|
Page 1 of 2
বিউটি কুইন রেসি
স্বপ্নের রসদ ফুরোতে না ফুরাতেই ঢালিউডে নিয়ে এলো ঘুম কেড়ে
নেওয়া এক সুন্দরী। মৃদুলা আহমেদ রসি । তাকে দেখে চোখ ফেরানো কঠিন । উত্তপ্ত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও
গিয়েছে আগুনের বারুদ, পুরুষ মনে, সবার মনে রেসী। সবাইকে পেছনে ফেলে। হঠাৎ মনে হল
স্বপ্নটা ফিকে হয়ে আসছে । আধো ঘুম চোখে আসছেনা কেন কোন সুন্দরী,
কেন মনে হচ্ছে না উথালপাথাল । ফিরে আসছে সেই পুরানো মুখগুলো। স্বপ্নে যাদের সাথে
কেটেছে কত রাত কত ভালবাসার মুহুর্ত। মৌসুমি ,পূর্নিমা, শাবনুর , পপি ঘুম ভাংতে না
ভাংতেই চমক। নৈশন্দীনি হাজির পুরুষের হৃদয় পোড়াত। সত্যি পারে ঢালিউড।
বেচে নিয়ে আসে আগামী সুন্দরীকে । যদিও সুন্দরীর সংজ্ঞা কি তাও আজো অনেকের অজানা।
গ্যামারগার্ল রেসি এই ফিল্মি দুনিয়ায় বেশ পুরানো না হলেও একে বারে অনভিক্ষ নন।
প্রিয় দর্শিনী এই মেয়েটি নতুন তালিকায় অনেকের চেয়ে এগিয়ে। কোন বির্তক নেই । কাজ
করছেন আপন মনে । ছুটছেন নিজ গন্তব্য স্থানে । প্রথম ছবি নীল আচল । ওই
ছবিতে কেন্দ্রীয় চরত্রের নায়িকা। ভাবটা বেশ সুদুর প্রসারী। সত্যিকার অর্থে তখন
নায়িকা হয়ে গেছেন । শুধু নায়িকা নই জিলানী আবিস্কার করেন রেসী। একটি অনুষ্ঠানের
নাচের পারফমিংয়ে দেখেছিলেন জিলানী। দেখেই চোখ ফেরানো মুশকিল হয়ে
পড়ে নির্মাতার। সেদিনই জিলানী বুঝতে পেরেছিল রেসির গন্তব্য অসীম। বাস্তব হলে তাই।
গল্পটা রেসি নিজেই। নাচের অনুষ্টানে আমাকে দেখার পর জিলানী ভাই আমার
ঠিকানা এবং নাম্বার খুজে বের করলেন। আমাকে জানালেন তার ছবির কথা। ফিল্মে আসবো এটা
কখনোই চিন্তা করিনি কারন ফিল্মের যে অবস্থা ছিল তাতে পারিবারিক ভাবে
অনেক বাধা ছিল । একদিন আমাকে ফোন করে বললেন রেস্টুরেন্টে আসতে। সে দিন আমার
জন্মদিন ছিল । আমাকে উইশ করা হবে । আমন্ত্রন উপেক্ষা করতে পারলাম না । চলে গেলাম
সেখানে গিয়ে দেখি অবাক কান্ড অনেক মানুষ ।
আমাকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিলেন নীল আচলের নায়িকা হিসেবে তিনি আমাকে
পরিচয় করিয়ে দিলেন । আমি হতবাক হয়ে গেলাম। মুখ দিয়ে আমার কোন শব্দ বের হচ্ছিল না ।
কারন তখনো পর্যন্ত আমি সিউর ছিলাম না আমি ফিল্ম করছি কিনা । কিন্তু আমি না করতে
পারলাম না হয়ে গেলাম নায়িকা
।
পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন ইচ্ছা ছিল একদিন মিডিয়ায় কাজ করবেন ।
তবে সেটা ফিল্মের নায়িকা হয়ে নয়। নাচের একটি স্কুল খুলবেন । সেখানে ছোট্টসোনামনিরা
নাচ শিখবে । ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি
প্রচন্ড দুর্বলতা মেয়েটি। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই
করছেন নৃত্যচর্চা। সোয়াল ফেয়ারে অর্নাস পড়ার পাশাপাশি নিজেকে গড়েছেন সেভাবেই।
কিন্তু যখনই নায়িকা হবার ঘোষনা , সবকিছু রেসির জীবন পালটে দিল । শুরু করলেন দিবা
রাত্রি আউট ওয়াক । সেই সঙ্গে তেল মশলার
টান। কয়েকটা মাস নাকি হালকা খাবার খেয়ে। কটা ভয় শুরুতেই যদি মুটিয়ে যায় । কটি মাস
হালকা খাবার কাটিয়ে দিয়েছেন হাতে নাতে কেষ্ট মিলছে । বাবা নেই মায়ের শাসন
আদুরে মানুষ রেসি। এক ভাইকে নিয়েই তাদের ছোট্ট সংসার। চাচা, মামারা ছিল অভিভাবক।
ফিল্ম ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে। ফিল্ম ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে সব চেয়ে বেশি
আপত্তি ছিল চাচা মামাদের কাছ থেকে। তাই ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি থেকে ডাক
পেয়েও অনেক আগে থেকেই কিছু করতে পারেন নি। একসময় জিদ চাপলো মনে । যে যাই বলুক। আমি
করবোই এমনটি একটি গেথে গেল মনে । প্রযোজন হলে আত্বীয়তার বন্ধন ছিন্ন করব,
তবুও নিজেকে প্রতিষ্টিত করব। কিছুটা থেমে আবার বললেন - জানেন আমাকে যারা ফিল্মে
কাজ করতে
বাধা দিয়েছিল , তারাই আজকে আমার পরিচয় দিয়ে নিজেদের জাহির করে। নিয়মিত
খোজ নেন, ঠিকমত খাচ্ছি কিনা , ঠিকমত ঘুমাচ্ছি কিনা । প্রথম প্রথম খুব কষ্ট লাগত।
এখন অবশ্য অনেকটা সয়ে গেছে । সবাইকে আপন করে নিয়েছি ।
Add as favourites (116) | Quote this article on your site | Views: 761
|