| Bodies Art |
|
|
|
শরীরের ক্যানভাসে
চার্লস ডারউনের কথা মনে আছে? নাকি নেই ? ঐ যে
মানুষের বিবর্তবাদের তত্ত্ব দিয়ে সারা দুনিয়ার ঝড় তুললেন যে মানুষটি । বিবর্তনবাদী
এই মানুষটিই ১৮৩১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের প্লাইমাউথ বন্দর থেকে
বিগল নামক জাহাজে সমুদ্রে পাড়ি জমালেন । পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো তার অনেকদিনের
শখ । সেই সখ পুরন করতে একটানা পাঁচ বছর
ডারউইন ঘুরে বেড়ালেন কতশত জাইগা । সমুদ্র ,দ্বীপ, উপদ্বীপ আর মহাদেশ - কোনকিছুই বাদ
পড়ল না । ফিরে এসে ভ্রমনকালীন অভীক্ষতা
বর্ননা করতে গিয়ে একদিন তিনি সহকর্মীকে বললেন - পৃথিবীতে এমন কোন জাতি দেখিনি ,যারা ট্যাটু ব্যবহার করে
না । ব্যাস তার এই বয়ানেই ইংল্যান্ডজুড়ে শুরু
হলো শরীরের ক্যানভাসে ট্যাটু গড়ার
হিড়িক । ট্যাটুর এই মহোৎসব থেকে বাদ পড়েনি তার অপ্রত্যাশিত শ্ত্রুরাও যারা
বিবতবাদের জন্য তার থেকে সরাসরি একশ আশি ডিগ্রি বিপরীত অবস্থান করত । এ যাবত
পৃথিবীতে যত প্রাচীর আর্ট
ফর্ম টিকে আছে তার অন্যতম হলো ট্যাটু। ট্যাটুর আবিস্কার কিভাবে
ঘটেছিল সে ব্যাপারে গ্রহনযোগ্য কোন তথ্য অদ্যাবতধি মেলেনি । তবে অনেকেই ধারনা,
ট্যাটুর উৎপত্তি ঘটেছে নিছক একটি দুর্ঘটনা হাত ধরে । ধারনাকারীদের মতে - এটি আদিম
যুগের কথা । তখন মানুষেরা সভ্যতার দৌড় কেবল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মাংশ খাওয়া পর্যন্তই।
অর্ধনগ্ন আদিম মানুষগুলো কোন একদিন ভোজন পর্ব শেষে আমোদ -প্রমোদ ব্যস্ত । এমন সময়
বেখায়ালেই একজন পড়ে গেল ছাইচাপা আগুনে। সাথে সাথে হাতের বেশ খানিকটা অংশ ঝলসে গেল
তার ।তারপর প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে একদিন সেই পোড়া অংশটুকু
শুকিয়ে গেল । চারিদিকে অন্য সবার নজর পড়ল ততদিনে ।অদ্ভুত সুন্দর এক ডিজাইনের
সৃষ্টি হয়েছে জাইগাটিতে । সবার চোখ আটকে গেল সেখানটাই -বাহ , মজার তো এমন সুন্দর ডিজাইনও সম্ভব তারপর দলের অন্যরাও ধরল
একই পধ । আয়োজন করে শরীর পুড়িয়ে আঁকতে লাগল ট্যাটু। দিনে দনে দুনিয়াজোড়া
মানুষ নিজেকে সাজানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করল প্রাচীন এই আর্ট ফর্মকে । তবে ট্যাটু
তৈ্রির প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্টভাবে পৃথিবীর কোন এক জাইগা থেকে বিকশিত হয়নি ।
সকল সম্প্রদায় ও জাতিই কম -বেশি এর বিকাশে
সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে । এ কথাও তো ঠিক , নিজের শরীর একটি
ট্যাটু আঁকতে যে দুর্দান্ত সাহস আর মানসিকতা প্রয়োজন তা আবার সকলের থাকেনা। থাকে
কি?
