|
ছেঁড়া
পালে নতুন হাওয়া
একটি গল্প দিয়ে শুরু করা যাক । ছেঁড়া পালের গল্প নয় ,
ইচ্ছা শক্তি দিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার গল্প। পাহাড় চূড়ায় দাড়িয়ে দূর আকাশে হাতছানি
দেয়ে স্বপ্নের কাছে যাওয়ার গল্প । একটি মেয়ের গল্প। মেয়েটির বাবা উচ্চপদস্থ সরকারি
কর্মকর্তা, আর মা গৃহিনী। মেয়েটি জন্মের পর থেকেই দেখেছে তার আশেপাশে
গানের আবহ। কারণ ওর মা গান করেন। তাই জন্মসূত্রেই মেয়েটির রক্তের মধ্য বইছে সুর,
তাল, লয়। সময়ের হাত ধরে মেয়েটি বড় হয় । আর গানের নেশা তাকে আঁকড়ে ধরে। ক্রমেই সে
এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। পড়াশোনার সাথে সাথে চলে তার সংগীতচর্চা। যদিও বাবার ইচ্ছা
ছিল না যে মেয়েটি গানকে পেশা হিসেবে নিক। কিন্তু সেই মেয়েটির অদম্য
ইচ্ছাশক্তির কছে হার মানে তার জন্মদাতা। আজ সেই ছোট্ট মেয়েটি বাংলাদেশের
স্বনামখ্যাত শিল্পী। হালের তরুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই তিনি আইডল। তার নাম মিলা।
একনামেই তাকে চিনে সব শ্রোতারা। মিলার ভক্ত হওয়ার বদৌলতে হয়ত
আপনি ওপরের গল্পটি অনেক আগেই জেনেছেন। কিন্তু আবারও এই পুর গল্প বলার কারণ,
আরেকবার মনে করিয়ে দেয়। যে ইচ্ছা থাকলে যে কেউ তার স্বপ্নের কাছে পৌছাতে পারে।
যেমনটি পেরেছেন মিলা। মিলা আজ তরুন প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। মিলার গায়কী
আর ফ্যাশন সচেতনতা, দুয়ে মিলে তিনি অনেক তরুন-তরুনীর আইডল।
মিলার গান গাওয়া শুরু হয়েছিল সেই ছোট্টবেলায়। মায়ের কাছে গানের হাতেখড়ি।এরপর
ওস্তাদের কাছে। এভাবে নিজেকে পাকাপোক্ত করে তিনি প্রবেশ করেছন আমাদের মিউজিক
ইন্ডাস্ট্রিতে। প্রথম অ্যালবাম ‘ফেলে
আসা’প্রকাশের
মাধ্যমে তিনি লাইম লাইটে আসেন। ঐ এক অ্যালবমেই বাজিমাত।
‘ফেলে
আসা’ অ্যালবামের
ছেঁড়া ‘পালে
লাগুক হাওয়া’গানটি
ব্যপক জনপ্রিয় হয়। এরপর আর মিলাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘ফেলে আসা’র পর মিলা শ্রোতাদের
উপহার দেন তার দ্বিতীয়একক ‘চ্যাপ্টার
টু’ দ্বিতীয়
অ্যালবাম সম্পর্কে মিলা বলেছিলেন, এই অ্যালবামে পপ রক,ফিউশন’ সহ ভিন্ন
ধরনের কিছু গান থাকবে। যাতে সব শ্রেনীর, সব রুচির শ্রোতার কাছে অ্যালবামটি পৌঁছুতে
পারে। বাস্তবে হয়েছেও তাই। ‘চ্যাপ্টার
টু’
অ্যালবামটি প্রকাশের পর তা ব্যাপক সাড়া ফেলে, এবং নির্দ্বিধায় তা মিলার প্রত্যাশার
চেয়ে অনেক বেশি।‘চ্যাপ্টার
টু’ অ্যালবামের
‘বাবুরাম
সাঁপুড়ে’আর ‘ছেড়া পালে লাগুক হাওয়া’(অ্যাকুইস্টিক)’গান দুট সুপারহিট হয়। আর
এই অ্যালবামের যে গান দুটর কথা না বললেই নয় সেটা হচ্ছে ‘যাত্রাপালা’। অ্যালবাম প্রকাশের পর
গানটি তরুন শ্রোতামহলে ব্যাপক সারা ফেলে। চিরয়ত লোক-কাহিনী রহিম-রুপবানের গল্পের
উপর ভিত্তি করে গানটি লেখা হয়েছিল। ‘রুপবান নাচে কোমর দুলাইয়া, এই একটি গানই মিলার জনপ্রিয়তাকে
নিয়ে যায় অনেক উঁচুতে স্টেজ শোতে মিলাকে এই গানটি গাইতে হয়। আর শ্রোতাদের অনুরোধও
ফালতে পারেন না তিনি। আর তাই প্রায় প্রতিটি শোতেই মিলা অন্যান্য গানের পাশাপাশি এই
গানটির মাধ্যমে মাতিয়ে তোলেন শ্রোতাদের। মিলা বর্তমানে তার তৃ্তীয় একক নিয়ে ব্যস্ত
সময় পার করছেন। ‘ফেলে
আসা’আর ‘চ্যাপ্টার টু’অ্যালবাম দুটির চেয়েও
যেন এই অ্যালবামটি আরো বেশি শ্রোতাপ্রিয় হয় সেদিকে মনোযোগ দিয়ে অ্যালবামের কাজ
গোছাচ্ছেন তিনি। অ্যালবামের অধিকাংশ গান লিখেছেন শাহান কবন্ধ, বন্ধু আর
মিউজিক কম্পোজিশনের দায়িত্বে আছেন যথারীতি হালের সেনসেশন ফুয়াদ। অ্যালবামের
কাজের বাহিরে মিলার স্টেজ শো’র
ব্যস্ততও প্রচুর। যদিও অ্যালবামের কাজের জন্য মিলা তার স্টেজ শো’র পরিমাণ কমিয়ে এনেছেন।
প্লে-ব্যাকেও প্রচুর ডাক পাচ্ছেন মিলা। এ বিষয়ে একাধিক নির্মেতার সাথে তার
কথা হয়েছে। শিগগিরই মলা চলচ্চিত্রের গানের জন্য কন্ঠ দেবেন। আর জিঙ্গেলের ব্যস্ততা
তো রয়েছেই। তবে এতকিছু পরে মিলা ইদানিং নতুন একটি জিনিস নিয়ে ভাবছেন। মিলার উজ্জল
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি নাটকে অভিনয়ের জন্য ডক পাচ্ছেন। আর এখন এ অফারের
পরিমান বাড়ছেই। তাই মিলা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গানে আকাশচুম্বী সফলতার পর নাটকেও কি
তিনি বাজিমাত করবেন? সেটা জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
Add as favourites (71) | Quote this article on your site | Views: 430
|