| Afzal and Faridy |
|
|
Page 1 of 3
আফজাল ফরীদি দশ বছর পর
আফজালের
হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ ৩০ বছরের বন্ধুত্বের কথা
বললেন । এই বছর তাদের বন্ধুত্বের ৩০ বছর পূর্ন হলো । আমাদের নুরুল হুদার দশ বছর
আগে আফজাল হোসেনের সঙ্গে হিতংকর নামে একটি ঈদের নাটক
করেছিলেন সেটার কথা বললেন ।
হেমন্তের দুপুর রোদের তেমন তেজ নেই এমন
সোনালী রোদে ভিজতে ভিজতে পৌঁছালাম উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরের একুশ
নম্বর রোডের সাত নম্বর বাড়ি আশ্রয়ে । ঘড়ির কাঁটা তখন
তিনটা ছুই ছুই করছে । এখানেই চলছে আমাদের নুরুল হুদা ধারাবাহিকের । আজকের দিনটা
অবশ্যই অন্য রকম ।অন্য রকম বললে ভুল হবে । বলা যাবে বেশি অন্যরকম । কেননা অনেক দিন
পর আজকের শুটিংয়ে একসঙ্গে
অভিনয় করবেন আফজাল হোসেন ও হুমায়ন ফরীদি দুজনেই আমাদের দেশের নাম করা প্রতিযশা
অভিনেতা। তাদের দুজনের অভিনয়ের কোনো তুলনা নেই । আশ্রয়ের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ
করতেই ইশারায় এক জন চুপ থাকতে বললেন বুঝতে অসুবিধা হলোনা শুটিং চলছে। তাই খুব
সপ্তর্পনে ভেতরে প্রবেশ করলাম । একটু এগিয়ে যেতেই
একজন পুলিশকে দেখলাম বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন । বিষয়টা প্রথম বুঝতে পারলাম না । একটু
পরেই বুঝতে পারলাম এটা আসল পুলিশ নয় নাটকের জন্য পুলিশের এমন গেটআপ নিয়েছেন। একটু
ভেতরে যেতেই দেখলাম কাপড় দিয়ে চারদিক ঢাকা শুটিং স্পটের একজনকে
জিজ্ঞেস করলাম বিষয়টা কি ? বলল এর ভেতরে হাজতের সেট ফেলা হয়েছে । কেননা
রাতের দৃশ্যে শুটিং হচ্ছে এখন ফটোগ্রাফার সেই কালো কাপড় সরিয়ে খুব নিরবে প্রবেশ
করলাম । আমাদের নুরুল হুদা পরিচালক অরন্য আনোয়ার হাজতের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।হাজতের
এক কোনে মাহফুজ আহমেদ আর শতাব্দী পেপারের ওপর শুয়ে
আছেন। অন্য দিকে আফজাল শরীফের ওপর মাথা দিয়ে শুয়ে আছেন হুমায়ন ফরিদী । পরিচালক
অরন্য আনোয়ার আকশন বলতেই হাজতের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সেন্ট্রি
উচ্চারন আরে মিয়া বাইরে আসেন ।
মোফাকঃ বাইরে কেন মাত্র তো ভোর হয়েছে ।
এখন বাইরে আসতে হবে কেন ?
