|
বলিউডের ভিন্ন যাত্রা
২০০৭ সালে অধিকাংশ হিন্দি ছবি নির্মাতা ছবি নির্মানে র
ক্ষেত্রে সহজ ফর্মুলার পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক নির্মাতা সেই পথ
অতিক্রম করতে পেরেছেন। ২০০৭ সালে ছবির বাজার মাধ্যম পন্থা অবলম্বন করে ছবির
শিরোনাম আর বক্স অফিস , দুটোর উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এবং সেইজন্যই
সেই ছবিগুলো ভিন্নতা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে । শাহরুখ খানের বিগ গ্রসিং ছবি ওম শান্তি ওম কিংবা সঞ্চয় লীলা বনসালীর
সাওয়ারিয়া । ২০০৭ এর সম্ভবনাময় ছবি হিসেবে ছবির বাজারে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি ।
এমনকি কমেডী নির্ভর ছবি। পাটনার যা কিনা লক্ষ লক্ষ স্মরনীয় বলা যায় না ।
মাঝখান থেকে তিনটি প্রধান ছবি চাদের আলোর নুড়ি পাথর যেমন চমকে ওঠে তেমনি ভাবে চমক
দেখিয়ে গেল চাক দে ইন্ডিয়া লাইফ ইন এ মেট্রো এবং অতি সাম্প্রতিক তারে জমিন পর।
রাকেশ মেহরা পরিচালিত রং দে বাসন্তী এবং লাগে রাহে মুন্নাভাই ২০০৬
এ বলিউডে চমক দেখিয়েছিলেন। আমিরের পরিচালনা ২০০৭ এ এসে পূর্নতা পেল তারে জমিন পর-
এর মধ্য দিয়ে। এছাড়া চাক দে ইন্ডিয়া তারে জমিন পর এর কোনোটাতেই চিরাচরিত লাভ সং বা আইটেম ট্র্যাক ছিল না ।
এমনকি প্রচলিত কোন নায়িকা ছিল না । চাক দে ইন্ডিয়াতে পরিচালক শিমিত আমিন
একদল মহিলা হকি প্লেয়ারের ছোট্ট জীবন কাহিনী । তুলে এনেছেন যারা নিজেরা নিজেদেরকে
নিয়ন্ত্রন করে এবং জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে
চায়। তারে জমিন পর এ পরিচলক আমিন খান দশকদের গাইডের ট্যুরে নিয়ে যান, একটি ছোট
ছেলের মন ও হদৃয় এবং হৃদ্যতায় এবং পূর্ন এই ছবিটি দশকদের আনন্দ দিয়েছে,
শিক্ষা দিয়েছে এবং চিন্তাধারাকে উন্নত করেছে । এই দুটো ছবিতে ছাচে ঢালা চিরাচারিত
বিষয়গুলোর অনুপস্থিতি এবং পরিচালকের সহজাত নিজস্ব চিন্তাধারা তাদের শক্তিরুপে
প্রকাশ পেয়েছে। এই ছবি তাদের নিজস্বতা বজায় রেখে প্রবাহিত হয়েছে বলে বলিউডে
সাহসী ও নতুন ধারার ছবির সুচনা হিসেবে একে ধরা যায় ।এ দিকে অনুরাগ বসু
লাইফ ইন মেট্রো ছিল সহজ সরল ও কিছুটা মজার যা মধ্যেবিত্ত মফস্বলের মানুষের জীবনকে
ঘিরে আবতিত ।এখানে কঙ্গনা রানাউতকে দেখা গেছে উচ্চাকাঙ্গী অফিস গার্ল হিসেবে ।
শারমিন জোসী একজন এক্সিকিউটিভ । কে কে মেনন
এবং শিল্পা শেঠা হাজব্যান্ড ওয়াইফ, ইরফান খান ছিলেন ফানি ক্যারেক্টর এবং
কঙ্গনা সেন শর্মা ছিলেন জীবনসঙ্গী অন্বেষনিকারী তরুনী। বছরের সেরা চরিত্রগুলো
