| Article Index |
|
Arju Nama
|
|
Page 2
|
Page 1 of 2
আরজু নামা
জায়গার নাম মুন্সিপাড়া। চট্রগামে বোয়াল খালী থানা
মুন্সিপাড়া গ্রাম। সেই গ্রামে অনেক পরিবার মাঝে একটি পরিবার যার কর্তা ছিলেন
আব্দুল রাজ্জাক। তিনি একজন সরকারী কর্মকতা ছিলেন এবং কর্ত্রী লুৎফর নাহার বেগম
একজন গৃহবধু। এই পরিবারের তিন ভাই তিন বোনের মাঝে একদিন মায়ের কোল আলো করে জন্ম
নিল এক ফুটফুটে শিশু , যে কিনা হল পরিবারের সর্বকনিষ্ট সদস্য । তিনি বাংলাদেশের
চলচ্চিত্রের নতুন তারকা নায়ক আরজু। আরজুর শৈশব কৈশোর কেটেছে চট্রগ্রামে । খেলায় খেলায় তার দিন
কাটাতো। কিন্তু শুধু কি খেলায় কি হয় লেখা পড়া তো করতে হবে ভর্তি হল স্কুলে। একটু
ডানপিটে হয়ে ওঠলেন । দলবেধে মারামারি কোন কিছুতেই পিছিয়ে নেই তিনি।
খরনদ্বীপ হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করলেন । এরপর ভর্তি হলেন
চট্রগ্রাম কলেজে সেখান থেকে অর্থনীতিতে অনার্স সহ মাষ্টার্স পাশ করলেন। এইচ এস সি
পড়ার সময় ১৯৯৫ সালে গ্রুপ থিয়েটার তির্যক এ যোগ দেন। অভিনয়ের
উপর ওয়াকশর্প
যোগ দেন। চট্রগ্রাম টেলিভিশন শুরু হওয়ার পর উপস্থাপনায় যোগ দেন। ১৯৯৯ সালে
মেকাপম্যাম আহাদের সাথে পরিচয় হয়। তিনি আরজুকে ঢাকায় এসে কাজ করার জন্য উৎসাহ দেন।
সেই প্রথম কাজ করতে ঢাকায় আসা। কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছে আরজু। এটিএন বাংলা
ফয়সাল এর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন একুশের জন্য নির্মিত তারিকা আনাম ও
নিমা রহমানের ৪ পর্বের নাটকে অভিনয় করেন। শাহবাগস্থ বহুরুপী নাট্যসম্প্রদায়ের সাথে
জড়িত হন । পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন নাটকে অংশ গ্রহন করেন। ২০০১ সালে
এটিএন বাংলার হাসিবুল ইসলাম নিজামের সাথে দেখা হয় । তিনি তার ছবিতে অভিনয় করার
জন্য অফার করেন । কিন্তু সে সময় আরজু নিজেকে উপযুক্ত মনে করেনি ।
হাসিবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ রেখেই চললেন । ২০০৬ সালের শেষের দিকে এসে তাকে
বললেন, আমি প্রস্তুত । এভাবেই চলচ্চিত্রের সাতে যোগ হয়ে গেলেন আরজু । ১৯৯৬ সালে হাসিবুল
ইসলামের তুমি আছো হৃদয়ে ছবির মধ্যে দিয়ে শুরু হল নায়ক আরজুর চলচ্চিত্রে যাত্রা।
আরজুর প্রথম শুটিং হয় রাঙ্গামাটিতে এবং এক টেকেই শটটা ওকে হওয়ার পর সবাই তাকে
হাততালি দিয়ে উৎসাহিত করেছিলেন। শেখার প্রচন্ড আগ্রহ আরজুর। কোন শটটা কেমন হবে,
সংলাপ ঠিক আছে কিনা ,পোশাক আশাক ঠিক আছে কিনা
সংতিপুর্ন আছে কিনা এইসব ব্যাপারে আরজু ছিলেন প্রচন্ড সচেতন। সংলাপ কি ভাবে
বলতে হবে , কিভাবে অভিনয় করতে হবে সব ব্যাপারেই অভিক্ষ শিল্পী এবং পরিচালকদের
কাছে শিখেছেন। প্রথম ছবি তুমি আছো হৃদয়ে মুক্তি পাবার পর লাইম লাইটে চলে আসেন
