| Afjal Hosen |
|
|
|
আফজাল হোসেনের সংসার
এক- ধানমন্ডিতে আফজাল হোসেনের বাসায় ঢুকলেই আপনি হয়তো অবাক
হবেন। কেন? সে কথায় বলছি । সৃজনশীল, গুনী মানুষের বাসা বাড়ির বাসা বাড়ির দেয়ালে
সাধানত জল রঙ পেইন্টিং দেখার মতো অনেক কিছুই সাজানো থাকে । কিন্তু আফজাল হোসেনের
বাসার
দেয়াল ফাকা। অফ হোয়াইট কালারের দেয়ালে কোনো কিছুই নেই। এমন
কি পারিবারিক ছবি পর্যন্ত নেই। আফজাল হোসেনের আসল পরিচয় কি? জনপ্রিয় অভিনেতা,
নাট্যকার, কবি, ঔপন্যাসিক, বিজ্ঞাপন নির্মাতা , উপস্থাপক নাকি চিত্রশিল্পী। কোনটাই
কম নয় দুই- ফ্লাশব্যাক। আফজাল হোসেন টিভি মিডিয়ার পর্দা কাপানো তারকা। একজন জনপ্রিয় তারকানিয়ে সাধানত যা হয় প্রেম ভালবাসা- হৃদয়ঘটিত কল্পিত নানা কাহিনী ছড়িয়ে যায়। কাহিনীর ডালপালা গজায় অজান্তে। কারো কারো ক্ষেত্রে কল্পিত কাহিনী সত্যিও হয়। আফজাল হোসেনকে নিয়েও এ ধরনের কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকটা ছিল কল্পনা । কিন্তু আফজাল হোসেন সবাইকে চমকে দিলেন। সংসার সাজালেন এক মেধাবী তরুনীর সাথে । যার সাথে আমি তোমাকে ভালবাসি, তোমাকে ছাড়া বাচব না এ ধরনের সংলাপ বিনিময় হয়নি। মেয়েটি বিদেশে পড়ত ছুটিতে দেশে বেড়াতে এলে আফজালের সাথে দেখা হত কেমন আছ, ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন এ ধরনের আন্তরিক সংলাপ বিনিময় হতো হুট করে সেই মেয়েটির সাথে বিয়ে হয়ে গেল বিষয়টি নাটক নয় একবারে সত্যি।
তিন- পারিবারিকভাবেই মেয়েটির সাথে আফজাল হোসেনের বিয়ে হয়ে গেল
। মেধার দিক থেকে মেয়েটিও আফজাল হোসেনের কম নয়। ছবি আকতে পারে লেখাপড়াতেও পারর্দশী
বিদেশে পড়াশুনা করেছে। গল্প উপন্যাসে এ ধরনের চরিত্র সাধানত কীভাবে আসে বিয়ের পর
মেয়েটি হয়ে গেল উচ্চাকাঙ্গী।খ্যাতি চাই । নিজের পায়ে দাড়াতে চাই
...কিন্তু মেয়েটি প্রচালিত ধারনা বদলে দিল। তুলে নিল একটি সংসারের হাল। অসাধারন
মেধা ও প্রজ্ঞার সাথে সে প্রমান করল সংসার মানেই বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা। তুমি যদি
কাউকে ভালবাস তাহলে তাকে ছেড়ে দাও। স্বাধীনতা দাও । দিন শেষে যদি তোমার কাছে আসে
ভাববে সে তোমার কথা ভাবে। মেয়েটিও এই বিশ্বাস জয়ী হলো।
চার- এবার প্রেরনাদায়ক সেই গল্পের নায়িকার কথা বলি । তার নাম
তাজিন হালীম। ডাক নাম মনা। আফজাল হোসেনের প্রিয়তমা স্ত্রী। মনাই কি বাসার দেয়াল
ফাকা রাখতে বলেছে ? হ্যা মনাই বলেছেন। সাথে রেখেছেন একটি আন্তরিক
প্রস্তাব। যে কথা শুনলে সবাই বললেন আহ সত্যি তো আনন্দ প্রান ভরে গেল। হ্যাঁ আনন্দে
প্রান ভরে যাবার মতোই প্রস্তাবটি। আফজাল হোসেন বাসার দেয়ালে দেশের বিভিন্ন শিল্পীর
আকা ছবি রাখতে চেয়েছিলেন। স্ত্রী মনা আপত্তি করেছেন। মনায় একটাই কথা আফজাল হোসেন
যেহেতু ছবি আকেন। কাজেই বাসায় দেয়ালে শুধু অন্যের আকা ছবি থাকবে, নিজের ঘরে নিজের
আকা ছবি থাকবে না এটা হতে পারেনা। নিজেকে আকতে হবে সেই সাথে অন্যের আকা ছবিও থাকতে
পারে।উত্তম প্রস্তাব। একজন শিল্পীকে সন্মান দেয়ার ক্ষেত্রে এর চেয়ে বড় আর কি হতে
পারে? আশার কথা দশ বছর চেষ্ঠার পর আফজাল হোসেন
এখন নিয়নিত ছবি আকতে শুরু করেছে।
এক জীবনে মানুষ কতটা হ্যাপি হতে পারে?
