতে পারেন। বুট আপনাকে কতটুকু ফ্যাশনেবল করবে তা নির্ভর করবে বুটের সাথে পরার জন্য আপনার পোশাক নির্বাচনের ওপর। যেমন ছেলেদের হ্মেত্রে টর্ন আউট ডেনিম ট্রাউজার্স, চেক শার্ট আর হাইলেংথ বুট একজন পুরুষকে যতটুকু ড্যাশিং ওয়াইল্ড মেল্ হিসেবে প্রকাশ করবে, অন্যকিছুর সাথে হাইলেংথ বুট ততটা মানানসই নাও হতে পারে। আবার মেয়েদের হ্মেত্রে লো কাট চাইনিজ শার্ট, হিপস্টার জিন্স আর ওএজ্ বুট দেবে দারুন গ্রুভি আর সেক্সি লুক। তবে এই ওএজ্ বুটই আন্য কোন আউটফিটের সঙ্গে ততটা ম্যাচ করবে না। আপনার চাহিদা অনুযায়ী মিনি থেকে লং- যে কোন লেংথের স্কার্টের সঙ্গে দিব্যি ম্যাচ করে কিংবা অনুষ্ঠানের চরিত্রকে মাথায় রেখে পরতে পারেন অ্যাঙ্কেল থেকে নী-যে কোন হাইটের বুট। বুটের ফ্যাশনের সাথে আরেকটি ব্যাপার বেশ ভালভাবেই সংশ্লিষ্ট রয়েছে, আর তা হচ্ছে জিন্স। টাইট ফিট, লো কাট বা কখনো স্ট্রেইট প্যাটার্নের ডেনিম প্যান্টের সাথে আপনি এক্সট্রা হাইট, কাউবয় বুট বা গো গো বুট পরে বেড়াতে পারেন অনায়াসেই। শুধু বুটের সাথে পরার জন্য বুটকাট তো আছেই। তবে যে ধরনের বুটই পরুন না কেন, আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে বুটের আদ্যোপান্ত। ফ্যাশনের ট্রেনে ছুটে চলা গ্যালোপিং বুট ঘোড়ার পিঠে টগবগিয়ে ছুটেছে মধ্যবয়সী এক যুবক। ছিপছপে শরীর। তামাটে রঙ। বুনো এ যুবকের কোমরে ঝুলছে মোষের সিংয়ের বাঁটওয়ালা পিস্তল; কাঁধে ঝোলানো সদ্য কিনে আনা চকচকে উইনচেস্টার। নির্ঘম জ্বলজ্বলে চোখ, খোঁচা খোঁচা দাড়ি পাটের আঁশের মতো চুল জানান দিচ্ছে তার প্রতিশোধের স্পৃহা। সামনের দুর্গম গিরিপথ পারি দিয়ে তবেই তাকে দাঁড়াতে হবে শত্রুর মুখোমুখি। তার কঠিন পা জোড়া ঢেকে দিয়েছে নিখাদ চামড়ার একজোড়া বুট। হ্ম্যাপা জীবনের পরম বন্ধু। ওয়েস্টার্ন গল্পে এমন হাজারো পশ্চিমা রাখালি বুটের উল্লেখ রয়েছে।
এই যে সময়ের ধারায় সভ্যতার পরিবর্তন, মানুষের হাল-চাল, পোশাক কিংবা আউটলুকে-ঠিক তেমনি সভ্যতার উৎকর্ষে ভর করে বুট তার চেহারায় বদল এনেছে বারবার। চলুন না বুটের সঙ্গে আমরাও একটু ঘুরে আসি ইতিহাসের পথে-প্রান্তরে! মসোপটেমিয়ান বুটঃ খ্রিস্টপূর্ব ৩ হাজার থেকে ১৪ শ’ বছর আগের কথা। সভ্যতার এ পর্যায়ে মসোপটেমিয়ানরা বুট তৈরিতে ব্যবহার করেছে ছাগলের চামড়া। বুট যাতে পায়ের সঙ্গে আঁটসাঁট করে রাখা যায় সেজন্য তারা বুটের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে চামড়ার ফিতা। ছেলে ও মেয়েদের জন্য তৈরি এই সময়ের বুটের উচ্চতা পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত। বুটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চামড়ার ফিতা তৈরি হতো,যা ঢাকা থাকত হাঁটু পর্যন্ত। হাঁটু পর্যন্ত চামড়ায় আচ্ছাদনের কারণ ছিল-যাতে শিকারে গিয়ে বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে পা দুটো রহ্মা করা যায়। বুট গুলোর সোল ছিল লাল, সাদা কিংবা হলুদ রঙের। মোটা বুটের সঙ্গে বুনন দিয়ে আটকে দেয়া হতো তা । মেয়েরা সাধারণত বুটহীন পায়ে চলাফেরা করত। কিংন্তু প্রাচীন গ্রীসের নারী যোদ্ধাদের কথা ভিন্ন। তারা পুরুষদের মতো একই ধরনের বুট পায়ে চলাফেরা করত। প্রাচীন গ্রীসের এসব সৈনিকের বুটগুলো ছিল বেশ উঁচু। বুট তৈরি হতো পায়ের মাপের ফিটিংয়ে। এ সময়ের কিছু বুটের সামনের অংশ ছিল খোলা। খ্রিস্টপূর্ব ৫ অব্দে এসে গ্রীসের মানুষদের বুটে আধুনিকতার ছাপ পড়ে। এ সময়ে যুবকদের মাঝে সাদা রঙের বুটের প্রতি দুর্বলতা দেখা যায়। যে গুলো ছিল কিছুটা ঢিলেঢালাভাবে তৈরি। কিছু বুটের উপরের অংশে নীল ও সবুজ রঙের চামরা দিয়ে অলঙ্করণ করা হতো। অত্রাস্খান সভ্যতায় বুটঃ পশুর চামড়া দিয়ে বুট তৈরিতে বেশ দহ্মতার পরিচয় দেয় অত্রাস্খান সভ্যতা। তাদের উঁচু এবং নিচু বুটগুলোর অগ্রভাগ (আঙ্গুলের অংশ) কিছুটা বাঁকানো থাকে। এসব বুট তাদের পায়ের নিম্নিভাগকে আবৃত করে রাখত। বুটের উপরের অংশ আলাদাভাবে চামড়া দিয়ে আটকে রাখার ব্যবস্থা থাকত। খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০ অব্দে এসব বুটের অস্তিত্ব দেখা যায়। তবে এ সময় এক মজার কান্ড ঘটে, যাজকরা বুটকে অলৌকিক শক্তির চিহ্ন হিসেবে সবার কাছে ব্যাখ্যা দিতে থাকে। বুট তৈরিতে চামড়ার সঙ্গে মেটালের ব্যবহারও এ সময়ই শুরু হয়। কিছু কিছু বুটে চলে আসে রঙ এবং প্রান্তদেশে করা হয়। এমব্রয়ডারি। ফলে এ সময়ের বুটকে ফ্যাশনেবল বুটেন সূচনালগ্ন বলা যেতে পারে। রোমান সভ্যতায় বুটঃ রোমানরা বেশিরভাগ সময়ই বুট পরে চলাফেরা করত। কারণ প্রচন্ড ঠান্ডা থেকে পা দুটো রহ্মা করার অন্য কোন উপায় ছিল না। এ সময় রোমান সৈন্যদের বুটের শুকতলা ছিল বুটিযুক্ত। তবে তাদের বুটের ডিজাইন পদমর্যাদাভেদে কিছুটা ভিন্ন ছিল। সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা পেত সবচেয়ে ভাল মানের বুট। বিজয়ী রোমান সৈনিকরা যখন দেশে ফিরত তখন তাদের ভারি বুটগুলো ফিরিয়ে নেয়া হতো এবং সেগুলো ফেরত দেয়া হতো স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা সহকারে। একই কারণে একবার জুলিয়াসসিজারকেও সস্মানিত করা হয় এক জড়ো সোনার বুট দিয়ে। আর এরপরই সাধারণ রোমানবাসীদের ভেতর বুটকে ঘিরে বাড়তি কৌতূহল দেখা দেয়। তারাও মিলিটারি বুক কে নিজেদের করে নেয়।আবার তাদের কেউ কেউ বেছে নেয় কৃষিকাযে নিয়োজিত শ্রমিক দের পশম চামরার জুত। রোমান সভ্যতার শেষ দিকে তৈরী হাই বুতে ফিতা ব্যাবহার কারা হতো। কাল বুটের সঙ্গে ব্যাবহার করা হত সাদা ফিতা। বুতকে ফ্যশনেবল করতে বুতের অগ্রভাগে তারা যুক্ত করত অর্ধচন্দ্রকারে সোনা কিনবা রুপা।
সভ্যাতার পার্ট চুকিএ হাল আমলে ফিরি। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির কল্যানে নিত্যনতুন ডিজাইন আসছে ফ্যাশন ট্রেন্ডে। স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের যুগে দুরের ডিজাইন চলে আসছে আমাদের ড্রইংরুমে।তার দিন কয়েক বাদে সেসব বুট ধরা দেয় আমাদেরঘারে। তাই বুটের কদর যেমন বারছে তেমনি বারছে তার ব্যাপ্তি। গো-গো বুট--এই বুট কেবল মেয়েদের জন্য তৈরী হয়। “গো গো ড্যান্সিং” কে কেন্দ্র করে এটি সর্বপ্রথম ১৯৬০ সালে তৈরী হয়।শুরুর দিকে তৈরী হওয়া গো গো বুটের রঙ সাদা ছিল।লো হিল এ বুট মেয়েদের পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢাকা থাকত। সেই ১৯৬০ সালে তৈরী হওয়া গো গো বুট তাই বর্তমানেও মেয়েদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। কিংকি বুট এ বুটের ভিন্ন দুটি নাম হচ্ছে তাই হাই বুট, থাই লেংথ বুট। বুট উচ্চতায় ঊরু পর্যন্ত গিয়ে পৌছায়। বুটের হিল ছিলো বেশ উচু। কিংকি বুটে সংমিশ্রন ঘটে অদ্ভুত সব কালারের। ম্যাডোনার পা এই কিংকি বুট দেখা গেছে একাধিকবার।
Add as favourites (25) | Quote this article on your site | Views: 194
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





