|
About Melodious Singer Topu |
|
|
|
Page 1 of 4
তপুর সুরের মুর্ছনা
ছোট্রবেলায় মুখে বোল ফোটার পরেই আদরের সন্তানকে ছড়া বলতে শেখান বাবা-মা।
আর দশটা শিশুর মতো স্বতসিদ্ধ আগ্রহের জায়গা থেকে একসময় তা শিখেও নেন তপু।
তবে কিছুদিন গড়াতে না গড়াতেই ভিন্নতা আসে তপুর ছড়া বলার ভঙ্গিতে। না, অন্য
কারো ছড়া গড়গড় করে মুখস্হ বলা নয়, বরং নিজেই নিজের জন্য ছড়া লিখতে শুরু
করেন তপু। একসময় ছড়ার মাঝে যুক্ত হয় সুর। আর চেতনে, অবচেতনে ছড়ার পিঠে সুর
বসাতে বসাতেই গানের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে তপুর। ১৯৯৮ সালে এসএসসি'তে ভাল
ফলাফলের সুবাদে তপুর বাবা তপুকে কিনে দেন একটা গিটার। আর বাবার উপহার এবং
মনের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে লালন করা গানের সুর যেন এক হয়ে পথ চলতে শুরু করে।
২০০২ সালে নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটিতে পড়াকালীন সেখানকার সাংস্কৃতিক সংগঠনের
সাথে যুক্ত হন। পড়াশোনার সাথে চলতে থাকে সংগীতচর্চাও। সেখানে থাকাবস্হায়
তপুর কাছে প্রস্তাব আসে ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবাম স্বপ্নচুড়া-১ এর জন্য গান
দেয়ার। যেহেতু ব্যান্ড মিক্সড, তাই একটি ব্যান্ড র্ফম করেন। এটি ২০০৩
সালের কথা। ব্যান্ডের নাম দেন 'যাত্রী'। সেই ব্যান্ড থেকে স্বপ্নচুড়া-১
অ্যালবামে করেন 'একপায়ে নুপুর আমার' গানটি। গানটির সফলতার ক্রমধারায়
স্বপ্নচুড়া-২এর জন্যও করেন 'একটা গোপন কথা' শিরোনামের আরেকটি গান। এই
গানটিও তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর ক্রমে ক্রমে জি-সিরিজ থেকে প্রকাশিত
হয় 'যাত্রী' ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম 'ডাক' আর তপুর প্রথম একক অ্যালবাম
'বন্ধু ভাবো কি?' অ্যালবামটি বাজারে আসার পরপরই তরুণ শ্রোতাদের মাঝে দারণ
সাড়া জাগায়। এমনকি রেডিওতে অ্যালবামটির একাধিক গান প্রতিদিন সম্প্রাচারিত
হতে থাকে। আর এসব কিছুর হাত ধরেই ক্রমেই শ্রোতাদের কাছে ভীষণ পরিচিত এক
শিল্পী হয়ে উঠেন তপু।
এবারের ঈদে প্রকাশিত হয়েছে তপুর দ্বিতীয় সলো অ্যালবাম
'সে কে'। আর সদ্য প্রকশিত হওয়া এই অ্যালবামটিতে যে দশটি গান স্হান পেয়েছে
সেগুলো হলো ভালোবাসি, জন্মদিন, সাদা রঙের স্বপ্ন, একটা গোপন কথা (আরএন্ডবি
ভার্সন), সে কে, তুমি চলে যাও,আমি কে, বন্ধু, বৃষ্টি এবং শেষ দেখা। এর
মধ্যে অ্যালবামের প্রথম গান 'ভালোবাসি'তে তপুর সাথে কন্ঠ দিয়েছেন 'জার্মান
টাউন' ব্যান্ডের ভোকাল মৌরি এবং 'আমি কে' গানটিতে তপুর সাথে গেয়েছেন
অনিলা। অ্যালবামের অধিকাংশ গানের কথা ও সুর তপুর লেখা হলেও শেষ দেখা গানটি
যৌথভাবে সুর করেন অর্থহীন ব্যান্ডের রাফা ও সুমন। আর বৃষ্টি গানটির কথা ও
সুর ছিল রাফার। অন্যদিকে তপু ও অনিলার করা আমি কে গানটির সংগীতায়োজনের
দায়িত্বে ছিলেন ফুয়াদ। 'সে কে' অ্যালবামের বৈশিষ্ট্য সর্ম্পকে জানতে চাইলে
তপু বলেন, 'আমি এ পর্যন্ত যত আলবামে যত গান করেছি তার মধ্যে এবারের
অ্যালবামে যত গান করেছি তার মধ্যে এবারের অ্যালবামটি করেই সবচেয়ে তৃপ্তি
পেয়েছি। কারণ এখানে প্রতিটি গানেই এত বেশি অ্যাকুস্টিক এর কাজ ছিল যে
সবগুলো গানের সুরকেই আমার কাছে খুব ন্যাচারাল এবং স্বতস্ফুর্ত বলে মনে
হয়েছে। যে গানে যতটুকু সুর দরকার আমরা ঠিক ততটুকুই তাতে যোগ করেছি। অযথা
এখানে বাড়তি কোনো ইফেক্ট দেয়ার চেষ্টা করিনি। আর রাফা এখানে প্রতিটি
ইন্সট্রুমেন্টই নিজে বাজিয়েছে। কোনো ধরনের লুপও ব্যাবহার করেনি। অন্যদিকে
গানের কথার ক্ষেত্রে তো আমি বরাবরই সাদাসিধে থাকতেই ভালোবাসি। অর্থ্যাৎ
সবমিলিয়ে শ্রোতাদের হাতে একটা সহজ স্বাভাবিক সুরের অ্যালবাম তুলে দেয়াই
ছিল আমার লক্ষ্য।'
কিন্তু যে স্টাইলের কারণে এতদিন ধরে তপুকে চিনেছেন এ দেশের
শ্রোতারা 'সে কে' অ্যালবামে কি সচেতন ভাবেই তার বাইরে বেরোতে চেষ্টা
করেছিলেন তপু। এমন প্রশ্নের উত্তরে তপু বলেন, 'গায়কীর একটা নিজস্ব ধারা
সবার মতো আমার মাঝেও আছে। তবে আমি চেষ্টা করেছি যেন আমার সুর এর মাঝে
শ্রোতারা নতুনত্ব খুঁজে পান এবং গানগুলোকে যেন তাদের কাছে একঘেঁয়ে বলে মনে
না হয়।'
Add as favourites (294) | Quote this article on your site | Views: 1216
|