|
Page 1 of 2
উজ্জ্বল প্রদীপ নীভে গেল
১৯৭২ সালে পপসঙ্গীতাঙ্গণে
মাইকেল জ্যাকসন তার জয়যাত্রা শুরু করেন। পপসঙ্গীতে তার পদচারনা, তার জোয়ার
অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অগণিত শ্রোতা-ভক্তদের মাঝে। এই স্টাইল আইকন
পপতারকা গানের পাশাপাশি নাচের প্রতিও ছিলেন বেশ আগ্রহী। তাইতো ভক্তদের
গানের পাশাপাশি নাচেও তিনি মাতিয়ে রেখেছেন। তার গাওয়া গান যেন রন্দ্রে
রন্দ্রে নাচ ধরাতো, মঞ্চে তার অবস্হান কাঁপিয়ে দিতো শ্রোতাদের, আর স্পেশাল
ইফেক্ট দেয়া সব মিউজিক ভিডিওগুল যেন সঙ্গীতের এক নতুন ধারা। কিন্ত, এতো সব
আয়োজনকে পেছনে ফেলে তিনি পাড়ি দিয়েছেন অন্য এক দুনিয়ায়। হাজার ভক্তকে
কাদিয়েঁ চিরনিদ্রায় চোখ বুজেছেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলসের স্ট্যাপলস সেন্টারে
আবেগঘন পরিবেশে প্রাণঢালা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পপতারকা মাইকেল
জ্যাকসনকে চিরবিদায় জানানো হয়। এতে পরিবারের সদস্য ও ভক্তরা ছাড়াও
সংবাদমাধ্যম ও সংস্কৃতিজগতের অনেক খ্যাতিমান ব্যাক্তি উপস্হিত ছিলেন।
জ্যাকসনের প্রতি সম্মান জানাতো তার ভায়েরা একটি রত্নখচিত দস্তানা পরে
মঞ্চে উঠে আসেন। জ্যাকসনের মা-বাবা, ছেলেমেয়ে ও স্বজনের মিলে সম্মিলিত
কন্ঠে গেয়ে শোনান পপতারকার বিখ্যাত গান 'উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড'। জ্যাকসনের
স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্হিত সবাইকে সবচেয়ে বেশি আবেগে আপ্লুত করে তার এগার
ব্ছর বয়সী মেয়ে প্যারিসের কথা। এবারই প্রথম বাবা সর্ম্পকে সে প্রকাশ্যে
কথা বলেছে। মঞ্চে উঠে প্যারিস বলে, 'আমার বাবাকে আমি বরাবরই শ্রেষ্ঠ বাবা
হিসেবে দেখে আসছি। একজন ভালো বাবাকে যতদুর কল্পনা করা যায় তিনি তাই
ছিলেন।' কান্নায় ভেঙে পড়ার আগে সে বলে, 'আমি শুধু বলতে চাই, বাবাকে আমি
খুব ভালোবাসি।'
জ্যাকসনের মৃত্যু তার জীবনের মতোই আলোচিত-বিতর্কিত। স্হানীয় পুলিশ
প্রশাসন এবং গোয়েন্দার জানিয়েছেন মাদকজাতীয় একধরনের বেদনানাশক ঔষধ থেকেই
জ্যাকসনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরাও তাই বলছেন। কিন্তু সেই বেদনানাশকের
উৎস এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। হঠাৎই অঞ্জান হয়ে যাওয়া আর হাসপাতালে
নিয়ে আসার পর মৃত বলে ঘোষনা করা হয় তাকে। অথচ যে টেলিফোনটিতে জরুরীভাবে
অ্যাম্বুলেন্স পাঠাবার কথা বলা হয় সেখানে জ্যাকসনের শ্বাসকষ্টের কথা
উল্লেখ করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের দেয়া মন্তব্য বলছে ডোমরোল নামে প্যাথেডিন
গোত্রের একটি বেদনানাশক সেবনে জ্যাকসনের মৃত্য হয়। এই মৃত্যু রহস্যাবৃত
রেখেই জ্যাকসনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তবে গোয়েন্দারা একেবারে
তাদের হাল ছেড়ে দেননি। আরো জটিল তদন্তের স্বার্থে তার মস্তিস্ক সংরক্ষণ
করা হয়েছে। আর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে মস্তিস্ক ছাড়াই। পপসম্রাট
মাইকেল জ্যাকসনের শেষকৃত্যানুষ্ঠান দেখতে বিশ্বব্যাপী হুমড়ি খেয়ে পডেছিল
ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক কতৃপক্ষ ওই
অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখার পর লাখো মানুষ ফেসবুকে মন্তব্য করেছে। ফেসবুকে
মন্তব্য করেছে। ফেসবুকে থাকা সিএনএনের লাইভ ভিডিওতে প্রতি মিনিটে ছয় হাজার
মন্তব্য জমা পড়েছে। ফেসবুক জানায়, সিএনএন লাইভে পপসম্রাটের
শেষকৃত্যানুষ্ঠন দেখে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী। ক্যালিফোর্নিয়া
ভিত্তিক ফেসবুক জানায় এটিভি অনলাইনে কমপক্ষে ২১ মিলিয়ন ফেসকুক ব্যবহারকারী
এ অনুষ্ঠান দেখে। পপসম্রাট জ্যাকসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লন্ডনে ২৯
আগস্ট আয়োজন করা হবে একটি বিশাল কনসার্টের প্রমোটার রেন্ডি ফিলিপস্ এর আগে
বলেছিলেন, যেহেতু পপসম্রাট অকালে চলে গেছেন, তাই তার স্মরণে সেকানে একটি
অনুষ্ঠান করা হবে। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হবে। সেখানে
জ্যাকসনের ভাইবোনেরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। তবে জ্যাকসনের মঞ্চভীতি নিয়ে
যেসব খবর বেরিয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন ফিলিপস্। মাইকেল জ্যাকসনের ফিরে আসার ওই কনসার্ট নিয়ে গোটা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কনসার্টটি স্মরণীয় করে
রাখতে মাইকেল মৃত্যর আগে রাত-দিন মহড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার অকাল
মৃত্য বঞ্চিত করলো সঙ্গীতপিপাসুদের। তার সঙ্গীত আর নৃত্যের জাদুকরী ছন্দে
আলোড়িতে হতো কোটি কোটি মানুষের মন। মাত্র ৫০ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি
অর্জন করেছেন ১৩ টি গ্রামি অ্যাওয়ার্ডসহ মোট ২৯২টি ছোট-বড় পুরস্কার এবং
২০০০ সালে পান ওয়ার্ল্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডু। মাইকেল জ্যাকসনকে সমাধিস্হ
করার কথা নেভারল্যান্ডের খামারবাড়িতে, কারণ এটি তার নিজের হাতে গড়া বাড়ি।
Add as favourites (84) | Quote this article on your site | Views: 653
|