সম্ভবত অন্যান্য দেশের তুলনায় ট্যাটুর দাপট বেশি দূরপ্রাচ্যেও
ব্রিটেনের দ্বীপগুলোতে । প্রাচীনকালে অভিজাত ব্রিটিশরা দল বেধেঁ ট্যাটু আঁকতে । এর পেছনে জটিল কোন কারন
নেই। সেখানকার মানুষদের একটি জনপ্রিয় খেলা ছিল ঘোরদৌড় ।
ঘোড়ওয়াররা ছিল কিছুটা বুনো,কিছুটা স্টাইলিশ । তামাটে বর্ন , চ্যাপ্টা শরীর আর হ্যাট মাথায় চড়ানো এ ঘোড়সওয়াদের দেহে
মানিয়ে যেত বেশ । অবশ্য এ সময়ে ট্যাটু
আঁকানোর জন্য শরীর পোড়ানোর কোন প্রয়োজন
পড়েনি । ট্যাটু আঁকানোর জন্য ব্যবহার করা হতো ধাতব কিংবা বাঁশের
কাঠি । অনেক পরে হলেও এসব কাঠির প্রচন্ড যন্ত্রনা থেকে উতরে যাওয়ার পথ
পালটে দেন আমেরিকান -আইরিশ নাগরিক স্যামুয়েল ও-রিলি ।কারন ১৮৯১ সালে তিনিই প্রথম
আবিস্কার করেন ইলেক্ট্রিক ট্যাটু মেশিন । অবশ্য এই মেশিন আবিস্কারের আগে পযন্ত
কিছুকাল ট্যাটু আঁকানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হত টমাস আলফা এডিসনের আবিস্কৃত
অটোগ্রাফিক প্রিন্টিংপেন । অতীতে ট্যাটু আঁকানোর বেশ কিছু নির্দশন এখনও টিকে আছে ।লন্ডনের
ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রয়েছে সিডনি পাকিংসনের আঁকা অনেক ট্যাটু ,ট্যাটুর যণ্ডপাতি এবং
শরীরে ট্যাটু ।আঁকানো মানুষের ছবি ।১৭৭৩ সালে তার
প্রকাসিত বইয়ে পাওয়া যায় ট্যাটু নিয়ে অনেক তথ্য ।আর বিখ্যাত এই ট্যাটু আটিস্ট এসব
জ্ঞান অর্জন করেন তাহিতি দ্বীপপুঞ্জের
মাওরি উপজাতির কাছ থেকে । কারন এই সময়ে উপজাতির ছিল ট্যাটু শিল্পের প্রধান রক্ষক।
হালচাল
একটা সময় পর্যন্ত ট্যাটু ছিল আদিবাসী সম্প্রদায়
কালচার । বিভিন্ন দেশের উপজাতি সম্প্রদায় শরীরে ট্যাটু আঁকতো তাদের আভিজাত্যে
প্রকাশ ঘটাতে । আদিবাসি বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ ট্যাটু আঁকলেও সাধারন মানুষের
ভেতর এর প্রভাব ছিল খুবই কম । এক সময় ট্যাটুর অনুপ্রবেশ ঘটে পাংক কালচারে । তারপ্র এই প্রাচীন
শিল্পকে গায়ে মাখান সঙ্গীত তারকারা । পরবর্তীতে একে একে ফুটবলার , চলচ্চিত্র তারকা
, মডেল তারকা ওরেস্লাররা । আর হাল আমলে তো ফ্যাশণেবল যে কোন তরুন -তরুনীর শরীরেই
উঁকি মারে এক একটি মন ছুয়ে যাওয়া ট্যাটু । ফলে সময়ের বিবতনে ফ্যাশনে এ অনুঙ্গটি
এসেছে নানা রূপ ও রঙ । রয়েছে এটির শাখা প্রশাখা ট্রাইবাল ট্যাটু , চাইনিজ ট্যাটু ,
হিস্টিক্যাল ট্যাটু ,অ্যারাবিক ট্যাটু , সেলিব্রিটি ট্যাটু ,এনিমেলস ট্যাটু ,
ফ্লাওয়ার ট্যাটু ,আর কতশত ট্যাটু আবার ট্যাটু্র
ক্ষেত্রে ছেলে -মেয়েদের রয়েছে ভেদ । মেয়েদের পছন্দের
তালিকায় থাকে ফুল, মাছ, গাছ,পাখী, ঘোড়া কিংবা প্রিয়জনের নাম । আঁকানোর জাইগা হিসেবে তাদের পছন্দ হাত ও পায়ের
অনাবৃত অংশটুকু । অথবা একটু যারা সাহসী তাদের পিঠের আর বেশী বাটনে অন্যদিকে
ছেলেদের পুরো শরীরই ট্যাটুর বিচরন ক্ষেত্রে । বেশিভাগের পছন্দ ট্রাইবাল
ট্যাটু সাপ, ড্রাগন,চাইনিজ ট্যাটু ।
তারায়
তারায় রটে গেল
নব্বই দশকের গোড়ায় দিকের কথা । ধানমন্ডির সাজু তখন ক্লাস এইট কি নাইনের ছাত্র । লেখাপড়া
বাদ দিয়ে সময় দেয়া যায় এমন লোক তার একজনই। নাম তার জন ফ্রান্সিস বনজ়োভী । বনজো।
বনজোভির গানের প্রতি সে এতই আকৃষ্ট যে ,প্লেয়ারে
তার গান ছেড়ে দিলে পৃথিবীতে সাজুর আর কোন দাবি থাকে না । ইটস মাই লাইফ
খ্যাত এই রকস্টারের ভিডিও দেখতেই সাজু প্রেমে পড়ে যায় বনজোভির শরীরে আঁকা ট্যাটুগুলোর
ব্যাস , ট্যাটুর খোঁজে সে চলে গেল ইংল্যান্ড। কারন তখনও এ দেশের ট্যাটুর
ব্যাবসায়িক যাত্রা শুরু হয়নি । ইংল্যান্ড থেকে ফেরার সময় সে বুকে ধরে
নিয়ে আসে ট্রাইবাল ট্যাটু ।।কেবল সাজু নয়
,ব্যাপারটি তাবৎ দুনিয়ার ছেলে -মেয়েদের ক্ষেত্রে ট্যাটু জনপ্রিয়তা সমান । প্রিয়
তারকার স্টাইলে আকৃষ্ট হয়ে তারা নিজেরাও সাজতে থাকে একই সাজে । এই যে , গত
বছরের মে মাসে ইউএসএ উইক এন্ড প্রকাশ করেছে তাদের ১৯তম বার্ষিক টিন
সার্ডে।তাতে দেখা গেছে, আমেরিকার ৫৮ভাগ
টিনেজার শরীরে ট্যাটু আঁকার প্রিয়
তারাকার ট্যাটু । Add as favourites (44) | Quote this article on your site | Views: 334
Write Comment
|
||||||||||||||||||
| < Prev | Next > |
|---|






