|
আশা’র ৭৫
সংগীত আমার নিসশ্বাসের মতো,যেদিন তা থেমে
যাবে,সেদিন আমার নিসশ্বাসও থেমে যাবে। সংগীতের প্রতি নিজের ভালবাসাটা এভাবেই
প্রকাশ করেন আশা ভোঁসলে।গত ৮ সেপ্টেম্বর ৭৫-এ পা রাখন ভারতের সংগীত জগতের এই
অনবদ্য প্রতিভা।৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে শ্রোতাদের নতুন একটি অ্যালবাম
উপহার দেন তিনি। অ্যালবামটি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নিজের র্দীঘ
সঙ্গীত জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন
আশা।বলেন,মানুষের ভালবাসায় এখনো গান করছি,আরো করতে চাই।১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র
মঝা বল-এ চালা চালা লাভ বালা গানটি মঠ্য দিয়ে সংগীত
ক্যারিয়ার শুরু হয় আশা ভোঁসলের।তখন তার বয়েস মাত্র ১০।অসাধারণ কন্ঠের অধিকারী আশা শৈশবে সঙ্গীতের তালিম নেন বাবা পন্ডিতে দীননাথ মুঙ্গেশকর এবং বড় বোন
লতা মুঙ্গেশকরের কাছে।১৯৪৮ সালে চুনারিয়া ছবিতে সাওয়ান আয়া গানটির মাধ্যমে বলিউডে
যাত্রা শুরু হয় তার।এ যাবৎ বহু অভিনেত্রী ঠোঁট মিলিয়েছেন তার গানে।নতুন থেকে ওয়াহিদা রহমান,রেখা থেকে উর্মিলা
মাতন্ডকর এমন কি শর্মিতা শেঠী পর্যন্ত।প্রায় ৫ দশকেরও বেশি সময় ভারতীয় চলচ্চিত্রাঙ্গানে
সুর ছরিয়ে চলেছে তার কন্ঠ।এ সময় তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে বড় বোন লতা মুঙ্গেশকর,গীতা দত্ত,শামাহদ বেগম,সুরাইয়াদের মতো শিল্পীর সঙ্গ,যারা সে সময় প্লেব্যাকে
রাজত্ব করেছিলেন।আশ সম্পর্কে বড় বোন লতা মুঙ্গেশকর গর্ব করে বলেন,আশার বিদ্রোহী প্রকৃতি এবং পরাজয়ের মনোভঙ্গি তার চির তরুন বৈচিত্র্যময়
কন্ঠের যাত্রাকে আরো উচ্চতায় নিয়ে গেছে।সে তার সমস্ত কিছুই অর্জন করেছে
শক্ত পরিশ্রমে।দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এযাবৎ ১৪ টি ভাষায় গান করেছেন লতা।তার গাওয়া গানের
সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।সংগীতের বিচিত্র পথে তার বিচরণ ঘটেছে।বাংলায় যেমন গেয়েছেন
রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক গান তেমনি গেয়েছেন ইন্ডিয়ান
রাপ,গজল।তার কন্ঠর মায়াজাল ছরিয়ে পড়েছে ভারতের সীমানা পেরিয়ে পুরো উপমহাদেশে
জুড়ে।জনপ্রিয়তা,খ্যাতি,সন্মান সবই ধরা দিয়েছে তার দুপায়ে।অনেক বড় বড় পুরস্কারে
সমৃদ্ধ হয়েছে তার ভান্ডারে।১৯৮১সালে উমরাও জান ছবির দিল চিজ কিয়া হ্যায় এবং ১৯৮৬
সালে ইজাযাত ছবির মেরা কুচ সামান গানের জন্য জাতীয় পুরুস্কার পান।১৯৯৭ সালে ওস্তাদ
আলী আকবর খানের সঙ্গে লিগেসি অ্যালবামের জন্য প্রথম
ভারতীয় শিল্পী হিসেবে গ্র্যেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পান আশা।ভারতীয় চলচ্চিত্রে
বিশেষ অবদানের জন্য ২০০০ সালে তাকে দেওয়া হয় দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার।ভারতের
অমরাবতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সন্মানসূচক ডক্টরেট
ডিগ্রি প্রদান করেন আশাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষত করে।
Add as favourites (64) | Quote this article on your site | Views: 486
|