মেট্রো সিনেমায় আবার্তিত হয়েছে । এই ছবির সফলতা ছবিবোদ্ধাদের পরিপক্কতাকেই নির্দেশ
করে। ২০০৭-এর অন্যান্য সফল ছবিগুলো হল শুরু পার্টনার, যার উই মেট এবং নামাস্তে
লন্ডন। শুরু বাদে ছবিগুলো দশকের হাসিয়েছে মূলত ২০০৭ সালকে কেন্দ্র করে কমেডী ছবি
নির্মিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি । পাটর্নার ও ধামাল থেকে শুরু করে কমিক - কাম -সাইকো
থ্রিলার ভুলভুলাইয়া, ভেজা ফ্রাই,থেকে হেই বেবী, কমেডী ছবির কোন অভাব ছিল
না । এমনকি এক্সপেরিমেন্টাল ছবি হানিমুন ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড দশকের হাসিয়েছে । তবে সব কটা কমেডী
ছবিই কিন্তু বক্স অফিসে হিট করেনী। বোম্বে টু গোয়া এবং ফুল । এন
ফাইনাল দুটি ছিল ফ্লপ। কমেডী ছবির উন্নতির কৃতিত্ব বেশির ভাগই অক্ষয় কুমারের ।২০০৭
এ তার সফল ছবি নামাস্তে লন্ডন, হেই বেবি ভুল্ভুলাইয়া সবগুলোর ছিল
জনপ্রিয়তার শীর্ষে। হঠাৎ করেই স্পোটর্স বিষয়ক ছবি নির্মানে দেখা যায় বলিউডে। তার
মধ্যে চাক দে ইন্ডিয়া এবং বক্সিং অফিসে
সাড়া ফেলতে সক্ষম হলেও ফুটবল মুভি ফ্লপ করে। ২০০৭ কে বলিউডের এক্সপেরিমেন্টাল
ইয়ার বলা যায়। ভেজা ফ্রাই মনোয়ারা সিক্স ফিট আন্ডার এবং নো স্মোকিং ছিল
মিশ্র ধরনের ছবি । ভেজা ফ্রাই একটি ফেঞ্চ ফিল্ম লি ডিনার ডি কনস এর ছায়ায় তৈরী
হয়েছিল। নবাগত পরিচালক নবদ্বীপ সিং এর মনোয়ার মতো জনি গাদ্দার ও ২০০৭ এর সবচেয়ে
বিফল এবং দুভার্গা ছবি হিসেবে মনোয়ান পান।
জনির
পরিচালক শিরাম রান্নাঘর এক সময় বলিউডের বেস্ট থ্রিলার ছবির পরিচালক হিসেবে খ্যাত
ছিলেন। রামগোপাল ভামাও ছিলেন এই দলে । তবে তিনি সবকিছু ছাপিয়ে দশকদের মন জয় করার করার
কৌশলটা ভালোই রপ্ত করতে পেয়েছিলেন। যাব উই মেট ছিল হলিউডের ছবি । ইট হ্যাপেন্ড
ওয়ান নাইট এর দেশি ভাসন । এর সুন্দর হাস্যরসাত্মক প্রতিটি ডায়লগ এবং বিশেষ করে
নায়িকা কারিনা কাপুরের ভাটিন্ডা গার্ল চরিত্রে অভিনয় ছবিটিকে সফলতা শীষে নিয়ে আসে।
এই ছবিটি প্রমান করেছে যে একটি হিট ছবি হিট করার জন্য আসলে
কোটি কোটী টাকা পাবলিসিটি বাজেট করার
দরকার হয় না । সবশেষে হিসাবে দেখা যায়২০০৭ সাল ছিল বিভিন্ন
প্রকার ছবির উন্নতির বছর। যেখানে ওম শান্তি ওম এবং তারে জমিন পর ছিল মানুষের হাতে
হাতে। এর সঙ্গে ছিল মসলাদার কমেডি ছবি পার্টানার হানিমুন ট্রাভেলস এবং
ভেজা ফ্রাই । অ্যাকশনধর্মী ছবির মধ্যে গুট আউড আর জনি গাদ্দার কিছুটা ঝিমিয়ে ছিল
এবং হা এর সঙ্গে ছিল রাখি সাওয়ান্তের চমক বুড্ডা মার গ্যায়া।
Add as favourites (50) | Quote this article on your site | Views: 260
|