শেকড়ের অবদান একটুও ভুলে যাননি আফজাল হোসেন। আর সেজন্যই তার জীবনে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনন্টিটিউটের অবদানের কথা বললেন গুরুত্বের সাথে আমার
জীবনে টানিং পয়েন্ট যদি ধরি তা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়া ।
আমি মনে করি জীবনে যতটুকু অর্জন করেছি তার মুলই হও আর্ট কলেজ । আর্ট কলেজ আমার
ধ্যান ধারনা পালটে দিয়েছে । আর্ট কলেজে আমি যখন ঢুকি তখন অত্যন্ত নত মুখ, লাজুক,
চুপচাপ একটি ছেলে। আর্ট কলেজ হলো আত্বপ্রকাশ, আত্ববিশ্বাসের জায়গা।
সেখানে আমি ঢুকেছি নত মুখ নিয়ে। এবং যখন ঢুকেছি তখন মহান মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন
শুরু হয়েছে। ঢাকা শহরে তখন সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে।
মফস্বলের একটি ছেলে ঢাকা শহরে এসেই সংরামের যুক্ত হলো এবং শহর
থেকে চলে গেল। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের কাল প্রত্যেকটি মানুষের জন্য অত্যান্ত
গৌ্রবে বিষয় এজন্য যে, মানুষ নিজেকে আবিস্কার করতে পেরেছে। তা না হলে এদেশের মানুষ
অন্য রকম থাকত । আমরা নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করি এজন্য যে মুক্তিযুদ্ধের সময়টাকে আমরা দেখেছি
এবং মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশের যে উত্থান হয়েছে সেগুলোর আমরা সাথে ছিলাম । আমি
দেখেছি স্বাধীনতার পরে কবিতার উত্থান হয়েছে । সেটার সঙ্গে আমাদের স্পস্ট সংযোগ ছিল
। আমরা দেখেছি চলচ্চিত্রের উত্থান হয়েছে । থিয়েটারের উন্নত হয়েছে । মঞ্চ নাটকের
উত্থানের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হতে পেরেছি। সুতরাং বলব যৌবন কালটা আমার কাছে উল্লেখ
যোগ্য এবং আকর্শনীয়।
প্রেম প্রীতি ভালবাসা এবং আফজাল হোসেনকে ঘিরে একসময় অনেক
কল্পিত কাহিনী প্রচার হয়েছে । কিন্তু তিনি বিয়ে করেন শোবিজে বাইরের একজন মেধাবী তরুনীকে ।
সংসার জীবনে একজন মানুষ কতটুকু সুখী থাকলে
একজন মানুষ এমন মধুর কথা বলতে পারে। আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি জ়িবনের
প্রতিটা সময় এনজয় করতে পেরেছি । বিবাহ মানুষের জীবনের মোড় ঘুরে দেয় জীবনের এই মোড়
ঘোরার কাহিনী কারোর কাছ থেকে তেমন শোনা মন্দ। কারোর কাছে খুবই ভালো। তবে ভালোর
থেকেই মন্দটা বেশি শোনা যায় । কেন শোনা যায় এব্যপারে কিছু কিছু শোনা যায় । বিবাহ
আমার জিবনের নানান সৌভাগ্যের একটা বে স্থান দখল করে আছে। এখনও পর্যন্ত আমি মনে করি
