| Afsana Mimi Come back |
|
|
|
আশির দশকের শেষভাগ। ঢাকার মহিলা সমিতি মিলানায়তন ছোট্ট
বারান্দা। সিড়িতে বসে আড্ডা দিচ্ছে প্রানোচ্ছল একদল তরুন নাট্যকর্মী। থিয়েটার ওদের
ধ্যান-জ্ঞান সারাবেলার। এই তরুন দলের
মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল এক মেয়ে। যাকে দেখতে লাগে যেন ঠিক পুতুলের মতো।
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। অল্পদিনেই নিউ বেইলি রোডের চেনামুখ
হয়েওঠেছেন। মেয়েটির নাম আফসানা মিমি আজ আমাদের সবার পরিচিত। শোবিজ মিডিয়ার ঝলমলে
তারকা আজকের এই আফসানা মিমির পথচলা শুরু হয়েছিল মঞ্চে। ১৯৮৬ সালে ব্যতিক্রম
নাট্যক্রম নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে প্রথম মঞ্চে ওঠেন তিন্তি। অভিনয় করেন মনোজ
মিত্রের রাজদর্শন নাটকের রানী চরিত্রে।
গ্রুপ থিয়েটার চর্চার ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী খানিকটা অনিয়মিত
হওয়ায় গাজী বাকায়েতের সঙ্গে আফসানা মিমি যোগ দেন।নাগরিক সম্প্রদায়ের। সেটা ছিল
১৯৮৯ সাল রিহাসেল রুম ঝাড়ু, অডিটোরিয়ামে দশক বসানো। দশকের হাতে নাটকের ব্রুশিয়ার
দেয়া
ইত্যাদি
কাজ গুলো শুরুতে অন্যসব নাট্যকর্মীর মতো আফসানা মিমিকে করতে
হতো। এ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, নাগরিকে এসে কোনো কাজকেই ছোট মনে করিনি। এখানে এসেই
বুঝি থিয়েটার জিনিসটা কি? বুঝতে পারি
অভিনয়ের মতোই থিয়েটারের অন্য কাজগুলো সমান গুরুত্বপুর্ন। থিয়েটারে আমর অরিয়েন্টেশনের
সবটুকু হয়েছে নাগরিকে। আরো স্পষ্ট করে বলা যায়, আলী যাকের ভায়ের মাধ্যমে। তাকে আমি
গুরু বলে মানি। আমি যখন নাগরিকে যুক্ত হই, গ্রুপে ছিল সব বিখ্যাত সব মানুষের সমাবেশ। জামালউদ্দিন হোসেন, রওশন আরা
হোসেন,
আলী যাকের , সারা যাকের ড ইনামুল হোসেন লাকী ইনাম , আবুল হায়াত,
আসাদুজ্জামান নুর, নিমা রহমান, খালেদ খান প্রমুখ । বেটার এসোসিয়েশন যে
কোনো মানুষের ভেতরেই বৈপ্লাবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। নাগরিকে যুক্ত হবার পর
আমার মাঝে তাই হয়েছে।
আফসানা মিমি নাগরিকের হয়ে প্রথম মঞ্চে ওঠেন শেক্সপীয়রের
হ্যামলেট অবল্বনে আলী যাকেরের রচনা ও নির্দেশনায় দর্পন নাটকের
বাজনা দলের ভুমিকায়। নিজ দলের বাইরে আলী যাকের দেশনাটকের দেশনাটকে মনোজ মিত্রের
দপনের শরংশশী নাটকটি নিদেশনা দিয়েছিলেন। দেশনাটকে সে সময় অভিনেত্রী সংকট ছিল।
গেস্ট পারফর্মার হিসেবে আফসানা মিমিকে এ নাটকে অভিনয়ের জন্য ডাকেন আলী যাকের।
মঞ্চে এটাই তার প্রথম অভিনয়। তারপর একে একে অভিনয় করেন নাগরিক সম্প্রদায়ের
প্রযোজনা খাট্টা তামাশা, সৎ মানুষের খোজে, দেওয়ান গাজীর কিচ্ছা, নুরুলদীনের
সারাজীবন, অচলায়তন ইত্যাদি নাটকে। বড় না ছোট, চরিত্রটি কেমন এ ধরনের চিন্তা আফসানা
চিন্তা আফসানা মিমি কখনো করেনি বলে জানালেন। তিনি বলেন দল আমাকে যখন যে
দায়িত্ব দিয়েছে তা পালন করতে চেষ্টা করেছি আন্তরিকভাবেই। যেমন হিন্মতী মা নাটকে
কাজ করেছি মেকআপের নুরুলদীনের সারাজীবন এর কষ্টিউমের দায়িত্বে ছিলাম আমি। থিয়েটার
নিয়ে আমার এম্বিশন এমন ছিল যে কয়েকজন বন্ধু মিলে এই ভাবনা
এমনই ছিল যদি থিয়েটারে করে দুমুঠো খেয়ে পরে বাচা যায় তাহলে ওই নিয়েই থাকতাম।
