| Bibi Rasel |
|
|
|
বিবির বাড়িতে একদিন
দেশ বরেন্য সেলিব্রেটি হিসেবে বিবি রাসেল বহুবার সাংবাদিকের
মুখোমুখি হয়েছেন ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং
সেশনে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু একেবারে ব্যাপারটা অন্যরকম। এই প্রথম তিনি সাংবাদিকের
মুখোমুখি হলেন বাসায়। লিভিং রুম থেকে বেড রুম। বিবি রাসেল মনে করেন
প্রতিটি মানুষের জন্য তার বাসাটা হল একান্ত নিজের জায়গায় । সারাদিনের কাজ
শেষ বাসায় এসে মানুষ রিলাক্স হন । বাসায় তিনি পেশাগত জীবনের কাজ করতে রাজি নন।
অফিস আর বাসা দুটো তার কাছে দুই ভূবন। বাসায় বড় জোর কাজের পরিকল্পনা করা যায় ।
বিবি রাসেলের দীর্ঘদিন ঘুম থেকে উঠা অভ্যাস। দেশের বাইরে যখন ছিলেন তখনও
আর্লি রাইজার ছিলেন। ১৩ বছর ধরে দেশে বাস করেছেন এখনও সেই অভ্যাস বজায় রেখেছেন।
তিনি বললেন কখনো বেলা ৯টা ১০টা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমি যখন লন্ডন
কলেজে পড়তাম আমাদের ক্লাস শুরু হতো পনে ৯টায় । কিন্তু পড়াশুনার পাশাপাশি
আমি চাকরি করতাম সেই পোষ্ট বিলির কাজটা । কাজ শেষে কলেজে ছুটতাম পড়াশুনা শেষে
ফুলটাইম প্রফেশনাল লাইফে গিয়ে ৮টা আগেই আমি অফিসে ঢুকতাম কোনোদিন কেউ বলতে পারবে
না বিবি দেরি করে এসেছে । আসলে বিদেশের মাটিতে আমরা যে
কাজটা করতাম সেক্টরটারটা ছিল খুবই কম্পারেটিভ । দিনের শুরুতেই যদি কর্মক্ষেত্রে
যেতে দেরি করে ফেলি তাহলে সব কাজই পরে দেরি হয়ে যায় । এ ব্যাপারে বাংলাদেশে অফিসে
আমি খুব কড়া। নিধারিত সময়ে আমি অফিসে ঢুকি বিবি প্রোডাক্টের কর্মীরাও সেটা অনুসরন
করে। তাছাড়া কাজের প্রয়োজনে প্রায় আমাকে গ্রামে যেতে হয়। যেদিন গ্রামে যাবো সেদিন
ভোরেই আমি বিছানা ছাড়ি । ভোরের জার্নিটা আমার খুব ভাল লাগে ।
ঢাকার বাইরে যেতে হলে তাই আমি খুব ভোরেই রওনা দেই ।
গ্রাম থেকেই বিভিন্ন হস্ত ও কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর অর্ডার
নিয়ে এবং প্রোডাক্ট সাপ্লাই দিন্তে অনেক মেয়েই অফিসে আসেন। অফিসে তার খাওয়া দাওয়া
করেন আড্ডা দেন। গ্রামের মেয়েদের জড়তা কাটানোর জন্য গ্রুফিংটা পান বিবি রাসেলের
কাছ থেকে । তিনি তাদের বোঝান , কেন মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়া দরকার বিকল্প উপার্জন
হিসেবে ঘরে বসে কি কি করা যেতে পারে সাশ্রয়ী ও সঞ্চায়ী হওয়ার যুক্তি বিবি
তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন । মেয়েরাও তাদের সুখ দুখের কথা বিবির
সাথে শেয়ার করতে পছন্দ করে। এই কাজ সেই কাজ করতে করতে প্রায় প্রতিদিন ৮ টা ৯ টা
বেজে যায়। নিজের কাজের সম্পকে বিবি রাসেল বলেন আমি এক সাথে একাধিক কাজ করতে পারি
না । আমার ভিশন একটায়। আমি একি দিকেই ফোকাস। আমি মনে করি আমি যে এম্বিশন নিয়ে কাজ
করছি সেটা চালিয়ে যেতে পারলে গ্রাম বাংলাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারব। আমি সেই
প্লাটফর্মটি তুলে ধরা জন্য জীবনের শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাব , বিশ্ব