আমি
যে মানুষটি ছিলাম , বিবাহ আমাকে স্ট্রাকচারলি বদলে দিয়েছে আমার পরিবেশটাকে বদলে
দিয়েছে। আমার ভেতরে একধরনের উদাসীনতা আছে । তখনও ছিল এখনও আছে ভালো লাগে বলেই সব কিছু করি কিন্তু সবাই বোধহয়
তা পারেনা । ভালবাসার সাথে হিসাবটা জড়িত থাকে । আমি এখনও ভালো লাগে বলেই সব
কিছু করতে পারি এর কারন হচ্ছে বিবাহ।
বিবাহ আমাকে অন্যভাবে বদলে দিয়েছে জমা খরচ, অঙ্গের হিসাব এগুলো আমার মাথার মধ্যে
ঢুকিয়ে দিতে পারত। ওটা ঢোকায়নি এজন্য আমি সৌভাগ্যবান। আমি আমার মত থাকতে পারি
এখনও। কিন্তু কাজের শেষে ঘরে ফেরার টানটা বেশি অনুভব করি একজীবনে মানুষ যতটা হ্যাপি হতে পারে আমি সেই
কমসংখকের মধ্যে একজন।আমি একটা অসাধারন সময়ের কথা বলি। আমি যখন বিবাহ করি তখন আমার
ক্যারিয়ার গড়ার সময় পাগলের মত ইমোশনের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি। নিজের আর উপার্জনের
চিন্তা ভাবনা নেই । কিন্তু একটা সময় তো মানুষকে উপার্জনের চেষ্টা করতে হয় আমি যখন
এই পথে ঢুকি গেছি এবং প্রচন্ড বোঝাপড়ারও হয়ে গেছে
তখন বিয়ে করলাম। আমার স্ত্রী আমার চেয়ে বয়সে ১৫ বছর কম। সেই সময় তার সাপোট
অকল্পনীয় ছিল । বিয়ের পর সাধানত কি হয়? স্ত্রী স্বামীকে সারাক্ষন কাছে পেতে চায় স্বামীর
ক্ষেতেই তাই । কিন্তু আমি ব্যস্ত আমার কাজ নিয়ে। আমি প্রচুর কাজ কাজ করেছি।
কাজ করা মানে ভোর থেকে শূরু করে রাতের একটা দুইটা পর্যন্ত কাজ করেছি । একটা সময়ের
জন্যও তার কাছ থেকে আমি কোন অভিযোগ শুনিনি। এটা আমার জন্য বিরাটা পাওয়া। আমাকে
থামতে হয়নিএক কাপ কফি ও একটি প্রেমের গল্প
নাটকের রাজপুত্তুর
দেশে টিভি নাটকের ক্ষেত্রে আফজাল হোসেনের মত জনপ্রিয়তা কেউ মনে
হয় নি । বিটিভিতে তার লেখা ও অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে ছিনিমিনি, নীল চিৎকার, সে,
তুমি, কৃজ্ঞপক্ষ, কুসুম ও কীটসেতু , সুন্দর সর্বনাশ, জ়ীবনে জীবনে ।
দুজনই ছবি আকে
আরাফ এবং ঈমান- তাজিন ও আফজাল হোসেনের দুই ছেলে। আরাফ ক্লাস
সেভেন এবং ঈমান নার্সারিতে পড়াশুনা করছে। দুজনই সানবিমস এর ছাত্র। ছবি আকার
ক্ষেত্রে দুজনই বাবা মার গুন পেয়েছে । আরাফের হাতের লেখা
চমৎকার । ইতিমধ্যে কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কিত হয়েছে সে । আরাফ একটু
শান্ত প্রকৃ্তি। আর ঈমান অতিমাত্রায় চঞ্চল। Add as favourites (55) | Quote this article on your site | Views: 222
Write Comment
|
||||||
| < Prev | Next > |
|---|