যাই হোক নন্দন টিকিয়ে রাখতে আমরা পারিনি। টিভির মাধ্যমে ব্যাপক
পরিচিতি পেলেও নাগরিকের জন্য সব সম্য আলাদা সময় রাখতাম। একটা দশক আমি থিয়েটারে
নিমগ্ন থেকেছি। ব্যস্ততা বাড়লেও থিয়েটার ছাড়িনি। কিন্তু ২০০০ পরিবর্তীতে এমন একটা
পরিস্থিতি তৈ্রী হল যে আমাকে থিয়েটার থেকে সরে দাড়াতে হল। এ বিষয়ে আফসানা মিমি
বললেন আমি যখন মাছরাঙ্গা প্রডাকশনের দায়িত্ব নেই ঠিক সে সময়ই
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় রবীন্দ্রনাথের রক্তকবরী নাটকের কাজ শুরু করে। এই নাটকে
নন্দনী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমাকে নির্বাচন করা হয়। দীর্ঘদিন আমি নন্দিনীর আমি
মহড়ায় নিজেকে তৈ্রী করি। কিন্তু চরিত্রটি আমার করা হলো না। কেন করা হল না এ নিয়ে
আমার নিজের মধ্যেই অনেক প্রশ্ন আছে । রক্তকবরী
এর রিহাসেল চলাকালীন আমি ব্যক্তিগত কারনে প্রায় এক
সপ্তাহ গ্রুপে যেতে পারিনি। এটা অবশ্য । এটা অবশ্যই ইনর্ফম করা আমার পক্ষে সম্ভব
হয়নি। ওই সময় নিদেশক আতাউর রহমান আমাকে কোনো ধরনের ছাড় দিতে চাইলেন না । আমাকে
আমার বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেখা হল না । ওই একটা ঘটনার জন্য আমার কাছ থেকে
নন্দিনি চরিত্র কেড়ে নেওয়াকে আমি আমার প্রতি অবিচার বলে মনে করি। এই
কাজটি কাজ করেছেন নিদেশক আতাউর রহমান ভাই নিজের একান্ত তার নিজের একক সিধান্তে।
আমাকে বাদ দেওয়ার আগে একবার তিনি আমার সাথে কথা বলার প্রয়োজন বলে মনে করেননি। আমার
অতীতের কাজের দিকে একবার ফিরে তাকালেন না । বিষয়টি আমি সহজভবে মেনে
নিতে পারিনি। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কক্তকবরী এর
নন্দিণী চরিত্রে মঞ্চে অপি করিমকে দেখা গেছে। আফসান মিমি এ প্রসঙ্গে বলেন নন্দিনী
চরিত্রে অপি করিমকে অসাধারন অভিনয় করেছে। দারুন মানিয়েছে তাকে । এটা আমি ব্যক্তিগত
ভাবে তাকে জানিয়েছে। কাজেই নন্দিণী চরিত্র করতে না পারার
প্রায় একদশক পর মঞ্চে ফিরলেন আফসানা মিমি। প্রাচ্যনাটের তরুন
নাট্যকর্মীদের সঙ্গে মহড়ার অংশ নিয়েছেন প্রায় তিন মাস। রবীন্দ্রনাথের ক্লাসিক্যাল
নাটকা রাজা এর দুদর্শনা চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন নাটকটির নিদেশনা দিয়েছেন
আজাদ আবুল কালাম । এই নাটকে আফসানা মিমিকে অভিনয় করিয়েছেন তিনিই। আফসানা মিমি
বিভিন্ন সময়ে মঞ্চে কাজ না করতে পারায় নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন থিয়েটারের প্রতি তার অফুরান্ত ভালবাসা
সম্পকে। দীর্ঘ বিরতীর পর এমন একটা কঠিন চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন কিনা
তিনিও দ্বিদার মধ্যে ছিল । প্রথম প্রদশীতে
প্রসেনিয়ামে পা রাখার আগে নাভাস ছিল খানিকটা । কিন্তু মঞ্চে ওঠে ছন্দ ফিরে পান সে
ছন্দ নিয়েই রাজা নাটকে প্রতিটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি। লম্বা
বিরতির পর যখন মঞ্চে ফিরে এলেন এই ফেরাটাকে দীর্ঘমেয়াদী রাখতে চান । স্বাগতম মিমির
সদিচ্ছাকে Add as favourites (43) | Quote this article on your site | Views: 119
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