তোমাদের
ভুলে ধরা হয়েছে আবদেল আমরা এখানে তো ভালোই আছি । যাব না বাদ দেন।
এই কি কও এখন পাগল- ছাগল তো কোনো দিন
দেখিনি ।
মোফাকঃ যে নিজে পাগল ছাগল সে অন্যকে
পাগল ছাগল ভাবে । এই পর্যন্ত শুটিং হয়ে আপাতত লাঞ্চের জন্য ব্রেক দেয়া হল । কিন্তু
বিপত্তি আসল অন্যখানে । হাজতের গেটে তালা দেওয়া ।
বাইরে আসতে পাওছেনা কেউ। অরন্য আর মাহফুজ জলদি তালার চাবি আনতে
বললেন । ভেতর থেকে হুমায়ন গেয়ে ওঠলেন আমি বন্দি কারাগারে সবাই হেসে ওঠলেন তার গান
শুনে । এরপর তালা খুলে বের হলেন সবাই ।
আফজাল হোসেন বের হয়ে কি যেন ভাবতে ভাবতে সোজা
আশ্রয়্বের সামনে রাস্তায় একা একা হাটতে গেলেন । আসলে তিনি এমনিতেই বাইরে গেলেন ।
মনে অনেকদিন বন্দি আছেন হাজতে খোলা আকাশের নিচে হাটতে গেলেন । হুমায়ন ফরিদী বাইরে
এসে চেয়ারে বসে সেটে আসা সাংবাদকদের সাথে
কথা বললেন আরম্ভ করলেন নুরুল হুদা নিয়ে
সঙ্গে একটা নতুন তথ্য দিলেন তিনি নিজেই ।
আমি আর আফজাল অনেক নাটক করেছি কিন্তু এই
প্রথম কোনো সিরিয়ালে একসঙ্গে অভিনয় করলাম। এই নাটকে আমরা দুজনই সত্যবাদি। আর তাই
মানুষ আমদের বোকা মনে করে। কিন্তু আমাদের কাছে পৃথিবীর সবাই বোকা ঘটনা ক্রমে
আমাদের হাজতে যেতে হয় । হূমায়ন ফরিদী মঠোফোনে কয়েকটি
মিস কল এল । ফোনটা হাতে নিয়ে বললেন এমনি ফোন ধরার সময় পাইনা তার ওপর মিসডকল । এর
পর আফজাম হোসেনের সাথে সঙ্গে দীর্ঘ ৩০ বছরের বন্ধুত্বের কথা বললেন ।
এই বছরে তাদের বন্ধুত্ব ৩০ বছর পূর্ন
হলো । আমাদের নুরুল হুদার দশ বছর পূর্বে আফজাল হোসেনের হিতংকর নামে
একটি ঈদের নাটক করেছিলাম সেটার কথা বললেন। অতঃপর লাঞ্চ করার পর্ব হুমায়ন ইউনিটের
একজনকে বললেন আফজালকে ডেকে আনতে । খেতে খেতে এক মজার তথ্য দিলেন হুমায়ন ফরিদী
আফজাল নাকি কখনো খাবার খেতে সালাত খান না । আর ঘুমানোর সময় নাকি
চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ঘুমান ফরীদির এমন তথ্য মিট মিট
করে হাসছিলেন আফজাল হোসেন ।
উপস্থিত সাংবাদিকের উদ্দেশ্য করে বললেন
আরে মিয়া তোমরা আমাদের ভয় পাও আমরা কি বাঘ না ভাল্লুক । এই কথা বলেই নিজেই হেসে
ওঠলেন উচ্চস্বরে । দুই বন্ধুর এমনই কথোপকথন মনোযোগ দিয়ে শুনছেন মাহফুজ আহমেদ অরন্য
আনোয়ার মাজনুন মিজান । তাদের যেন কোনো প্রকার সমস্যা নাহয় এই
জন্য তৎপর মাহফুজ আহমেদ । এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ন ফরীদি বললেন কে নেই এই নাটকে
সবাই আছে । আগামীতে অমিতাভ বচ্চন ঐশ্বরিয়াকে আনতে পারে ওরা । আনলে অবাক হওয়ার কিছু
নেই । এমন কথা শুনে মাহফুজ সহ অনেকেই হাসলেন।
আফজাল হোসেনের সাথে
কাজ করতে কেমন লাগে এই প্রশ্নের জবাবে হুমায়ন
বলেন অভিনয় করতে গেলে সেটা মনে থাকে না । তবে অনেক চিন্তা -ভাবনা করে অভিনয় করতে
হয়। কেননা তখন মাথায় থাকে অভিনয়টা ঠিক মত করতে হবে ।
এরপর মাহফুজ আহমেদ, অরন্য আনোয়ার এই
খ্যাতিমান অভিনেতাকে এক সঙ্গে ছবি তোলার জন্য আশ্রয়ের
