|
30 Years of Shakila Zafor |
|
|
|
Page 1 of 2
গানের ত্রিশ বছর
নিজেকে গানের মানুষ ভাবতেই ভালো লাগে তার। তিনি আমাদের মাঝে কোকিলকন্ঠী হিসেবে পরিচিত। যে পরিচিতিকে তিনি লাখো ভক্ত শ্রোতার ভালোবাসায় বহন করে চলেছেন এতদিন। তিনি শাকিলা জাফর। গানকেই ভালোবাসতে শিখেছিলেন শাকিলা। তাই গানের সঙ্গেই ত্রিশ বছর। সুরের মায়াজালে গানে গানে ত্রিশটা বছর কেটে গেল তার। ছোটবেলা থেকেই তিনি তার মেজবোনের সাথে ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতের তামিল নেয়া শুরু করেন। শাকিলা জাফরের কন্ঠশিল্পী হিসেবে পথ পারিক্রমা শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। বাংলাদেশ বেতারে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া এবং প্রথম স্হান অর্জনের মধ্যদিয়ে শাকিলা মনোযোগ কেড়েছিলেন সঙ্গীত-বোদ্ধাদের দৃষ্টি। ১৯৮০ সালে টিভিতে পারফর্ম করার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছিল সঙ্গীতের দীর্ঘ পথের যাত্রা। এপর আর থেমে থাকতে হয়নি। রেডিও, টিভির পাশাাপাশি তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন প্লে-ব্যাক ও জিঙ্গেলে। লাক্স সাবানের বিঞ্জাপনচিত্রের সুবাদে শাকিলা জাফরকে মডেল হিসেবে দেখেছেন দর্শক। এর আগে অ্যাঙ্কর দুধের একটি বিঞ্জাপনচিত্রেও তাকে দেখা গেছে। এতসব কিছুর পরও তিনি গানকেই ভালোবেসেছেন আর গানের জগতেই থাকতে চান তিনি। গানের সঙ্গে কেটে যাওয়া ত্রিশটি বছর সর্ম্পকে শাকিলা জাফর বলেন, 'সবার কাছে আমি ঋণী। শ্রোতাদের ভালোবাসা আর উৎসাহেই এতটা পথ পেরিয়ে এলাম। এজন্য সুরস্রষ্টা সুজেয় শ্যামের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতঞ্জ। তিনি আমাকে সবসময় নান পরামর্শ দিয়েছেন। আশা করি, আগামীতেও সবার সহযোগিতা পাবো।
তার গাওয়া গানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। 'নিয়তির খেলা' ছবির মাধ্যমে প্লে-ব্যাকে অভিষেকের পর এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের প্রায় ৪০০ গানে কন্ঠ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর শিল্পীদের একজন হলেন শাকিলা জাফর। শাকিল সঙ্গীত মহাকাশের উজ্জ্বল তারকা। অবশ্য তিনি তার জনপ্রিয়তার পিছনে সুরকারদের অবদানকেই বড় করে দেখেন। তার র্দীঘ পথ পেরুনোর বিষয়ে স্বামী বি এম জাফর উল্লাহ ও ছেলে মুফরাদের সহযোগিতার কখাও উল্লেখ করেন তিনি। এই ত্রিশ দশক পেরিয়ে সঙ্গীত ভূবনে নতুন কোন ভাবনা যোগ হয়েছে কিনা এ সর্ম্পকে শাকিলা জাফর বলেন, 'নসতুন করে ভাবনার কিছু নেই। শিল্পী হিসেবে ভালো কিছু করাই আমার সঙ্গীত সাধনার লক্ষ্য। যে কারণে কখনোই জনপ্রিয়তার জোয়ারে গা ভাসাইনি। চাইনি রাতারাতি তারকা খ্যাতি অর্জন করত। স্বপ্ন কেবল এইটুকু, ভালো কিছু গান করার। যে গান আমাকে বাচিয়েঁ রাখবে শতাব্দী জুড়ে'। ক্যারিয়ারের শুরুতে মোটা তাতেঁর শাড়ি পরে মাথার মাঝখানে সিঁথি করে চুল দু'দিকে আঁট করে বেধেঁ সোজা হয়ে দাড়িয়েঁ গান করতেন। কিন্তু পরে তিনি চুলের ধরণেও এসেছে ভিন্নতা। পরিবর্তিত হয়েছে তার গায়কী। শাকিলা বলেন,'যুগ ক্রমেই পাল্টায়। এই পাল্টে যাওয়ার মানসিকতা আমাকে এগোতে অনেক সহায়তা করেছে'। সঙ্গীতের ভুবনে তার অনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এই ত্রিশতম বছরেই শাকিলা জাফর আবারো শ্রোতাদের সামনে তার নতুন কিছু গান নিয়েআসার চেষ্টা করছেন। তইতোমধ্যে তার সলো এই অ্যালবামিটির অধিকাংশ গানের কাজ শেষ হয়েছে। সেই সাথে ব্যস্ত সময় কাটছে প্লে-ব্যাক আর স্টেজ শো নিয়ে। কিন্তু প্রাপ্তির মিছিলে দাড়িয়েঁও ত্রিশ বছরে একটিবারের জন্যও থামলো না তার পূর্ণ হবার সংগ্রাম। গান নিয়েই খাকতে চান তিনি। শ্রোতা-দর্শকদের ভালো গান উপহার দেয়াই হলো তার লক্ষ্য। সঙ্গীত অঙ্গনে সফলতার মাঝেই তার অবস্হান। গানে গানে শাকিলার এ সফলতা তার অসাধারণ গায়কী আর গানের প্রতি ভলোবাসার মিশেলের মাধ্যমেই রচিত।
Add as favourites (102) | Quote this article on your site | Views: 789
|