আরজু। মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের অভিক্ষতা তাকে এক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা করেছে
বলে মনে করে আরজু। দর্শক হিসেবে মধুমিতা হলে প্রথম দিন সন্ধ্যায় নিজের অভিনীত ছবি
দেখতে গিয়েছিলেন আরজু । সঙ্গে ছিলেন পরিচালক, সাংবাদিক সহ অনেকে। ছবিতে
আমার উপসস্থিতি দর্শক পজেটিভ ভাবে গ্রহন করেছে । ছবি শেষ হওয়ার পর অনেক
দর্শক আমাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানিয়েছে নতুন হিসেবে দর্শকের ভালবাসা পাওয়াকে
সৌভাগ্য বলে মনে করেন আরজু। প্রিয় ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত সালমান শাহর মত হতে চান
আরজু। আকশ্যন কিংবা রোমান্টিক যেটা হোক না কেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখা যায় এমন ছবি
করতে চায় আরজু। আরজু জানান তার পরিবার রক্ষনশীল। অভিনয়ের ক্ষেত্রে তার পরিবার থেকে
বাধা ছিল । সে বাধা তাকে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরনা দিয়েছে । প্রথম ছবির সাফল্যোর
পর অনেক ছবির অফারই আসছে তার কাছে । কিন্তু ভেবে চিন্তে ছবিতে সাইন করছেন । কে এম
ফিরোজ বাবুর পরিচালণায় জলসাঘর, সায়মন তারিক এবং কাজী আলমগীরের পরিচালনায় দুটি নতুন
ছবিতে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন । এছাড়া হাসিবুল ইসলাম মিজানের পরিচালিত
চাই শুধু তোমাকে শেষ করেছেন। নতুনদের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে আরজু জানান নতুনদের
নিয়ে অনেকে কাজ করতে চান না । কিন্তু আমি মনে করি নামী দামী পরিচালকরা প্রচেষ্টা
নিলে আমাদের চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে। অনেক প্রতিভাবান ছেলে মেয়ে বের হয়ে আসবে
ভাল গান গাইতে পারনে আরজু। তবে তিনি নিজেকে বাথরুম সিংগার বলে দাবি করেন গান
গাওয়াটা নিতান্তই শখের । কিন্তু প্রথম ছবিতে তার নিজের সুরে গাওয়া
ভালোবাসি বন্ধুরেভালোবাসি দশকের রীতিমত ভালোলেগে যাওয়াতে বিপদে পড়েছেন আরজু । এখন
প্রতিটি ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি তাকে একটি করে গান গাওয়ার স্পেশাল অফার থাকে । চায়
শুধু তোমাকে ছবিতে নিজের সুরে সামিনা চৌধুরীর সাথে ডুয়েট গান চোখ মেলে দেখ না ,
হৃদয় দিয়ে দেখ না গানটি করেছেন। প্রেম করেন কিনা জানতে চাইলে আরজু জানান ১৯৯৬ সাল
থেকে একটি মেয়েকে পছন্দ করতেন। কিন্তু তাকে জানাতে পারেননি। অনেকেই আমাকে পছন্দ
করেন নানা ভাবে অফার করেন। আমি বিনয়ের সাথে তাদেরকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিই। ভবিষৎতে
এমন কিছু ছবি করতে চায় যা দশকের হৃদয়ে আমাকে অমর করে রাখবে।
Add as favourites (83) | Quote this article on your site | Views: 548
|