ছাদে যাবার জন্য অনুরোধ করা হলো।ফরীদি বললেন এমনি ছবি তুলবো পোস করে তুলতে পারব না
। মাহফুজ বলেন ঠিক আছে চলেন এমনি ছবি তুলব। ছাদের ওপর হলো
ছবি তোলার পর্ব । আফজাল আর হুমায়ন পাশাপাশি দাড়ালেন।একের পর এক ফিতে বন্দি হলেন
দুজন । কখনো দাড়িয়ে , কখনো মখোমুখি, কখনো ঘাড়ে হাত
রেখে ছবি তুললেন দুজন । মাহফুজ , অরন্য যোগ দিলেন কখনো । মাহফুজ বলেন ফরীদি ভাই
আপনি হাসছেন না তো একটু হাসেন মুখটা বিকৃত করে হেসে
বললেন পিকিউলিয়ার হাসি দিয়ে পোজ দিলাম কেমন
হলো।
হঠাৎ করে একটু গম্ভীর হয়ে বললেন আজ আর
কোনো শুটং করবনা । প্যাকআপ মাহফুজ আর অরন্য দুজন দুজনার
দিকে তাকালেন ফরীদি হাসতে হাসতে বললেন অরন্য ভয় পেয়ে গেছে
এরপর আবার শুরু হলো ছবি তোলার পর্ব ।কে একজন বলেন ফরীদি ভাই আপনার জামার মাঝের
বোতাম খোলা ফরীদি বললেন এই ক্যামেরাম্যান ছবিগুলো আবার তোলো না হলে খাইয়া ফালামু
মজার মজার কথা বলে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন পুরো ছবির সময় টুকু
একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে এই নগর জুড়ে
গোধুলির আলোয় আফজাল হোসেনের আর হুমায়নের ফরীদির দুই বন্ধু পাশাপাশি বসে খুলে
দিয়েছেন তাদের গল্পের ঝাঁপি । কীভাবে তাদের প্রথম পরিচয় , বন্ধুত্ব , এক সঙ্গে
নাটক করা। এরই মাঝে মজার একটা ঘটনা বললেন আফজাল
হোসেন ।ফরীদি তখন বিশ্ববিদ্যলয় পড়েন। দু-একটা প্রচারিত হয়েছে । ক্যাম্পাসের কোনো
মেয়ে যদি বলতেন কালকে আপনার অভিনয়টা দেখলাম ভালো
লেগেছে । সঙ্গে সঙ্গে ফরীদি বলতেন কি তাহলে আমাকে বিয়ে করবেন । চলছিলো এমনই গল্পের
বুনন কোনো তাড়া নেই পরিচালকের একসময় দুই বন্ধুই
তাড়া দিলেন শুটিং করার জন্য । তখন সন্ধ্যা । একটা বিষয় লক্ষনীয় দুজনই স্ক্রিপ্ট
পড়ে নিচ্ছিলেন । আবারো হাজতের দৃশ্যে ধারন। মোফাক চরিত্রে হুমায়ন ফরীদি আর আবদেল
চরিত্রে আফজাল হোসেন অভিনয় করেছেন । আফজাল হোসেনের কোলে হুমায়ন ফরীদি শুয়ে আছেন ।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আবদেল রুপী আফজাল হোসেন।
মোফাকঃঘুম পাড়ানী মাসি পিসি মোদের বাড়ি
এসো খাটনেই পালঙ্ক নেই
আবদেলঃ আমার বন্ধুর চোখে বসো।
মোফাকঃ আয় ঘুম আয় ঘুম আয়
সেন্ট্রিঃ এই মোফাক খাইরুল আর আবদেল
আপনারা তৈরী ?
আবদেলঃ আবদেল না আবদেল না জনাব আবদেল
রহমান।
ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে
সাতটা । ফিরতে হবে। থাকতে ইচ্ছে করছিলো আরো কিছুক্ষন। তারপরও বেরিয়ে এলাম আশ্রাম
ছেড়ে । খোলা রাস্তায় । মনের মাঝে তখনো দু
বন্ধুর কথা অভিনয় ভেসে ওঠেছে। নিয়ন আলোয় ভিজে ভিজে ফিরছি। এই দুই বন্ধুর অভিনয়
দেখা যাবে আমাদের নুরুল হুদা ৭০ পর্ব থেকে । প্রিয় দর্শক আর কটা দিন অপেক্ষা করুন সরল
সোজা চরিত্রের দু বন্ধুকে এক সঙ্গে দেখতে হলে। Add as favourites (69) | Quote this article on your site | Views: 836
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| < Prev | Next > |
|---|