বিখ্যাত কোরগ্রাফিগ্রাফদের সঙ্গে কাজ করে আন্তজাতিক অংনে মডেল হিসেবে বিবি রাসেল
অর্জন করেছেন ব্যাপক পরিচিতি। সেই খ্যারি বর্তমানে তিনি ইউনোস্কের বিশেষ দুত
মনোনীত হয়েছেন । কাজেই বছরে দুই তিনবার তাকে দেশের বাইরে যেতে হয়। যে দেশেই যান না
কেন সব সময় চেষ্ঠা করেন বাংলাকে তুলে ধরতে। বিবি রাসেলে তৎপরতায় ইউরোপে
তৈ্রী হয়েছে আমাদের তাতের কাপড় , জামদানী গ্রামীন চেক প্রভৃতি চাহিদা। পাশাপাশি
তার উদ্যোগে ইউরোপের বড় বড় ডিপাটমেণ্টাল
স্টোরে আজকাল বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশে হস্তজাত সামগ্রী। যার মধ্যে রয়েছে পাঠের
তৈ্রী ব্যাগ ও কার্পেট শীতল পাটি, নকশী কাথা, বেতের মোড়া , কাসার থালাবাসন,
মাটির গয়না , পুতুল, মুখোশ।
তবে অবাক করা ঘটনা হলো বাইরের দেশে বিবি প্রোডাক্ট পৌছে দেবার
পরেও বাংলাদেশে তার কোন শোরুম নেই । এই প্রসঙ্গে বিবি রাসেল বলেন অনেকেই দূর থেকে
অনেক কিছু মনে করেন। অনেকের ধারনা না জানি বিবি রাসেলের কত ক্যাপিটাল কিন্তু আসল খবর হলো ঢাকার শহরে বিবি প্রোডাক্টের একটা শোরুম খোলার মত আর্থিক
অবস্থা আমার নেই। খুবই সামান্য কমিশন রেখে আমার প্রোডাক্ট এক্সপোট করি ।
বিবি রাসেলের বাসায় কোন বাড়তি কাজের লোক নেই একজন ছোট ঝি এসে
ঘরদোর পরিস্কার করে দিয়ে যান । মা শামসুন্নাহার মৃত্যুর পর পুরো ফ্ল্যাটে একাই থাকেন। নিজের কাজ নিজেই করতে পছন্দ করেন
বংশপরস্পর তিনি জমিদার বংশের মেয়ে। ঢাকার শিল্প সংস্কৃতির অংনে বিবি রাসেলের বাবা
প্রায়াত মোখলেসুর রহমান ওরফে সিধু ভাই
ছিলেন খুব পরিচিত মুখ। তাদের পুরানো বাড়ি ৩১, রাংকিন স্ট্রিট, ওয়ারীতে জ্ঞানী
গুনী অনেক মানুষই আসতেন। এই
বাড়িতে প্রথম ছায়ানট প্রতিষ্ঠিত হয়। এক শিল্পমনা ও উদার পরিবারেরি বেড়ে ওঠেন বিবি
রাসেল । ৫ ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান ৩য় ভাইবোন দের প্রত্যেকেই ব্রিলিয়ান্ট ও দেশ
বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। ছোট বেলায় একাডেমিক পড়াশুনা ভাল লাগত না । পড়ার ফাকি
দেয়ার জন্য সেলায়ের কাযে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন । ক্লাস ওঠার ফোরে ওঠার পরে নিজের
কাপড় নিজেই সেলায় করে পরতেন । এটা দেখে বাবা
১০ বছর বয়সেই তাকে সেলাই মেশিন কিনে দেন । ঢাকার হোম ইকোমিক্সের উপর
গ্রাজুয়েশন শেষ বিবি রাসেল লন্ডন যান এবং লন্ডন কলেজ থেকে কলেজ অব ফ্যাশন থেকে
ডিগ্রি নেন। লন্ডনেই ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল হিসেবে তিনি হয়ে ওঠেন সেলিব্রেটি ।
আশির দশকে ইউরোপের টপ মডলের মধ্যে বিবি
রাসেল একজন। বিদেশের মাটিতে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন ভিনদেশী এক পুরুষকে । বিবি
রাসেলের দুই ছেলে বিকি ও ওমর, দুজনই লন্ডনে গ্রাজুয়েশন করছে। ফোনে প্রতিদিনই মায়ের
সাথে কথা হয় । বছরের একবার অন্তত তিনি ছেলেদের সাথে সময় কাটানোর জন্য চেষ্ঠা করেন।
Add as favourites (208) | Quote this article on your site | Views: 1120
Write Comment
|
||||||||||||||||||
| Next > |
|---|






